02/04/2026
"দৃষ্টির আলো ছড়ানোর ৪৮ বছর: শুভ জন্মদিন ‘এবিসি’
আজ ২রা এপ্রিল—আমাদের সবার প্রিয় প্রতিষ্ঠান অ্যাসিস্ট্যান্স ফর ব্লাইন্ড চিলড্রেন (এবিসি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের এই দিনে যে মহতী যাত্রার সূচনা হয়েছিল, আজ তা চার দশকের সফল পথপরিক্রমা অতিক্রম করে পঞ্চম দশকে পদার্পণের দ্বারপ্রান্তে। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে এবিসি নিষ্ঠা, মানবিকতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে বাংলাদেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা, আবাসন ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমানে এবিসি তার ৭টি হোস্টেলের মাধ্যমে ৮৪ জন শিক্ষার্থীকে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আবাসন, পুষ্টিকর খাবার, স্কুল ড্রেস, শিক্ষা উপকরণ ও টিউশন ফি প্রদান করছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যয়, পরীক্ষার ফি এবং মানসিক বিকাশের জন্য সংগীত ও ক্রীড়া কার্যক্রমের সুযোগও নিশ্চিত করা হচ্ছে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত বৃত্তি প্রদান এবিসির একটি অনন্য মানবিক উদ্যোগ। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অধ্যয়নরত মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্যও মাসিক বৃত্তি কার্যক্রম চালু রয়েছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এবিসির অর্জনের ধারাও অত্যন্ত গৌরবময়। এ পর্যন্ত ৩১৪ জন শিক্ষার্থী আমাদের হোস্টেল থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ হয়েছে। আমাদের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের উপ-সচিব হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। আরেকজন গুণী প্রাক্তন শিক্ষার্থী জাপানে একটি এনজিও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এবিসির উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বৃত্তি দিয়ে সহায়তা করে আসছেন। প্রায় অর্ধশতাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, অনেকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তবে কিছু শিক্ষার্থী এখনও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবে জীবনমান উন্নয়নের সংগ্রামে নিয়োজিত—যা আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এবিসির অন্যতম বড় অর্জন হলো তার দুইটি চক্ষু হাসপাতালের দক্ষ ও সফল পরিচালনা, বিশেষ করে গাজীপুরস্থ এবিসি চক্ষু হাসপাতাল। এই হাসপাতালের অর্জিত আয় থেকেই শিক্ষার্থীদের সার্বিক ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছে—যা একটি টেকসই ও অনুকরণীয় মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এই মহান প্রতিষ্ঠানের সাতজন প্রতিষ্ঠাতাকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একইসঙ্গে সকল ডোনার, সমাজকল্যাণ সংস্থা ও এবিসির লাইফ মেম্বার, সকল সাধারণ সদস্য, কমিটি ও পরিচালনা পর্ষদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করছি। পাশাপাশি ডাক্তার বৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী বৃন্দ, শুভানুধ্যায়ীদের অবদান ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করছি। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে, এবং আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি,এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সঠিক পরিকল্পনা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সহযোগিতা ও দোয়ার মাধ্যমে এবিসি আরও এগিয়ে যাবে- এই প্রত্যাশায়।"
মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
জেনারেল সেক্রেটারি, এবিসি