18/07/2026
উনার নাম পলাশ মিয়া। উনি সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় এসেছেন আমার কাছে ডাক্তার দেখাতে।আমি উনাকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি এতদূর থেকে কেনো আসছেন?ওখানে তো অনেক ভালো ডাক্তার আছে।বলল স্যার আমার এক ভাই আপনাকে দেখাইয়া ভালো হইছে। উনিই আপনার ঠিকানা দিছে।উনার ঢাকাতে থাকার কেনো জায়গা নেই।প্রায় ৪ দিন আগে উনি ঢাকায় এসে ফুটপাতে থাকছেন।উনার ১২ বছরের একটি ছেলে আছে।দেড় মাস আগে উনি গাছ থেকে পড়ে গিয়ে উনার বুকের হাড় ভেঙ্গে যায়।এরপর উনি দোকান থেকে ব্যাথা কমার জন্য etoricoxib কিনে খাচ্ছেন। ফলাফল উনার কিডনী বিকল।এরপর থেকে উনি আর কোনো কাজ করতে পারছেন না। এখন উনার ছেলে রিকশা চালিয়ে উনার সংসার এর খরচ এবং চিকিৎসা ব্যায় বহন করছে।উনার চোখে পানি দেখে আমি জিজ্ঞেস করলাম আপনি কাদছেন কেনো?বলল স্যার আমার টেস্ট করানোর মতো কোনো টাকা নেই।আমি বললাম আপনি যে বাসায় যাবেন সেই টাকা আছে? কিছু খেয়েছেন সকাল থেকে।উনি বলল স্যার আপনার ভিজিট দেয়ার পর আমার কাছে আর কোনো টাকা নেই এবং সকাল থেকে না খেয়ে আছি।আমার কাছে একটা মেমোরি কার্ড আছে ঐটা বিক্রি করে কিছু টাকা হলে ঐটা দিয়া বাসায় যাওয়ার চেষ্টা করব।এরপর আমি উনার ভিজিট এর টাকা ফেরত দিলাম আর সাথে নিজের পকেট থেকে টাকা দিলাম উনার বাসায় যাওয়ার জন্য আর খাওয়ার জন্য। অথচ জীবন নিয়া আমাদের চাওয়া পাওয়ার কেনো শেষ নেই।আমরা যত পাই তত চাই। আর উনি একবেলা খেতে পাওয়ায় অনেক খুশি।আমরা অনেকেই মুরিমুরকির মতো ব্যাথার ঔষধ কিনে খাচ্ছি কোনো প্রেসক্রিপশন ছাড়া।এই ব্যাথার ওষুধ উনার কিডনী বিকল করে উনার পরিবার কে পুরা পথে নামিয়ে দিলো।১২ বছরের ছেলেটা রিকশা চালায় অথচ যে বয়সে তার স্কুল এ থাকার কথা ছিল।উনি ৩ বেলা খেতে পায় না।আমাদের সকলের ব্যাথার ঔষধ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া উচিত।উনার মতো ট্র্যাজেডি আমাদের কারো জীবনে যেন না আসে।