28/07/2026
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে—এতে কি সত্যিই ভয়ের কিছু আছে?
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে কিছু টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। খবরটি দেখে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তবে বিষয়টি বুঝতে হলে আগে জানতে হবে—মাইক্রোপ্লাস্টিক কী, এটি কেন ব্যবহার করা হয় এবং এটি আমাদের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।
মাইক্রোপ্লাস্টিক কী?
মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটারের চেয়েও ছোট প্লাস্টিক কণা। এগুলো বিভিন্ন প্রসাধনী, শিল্পপণ্য ও প্লাস্টিকজাত সামগ্রীর ভাঙনের মাধ্যমে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। অতীতে কিছু টুথপেস্টেও পরিষ্কার করার ক্ষমতা বা টেক্সচার উন্নত করার উদ্দেশ্যে প্লাস্টিকজাত ক্ষুদ্র কণা ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে অনেক দেশে এ ধরনের ব্যবহার সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকলে কি তা সরাসরি শরীরে চলে যায়?
সাধারণ উত্তর—না।
আমরা টুথপেস্ট খাওয়ার জন্য ব্যবহার করি না। দাঁত ব্রাশ করার পর সাধারণত টুথপেস্ট মুখ থেকে থুতুর সঙ্গে ফেলে দিই এবং ভালোভাবে কুলি করি। তাই স্বাভাবিকভাবে ব্রাশ করলে টুথপেস্টের বেশিরভাগ অংশ শরীরে প্রবেশ করে না।
তবে এর অর্থ এই নয় যে বিষয়টি পুরোপুরি গুরুত্বহীন। অল্প পরিমাণ টুথপেস্ট অনিচ্ছাকৃতভাবে গিলে ফেলা সম্ভব, বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে। তাই শিশুদের ব্রাশ করার সময় অভিভাবকের নজরদারি প্রয়োজন।
তাহলে কি আতঙ্কিত হওয়া উচিত?
না। শুধুমাত্র “মাইক্রোপ্লাস্টিক” শব্দটি শুনে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বর্তমানে এমন কোনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই যা দেখায় যে স্বাভাবিকভাবে টুথপেস্ট ব্যবহার করে এবং তা না গিলে ফেললে এটি অধিকাংশ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। তবে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনও গবেষণা করছেন।
আমরা কী করতে পারি?
✔️ ব্রাশ করার পর ভালোভাবে কুলি করুন।
✔️ টুথপেস্ট গিলে ফেলবেন না।
✔️ শিশুদের জন্য মটরদানার সমান পরিমাণ টুথপেস্ট ব্যবহার করুন এবং তাদের ব্রাশ করার সময় নজর রাখুন।
✔️ বিশ্বস্ত ও মানসম্মত ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট ব্যবহার করুন।
✔️ কোনো খবর দেখেই আতঙ্কিত না হয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য যাচাই করুন।
একজন ডেন্টাল চিকিৎসক হিসেবে পরামর্শ
দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত সঠিক পদ্ধতিতে ব্রাশ করা, ফ্লোরাইডযুক্ত মানসম্মত টুথপেস্ট ব্যবহার করা এবং বছরে অন্তত একবার ডেন্টাল চেকআপ করা—এসবের গুরুত্ব অনেক বেশি।
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিটি খবর বিশ্বাস করার আগে তথ্য যাচাই করুন। সচেতন থাকুন, কিন্তু অযথা আতঙ্কিত হবেন না।
সুস্থ দাঁত, সুস্থ হাসি, সুস্থ জীবন।