06/09/2026
ডেঙ্গু হলে জ্বর, ঘাম, বমি, ডায়রিয়া বা খাবার কম খাওয়া এবং শরীরে পানিশূন্যতা হয়। তাই ডেঙ্গু রোগীর পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে ডেঙ্গু হলেই যত বেশি সম্ভব পানি খেতে হবে, এই ধারণা সঠিক নয়। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত তরল শরীরে জমে গিয়ে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করতে পারে।
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে তৃষ্ণা অনুযায়ী অল্প অল্প করে বারবার পানি ও তরল খেতে হবে। স্বাভাবিক নিয়মে ২.৫-৩ লিটার বা ৮-১০ গ্লাস পানি প্রধান তরল হিসেবে রাখা ভালো। এক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ORS, ডাবের পানি, পাতলা স্যুপ, ভাতের মাড়, দুধ/দইয়ের পানীয় এবংচিনি ছাড়া তরল খাবার নেওয়া যেতে পারে। বমি বা ডায়রিয়া থাকলে ORS বিশেষভাবে উপকারী। রোগীর প্রস্রাবের পরিমাণও লক্ষ্য করতে হবে। প্রয়োজনে রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক তরলের পরিমাণ নির্ধারন করবেন।
শিশুর ক্ষেত্রে একসঙ্গে অনেক পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না। অল্প অল্প করে বারবার পানি, ORS, দুধ বা বুকের দুধ, স্যুপ এবং অন্যান্য উপযুক্ত তরল দিতে হবে। এক্ষেত্রে শিশুর যত কেজি ওজন তত চামচ তরল প্রতি এক থেকে দেড় ঘন্টা পরপর অন্তত দিনে ১০ বার খাওয়াতে হবে। শিশুর কতটুকু তরল প্রয়োজন তা তার ওজন, বয়স, জ্বর, বমি/ডায়রিয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তাই সব শিশুর জন্য একই পরিমাণ পানি নির্ধারণ করা ঠিক নয়।
হার্টের রোগী ডেঙ্গু হলে নিজের সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত পানি বা স্যালাইন দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে হার্ট ফেইলিউরের রোগীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তরল শরীরে জমে গিয়ে পা ফুলে যাওয়া, ফুসফুসে পানি জমা এবং শ্বাসকষ্ট তৈরি করতে পারে। তাই রোগীর BP, pulse, oxygen saturation, urine output এবং সামগ্রিক অবস্থা দেখে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তরলের পরিমাণ ঠিক করতে হবে।
কিডনি রোগী বা CKD রোগীর ক্ষেত্রে “ডেঙ্গু হয়েছে, তাই অনেক পানি খেতে হবে” এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কিডনির কার্যক্ষমতা কম থাকলে অতিরিক্ত পানি শরীরে জমে যেতে পারে। আবার ডেঙ্গুতে পানিশূন্যতা হলে কিডনির সমস্যাও বাড়তে পারে। তাই creatinine/eGFR, urine output, শরীরে পানি জমার লক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় electrolyte পরীক্ষা বিবেচনা করে চিকিৎসক তরলের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন।
হার্ট ও কিডনি দুটো রোগই থাকলে আরও সতর্ক হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবার জন্য নির্দিষ্ট করে “দিনে ২ বা ৩ লিটার পানি” বলা নিরাপদ নয়। রোগীর fluid requirement তার বর্তমান clinical condition এবং urine output অনুযায়ী চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।
লিভারের রোগীর ক্ষেত্রেও রোগের ধরন ও severity গুরুত্বপূর্ণ। শুধু লিভারের রোগ আছে বলে অতিরিক্ত পানি খাওয়ানো যাবে না। বিশেষ করে যদি পেটে পানি জমা (ascites), পা ফুলে যাওয়া বা কিডনির সমস্যা থাকে, তাহলে fluid ও salt intake চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে।
ডেঙ্গু রোগীর প্রচণ্ড পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক/মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, বমি বা পায়খানায় রক্ত, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অস্থিরতা, ঘুমঘুম ভাব, ঠান্ডা-ফ্যাকাশে হাত-পা, শ্বাসকষ্ট অথবা প্রস্রাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পর রোগী ভালো হয়ে গেছে ধরে নেওয়া যাবে না। ডেঙ্গুর critical phase অনেক সময় জ্বর কমার সময় বা তার পরের সময়ে আসে। তাই এই সময় রোগীকে আরও সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
ডেঙ্গুতে লক্ষ্য শুধু বেশি পানি খাওয়ানো নয়। লক্ষ্য হলো পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করা, প্রয়োজনীয় electrolyte বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে অতিরিক্ত তরল জমে যাওয়া প্রতিরোধ করা।
সবার জন্য একই পরিমাণ পানি নয়। রোগীর বয়স, ওজন, প্রস্রাবের পরিমাণ, বমি/ডায়রিয়া, হার্ট-কিডনি-লিভারের অবস্থা এবং clinical findings অনুযায়ী তরলের প্রয়োজন নির্ধারণ করতে হয়।
#ডেঙ্গু #ডেঙ্গুজ্বর