09/08/2026
সুস্থ থাকতে বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোনটা ভালো? সারাদিন অল্প অল্প করে বারে বারে খাওয়া নাকি একেবারে পেট পুরে এক-দুই বেলা খাওয়। কেউ হয়তো আপনাকে বুদ্ধি দিয়েছেন, প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর অল্প কিছু মুখে দাও, মেটাবলিজম ফাস্ট থাকবে। আবার কেউ হয়তো উল্টোটা শুনে এসে একবেলা খুব পেট ভরে খেয়ে সারাদিন আর কিছুই খাচ্ছেন না।
অনেকের ধারণা, সারাদিন কিছুক্ষণ পর পর কিছু না কিছু খেলে বুঝি মেটাবলিজম বাড়ে। কিন্তু বিজ্ঞান কিন্তু অন্য কথা বলে। আমরা যখনই কিছু খাই তা সে একটা বিস্কুট বা একমুঠো মুড়িও হোক না কেন আমাদের প্যানক্রিস থেকে ইনসুলিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। ইনসুলিনের প্রধান কাজ হলো রক্ত থেকে শর্করা কোষে পৌঁছে দেওয়া এবং অতিরিক্ত শক্তি চর্বি হিসেবে জমিয়ে রাখা। আপনি যদি সারাদিনে ৫-৬ বার খেতে থাকেন, তবে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা সবসময় বাড়তেই থাকবে। আর ইনসুলিন যতক্ষণ হাই থাকবে, আপনার শরীর জমা চর্বি বার্ন করার সুযোগই পাবে না। দীর্ঘদিন ধরে বারবার খেতে থাকলে কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলে। এটাই পরবর্তীতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং PMOS এর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের পাকস্থলী ও অন্ত্রের নিজস্ব একটি পরিষ্কার প্রক্রিয়া আছে, যাকে বলে Migrating Motor Complex (MMC)। খাবার খাওয়ার অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা পর পেটে যখন নতুন কোনো খাবার থাকে না, তখন এই প্রক্রিয়া চালু হয় এবং অন্ত্র পরিষ্কার করে। সারাদিন মুখে কিছু না কিছু দিলে এই প্রক্রিয়াটি কাজ করার সময় পায় না, ফলে বদহজম ও পেটে গ্যাস হতে পারে।
আবার এর উল্টোটাও সমাধান নয়। সারাদিন উপোস থেকে হঠাৎ একবেলা পেট পুরে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলাও শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর। একবারে অনেক খাবার খেলে রক্তের শর্করা হঠাৎ অনেক উঁচুতে উঠে যায়। তখন শরীরকে সামলাতে একসাথে প্রচুর ইনসুলিন ঢালতে হয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা আবার দ্রুত কমিয়ে দেয়। ফলে খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ভীষণ ক্লান্তি আর ঘুম ঘুম ভাব চলে আসে। পাকস্থলী একবারে অতিরিক্ত ভারী খাবার সহ্য করতে পারে না। এতে এসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
সবচেয়ে বৈজ্ঞানিক এবং সুস্থ উপায় হলো সঠিক ব্যবধানে দিনে ২-৩ বার সুষম খাবার খাওয়া। প্রধান খাবারের মাঝে অন্তত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার একটি বিরতি দেওয়া খুব জরুরি। এই সময়ে শরীর ইনসুলিন কমায়, জমানো চর্বি থেকে শক্তি নেয় এবং পরিপাকতন্ত্র নিজেকে পরিষ্কার ও গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়। দুই খাবারের মাঝে চা-বিস্কুট, চিপস, বা মুড়ি খাওয়ার অভ্যাস বাদ দিন। তেষ্টা পেলে পানি ডাবের পানি বা গ্রিন টি খেতে পারেন। প্রতি বেলার খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ভালো ফ্যাট এবং পরিমিত কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট রাখুন। এতে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকবে, বারে বারে ক্ষিধে লাগবে না।
ডা. মরিয়ম জামান
এম.বি.বি.এস (ঢাকা) ; বি. সি. এস. (স্বাস্থ্য)
এম. ডি. (এন্ডোক্রাইনোলজি এন্ড মেটাবলিজম)
এম. এ. সি. ই (আমেরিকা)
কনসালটেন্ট এন্ডোক্রাইনোলজিষ্ট, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বরিশাল।
ডায়াবেটিস,থাইরয়েড, স্থূলতা এবং হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ।
📍চেম্বারঃ Popular Diagnostic Centre Ltd. Barishal.
⏰ সময়ঃ প্রতিদিন বিকাল ৪ টা - রাত ৯ টা।
☎️📞সিরিয়ালের জন্যঃ ০৯৬৬৬৭৮৭৮১৯, ০১৩৫০০৩২৪২০