15/06/2026
একটি দম্পতির সন্তান না হওয়ার পেছনে নারী এবং পুরুষ উভয়েরই শারীরিক কারণ থাকতে পারে। সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণা ভেঙে এই বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে অত্যন্ত স্পষ্ট ও সহজ ভাষায় নিচে তুলে ধরা হলো:
পুরুষের যে সকল সমস্যার কারণে সন্তান হতে বাধা পায়
সন্তান জন্মদানে পুরুষের শুক্রাণুর গুণগত মান এবং শারীরিক সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচের কারণগুলোর জন্য একজন পুরুষের কারণে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে:
শুক্রাণুর স্বল্পতা: বীর্যে সুস্থ শুক্রাণুর সংখ্যা (S***m Count) পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকা।
শুক্রাণুর দুর্বল গতি: শুক্রাণুর ডিম্বাণু পর্যন্ত যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত গতি বা সচলতা (Motility) না থাকা।
গঠনগত ত্রুটি: শুক্রাণুর আকৃতি বা গঠন অস্বাভাবিক হওয়া, যার ফলে সেটি ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে পারে না।
ভ্যারিকোসিল (Varicocele): অণ্ডকোষের চারপাশের শিরাগুলো ফুলে যাওয়া। এর ফলে অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং শুক্রাণু তৈরি ব্যাহত হয়।
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: টেস্টোস্টেরনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় হরমোনের ঘাটতি থাকা।
যৌন ও বীর্যপাতজনিত সমস্যা: দ্রুত বীর্যপাত, লিঙ্গউত্থানে সমস্যা (Erectile Dysfunction) কিংবা বীর্য উল্টো দিকে মূত্রথলিতে চলে যাওয়া (Retrograde Ejaculation)।
লাইফস্টাইল ও ক্ষতিকর অভ্যাস: অতিরিক্ত ধূমপান, মাদক গ্রহণ, মদ্যপান এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ।
পরিবেশ ও ওষুধের প্রভাব: দীর্ঘক্ষণ অতিরিক্ত গরম পরিবেশে কাজ করা (যেমন: ল্যাপটপ কোলে নিয়ে কাজ বা চুল্লির পাশে থাকা) এবং কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
দীর্ঘমেয়াদি রোগ ও সংক্রমণ: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, অণ্ডকোষের সংক্রমণ বা অতীতে হওয়া কোনো অপারেশনের জটিলতা।
নারীর যে সকল সমস্যার কারণে সন্তান হতে বাধা পায়
নারীর প্রজননতন্ত্রের জটিলতা বা হরমোনের তারতম্যের কারণেও গর্ভধারণে বিলম্ব হতে পারে। মূল কারণগুলো হলো:
ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশন সমস্যা: নিয়মিত ডিম্বাণু তৈরি বা পরিপক্ক না হওয়া। এর অন্যতম প্রধান কারণ পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)।
অনিয়মিত মাসিক: মাসিক চক্র ঠিক না থাকা, যা ডিম্বাণু ছাড়ার সঠিক সময় নির্ধারণে বাধা দেয়।
ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক: ডিম্ববাহী নালি বন্ধ থাকা, যার ফলে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ঘটতে পারে না।
জরায়ুর সমস্যা: জরায়ুতে টিউমার (ফাইব্রয়েড), পলিপ বা জরায়ুর গঠনে জন্মগত কোনো ত্রুটি থাকা।
এন্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis): জরায়ুর ভেতরের টিস্যু বা আস্তরণ জরায়ুর বাইরে (যেমন ডিম্বাশয় বা টিউবে) ছড়িয়ে পড়া, যা প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে।
হরমোন ও থাইরয়েডের সমস্যা: থাইরয়েড হরমোনের ওঠানামা বা হরমোনের যেকোনো ভারসাম্যহীনতা।
ওজন ও বয়স: অতিরিক্ত ওজন কিংবা প্রয়োজনের চেয়ে খুব কম ওজন। এছাড়া নারীদের ক্ষেত্রে ৩৫ বছর বয়সের পর প্রজনন ক্ষমতা দ্রুত কমতে শুরু করে।
অন্যান্য রোগ: দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা অন্যান্য জটিল ক্রনিক রোগ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (যা সবার জানা জরুরি)
যুগ্ম দায়বদ্ধতা: সন্তান না হওয়ার পেছনে প্রায় ৪০% থেকে ৫০% ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গীটির শারীরিক সমস্যা দায়ী থাকে। তাই সন্তান হচ্ছে না— এই অজুহাতে শুধুমাত্র নারীকে দোষারোপ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অবৈজ্ঞানিক।
করণীয়:
দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পরও যদি সন্তান না আসে, তবে লোকলজ্জা বা কুসংস্কারের পেছনে সময় নষ্ট না করে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই একসাথে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। সঠিক সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার মাধ্যমে বর্তমানে অধিকাংশ বন্ধ্যাত্ব সমস্যার সফল সমাধান সম্ভব।
আমি ডা. আরিফুল ইসলাম
DHMS (DHAKA)
BHMS (ON COURSE)
DHAKA UNIVERSITY
যোগাযোগের জিন্য কল করুন অথবা 01866-611190