21/05/2026
রামিসার বাবা আজকে কেঁদে কঁদে বলছিল- আমার মেয়েটাকে আমি ছোট থেকে অনেক আদরে বড় করেছি। ঘুম ভেঙে গেলে মেয়েটা যাতে না কাঁদে তাই সবসময় বুকে নিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতাম।
আমি কখনো বাইরে থাকলে মেয়েটা ৫০-১০০ টা কল দিতো। মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলতো- বাবা, তুমি কখন আসবা?
বাসায় এসে দেখতাম মেয়েটা নিজে নিজেই শরবত বানিয়ে ফ্রিজে রেখে দিছে। আমি রুমে ঢুকা মাত্রই ঠান্ডা শরবত দিয়ে বলতো- আব্বু নাও এটা তোমার জন্যে বানিয়েছি।
আমার বড় মেয়েটা বাবার জন্যে শরবত বানাতে ভুলে গেলেও ছোট মেয়েটাকে ভুলতে দেখি নাই। আমি প্রায়ই জিজ্ঞেস করতাম- আম্মু তুমি এত ছোট মানুষ হয়েও মনে রাখো কিভাবে?
মেয়েটা রাগ করে বলতো- আব্বু আমাকে ছোট বলো কেন? দেখো না আমি ক্লাস টুতে উঠে গেছি। আর আমার রোলও ১, এখন আমি আর ছোট নাই।
এসব নিয়ে মেয়েটা আমার সাথে মাঝেমধ্যে মিথ্যা মিথ্যা অভিমানও করতো।
আমার সাথে অভিমান করা মেয়েটাই পরশুদিন আমাকে বলেছিল- আব্বু ,আমাকে একটা বোরকা কিনে দিবা?
আমার চাচাতো ভাই বলেছিল ফুটপাত থাইকা ৩০০ টাকার কমদামি বোরকা কিনে দিতে তাহলে খরচ কম পড়বে।
কিন্তু আমি সেটা করি নাই। নিউমার্কেট থেকে হাজার টাকা দামের সুন্দর একটা বোরকা কিনে আনছিলাম। কি যে খুশি হইছিল মাইয়াটা।
আমার এই মাইয়াটা সুন্দর হওয়ায় কতজন যে পালক নিতে চাইছিল কিন্তু দেই নাই। নিজে ৩ বছর ধরে পুরাতন ,ছিঁড়া স্যান্ডেল পড়ে কাটাইছি কিন্তু মেয়ে দুইটারে কোনদিন অভাব বুঝতে দেই নাই।
মেয়েটা ঘরে কাবা শরিফের ছবিও লাগিয়ে রাখছিল। আমাকে একদিন বলছিল- আব্বু তুমি কি আমাকে এখানে নিয়ে যাবা?
আমি বলছিলাম- তুমি আল্লাহর কাছে চাও মা। আমার তো নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা নাই।
আর এখন আমার মেয়েটাই আল্লাহর কাছে চলে গেছে।
আমার মাইয়াটা আমার একটা হৃৎপিণ্ড ছিল সেটাই আল্লাহ নিয়া গেসে। আমার কোন কষ্ট নাই।
রামিসার বাবা আফসোস করে সবশেষে বলেছে- আমি স্ট্যাম্পে লিখে দিতে পারব আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচারের কোন রেকর্ডও নাই।
সর্বোচ্চ ১৫ দিন যাবে তারপর নতুন টপিক আসলে আমার মেয়েকে সবাই ভুলে যাবে। আমি আমার ৫৫ বছরেও কোন সুষ্ঠু বিচার দেখি নাই, তাই আপনারাও কোন বিচার করতে পারবেন না।
রামিসার বাবা এই কথাটা বলেছে কারণ সে জানে এদেশে যারা আইন বানায়, আইন চালায় ওরাই দুর্নীতিবাজ, চরিত্রহীন।
কিছুদিন আগেও ঢাকা থেকে বিএনপির এক বড় নেতা রংপুর আসবে। এখন এই নেতাকে খুশি করার জন্যে ১৫-১৬ বছর কমবয়সী মেয়ে লাগবে।
তাই মেয়ে যোগাড় করার দায়িত্ব এসে পড়েছে বিএনপির ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদকের কাছে। সে মহিলা দলের নেত্রীকে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করেছে তার কাছে কোন মেয়ে আছে কিনা যে নেতার মনোরঞ্জন করতে পারবে, শারীরিক সম্পর্ক করতে পারবে।
মেয়ে যোগাড় করে দিতে পারলে নেত্রীকে বড় পদ দেয়া হবে।
মহিলা নেত্রী প্রথমে বলেছে কোন মেয়ে নেই। কিন্তু টাকা এবং পদের লোভে পরে বলেছে- জোরজবরদস্তি করে একজন ম্যানেজ করতে পারবো। মেয়েটা সুন্দর আছে, বাপটা গরীব ভ্যান চালায়।
রামিসার বাবার মতো এই ভ্যানচালক বাবার মেয়েটাও হয়তো বহুবার সম্ভ্রমহানির শিকার হয়েছে, ধ*র্ষিত হয়েছে কিন্তু সে খবর আমরা কেউই রাখিনি।
রামিসার বাবার চোখভেজা কান্নাগুলো আমাদের সামনে এসেছে বলে আমরা প্রতিবাদ করছি, সহানুভূতি জানাচ্ছি কিন্তু সেই গরিব ভ্যানচালক বাবাটার কথাই বা ক'জন ভেবেছি?
রামিসার বাবার মতো সেই বাবাটার কাছেও নিশ্চয়ই তার মেয়েটা আদরের ছিল ,প্রিয় ছিল। কিন্তু ক্ষমতার কাছে তিনিও নিঃস্ব, বিচার পান নাই।
এমন কতশত মেয়েকেই তো কত বড় বড় নেতা, মন্ত্রীরা ভোগ করে, ক'জনই বা সেটাতে প্রতিবাদ জানিয়েছি?
রামিসার বাবাও আজ বুঝে গেছেন যার কাছে তিনি বিচার চাইবেন তারাই টাকার কাছে অন্ধ কিংবা চরিত্র বর্গা দিয়ে বেড়ায়। তারা চাইলেই বিচার করতে পারে কিন্তু করবে না।
কারণ যেসব নেতারা একটা জেলার প্রোগ্রামে গেলেই মনোরঞ্জনের জন্যে কমবয়সী মেয়ে খুঁজে বেড়ায় তাদের কাছে এসব বাচ্চা মেয়ের ধ*র্ষণ কেইস কিছুই না, খুবই স্বাভাবিক।
তাই রামিসার বাবাও বুকে পাথর চেপে মেয়ের মৃত্যু মেনে নিয়েছেন। বিচারটুকুও চাননি।
আপনি হয়তো ভাবছেন কোথাকার কোন গরিব ভ্যানচালকের মেয়েকে নেতারা ভোগ করতে চেয়েছে, কোন সুদূর মিরপুরের রামিসাকে হ*ত্যা করেছে তাতে আমার কি? নেতা যাকে ইচ্ছা ভোগ করুক।
তাহলে সময় খুব বেশিদিন নেই, আর কিছুদিন পর আপনিও নিজের গলা কা*টা ধ*র্ষিত মেয়ের লা*শ কাঁধে নিয়ে আফসোস করে বলবেন- আমিও বিচার চাই না ,কারণ এদেশে বিচার সম্ভব না
- Ibrahim Khalil Shawon