18/07/2026
‘মা’ ডাকটি পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর। কিন্তু এই ডাক একবার শোনার পর, দ্বিতীয়বার শোনার জন্য যখন বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়—তখন বুকের ভেতরের হাহাকারটা কেবল একজন মা-ই বোঝেন। আজ আপনাদের শোনাবো এমনই এক না-বলা কষ্টের পর পাওয়া পরম শান্তির গল্প।
মেয়েটির বয়স মাত্র ২৮। বিয়ের ১১ বছর পার হয়েছে। ঘর আলো করে ৯ বছরের একটি ফুটফুটে সন্তান আছে। কিন্তু গত ৫-৬ বছর ধরে তাদের জীবনে চলছিল এক অদ্ভুত নীরব যুদ্ধ। প্রথম সন্তানের পর আবারও একটা নতুন প্রাণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন তারা। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্লান্তিহীন ছুটেছেন বরিশাল শহরে, এমনকি ঢাকাতেও। কত ডাক্তারের সিরিয়াল, কত শত টেস্টের রিপোর্ট, কত দীর্ঘশ্বাস! শহরে একটানা ৪ বছর একসাথে থাকার পরও যখন শূন্য কোল আর ভরছিল না, আশার প্রদীপটা তখন যেন নিভেই যাচ্ছিল।
সব আশা যখন প্রায় শেষ, ঠিক তখনই তারা এলেন প্রখ্যাত ইনফার্টিলিটি স্পেশালিস্ট ডা. অবন্তী ঘোষ ম্যামের কাছে। ম্যাম শুধু একজন চিকিৎসক হিসেবে নন, কথা শুনলেন একদম কাছের একজন মানুষের মতো করে। পরম মমতায় তাদের দীর্ঘ হতাশার কথা শুনে, পরীক্ষা করে বের করলেন মূল সমস্যা—মেয়েটির পিসিওএস (PCOS) আছে।
সঠিক রোগ নির্ণয়ই যে জাদুকরী পরিবর্তন আনতে পারে, তা প্রমাণ হলো আরেকবার। দীর্ঘ ৫-৬ বছরের বুকফাটা কান্না আর ব্যর্থতার অবসান ঘটিয়ে, ডা. অবন্তী ঘোষ ম্যামের চিকিৎসায় মাত্র ৪ মাসের মধ্যেই মেয়েটি কনসিভ করেন! আলহামদুলিল্লাহ! ❤️
আজ যখন তারা চেম্বারে বসে কথা বলছিলেন, তাদের চোখেমুখে যে স্বস্তির হাসি আর আনন্দাশ্রু ছিল, তা পৃথিবীর যেকোনো রত্নের চেয়েও দামি।
এই গল্পটা শুধু এই দম্পতির নয়। এই গল্পটা আপনাদের সবার—যারা প্রতিদিন একটা ছোট্ট প্রাণের আশায় রাতের পর রাত গোপনে চোখের পানি ফেলছেন। বিশ্বাস রাখুন, ভেঙে পড়বেন না। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা আর ওপরওয়ালার রহমত থাকলে আপনার শূন্য কোলও ঠিক এভাবেই আলো হবে ইনশাআল্লাহ।
নতুন এই অতিথির জন্য মন থেকে অনেক অনেক দোয়া ও ভালোবাসা! 🌸