Dr.Md.Ali Haider

Dr.Md.Ali Haider Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dr.Md.Ali Haider, Doctor, Gazipur.

এমবিবিএস(ডিইউ),সিসিডি(বারডেম)
সি-কার্ড(ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এন্ড রিচার্জ ইনস্টিটিউট),ডিওসি(চর্মরোগ)
মেডিকেল অফিসার(নবজাতক ও শিশু বিভাগ)
আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতাল
এক্স-লেকচারার,ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ
এক্স-মেডিকেল অফিসার,ঢাকা ইমপেরিয়াল হসপিটাল

মানুষ যখন অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপে (Stress) ভোগে, তখন এটি কেবল মনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। আমাদের মস্তিষ্ক এব...
03/07/2026

মানুষ যখন অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপে (Stress) ভোগে, তখন এটি কেবল মনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। আমাদের মস্তিষ্ক এবং শরীর একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দুশ্চিন্তা মূলত শরীরে একটি জরুরি অবস্থা বা "Fight or Flight" (লড়ো নয়তো পালাও) রেসপন্স তৈরি করে।
​সহজ ভাষায়, মস্তিষ্ক যখন কোনো বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত হয়, তখন সে ধরে নেয় শরীর কোনো বিপদের মুখে পড়েছে। ফলে শরীরকে বাঁচানোর জন্য সে কিছু হরমোন রিলিজ করে, যা পুরো শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
​নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো দুশ্চিন্তা আমাদের শরীরের কোন কোন অংশে কীভাবে প্রভাব ফেলে:
​১. মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র (Brain & Nervous System)
​দুশ্চিন্তা শুরু হলে মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা (Amygdala) অংশটি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং হাইপোথ্যালামাসকে সিগন্যাল পাঠায়। এর ফলে শরীরজুড়ে কর্টিসল (Cortisol) এবং অ্যাড্রেনালিন (Adrenaline) নামক স্ট্রেস হরমোনের বন্যা বয়ে যায়।
​মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরানো: হরমোনের এই হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে প্রায়ই মাইগ্রেন বা তীব্র মাথাব্যথা (Tension headache) হয়।
​স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ হ্রাস: দীর্ঘদিন অতিরিক্ত কর্টিসল হরমোন নিঃসরণ হলে মস্তিষ্কের স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষমতা এবং মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়।
​অনিদ্রা (Insomnia): হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে রাতে সহজে ঘুম আসতে চায় না, যা শরীরকে আরও ক্লান্ত করে ফেলে।
​২. হৃদযন্ত্র ও রক্তনালী (Cardiovascular System)
​"Fight or Flight" রেসপন্সের কারণে শরীর রক্তচাপ এবং হার্ট রেট বাড়িয়ে দেয়, যাতে পেশীগুলোতে দ্রুত রক্ত পৌঁছাতে পারে।
​বুক ধড়ফড় করা (Palpitations): দুশ্চিন্তা বাড়লে হঠাৎ মনে হতে পারে বুক কাঁপছে বা হার্টবিট খুব দ্রুত চলছে।
​উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure): দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তার কারণে রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে যায়, যা স্থায়ীভাবে উচ্চ রক্তচাপের সৃষ্টি করতে পারে।
​হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি: দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
​৩. পরিপাকতন্ত্র বা পেট (Digestive System)
​আমাদের পরিপাকতন্ত্রের সাথে মস্তিষ্কের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে (যাকে প্রায়ই 'Second Brain' বলা হয়)। দুশ্চিন্তার সময় শরীর হজম প্রক্রিয়ার চেয়ে নিজেকে বাঁচানোকে বেশি প্রাধান্য দেয়।
​অ্যাসিডিটি ও বুক জ্বালাপোড়া: স্ট্রেসের কারণে পেটে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হয়।
​IBS (Irritable Bowel Syndrome): দুশ্চিন্তার কারণে অনেকের ঘনঘন পেট খারাপ হয়, আবার কারও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। পেটে মোচড় দেওয়া বা গ্যাস হওয়া খুব সাধারণ লক্ষণ।
​বমি বমি ভাব ও ক্ষুধামন্দা: অনেকের অতিরিক্ত টেনশনে খাওয়ার রুচি একদম চলে যায় অথবা বমি বমি ভাব হয়।
​৪. পেশী ও কঙ্কালতন্ত্র (Musculoskeletal System)
​বিপদের হাত থেকে বাঁচতে শরীর যখন প্রস্তুত হয়, তখন শরীরের পেশীগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে শক্ত বা টানটান (Tense) হয়ে যায়।
​পেশী ব্যথা: দীর্ঘদিন দুশ্চিন্তা করলে ঘাড়, কাঁধ এবং পিঠের পেশীগুলো সবসময় শক্ত হয়ে থাকে। এর থেকে ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী শরীর ব্যথা শুরু হয়।
​৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immune System)
​স্বল্পমেয়াদী স্ট্রেস শরীরকে ইনফেকশন থেকে লড়তে সাহায্য করলেও দীর্ঘমেয়াদী দুশ্চিন্তা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
​ঘনঘন অসুস্থ হওয়া: অতিরিক্ত কর্টিসল হরমোন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। ফলে ঠান্ডা, সর্দি-কাশি বা যেকোনো ইনফেকশনে মানুষ খুব দ্রুত আক্রান্ত হয় এবং সুস্থ হতেও বেশি সময় লাগে।
​সংক্ষেপে: দুশ্চিন্তা কোনো কাল্পনিক বিষয় নয়। এটি শরীরে হরমোনের এমন একটি রাসায়নিক ঝড়, যা সামলাতে গিয়ে শরীরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই শারীরিক সুস্থতার জন্য মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

28/06/2026
নিউনেটাল জন্ডিস (Neonatal Jaundice) বা নবজাতকের জন্ডিস হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে রক্তে বিলিরুবিন (Bilirubin) নামক রঞ্জক...
18/06/2026

নিউনেটাল জন্ডিস (Neonatal Jaundice) বা নবজাতকের জন্ডিস হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে রক্তে বিলিরুবিন (Bilirubin) নামক রঞ্জক পদার্থের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে শিশুর ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়।
​অধিকাংশ নবজাতকের ক্ষেত্রেই জন্মের পর প্রথম সপ্তাহে হালকা জন্ডিস হওয়া একটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক হতে পারে, তাই সতর্ক থাকা জরুরি।
​নিউনেটাল জন্ডিস কেন হয়?
​শিশুর জন্মের পর তার রক্তে থাকা অতিরিক্ত লোহিত রক্তকণিকাগুলো ভাঙতে শুরু করে। এই ভাঙনের ফলে বিলিরুবিন তৈরি হয়।

​ফিজিওলজিক্যাল জন্ডিস (স্বাভাবিক): নবজাতকের লিভার বা যকৃত পুরোপুরি পরিপক্ক না হওয়ায় তারা এই অতিরিক্ত বিলিরুবিন দ্রুত শরীর থেকে বের করতে পারে না। ফলে জন্ডিস দেখা দেয়। এটি সাধারণত জন্মের ২-৩ দিন পর শুরু হয় এবং ১-২ সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়।

​প্যাথোলজিক্যাল জন্ডিস (অস্বাভাবিক): যদি জন্ডিস জন্মের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেখা দেয়, বিলিরুবিনের মাত্রা খুব দ্রুত বাড়ে, কিংবা শিশু অসুস্থ থাকে, তবে তা প্যাথোলজিক্যাল। এর কারণ হতে পারে:
​মা ও শিশুর রক্তের গ্রুপের অমিল (যেমন: Rh বা ABO incompatibility)
​শিশুর শরীরে কোনো ইনফেকশন বা সংক্রমণ
​কোনো এনজাইমের ঘাটতি (যেমন: G6PD deficiency)
​পিত্তনালীর কোনো সমস্যা (Biliary Atresia)

​জন্ডিস বোঝার উপায় (লক্ষণ)
​শিশুর ত্বকের রঙ হলুদ হয়ে যাওয়া (প্রথমে মুখে শুরু হয়ে আস্তে আস্তে বুকে, পেটে ও পায়ে ছড়ায়)।
​চোখের সাদা অংশ হলুদ দেখানো।
​ত্বক আঙুল দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে ছেড়ে দিলে নিচের চামড়া হলুদ দেখাবে।
​শিশু অতিরিক্ত ঘুমালে বা মায়ের দুধ খেতে না চাইলে।
​প্রস্রাব একদম গাঢ় হলুদ হলে (স্বাভাবিক নবজাতকের প্রস্রাব পানির মতো পরিষ্কার হয়)।
​পায়খানা একদম সাদা বা ধূসর বর্ণের হলে।

​কখন দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন?
​যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে কোনো দেরি না করে শিশুকে হাসপাতালে বা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে:
১. জন্ডিস যদি জন্মের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেখা দেয়।
২. শিশুর হাতের তালু এবং পায়ের পাতা হলুদ হয়ে গেলে।
৩. শিশু যদি মায়ের দুধ টানা ছেড়ে দেয় বা টেনে খেতে না পারে।
৪. শিশু যদি অতিরিক্ত ক্লান্ত, ঝিমুনি ভাব বা নিস্তেজ হয়ে থাকে, কিংবা তাকে ঘুম থেকে জাগানো কঠিন হয়।
৫. শিশু যদি অস্বাভাবিকভাবে বা তীব্রস্বরে কান্নাকাটি করে।
৬. শিশুর শরীর যদি ধনুকের মতো বেঁকে যায় বা খিঁচুনি হয় (কার্নিকটেরাস বা মস্তিষ্কে বিলিরুবিন জমে যাওয়ার লক্ষণ)।
​চিকিৎসা ও করণীয়

​ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ানো: শিশুকে দিনে ও রাতে অন্তত ৮ থেকে ১২ বার মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। এর ফলে প্রস্রাব ও পায়খানার মাধ্যমে শরীর থেকে বিলিরুবিন বের হয়ে যায়।
​ফটোথেরাপি (Phototherapy): যদি বিলিরুবিনের মাত্রা একটি নির্দিষ্ট সীমার ওপরে চলে যায়, তবে হাসপাতালে বিশেষ নীল আলো বা ফটোথেরাপির নিচে শিশুকে রাখা হয়। এই আলো বিলিরুবিনকে ভেঙে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হতে সাহায্য করে।​
এক্সচেঞ্জ ট্রান্সফিউশন (Exchange Transfusion): বিলিরুবিনের মাত্রা অত্যন্ত বেশি এবং বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে গেলে শিশুর রক্ত পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতে পারে (খুবই বিরল ক্ষেত্রে)।

​⚠️ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা: প্রচলিত একটি ধারণা আছে যে জন্ডিস হলে শিশুকে কড়া রোদে রাখা উচিত। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, নবজাতককে সরাসরি তীব্র রোদে রাখা একদমই উচিত নয়। এতে শিশুর ত্বক পুড়ে যেতে পারে (Sunburn) এবং ডিহাইড্রেশন বা শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। জন্ডিস সন্দেহ হলে রোদে না রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

গর্ভাবস্থায় প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যে খাবারগুলো রাখা উচিত এবং কেন রাখা উচিত, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:​১. ফলিক ...
15/06/2026

গর্ভাবস্থায় প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যে খাবারগুলো রাখা উচিত এবং কেন রাখা উচিত, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

​১. ফলিক অ্যাসিড ও আয়রন সমৃদ্ধ খাবার
​কী খাবেন: পালং শাক, লাল শাক, কলমি শাক, ব্রকলি, ডাল, মটরশুঁটি, এবং গাঢ় সবুজ শাকসবজি।
​কেন খাবেন: গর্ভাবস্থার প্রথম কয়েক সপ্তাহে শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ড গঠনে ফলিক অ্যাসিড অত্যন্ত জরুরি। এটি শিশুকে জন্মগত ত্রুটি (যেমন: নিউরাল টিউব ডিফেক্ট) থেকে রক্ষা করে। অন্যদিকে, আয়রন রক্তশূন্যতা দূর করে এবং মা ও শিশুর শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করে।

​২. উচ্চ প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাবার
​কী খাবেন: ভালোমতো রান্না করা মাছ, মুরগির মাংস, ডিম, ডাল, বাদাম এবং বীজ জাতীয় খাবার।
​কেন খাবেন: প্রোটিন হলো শরীরের ইট-পাথর। শিশুর কোষ, কলা (tissue) এবং বিশেষ করে মস্তিষ্কের সঠিক বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন প্রয়োজন। ডিমের কুসুমে 'কোলিন' নামক একটি উপাদান থাকে, যা শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে ভূমিকা রাখে।

​৩. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার
​কী খাবেন: পাস্তুরিত দুধ, দই, ছানা বা পনির, এবং ছোট মাছ (যা কাঁটাসহ খাওয়া যায়)।
​কেন খাবেন: শিশুর হাড় ও দাঁত মজবুত করার জন্য প্রচুর ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম না থাকলে শিশু মায়ের হাড় থেকে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করে, যার ফলে ভবিষ্যতে মায়ের হাড় ক্ষয় বা ব্যাকপেইন হতে পারে।

​৪. ভিটামিন-সি ও আঁশযুক্ত (Fibre) খাবার
​কী খাবেন: কমলা, লেবু, পেয়ারা, আমলকী, পাকা পেঁপে, আপেল এবং বিভিন্ন মৌসুমী ফল ও সবজি।
​কেন খাবেন: ভিটামিন-সি শরীরকে আয়রন শোষণ করতে সাহায্য করে। এছাড়া ফল ও সবজিতে থাকা ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ গর্ভকালীন একটি সাধারণ সমস্যা—কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) দূর করতে চমৎকার কাজ করে।

​৫. কার্বোহাইড্রেট বা শক্তিদায়ী খাবার
​কী খাবেন: লাল চালের ভাত, ওটস, লাল আটার রুটি এবং মিষ্টি আলু।
​কেন খাবেন: এগুলো শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি বজায় রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যা জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস (গর্ভকালীন ডায়াবেটিস) প্রতিরোধের জন্য ভালো।

​একটি জরুরি সতর্কতা: গর্ভাবস্থায় যেকোনো খাবারই খান না কেন, তা যেন খুব ভালোমতো ধুয়ে এবং পুরোপুরি সেদ্ধ করে রান্না করা হয়। আধো-সেদ্ধ মাংস, কাঁচা ডিম বা অপাস্তুরিত দুধ সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো থেকে লিস্টেরিয়া বা সালমোনেলার মতো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে, যা গর্ভস্থ শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
​এর পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে (কমপক্ষে ২ থেকে ৩ লিটার) নিরাপদ পানি পান করা উচিত। যেকোনো নতুন ডায়েট প্ল্যান শুরু করার আগে বা কোনো সাপ্লিমেন্ট (যেমন আয়রন বা ক্যালসিয়াম বড়ি) খাওয়ার আগে অবশ্যই আপনার গাইনোকোলজিস্টের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া ভালো।

শিশুদের স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন (Childhood Obesity) কেবল সাময়িক কোনো সমস্যা নয়। শৈশবের এই অতিরিক্ত ওজন শরীরের ভেতর এমন ক...
14/06/2026

শিশুদের স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন (Childhood Obesity) কেবল সাময়িক কোনো সমস্যা নয়। শৈশবের এই অতিরিক্ত ওজন শরীরের ভেতর এমন কিছু দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন তৈরি করে, যা প্রাপ্তবয়সে পৌঁছালে শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।অনেক মা-বাবার অতিরিক্ত আদরে সন্তানকে বেশি খাওয়ানো ও শারিরীক পরিশ্রম করতে না দেয়া শিশুদের স্হূলতায় ভূমিকা পালন করে।

​চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, স্থূলতায় আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ প্রাপ্তবয়সেও স্থূল থেকে যায় এবং তাদের বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি থাকে।

​ভবিষ্যতে এটি যে ধরনের প্রভাব ফেলে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
​১. দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক রোগ (Physical Health Risks)
​টাইপ-২ ডায়াবেটিস (Type 2 Diabetes): স্থূলতার কারণে শিশুদের শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স (Insulin resistance) তৈরি হয়, অর্থাৎ শরীর ইনসুলিন হরমোন সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। ফলে খুব অল্প বয়সেই (এমনকি কৈশোরেই) টাইপ-২ ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে।
​হৃদরোগের ঝুঁকি (Cardiovascular Diseases): অতিরিক্ত চর্বি জমার কারণে রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে রক্তনালী সরু হয়ে যায় (Atherosclerosis)। ফলে তরুণ বা প্রাপ্তবয়সে পৌঁছাতেই উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure), হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
​ফ্যাটি লিভার (NAFLD): রক্তে অতিরিক্ত চর্বি থাকার কারণে লিভারে চর্বি জমতে শুরু করে, যাকে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বলা হয়। ভবিষ্যতে এটি থেকে লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।
​মেটাবলিক সিন্ড্রোম (Metabolic Syndrome): এটি উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ রক্তে শর্করা, কোমরের চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি এবং অস্বাভাবিক কোলেস্টেরলের মাত্রার একটি সমষ্টি, যা সরাসরি হৃদরোগ ও স্ট্রোকের দিকে ঠেলে দেয়।

​২. হাড় ও জয়েন্টের সমস্যা (Bone and Joint Compositions)
​শিশুদের হাড় ও জয়েন্টগুলো নরম এবং গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকে। শরীরের অতিরিক্ত ওজন বহন করতে গিয়ে তাদের হাঁটু, কোমর এবং পায়ের পাতার ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে।
​এর ফলে অস্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis), হাড় বেঁকে যাওয়া এবং জয়েন্টে তীব্র ব্যথার সমস্যা প্রাপ্তবয়সে স্থায়ী রূপ নিতে পারে।

​৩. শ্বাসকষ্ট এবং ঘুমের সমস্যা (Respiratory Issues)
​স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea): ঘুমের মধ্যে শ্বাসনালী আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে দম আটকে যাওয়া বা জোরে নাক ডাকার সমস্যা হয়। এর ফলে রাতে ঘুম ভালো হয় না, যা দিনের বেলা বাচ্চার ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব এবং মেজাজ খিটখিটে হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
​স্থূল শিশুদের মধ্যে অ্যাজমা বা হাঁপানির প্রকোপ এবং তীব্রতা দুটোই বেশি দেখা যায়।

​৪. মানসিক ও সামাজিক প্রভাব (Psychological & Social Impact)
​শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক ক্ষতিটি অনেক সময় আরও গভীর হয়:
​হীনম্মন্যতা ও বিষণ্ণতা: স্কুল বা খেলার মাঠে শারীরিক গঠনের কারণে অন্য বাচ্চাদের বুলিং বা ঠাট্টার শিকার হতে হয়। এতে বাচ্চার আত্মবিশ্বাস (Self-esteem) ভেঙে পড়ে এবং তারা তীব্র বিষণ্ণতা ও সামাজিক আইসোলেশনে (নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া) ভুগতে পারে।
​ইটিং ডিসঅর্ডার (Eating Disorders): মানসিক চাপের কারণে অনেকে 'ইমোশনাল ইটিং' বা অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ে, যা সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তোলে।

​৫. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং প্রজনন সমস্যা
​অল্প বয়সে বয়ঃসন্ধি: মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে স্থূলতার কারণে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন বেড়ে যায়, ফলে স্বাভাবিক সময়ের অনেক আগেই বয়ঃসন্ধি (Precocious Puberty) চলে আসতে পারে।
​পিসিওএস (PCOS): ভবিষ্যতে মেয়েদের পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, যা অনিয়মিত পিরিয়ড, অতিরিক্ত লোম গজানো এবং প্রাপ্তবয়সে বন্ধ্যাত্ব বা সন্তান ধারণে সমস্যার সৃষ্টি করে।

​প্রতিরোধে বাবা-মায়ের ভূমিকা
​শিশুদের ওজন কমানোর জন্য বড়দের মতো কঠোর ডায়েট বা জিম করার প্রয়োজন নেই। জীবনযাত্রার ছোট ছোট কিছু পরিবর্তনই এর সমাধান করতে পারে:
​স্ক্রিন টাইম কমানো: টিভি, মোবাইল বা কম্পিউটারের সামনে কাটানো সময় দৈনিক ১-২ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ করুন।
​শারীরিক পরিশ্রম: শিশুকে প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টা দৌড়াদৌড়ি, সাইকেল চালানো বা যেকোনো আউটডোর খেলায় উৎসাহিত করুন।
​খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: ফাস্টফুড, কোমল পানীয় (Soft drinks), চিপস, চকলেট এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার পুরোপুরি পরিহার করুন। ঘরের তৈরি সুষম খাবার, শাকসবজি এবং ফলমূলের অভ্যাস করান।
​একসাথে খাওয়া: পুরো পরিবার যেন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলে, কারণ শিশুরা বাবা-মাকে দেখেই শেখে।

​জরুরি নোট:
বাচ্চার ওজন তার বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ঠিক আছে কিনা তা জানার জন্য একজন শিশু বিশেষজ্ঞ বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে বিএমআই (BMI - Body Mass Index) চেক করিয়ে নেওয়া ভালো। কোনো ক্র্যাশ ডায়েট করানোর আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের গাইডলাইন নেওয়া উচিত।

বাচ্চাদের মস্তিষ্কের গঠন ও বিকাশ (Brain Development) একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মে ঘটে। এটি মূলত গর্ভাবস্থা থেকে শুরু হয়ে প্রাপ...
13/06/2026

বাচ্চাদের মস্তিষ্কের গঠন ও বিকাশ (Brain Development) একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মে ঘটে। এটি মূলত গর্ভাবস্থা থেকে শুরু হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে, তবে এর মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট সময়কাল রয়েছে যা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ।

​১. ব্রেইন ডেভেলপমেন্টের মূল সময়কাল
​মস্তিষ্কের বিকাশের সময়কালকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
​সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় (প্রথম ১০০০ দিন): মায়ের গর্ভধারণের প্রথম দিন থেকে শুরু করে শিশুর ২ বছর বয়স পর্যন্ত সময়কে "প্রথম ১০০০ দিন" বলা হয়। এই সময়ে শিশুর মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% বিকাশ সম্পন্ন হয়। নিউরনের সংযোগগুলো (Synapses) এই সময়ে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে তৈরি হয়।
​পরবর্তী দ্রুত বিকাশ (৫-৬ বছর বয়স পর্যন্ত): ৫ থেকে ৬ বছর বয়সের মধ্যে শিশুর মস্তিষ্কের প্রায় ৯০% গঠন পূর্ণ হয়ে যায়। তাই শিশুর বুদ্ধিমত্তা, আচরণ এবং শেখার ক্ষমতার ভিত্তি এই বয়সের মধ্যেই তৈরি হয়।
​পূর্ণ বিকাশ: মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স (যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে) পুরোপুরি বিকশিত হতে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

​২. ব্রেইন ডেভেলপমেন্টের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার ও পুষ্টি উপাদান
​মস্তিষ্কের ভালো বিকাশের জন্য কোনো একটি একক খাবারের ওপর নির্ভর না করে নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ সুষম খাবার নিশ্চিত করা জরুরি। নিচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং সেগুলোর উৎসের তালিকা দেওয়া হলো:
​ক) ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (বিশেষ করে DHA)
​মস্তিষ্কের কোষ গঠনে এবং কার্যকারিতা বাড়াতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।
​উৎস: রুই, কাতল, ইলিশ, পাঙ্গাস বা সামুদ্রিক মাছ (যেমন টুনা, স্যামন), তিল, তিসির তেল এবং আখরোট।
​খ) কোলিন (Choline) এবং প্রোটিন
​কোলিন মস্তিষ্কের মেমোরি সেন্টার বা স্মৃতিশক্তি তৈরিতে সাহায্য করে। আর প্রোটিন নতুন কোষ গঠনে ভূমিকা রাখে।
​উৎস: ডিম (ডিমের কুসুম কোলিনের চমৎকার উৎস), মুরগির মাংস, ডাল এবং বাদাম।
​গ) আয়রন বা লোহা
​মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য আয়রন অপরিহার্য। আয়রনের অভাবে শিশুর মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে (Cognitive deficit)।
​উৎস: কলিজা, লাল মাংস, কচু শাক, পালং শাক, ডাল এবং ডালিম।
​ঘ) জিঙ্ক এবং আয়োডিন
​আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি হয়, যা শিশুর বুদ্ধিমত্তা স্থায়ীভাবে কমিয়ে দিতে পারে। জিঙ্ক মেধা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
​উৎস: আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক খাবার, দুধ, দই এবং পনির।

​বয়স অনুযায়ী করণীয় (সংক্ষিপ্ত গাইড)
বয়স,করণীয় ও খাদ্যাভ্যাস
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালমায়ের পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। মা ওমেগা-৩, আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড খেলে তা বুকের দুধের মাধ্যমে শিশু পায়।
০ থেকে ৬ মাসশুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ। এতে শিশুর মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান সঠিক অনুপাতে থাকে।
৬ মাস থেকে ৫ বছরবুকের দুধের পাশাপাশি খিচুড়ি (চাল, ডাল, সবজি, তেল বা ঘি দিয়ে তৈরি), ডিমের কুসুম, চটকানো মাছ-মাংস এবং ফলের পিউরি।

​সতর্কতা: ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের আস্ত বাদাম বা শক্ত খাবার দেবেন না, এতে শ্বাসনালীতে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বাদাম গুঁড়ো করে বা পেস্ট করে খাবারের সাথে মিশিয়ে দেওয়া নিরাপদ। শিশুর খাবারে অতিরিক্ত চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার (চিপস, কোমল পানীয়) পরিহার করুন।

গ্যাসের সমস্যা বা অ্যাসিডিটি মূলত আমাদের লাইফস্টাইল, খাদ্যাভ্যাস এবং পরিপাক প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি জড়িত। কিছু নির্দিষ্ট ...
06/06/2026

গ্যাসের সমস্যা বা অ্যাসিডিটি মূলত আমাদের লাইফস্টাইল, খাদ্যাভ্যাস এবং পরিপাক প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি জড়িত। কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস এবং খাবারের কারণে এই সমস্যা মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে।

​নিচে প্রধান কারণগুলো আলোচনা করা হলো:
​১. খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত কারণ
​অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও মসলাদার খাবার: ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড এবং অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার হজম হতে সময় নেয়, যা পাকস্থলীতে অ্যাসিডের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়।
​গ্যাস উৎপাদনকারী খাবার: কিছু খাবার স্বাভাবিকভাবেই পেটে গ্যাস তৈরি করে। যেমন:
​ডাল (বিশেষ করে বুটের ডাল, ছোলার ডাল)।
​কিছু সবজি (বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, মূলা)।
​অতিরিক্ত পেঁয়াজ ও রসুন।
​দুগ্ধজাত খাবার (Lactose Intolerance): অনেকের শরীরে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার (পনির, মিষ্টি) হজম করার এনজাইম কম থাকে। তাদের ক্ষেত্রে দুধ খেলে পেট ফাঁপা ও গ্যাস হতে পারে।
​কার্বোনেটেড বেভারেজ: কোমল পানীয় (Soft drinks) বা সোডা ওয়াটারে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড থাকে, যা সরাসরি পেটে গ্যাস তৈরি করে।
​অতিরিক্ত চা বা কফি: খালি পেটে বা অতিরিক্ত পরিমাণে চা-কফি খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়।

​২. খাওয়ার ভুল নিয়ম
​দ্রুত খাবার খাওয়া: খাবার ভালো করে না চিবিয়ে তাড়াহুড়ো করে গিললে খাবারের সাথে প্রচুর বাতাস ভেতরে ঢুকে যায় (Aerophagia), যা পরে গ্যাসের সৃষ্টি করে।
​খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া: খাবার খাওয়ার পরপরই ঘুমাতে বা শুয়ে পড়লে হজমপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্স (Acid Reflux) বা বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা বাড়ে।
​খাবারের মাঝে অতিরিক্ত পানি পান: খাওয়ার ঠিক মাঝখানে বা পরপরই খুব বেশি পানি খেলে পাচক রস (Digestive enzymes) পাতলা হয়ে যায়, ফলে খাবার ঠিকমতো হজম হতে চায় না।
​দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা: দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে পাকস্থলীতে জমতে থাকা অ্যাসিড দেয়ালকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং গ্যাসের তীব্র ব্যথা তৈরি করে।

​৩. লাইফস্টাইল ও অন্যান্য কারণ
​শারীরিক পরিশ্রম না করা: খাবার পর অলস বসে থাকা বা সারাদিন কোনো শারীরিক পরিশ্রম না করলে অন্ত্রের গতিশীলতা (Gut motility) কমে যায়, ফলে গ্যাস জমে থাকে।
​ধূমপান ও মদ্যপান: ধূমপান করার সময় অতিরিক্ত বাতাস পেটে ঢোকে। এছাড়া নিকোটিন ও অ্যালকোহল পাকস্থলীর নীচের দিকের পেশিকে শিথিল করে দেয়, ফলে অ্যাসিড সহজে ওপরের দিকে উঠে আসে।
​মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা: অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা ‘স্ট্রেস’ আমাদের পরিপাকতন্ত্রের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। একে Gut-Brain Axis বলা হয়। স্ট্রেসের কারণে হজম ব্যাহত হয় এবং গ্যাস বাড়ে।
​পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব: ঘুম কম হলে শরীরের স্বাভাবিক মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়, যা গ্যাসের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

​পরামর্শ: আপনার যদি নিয়মিত এবং তীব্র গ্যাসের সমস্যা থাকে, তবে কোন খাবারগুলো খেলে সমস্যা বেশি হচ্ছে তা খেয়াল করে একটি 'ফুড ডায়েরি' মেইনটেইন করতে পারেন। তবে জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পরেও যদি উন্নতি না হয়, তাহলে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অন্তর্নিহিত কোনো সমস্যা (যেমন: IBS, পেপটিক আলসার বা GERD) আছে কিনা তা পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

স্থূলতা (Obesity) বর্তমান বিশ্বে এবং আমাদের সমাজে একটি অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান...
31/05/2026

স্থূলতা (Obesity) বর্তমান বিশ্বে এবং আমাদের সমাজে একটি অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে স্থূলতাকে একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিচে এর অপকারিতা এবং তথাকথিত "উপকারিতা" বা কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এর প্রভাব বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

​স্থূলতার অপকারিতা (Disadvantages/Risks)
​স্থূলতার কারণে শরীরে নানা ধরণের জটিল ও মারাত্মক রোগ বাসা বাঁধতে পারে। এর প্রধান অপকারিতাগুলো হলো:

​হৃদরোগের ঝুঁকি: রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়, যা ধমনীতে চর্বি জমিয়ে রক্তচাপ বাড়ায় (High Blood Pressure) এবং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

​টাইপ-২ ডায়াবেটিস: অতিরিক্ত চর্বির কারণে শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে (Insulin Resistance)। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিস দেখা দেয়।

​হাড় ও জয়েন্টের সমস্যা: শরীরের অতিরিক্ত ওজন বহন করতে গিয়ে হাঁটু, কোমর এবং পায়ের জয়েন্টগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলে অ osteoarthritis বা বাতের ব্যথা এবং জয়েন্ট ক্ষয় হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।

​ফ্যাটি লিভার (NAFLD): যকৃতে বা লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে পারে, যা পরবর্তীতে লিভার সিরোসিসের দিকে মোড় নিতে পারে।

​শ্বাসকষ্ট ও স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea): ঘুমানোর সময় শ্বাসনালী আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে দম আটকে যাওয়া বা তীব্র নাক ডাকার সমস্যা হয়, যাকে স্লিপ অ্যাপনিয়া বলে। এতে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়।

​ক্যান্সারের ঝুঁকি: স্তন, কোলন, কিডনি এবং লিভারসহ বেশ কয়েক ধরণের ক্যান্সারের ঝুঁকি স্থূলতার কারণে বৃদ্ধি পায়।

​মানসিক ও সামাজিক প্রভাব: অতিরিক্ত ওজনের কারণে অনেকেই হীনমন্যতা, বিষণ্ণতা (Depression) এবং সামাজিক উদ্বেগে ভোগেন।

একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিন B12 এর মতো পুষ্টির চাহিদা মেটাতে রেড মিট (গরু, খাসি বা...
27/05/2026

একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিন B12 এর মতো পুষ্টির চাহিদা মেটাতে রেড মিট (গরু, খাসি বা ভেড়ার মাংস) ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

​একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সপ্তাহে কতটুকু রেড মিট খেতে পারবেন?
​আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর (যেমন: World Cancer Research Fund) মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য লাল মাংস খাওয়ার নিরাপদ সীমা হলো:
​সাপ্তাহিক পরিমাণ: সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৩৫০ থেকে ৫০০ গ্রাম (রান্না করা মাংসের ওজন)।
​দৈনিক বা প্রতি বারের হিসাব: আপনি যদি সপ্তাহে ৩ দিন মাংস খান, তবে প্রতিবারে ৭০ থেকে ৯০ গ্রাম (প্রায় ২-৩ টুকরো মাঝারি সাইজের সলিড মাংস) খাওয়া উচিত।

রেড মিট বা লাল মাংস কারা একেবারেই খাবেন না বা এড়িয়ে চলবেন?
​কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের রেড মিট খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অত্যন্ত সীমিত করা উচিত:

​উচ্চ কোলেস্টেরল ও হৃদরোগী: যাদের রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) বেশি এবং যারা ইতিমধ্যে হার্টের সমস্যায় ভুগছেন বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে আছেন।
​ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD): কিডনি বিকল বা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের প্রোটিন ও ফসফরাস বিপাক করতে সমস্যা হয়, তাই তাদের রেড মিট এড়ানো উচিত।
​যকৃৎ বা লিভারের রোগী: বিশেষ করে লিভার সিরোসিস বা ফ্যাটি লিভারের শেষ পর্যায়ে থাকা রোগীদের জন্য এটি ক্ষতিকর।
​নিয়ন্ত্রণহীন উচ্চ রক্তচাপ (High BP): রক্তচাপ যাদের খুব বেশি এবং নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
​গেঁটে বাত বা ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা: রেড মিটে 'পিউরিন' (Purine) নামক উপাদান থাকে যা শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বাড়িয়ে দেয় এবং জয়েন্টে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করে।

রেড মিট বেশি খেলে কি কি সমস্যা হতে পারে?
​নিয়মিত এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাল মাংস খেলে শরীরে নানা ধরনের দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা দেখা দিতে পারে:
​হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি: রেড মিটে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তনালীর দেওয়ালে চর্বি জমিয়ে রক্ত চলাচল ব্যাহত করে। এতে হার্ট অ্যাটাক এবং ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
​ক্যান্সারের ঝুঁকি (বিশেষ করে কোলন ক্যান্সার): বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) প্রক্রিয়াজাত রেড মিটকে (যেমন: সসেজ, সালামি) সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টিকারী এবং সাধারণ রেড মিটকে সম্ভাব্য ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এটি পরিপাকতন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

​ডায়াবেটিসের ঝুঁকি: অতিরিক্ত লাল মাংস ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
​হজম ও পেটের সমস্যা: এতে আঁশ বা ফাইবার না থাকায় অতিরিক্ত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।

​সুস্বাদু ও নিরাপদ উপায়ে খাওয়ার পরামর্শ
​মাংস কাটার সময় সাদা চর্বির অংশগুলো পুরোপুরি ফেলে দিন। ডুবো তেলে ফ্রাই বা ঘন ঝোল (ভুনা) না করে ঝোল ছাড়া স্টু, স্যুপ বা গ্রিল করে খেলে এর ক্ষতিকারক চর্বির প্রভাব অনেকটাই এড়ানো যায়। এছাড়া মাংসের সাথে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি এবং সালাদ রাখুন।

Address

Gazipur

Opening Hours

Monday 08:00 - 22:00
Tuesday 08:00 - 22:00
Wednesday 08:00 - 22:00
Thursday 08:00 - 22:00
Friday 08:00 - 22:00
Saturday 08:00 - 22:00
Sunday 08:00 - 22:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr.Md.Ali Haider posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category