26/02/2026
কিছু বাতরোগের পরিচিতি
৭। গাউট বা ইউরিক এসিড বৃদ্ধিজনিত বাত:
ইউরিক এসিড বৃদ্ধিজনিত বাত নিয়ে রোগী এবং ডাক্তার সবার বেশ আগ্রহ দেখা যায়। যে কোন ব্যথা নিয়ে আসলেই নারী পুরুষ নির্বিশেষে ইউরিক এসিড টেস্ট করা হয় যা আসলে সঠিক নয়।
# এটি কেন হয়: আমাদের শরীরে বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় বর্জ্য পদার্থ হিসেবে ইউরিক এসিড তৈরি হয় এবং কিডনী দিয়ে প্রশ্রাবের সাথে নির্গত হয়। শরীরে যদি বেশি পরিমাণ ইউরিক এসিড উৎপন্ন হয়, অথবা কিডনী দিয়ে যদি ইউরিক এসিড বের না হতে পারে তখন রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়।
কিছু জেনেটিক রোগ, কিছু রক্তের রোগ, কিডনীর রোগ, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে, আর কিছু খাদ্যাভ্যাসের কারণে যেমন অতিরিক্ত লাল মাংস আহার( গরু, খাসী, ভেড়া, শুকর), সামুদ্রিক মাছ ( সামুদ্রিক শুটকি), বিয়ার বা মদ্য পান, চিনিযুক্ত কোমল পানীয়, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
# এটি পুরুষদের বেশি হয়। মহিলাদের মাসিক যতদিন চলমান থাকে ততদিন তাদের এই রোগ সাধারণত হয় না। তবে মাসিক বন্ধ হওয়ার পর তাদের হতে পারে।
# কী কী লক্ষণ হয়?
এইরোগে হঠাৎ করে গিরা ফুলে যায়, সাধারণত পায়ের বুড়ো আঙুলের ছোট গিরা দিয়ে শুরু হয়, ৮-১২ ঘন্টার মধ্যেই প্রচণ্ড ব্যথা, ফুলে যাওয়া, লাল হয়ে যাওয়া, পায়ের আঙুলে ছোঁয়া যায় না, ভর দেয়া যায় না, এমন তীব্র ব্যথা হয়। ১৪ দিনের মধ্যে থার ওষুুধ খেলে কমে যায়, এমনকি ব্যথার ওষুধ না খেলেও নিজে নিজেই ব্যথা কমে যায়। আবার কিছুদিন ভালো থাকে, কিছুদিন পর আবার একইরকম ব্যথা উঠে। এই চক্র চলতে থাকে, যত দিন যায় তত ঘনঘন আক্রমণ হতে থাকে, আরো বেশি গিরা আক্রান্ত হতে থাকে, একসময় দীর্ঘস্থায়ী গিরা ব্যথা হতে পারে, কিডনীতে পাথর হতে পারে, গিরাতে এবং শরীরের কিছু জায়গায় ইউরিক এসিড ক্রিস্টাল জমে সাদা চকের মত পদার্থ পাওয়া যেতে পারে।
#ইউরিক এসিড বেড়ে গেলেই কী সবসময় গাউট হয়?
না, অনেক মানুষের রক্তে ইউরিক এসিড স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বাড়লেও তাদের কখনো গাউট হয় না। গবেষণায় দেখা গেছে যাদের রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেশি তাদের তিনভাগের দুইভাগেরই দীর্ঘমেয়াদী ফলোআপে কোন গাউট হয়নি, মাত্র তিনভাগের একভাগের গাউট হয়েছে। তাই রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা একটু বেড়ে গেলেই সারাজীবন ধরে গাউটের ওষুধ ফেবুক্সোস্ট্যাট খাওয়ার কোন যুক্তি নাই।
মনে রাখতে হবে রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে বলে হাইপারইউরেসিমিয়া এবং এতে ইউরিক এসিড রক্তেই শুধু বেশি আছে, গিরায় কোন ব্যথা এখনো হয় নাই। অতিরিক্ত ইউরিক এসিড ক্রিস্টাল গিরায় জমে গিরা ব্যথা তৈরি হলে কেবল তখন গাউট বলা হয়।
# চিকিৎসা কী?
শুধু রক্তে ইউরিক এসিড বেশি, গিরা আক্রান্ত হয়নি: জীবন যাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, কোন ওষুধ বা অন্য কী কারণে বাড়ছে খুঁজে বের করা।
কখন ওষুধ লাগবে সেটি চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এবং ওইসব নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ওষুধ লাগলে তা সারাজীবন চালিয়ে যেতে হবে।
#ইউরিক এসিড বাড়লে কী কী খাওয়া যাবে না?
অনেকে বড় লিস্ট ধরিয়ে দেন কী কী খাওয়া যাবে না। আসলে তা সঠিক নয়। কিছু খাবার আছে একেবারেই বাদ দিতে পারলে ভালো যেমন: কলিজা, সামুদ্রিক মাছ, বিয়ার, সুগারী ড্রিংকস। কিছু খাবার কমিয়ে দিতে হবে, যেমন: লাল মাংস(গরু, খাসী, ভেড়া, শুকর)।
কিছু খাবার বেশি বেশি খেলে ভালো, যেমন: সর ছাড়া দুধ, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ টক জাতীয় ফল, শাকসবজি, প্রতদিন ২-৩ লিটার পানি।
মনে রাখতে হবে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন শিমের বিচি, ডাল, বাদাম এসব খেতে কোন সমস্যা নাই।
#ডাঃসমরেশ_দাস_রিউম্যাটোলজিস্ট