28/06/2026
একটা খুব সুন্দরী রোগী এসেছে আজ । এটা আর নতুন কি .. তাইনা ? কিন্তু আজকের মেয়েটাকে আলাদা করে খেয়াল করার কারণ হলো - মেয়েটার সাথে এটেনডেন্ট এসেছে ৯ জন। জি ঠিকই শুনেছেন ।
৯ জনই এসেছেন । কেউ হাত ধরে আছে, কেউবা মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে , কেউবা আবার ডাব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । বিশাল ভিআইপি অবস্থা !
দরজার ভেতরে থেকে দেখতে ভালোই লাগছিলো আমার ।
যখন আমার রুমে ঢুকবে ৯ জন সহই আসতে চেয়েছিল। কিন্তু এতগুলো মানুষের ধারণ ক্ষমতা আমার রুমটার নেই । নার্স বহুকষ্টে নিবৃত্ত করলেও রোগীর সাথে রোগীর স্বামী , মা এবং শাশুড়ি ঢুকলেনই !
বোঝাই যাচ্ছে ভীষণ আদরের মেয়েটি । কী এমন হলো যে সবাই এমন উতলা হয়ে গেল । ভাবলাম প্রেগন্যান্ট হবে হয়তো । এজন্য হয়তো খাতির যত্ন !
কিন্তু না …!
হিস্ট্রি নিয়ে জানলাম - মেয়েটার বিয়ে হয়েছে মাত্র ১৫ দিন আগে ।
স্বামীর উতলা হওয়ার কারণ পরিষ্কার হলো ! নতুন বিয়ে করার পর স্বামীরা বৌ এর প্রতি যে পরিমাণ ভালোবাসায় গদগদ থাকে বিয়ের তিন বছর পরে সেই ভালোবাসা ফুরুৎ হয়ে যায় ।
যাউগ্গা সেগুলো ভিন্ন কথা ! ওদিকে না যাই ।
১৫ দিন আগে বিয়ে যেহেতু প্রেগন্যান্সির কিছু নাই । তাহলে সমস্যা কি?
মেয়েটা দিব্যি হাসি হাসি মুখে বসে আছে । কোন সমস্যা থাকলে চেহারার অভিব্যক্তিতে কিছুটা হলেও বোঝা যেত । যদিও সুন্দরী মেয়েদের সবকিছুতেই সুন্দর লাগে !
সমস্যা জানা গেল - মেয়েটার প্রস্রাবের সাথে রক্ত যায় । প্রস্রাব রক্তের মতো লাল দুদিন থেকে ।
সঙ্গে সঙ্গে মাথায় এলো - নতুন বিয়ে , প্রস্রাবের সাথে রক্ত , প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, জ্বর , তলপেটে ব্যথা….. এগুলো হানিমুন সিসটাইটিসের লক্ষণ । নতুন বিবাহিত নারীর বিয়ের পর প্রস্রাবে ইনফেকশন খুব কমন । যেটাকে হানিমুন সিসটাইটিস বলা হয়।
কিন্তু জ্বর , ব্যথা কিংবা জ্বালাপোড়া কোন কিছুই নেই । রোগী দিব্যি সুস্থ । শুধু প্রস্রাবের সাথে প্রচুর রক্ত যায় , প্রস্রাব একদম লাল ।
পানি , ডাব , স্যালাইন খেয়ে খেয়ে আধমরা অবস্থা । কিন্তু প্রসাব লালই !
পরিবারের সবাই প্যানিক হয়ে চলে এসেছেন ডাক্তারের কাছে। প্যানিক হওয়া স্বাভাবিক !
স্বামী কাঁদো কাঁদো চেহারায় বলল- ম্যাডাম , টেস্ট আরো যা যা লাগে দেন । সমস্যা ধরা পড়ুক । ওর কিডনির কোন সমস্যা হলো না তো?
বৌ এর জন্য স্বামীদের উতলা মুখ দেখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে । ওদিকে মা এবং শাশুড়িও খুব উদ্বিগ্ন !
প্রস্রাব পরীক্ষা এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে দিব ভাবতেই দেখি শাশুড়ি ব্যাগ থেকে এই দুইটা রিপোর্ট বের করলেন । উনারা নিজ দায়িত্বেই পরীক্ষাগুলো করিয়ে এনেছেন ।
রিপোর্ট দেখলাম - দুটোই ভালো । প্রস্রাবের রিপোর্টে কোন ইনফেকশন নেই এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট নরমাল।
বুঝলাম রোগী .. রোগী না । মানে ভালো আছে । সমস্যা অন্য কোন জায়গায় !
জানতে চাইলাম - গত চারদিনের খাবার হিস্ট্রি।
দুনিয়ার সব খাবারের কথা বললো কিন্তু আমি যা জানতে চাইলাম সেটা বললো না ।
আমিই প্রশ্ন করলাম - রোগী কি ড্রাগন ফ্রুট খাচ্ছে ?
রোগীর স্বামী হাসিমুখে বলল- জি ম্যাডাম । আমার বন্ধুর ড্রাগন ফলের বাগান আছে । ও দিয়ে গেছে অনেক ।
বৌয়ের দিকে প্রেম নিয়ে তাকিয়ে বলল - ও আগে কখনো ড্রাগন খায়নি । এবারই প্রথম খেয়ে ওর ভীষণ পছন্দ হয়েছে। বন্ধুকে বলে দিছি - প্রতিদিন ৫ কেজি করে দিয়ে যায় । ওই খায় …!
আমি হেসে ফেললাম । হাসতে হাসতে বললাম - কিছুই হয় নাই আপনার বৌয়ের ! বাসায় নিয়ে যান ।ড্রাগন খেলে প্রস্রাব লাল হয় ।
সবার মুখে স্বস্তির হাসি ফুটলো ! জামাই লজ্জা লজ্জা মুখে বলল - ওহ হো , এটা তো জানতাম ম্যাডাম ! কিভাবে যে ভুলে গেলাম …..
আমি মুখ টিপে হেসে বললাম- আরে ভাই… সমস্যা নাই …. নতুন বিয়ে করলে এমনি হয়……😉
বিঃদ্রঃ পোস্টটি কপি করা।
Tabassum Tanha