27/06/2026
চেম্বারে মাঝেমধ্যেই এমন কিছু রোগী আসেন, যাদের সমস্যাটা সাধারণ মনে হলেও ভেতরে লুকিয়ে থাকে এক বড় বিপদ।
কিছুদিন আগের কথা, এক মধ্যবয়সী ভদ্রলোক তাঁর ভাইকে নিয়ে বেশ চিন্তিত মুখে আমার কাছে এলেন। এসে বললেন, "স্যার, ওনার ডান হাতটা হঠাৎ কেমন যেন ঠাণ্ডা হয়ে গেছে আর আঙুলগুলো নীলচে দেখাচ্ছে। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো ঠাণ্ডা লেগে রগ চড়েছে, তাই একটু সরিষার তেল মালিশ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যথা তো কমছেই না, উল্টো হাতটা কেমন অবশ হয়ে আসছে।"
আমি যখন রোগীর হাতটি পরীক্ষা করলাম, দেখলাম সেখানে কোনো পালস বা নাড়ির স্পন্দন নেই এবং হাতটি মারাত্মকভাবে রক্তশূন্য হয়ে পড়েছে। আমাদের সমাজে হাত বা পায়ে এমন আকস্মিক নীলচে ভাব, তীব্র ব্যথা বা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার লক্ষণগুলোকে অনেকেই সাধারণ 'বাত-ব্যথা' বা 'ঠাণ্ডা লাগা' ভেবে অবহেলা করেন, যা আসলে একটি মারাত্মক ভুল।
একজন ভাস্কুলার সার্জন হিসেবে আমি অত্যন্ত জোর দিয়ে বলতে চাই, হাত বা পায়ের রঙ হঠাৎ নীল বা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া এবং তীব্র ব্যথার সাথে জায়গাটি বরফের মতো ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া মোটেও সাধারণ কোনো বিষয় নয়। এটি মূলত রক্তনালীতে আকস্মিক রক্ত জমাট বেঁধে (Acute Arterial Occlusion) রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার একটি জরুরি সংকেত।
আমাদের হার্ট থেকে যে নালীগুলো হাত-পায়ে বিশুদ্ধ রক্ত নিয়ে যায়, সেখানে কোনো কারণে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে ওই অংশের কোষগুলো দ্রুত মরতে শুরু করে। এই অবস্থায় যদি দ্রুত চিকিৎসা না করা হয়, তবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্যাংগ্রিন হয়ে অঙ্গটি চিরতরে কেটে ফেলে দেওয়ার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তাই পরিবারের যেকোনো সদস্যের ক্ষেত্রে এই লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করবেন না। তেল মালিশ করা, গরম সেঁক দেওয়া বা ব্যথার ওষুধ খাইয়ে ঘরে বসে থাকার মতো ভুল সিদ্ধান্ত ডেকে আনতে পারে আজীবন পঙ্গুত্ব। এটি একটি চরম মেডিকেল ইমার্জেন্সি, তাই এমন পরিস্থিতিতে রোগীকে কোনো ঘরোয়া টোটকা না দিয়ে সরাসরি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
মনে রাখবেন, রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়ার পর প্রথম ৪ থেকে ৬ ঘণ্টাই হলো অঙ্গটি বাঁচানোর 'গোল্ডেন আওয়ার'। আপনার সঠিক সময়ে নেওয়া একটি সচেতন সিদ্ধান্তই পারে একটি মূল্যবান অঙ্গকে রক্ষা করতে।