13/07/2026
কিডনী রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা:
১.সাধারণত আমিষ জাতীয় খাবার কিডনী রোগীদের কম খেতে হবে।তবে।একেবারে বাদ দেয়া যাবে না।দৈনিক ০.৬-০.৮ গ্রাম/কেজি আমিষ উপকারী।
আমিষের উতস: মাছ বা মাংস বা ডিম
ঘনডাল(মুগ/বুটের ডাল),মটরশুঁটি,বাদাম,শিমের বীচি কম খাবেন।
ডাল জাতীয় খাবারেরতুলনায় মাছ বা মাংস খাওয়া ভালো।
যেমন:ওজন ৫০ কেজি হলে ৪০ গ্রাম আমিষ দৈনিক গ্রহণ করতে হবে।
৪০ গ্রাম আমিষ=মাঝারি আকারের ২ পিস মুরগির মাংস
৪০ গ্রাম আমিষ=মাঝারি আকারের ৪ পিস মাছ
২.দৈনিক ১ কাপ জাল দেয়া পাতলা দুধ খাওয়া যাবে এবং দৈনিক ১ কাপ চা খাওয়া যাবে।
৩.চর্বি জাতীয় খাবার(মাখন,ঘি,ভাজা-পোড়া,ফাস্ট ফুড,বার্গার,পিজ্জা)কম খেতে হবে।মাছ,বাদাম এগুলা থেকে চর্বি গ্রহণ করতে হবে।
দিনে ২-৩ টেবিল চামচ তেলের বেশি রান্নায় ব্যবহার না করাই ভালো।
৪.আলাদা করে পাতে লবণ খাওয়া যাবে না।সারাদিনের রান্না করা খাবারে ১ চা চামচের বেশি লবণ ব্যবহার করা যাবে না।
৫.শর্করা জাতীয় খাবার যেমন:সাদা চালের ভাত,রুটি,আলু ইত্যাদি ডায়াবেটিস না থাকলে প্রয়োজনমত খাওয়া যাবে।একজন ৬০ কেজি মানুষের দৈনিক স্বাভাবিক ১৮০-২৫০ গ্রাম শর্করা প্রয়োজন।
চার বাটি(মাঝারি সাইজ) ভাত=২৫০ গ্রাম
৩ টি মাঝারি আলু=২৫০ গ্রাম
১ পিস রুটি=১৫ গ্রাম শর্করা
৬.পানির পরিমাণ :পানি পানের পরিমাণ নির্ভর করে শরীরে পানির উপস্থিতির উপর।পায়ে পানি না জমলে দৈনিক ২-২.৫ লিটার পানি পান করা যাবে।যদি পা ফুলে যায়,শ্বাসকষ্ট হয় এবং শরীরে পানি বেশি থাকে তাহলে দৈনিক আধা লিটার -১ লিটার পানি খাওয়া যাবে।
প্রস্রাবের পরিমাণ +৫০০ মিলি লিটার=প্রতিদিনের পানির হিসাব
৭.কম পটাশিয়াম যুক্ত সবজি বেশি খাবেন:লাউ,চালকুমড়া,মিষ্টিকুমড়া, ঝিংগা,পটল,চিচিঙ্গা, লাউ,মুলা,শসা,শিম(বীচি ছাড়া),ধুন্দুল, ডাটা,লাউশাক,কলমি শাক,লালশাক খেতে পারবেন।
৮.যে সব সবজি সিদ্ধ করে পানি ফেলে রান্না করতে হবে-- মিষ্টিকুমড়া,আলু,কাঁচা পেঁপে,কাচাকলা,করলা,গাজর,টমেটো, মুলা।
৯..ফল:আপেল(অর্ধেকটা,পাকা পেঁপে(২টছোটটুকরা),নাসপাতি(অর্ধেকটা),পেয়ারা,আনারস,জাম্বুরা,জামরুল,বেল,কমলা(অর্ধেকটা)।
১০.চিনি,গুড়,মধু,মিষ্টি,দুধ জাতীয় খাবার,ডিমের সাদা অংশ,চাল,পাউরুটি,আটা,সুজি,সাবু খেতে পারবেন।তবে ডায়াবেটিস থাকলে পরিমিত পরিমাণে খাবেন।
১১.সম্ভব হলে প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটুন(সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন)।
১২.কিডনী রোগীকে ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোকক্কাল,হেপাটাইটিস বি,কোভিড-১৯,Tdap, হারপিস জোস্টারের টিকা দিতে হবে।
১৩.ডায়রিয়া হলে ওরাল স্যালাইন গ্রহণ করুন।পানিশূন্যতা/প্রস্রাবের ইনফেকশনজনিত ব্যাপারে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
১৪.ব্যথানাশক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সেবন নিষেধ। হোমিওপ্যাথি, কবিরাজি, হারবাল ওষুধ সেবন করবেন না।
১৬.ফসফেট বেশি হলে ঘন ডাল এবং ঘন দুধ খাবেন না।
কম খাবেন/নিষিদ্ধ :
আমিষ:
গরুর মাংস
খাসির মাংস
হাঁসের মাংস
কলিজা
মগজ
চিংড়ি মাছ
মাছের ডিম
সামুদ্রিক মাছ
শুটকি মাছ
সবজি:
সজনে
টমেটো
ঢেঁড়স
বরবটি
কচু এবং কচু জাতীয় সবজি
মিষ্টি আলু
পালংশাক
পুঁইশাক
ধনেপাতা
ফুলকপি
বাঁধাকপি
বেগুন
ফল:
পাকা আম
লিচু
আনার
পাকা কলা
আমড়া
কামরাংগা
বিলম্বি
আমলকি
ডাবের পানি
আংগুর
মাল্টা
লেবু
বড়ই
কাজুবাদাম
খেজুর
তাল
অন্যান্য:
বোতলজাত খাবার,চিপস,পপকর্ণ,বাদাম,আচার,কোমল পানীয়,সস,মুড়ি,চানাচুর,আইসক্রিম,কেক,ক্রিম কম খাবেন।