Not Doctors Assistant But Seeking Our True Identity

Not Doctors Assistant But Seeking Our True Identity Hello! We are D.M.F Graduates Associate Clinicians. Working in the Health Departments as a S.A.C.M.O

22/08/2026

এই কথাগুলা আমাদের বড় স্যারদের জন্য

21/08/2026

আজকের প্রোগ্রামে কী পেলাম? আর কয়েকদিন পর DMAB-এর প্রোগ্রাম জাতির জন্য ছিঁড়বে?

বছরের পর বছর একই নাটক—আলাদা আলাদা প্রোগ্রাম হবে, মাইক বাজবে, বক্তৃতা হবে, স্লোগান হবে, ছবি উঠবে, ফেসবুকে পোস্ট হবে। তারপর?

ফলাফল কোথায়?

জাতির জন্য কী আদায় করেছেন?
DMF-এর জন্য কী আদায় করেছেন?
অধিকার, পদবি, মর্যাদা, ক্যারিয়ার—কোনটার বাস্তব সমাধান করেছেন?

আপনাদের বালের প্রতিযোগিতা দেখে মেজাজ খারাপ হয়, বালের সংগঠন গুলা জুতা মারা উচিৎ।

আর দুই সংগঠনের প্রতিযোগিতা যদি শুধু হয়—কার প্রোগ্রামে বেশি লোক, কার ব্যানার বড়, কার বক্তব্য বেশি আগুন—তাহলে সেই প্রতিযোগিতার কোনো মূল্য নেই।

শুধু সমাবেশ করতে পারা কোনো অর্জন নয়। হাজার মানুষ জড়ো করাও অর্জন নয়। অর্জন হলো সরকারকে সিদ্ধান্ত দিতে বাধ্য করা।

একটা প্রজ্ঞাপন দেখান।
একটা সরকারি আদেশ দেখান।
একটা লিখিত সিদ্ধান্ত দেখান।
একটা বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ দেখান।

নইলে মঞ্চে দাঁড়িয়ে যতই গলা ফাটান, বাস্তবতা বদলাবে না।

প্রশ্নটা খুব সোজা:

“আপনারা জাতির জন্য কী আদায় করে দিয়েছেন?”

21/08/2026

প্রতিদিন আমরা জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করছি। বেকারত্ব, অনিশ্চয়তা, মানসিক চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা আমাদের ধীরে ধীরে ভেঙে দিচ্ছে। অথচ এই সংকটের সময়ে—যখন আমাদের সংগঠনগুলোর ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ের জন্য মাঠে থাকার কথা—তখন তারা ব্যস্ত নিজেদের মধ্যকার কোন্দল, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং একে অপরকে টেনে নামানোর খেলায়।

কে কাকে ছোট করবে, কে কোন পদ দখল করবে, কে কাকে সরিয়ে নেতৃত্বে থাকবে—এসব নিয়েই যেন সংগঠনগুলোর ব্যস্ততা। মানুষের সমস্যা, বেকারদের কষ্ট এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা যেন তাঁদের কাছে গৌণ হয়ে গেছে।

যাঁদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা, তাঁরাই যখন বিভাজন তৈরি করেন, তখন আন্দোলন দুর্বল হবে—এটাই স্বাভাবিক। আর এই দুর্বলতার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় সাধারণ সদস্য, শিক্ষার্থী এবং বেকারদের।

আমাদের দাবিগুলো আসলে একে অপরের বিরোধী নয়; বরং পরস্পরের পরিপূরক।

সরকারি চাকরিতে থাকা ব্যক্তির ১০ম গ্রেডের দাবি যেমন ন্যায্য, তেমনি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার অধিকার এবং পড়াশোনা শেষ করা বেকারদের নিয়োগ, কর্মসংস্থান ও বৈধভাবে প্র্যাকটিস করে সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার অধিকারও সমানভাবে ন্যায্য।

আজ যিনি চাকরিতে আছেন, তিনিও একসময় শিক্ষার্থী ছিলেন। আর আজ যিনি শিক্ষার্থী, আগামী দিনে তিনিই চাকরির প্রত্যাশী হবেন। আজকের বেকারও একসময় একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। তাহলে একই পেশার মানুষ কেন নিজেদের অধিকারকে একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাবেন?

এক সংগঠনের দাবি আদায় হলে অন্য সংগঠনের অধিকার বাতিল হয়ে যায় না। বরং একটি দাবি পূরণ হলে পুরো পেশাগত কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়।

বাস্তবতা আরও নির্মম।

সংগঠন পরিচালনার মতো অর্থ ও সময় মূলত চাকরিজীবীদের হাতেই বেশি থাকে। ফলে সংগঠনের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও তাঁদের প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই বেশি। অন্যদিকে একজন বেকার প্রতিদিন নিজের জীবন চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

কোনো আন্দলোনে যেতে হলে তাঁকে ভাবতে হয়—যাতায়াতের ভাড়া দেবেন, নাকি সেদিনের খাবার কিনবেন?

আন্দোলনে যাওয়ার আগে তাঁকে ভাবতে হয়—ব্যানার হাতে দাঁড়াবেন, নাকি পরিবারের প্রয়োজন মেটাবেন?

এই বাস্তবতাকে না বুঝে বেকারদের নিষ্ক্রিয়তা বা আন্দোলনে অনুপস্থিতিকে প্রশ্ন করা সহজ; কিন্তু তাঁদের অসহায়ত্ব বোঝা অনেক বেশি জরুরি।

তাই আমাদের এখন বিভাজন নয়, প্রয়োজন সমন্বিত আন্দোলন।

১০ম গ্রেড চাকরিজীবীদের ন্যায্য দাবি।
উচ্চশিক্ষা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার।
নিয়োগ, কর্মসংস্থান ও বৈধ প্র্যাকটিসের সুযোগ বেকারদের বাঁচার অধিকার।

এই তিনটি দাবি একে অপরের বিরুদ্ধে নয়।

বরং একটি শক্তিশালী পেশাগত ভবিষ্যতের জন্য তিনটিকেই একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।

তবে অগ্রাধিকারের প্রশ্নে একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার—যে মানুষটি আজ বেকার, যার কোনো আয় নেই, যার সামনে নিশ্চিত কর্মসংস্থানের পথ নেই, তার সমস্যাটি সবচেয়ে জরুরি।

কারণ চাকরিজীবী অন্তত একটি আয়ের নিশ্চয়তা নিয়ে লড়াই করছেন, শিক্ষার্থী ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগের জন্য লড়ছেন; কিন্তু দীর্ঘদিনের বেকার মানুষটি লড়ছেন নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য।

তাই বেকারদের কর্মসংস্থান, নিয়োগ এবং সম্মানজনক জীবিকার পথ তৈরি করা কোনো গৌণ দাবি নয়—এটা আমাদের পেশার ভবিষ্যৎ রক্ষার অন্যতম প্রধান দাবি।

পদ-পদবি নিয়ে বিভক্ত না হয়ে, কে কার চেয়ে বড়—এই প্রতিযোগিতা বন্ধ করে আমাদের ভাবতে হবে একটি প্রশ্ন:

আমরা কি নিজেদের মধ্যে লড়াই করব, নাকি নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য একসঙ্গে লড়ব?

আজ প্রয়োজন ব্যক্তিগত নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা নয়; প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব, সমন্বিত কর্মসূচি এবং সবার ন্যায্য অধিকারের জন্য একসঙ্গে মাঠে নামা।

চাকরিজীবীর মর্যাদা চাই।
শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার সুযোগ চাই।
বেকারের কর্মসংস্থান চাই।
সবার জন্য বৈধ অধিকার, পেশাগত মর্যাদা ও সম্মানজনক ভবিষ্যৎ চাই।

বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়া বেকারদের জন্য সরকারি চাকরির পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেলে, তাঁদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান ও বৈধভাবে পেশা চর্চার সুযোগই সবচেয়ে জরুরি এবং সবচেয়ে আগে সমাধানযোগ্য।

একজনের জয় নয়—পুরো পেশার জয়ই হোক আমাদের লক্ষ্য।

20/08/2026

দেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শুধু প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য নয়—এটা দেশের প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কলকারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, অফিস ও আবাসিক প্রতিষ্ঠানেও এমন দক্ষ জনবল প্রয়োজন, যাঁরা সাধারণ অসুস্থতায় সেবা দিতে পারেন এবং জরুরি সময়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন।

এই দায়িত্ব পালনের জন্য দেশে প্রশিক্ষিত মেডিকেল ডিপ্লোমাধারী জনবল রয়েছে। DMF-রা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাঁদের BM&DC লাইসেন্স রয়েছে এবং তাঁরা মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার জন্য প্রস্তুত। অথচ দুঃখজনকভাবে অধিকাংশই বেকারত্বে ভুগছে।

একদিকে মানুষের এই সেবার প্রয়োজন রয়েছে, অন্যদিকে তা দেওয়ার মতো দক্ষতাসম্পন্ন জনবলও রয়েছে—তবুও তাঁদের যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, এই জনবলকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে বাধা কোথায়?

জনস্বাস্থ্য রক্ষার উদ্দেশ্যেই যদি BMDC আইন প্রণয়ন করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই আইন প্রয়োগের সময় প্রশিক্ষিত DMF-দের পেশাগত অধিকার, চিকিৎসাসেবক হিসেবে তাঁদের বৈধ পরিচয় এবং কর্মসংস্থানের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। কারণ যাঁদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স রয়েছে, তাঁদের বেকার রেখে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয়।

এই দেশের সাধারণ মানুষের সরল উপলব্ধি হলো—যিনি মানুষের অসুস্থতার সময়ে পাশে দাঁড়ান, সেবা দেন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার পথে সহায়তা করেন, মানুষের চোখে তিনিই একজন চিকিৎসক। তাই প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সেবা দিয়ে আসা DMF-দের অবদান ও পেশাগত পরিচয়কে অবহেলা করা উচিত নয়।

বাস্তবতা হলো, প্রশিক্ষিত ও লাইসেন্সধারী DMF-রা বেকার থাকছেন; অথচ তাঁদের উপযোগী অনেক পদে প্যারামেডিক ও নন-মেডিকেল জনবল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যোগ্য জনবল অবমূল্যায়িত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

দেশে এই সেবার প্রয়োজন আছে, বিদ্যমান পদ রয়েছে এবং প্রয়োজনে নতুন পদ সৃষ্টির সুযোগও রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত প্রশিক্ষিত ও লাইসেন্সধারী DMF জনবলও আমাদের দেশে রয়েছে।

তাহলে তাঁদের কাজে লাগানো হবে না কেন?

DMF-রা কারও প্রতিদ্বন্দ্বী নন; তাঁরা দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী শক্তি। তাঁদের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হলে একদিকে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে, অন্যদিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য, কার্যকর ও শক্তিশালী হবে।

তাই জনস্বার্থে বিদ্যমান জনবলকে কাজে লাগান। DMF-দের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করুন এবং দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও মানবিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করে তুলুন।

18/08/2026

“আমাদের দৌড় স্মারকলিপি দেওয়া পর্যন্ত; দাবি আদায় পর্যন্ত নয়।”

15/08/2026

মুগদা মেডিকেল কলেজে আবারও ডাক্তাররা মার খেলেন। 😞

কারণ? End-stage cancer-এর এক রোগী—acute confusional state-এ হাসপাতালে এসেছেন, ৩ দিন আগেই যার জন্য ICU call করা হয়েছিল—তিনি রাত ৪টায় কেন বাঁচলেন না!

অভিযোগ? ক্যানসারের রোগীকে চিকিৎসক বাঁচাতে পারলেন না কেন!
এখন এসব আর অবাক করার মতো নয়। সমাজে রোগীর মৃত্যু মানেই চিকিৎসকের দোষ, আর চিকিৎসককে পেটানোই সেই দোষের শাস্তি।

13/08/2026

নিজ সংগঠন গুলোর গুতোগুতি দেখে কেও অতিষ্ঠ হন না?

কল্পনা করুন একজন সৈনিককে। তাকে বছরের পর বছর প্রশিক্ষণ দেওয়া হলো—কীভাবে অস্ত্র চালাতে হয়, কীভাবে যুদ্ধক্ষেত্র পড়তে হয়...
13/08/2026

কল্পনা করুন একজন সৈনিককে। তাকে বছরের পর বছর প্রশিক্ষণ দেওয়া হলো—কীভাবে অস্ত্র চালাতে হয়, কীভাবে যুদ্ধক্ষেত্র পড়তে হয়, কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সব শেষে তাকে বলা হলো, "যাও, দেশ রক্ষা করো।" কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছে দেখা গেল—তার হাত থেকে আধুনিক অস্ত্র কেড়ে নিয়ে শুধু কয়েকটা পুরনো, প্রায় অকেজো জং ধরা অস্ত্র ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি সব নিষিদ্ধ।

এই অবস্থায় সে শত্রু চিনতে পারবে। কিন্তু শত্রুকে হারাতে পারবে না।

এটা কোনো রূপকথা নয়। এটা বাংলাদেশের ডিএমএফ চিকিৎসকদের প্রতিদিনের বাস্তবতা।

সমস্যাটা কোথায়?

বাংলাদেশে ডিএমএফদের প্রশিক্ষণ দেয় স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের লাইসেন্স দেওয়া হয়, বলা হয়—রোগী দেখো, রোগ চেনো, চিকিৎসা দাও। কিন্তু চিকিৎসা দিতে গেলে যে ওষুধ লাগে, সেই ওষুধ লেখার অধিকার তাদের সীমিত। বিএমডিসির দেয়া একটি পুরনো তালিকা ধরে তারা কাজ করতে বাধ্য, যা বছরের পর বছর হালনাগাদ হয়নি।

ফলাফল? রোগী দেখবেন। কিন্তু আধুনিক, কার্যকর চিকিৎসা দিতে পারেন না।

কেনিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে একটা গল্প বলি। ১৯৮৮ সালের Clinical Officers Act-এর দ্বিতীয় তফসিলে ক্লিনিক্যাল অফিসারদের প্রেসক্রিপশনের জন্য মাত্র ৪০-৪৩টি সীমিত ও সেকেলে ওষুধের তালিকা ছিল। সেই তালিকায় ছিল ক্লোরোকুইন—তখনকার দিনে ম্যালেরিয়ার প্রধান ওষুধ।

কিন্তু ২০০০-এর দশকে এসে বিশ্বব্যাপী ম্যালেরিয়া পরজীবী ক্লোরোকুইনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই ওষুধ আর কাজ করছিল না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে বাদ দেয়, নতুন ওষুধ আসে।
ক্লিনিক্যাল অফিসাররা আইনত বাধ্য ছিলেন সেই অকার্যকর ওষুধই লিখতে। বিজ্ঞান এগিয়েছে, আইন পিছিয়ে থেকেছে—আর এর খেসারত দিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

২০১৭ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি কেনিয়ার জাতীয় সংসদে ক্লিনিক্যাল অফিসার বিল-এর ওপর বিতর্ককালে সংসদ সদস্য ডা. রবার্ট পুকোসে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দেন—

"এই দেশের ক্লিনিক্যাল অফিসাররা একটি obsolete (অপ্রচলিত) আইনের ভিত্তিতে কাজ করছেন, যে আইনে স্পষ্ট নেই তাদের কী প্রেসক্রাইব করা উচিত। সেই আইনে এখনও ক্লোরোকুইন ও অন্যান্য সেকেলে ওষুধের কথা বলা আছে—যা এই দেশের ক্লিনিক্যাল মেডিসিন প্র্যাকটিসকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।"

এই ঐতিহাসিক স্বীকারোক্তির পর কেনিয়ার সংসদ ব্যবস্থা নেয়। সে বছরই কেনিয়া নতুন আইন পাস করে। পুরনো তালিকা বাতিল হয়। ক্লিনিক্যাল অফিসাররা এখন জাতীয় ওষুধ তালিকা অনুযায়ী আধুনিক ওষুধ লিখতে পারেন—যা প্রতি বছর হালনাগাদ হয়।

বাংলাদেশের ডিএমএফ চিকিৎসকরা আজ ঠিক সেই একই অবস্থানে আছেন, যেখানে কেনিয়ার মত দেশ ছিল।

অন্য দেশগুলো কী করছে?

নেপাল: নেপালের Health Assistant (HA)-দের জন্য Nepal Health Professional Council (NHPC) কর্তৃক অনুমোদিত প্রেসক্রিপশন তালিকা প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের জন্য অত্যন্ত যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত। যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি।

অর্থাৎ শিক্ষা হলো—

তালিকা থাকতে পারে, তবে সেই তালিকা হতে হবে বিজ্ঞানসম্মত, প্রয়োজনীয় এবং নিয়মিত হালনাগাদ।

ভারত: ২০০৩ সালের Subhasis Bakshi & Ors. v. West Bengal Medical Council & Ors. মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট diploma-trained practitioners-এর চিকিৎসা ও prescription-এর অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়।

২০০৩ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে স্পষ্ট করে বলেছিল—যখন কাউকে চিকিৎসা করার অধিকার দেওয়া হয়, তখন সেই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ লেখার অধিকারও তাকে দিতে হবে। রোগ চেনা আর রোগ সারানো—এ দুটো আলাদা করা যায় না। Prescription হলো recognized right to treat-এর সঙ্গে যুক্ত একটি consequential right।

অবশ্যই, এটি বাংলাদেশের জন্য binding precedent নয়; এটি একটি persuasive judicial principle।

অর্থাৎ, রাষ্ট্র যদি চিকিৎসা কোর্স হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে লাইসেন্স দেয়, তবে সেই শিক্ষাক্রমের মূল উপাদান—প্রেসক্রিপশন—কেও স্বীকৃতি দিতেই হবে। নির্ণয় আর নিরাময় একই মুদ্রার দুই পিঠ। যোদ্ধাকে যদি রণাঙ্গনে পাঠানো হয়, তবে তাঁর হাতে অস্ত্রও দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের PA মডেলও একই শিক্ষা দেয়

যুক্তরাষ্ট্রে Physician Assistant-দের prescribing authority কোনো একক ৪০ বা ৭৩টি fixed-drug list-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়।তারা অ্যাডারাল (Schedule II), ওজেম্পিক, নরকো—সব ধরনের আধুনিক ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধই লিখতে পারেন, শুধু State law, scope of practice এবং controlled-substance regulations-এর মাধ্যমে authority নির্ধারিত হয়।

অর্থাৎ এখানেও মূল দর্শন—

Clinical responsibility → Scope → Regulated prescribing।

বাংলাদেশের প্রশ্নটা খুব সরল: যে চিকিৎসাকর্মীকে রোগী দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, রোগ চেনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—তাকে কি সেই দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত সরঞ্জাম দেওয়া হবে না?

সৈনিককে যুদ্ধক্ষেত্রে নামিয়ে অস্ত্রহীন রাখা কোনো আধুনিক রাষ্ট্রের নীতি হতে পারে না। তেমনি চিকিৎসককে রোগীর সামনে দাঁড় করিয়ে আধুনিক ওষুধ থেকে বঞ্চিত রাখা কোনো আধুনিক স্বাস্থ্যনীতি হতে পারে না।

আমাদের দাবি একটাই—আইন অনুযায়ী ‘মেডিসিন’ বলতে আধুনিক মেডিসিনকেই বোঝাতে হবে এবং ডিএমএফ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও নির্ধারিত দায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, বিজ্ঞানসম্মত, নিরাপদ ও যুগোপযোগী ওষুধ ব্যবহারের ও প্রেসক্রাইব করার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে উন্নত ও নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তারা আধুনিক মেডিসিনের সর্বশেষ জ্ঞান, চিকিৎসা-নির্দেশিকা ও নিরাপদ ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে সবসময় আপডেটেড থাকেন।

যেন রোগ চেনার পর, রোগীর প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসাটাও দিতে পারি।

পশ্চিমবঙ্গের ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের আইনি লড়াই: এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত১৯৮০-এর দশকে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি মেটাতে পশ্চিম...
12/08/2026

পশ্চিমবঙ্গের ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের আইনি লড়াই: এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত

১৯৮০-এর দশকে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি মেটাতে পশ্চিমবঙ্গে চালু করা হয় তিন বছরের Dip. C.M.S. (Diploma in Community Medical Service) কোর্স। MBBS পেশাজীবীদের প্রবল বিরোধিতার মুখে মাত্র তিনটি ব্যাচের পর কোর্সটি বন্ধ হয়ে যায়।

কোর্স বন্ধ হলেও রয়ে গেল বৈধ ডিপ্লোমাধারীদের অস্তিত্ব এবং তাদের চিকিৎসাসেবার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন। বিরোধের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়ায় নিবন্ধন, চিকিৎসার পরিধি এবং প্রেসক্রিপশন লেখার অধিকার। নির্দিষ্ট কিছু রোগের চিকিৎসার অনুমতি থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ মেডিকেল কাউন্সিল (WBMC) তাদের নিবন্ধন ও প্রেসক্রিপশন লেখার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে। ফলে ডিপ্লোমাধারীরা তাদের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন।

ডিপ্লোমাধারী দের আইনি দাবির অন্যতম ভিত্তি ছিল Bengal Medical Act, 1914-এর অধীনে জারি করা ১৯১৫ সালের Notification, যা State Medical Faculty-এর নির্দিষ্ট diploma holders-কে Registered Practitioner হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগের কথা বলা হয়েছিল।

২০০৩ সালের Subhasis Bakshi মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তাদের registration এবং চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট prescription লেখার অধিকার স্বীকার করে। অর্থাৎ, কোর্স বন্ধ হওয়া আর পূর্বে বৈধভাবে অর্জিত qualification-এর আইনগত অবস্থান এক বিষয় নয়।

আর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়—এটা শুধু রায়েই সীমাবদ্ধ ছিল না; এর প্রশাসনিক প্রতিফলনও ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গ মেডিকেল কাউন্সিলের অফিসিয়াল রেজিস্ট্রেশনে ‘Dip. C.M.S.’ ডিগ্রিধারীদের নামের আগে আজও ‘Dr.’ উপাধি যুক্ত রয়েছে।।
এই ডিপ্লোমাধারীদের একাংশ ক্লিনিক্যাল পদে Community Health Service Officer (CHSO) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

কিন্তু এখানেই আসে বাংলাদেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সংযোগ।
Bengal Medical Act, 1914-এর অধীনে গড়ে ওঠা State Medical Faculty-ভিত্তিক চিকিৎসা-শিক্ষা ও নিবন্ধন কাঠামোর ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার সঙ্গে আজকের বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ—উভয় ভূখণ্ডই যুক্ত।
তাই পশ্চিমবঙ্গের এই দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের জন্য নিছক কোনো বিদেশি উদাহরণ নয়; একই Bengal-এর ঐতিহাসিক medical-faculty ও registration tradition-এর দুই ভিন্ন পরিণতির একটি গুরুত্বপূর্ণ comparative chapter।

আর এখানেই বাংলাদেশের জন্য প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ—পশ্চিমবঙ্গে কোর্সটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও তার ডিপ্লোমাধারীরা আইনি লড়াই করে অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন; এখন প্রশ্ন দাঁড়ায়—যেখানে কোর্সটির অস্তিত্বই নেই, সেখানে আইন যদি ডিপ্লোমাধারীদের প্রেসক্রিপশন ও নিবন্ধনের অধিকার দেয়, তাহলে যেখানে কোর্সটি সক্রিয় ও বৈধ, সেখানে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করার কোন যুক্তি থাকে?

পশ্চিমবঙ্গের রায় বাংলাদেশের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়—কিন্তু এটি একটি শক্তিশালী comparative legal argument: রাষ্ট্র যখন একটি নির্দিষ্ট qualification তৈরি ও স্বীকৃতি দেয়, তখন সেই qualification-এর আইনগত পরিণতি, registration এবং যুগোপযোগী scope of practice স্পষ্ট করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

11/08/2026

২০২৫-এর হাইকোর্ট রায় গতানুগতিক মানসিকতার বুকে সরাসরি আঘাত হেনেছে। আদালত DMF-দের শুধু ‘লাইসেন্সপ্রাপ্ত চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী’ বলেই থামেনি, বরং তাঁদের ‘DMF Practitioner’ আখ্যা দিয়ে আইনি মঞ্চে পুনর্দণ্ডায়মান করেছে।

তার মানে একটাই—আমরা আইনের চোখে লাইসেন্সধারী স্বীকৃত চিকিৎসাসেবক।

বিএমডিসি ২০১০ এর নতুন রেজিস্টার ডকেটের একটিমাত্র শব্দের অজুহাতে কি ১৯৮০-এর ধারা ও ২০২৫-এর উচ্চ আদালতের নির্দেশিত আইনি অবস্থানকে অস্বীকার করা সম্ভব? চিকিৎসাদানের অধিকারপ্রাপ্ত পেশাজীবীকে ‘মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ বানিয়ে রাখার এই গোঁড়ামি কেবল প্রশাসনিক অজ্ঞতাই প্রকাশ করে না, বরং এটা স্পষ্ট পেশাগত নিপীড়ন।

যখন ‘মাদার আইন’ (BMDC Act 1980) বলে ‘স্বীকৃত চিকিৎসক’,
গ্যাজেট বলে ‘স্বীকৃত চিকিৎসা যোগ্যতা’,
২০০০ সালের রায় বলে ‘চিকিৎসাসেবা দিতে পারে’,
আর ২০২৫-এর রায় বলে ‘পেশাদার লাইসেন্সধারী সেবা প্রদানকারী’—

তবুও সেই চিকিৎসা পেশাজীবীকে ‘মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ তকমায় বেঁধে রাখার আইনি কোন বিধি? কোন ধারা? ভিত্তিটা আসলে কোথায়?

এটা কি প্রশাসনিক গাফিলতি? নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে টেনে আনা এক কাল্পনিক বৈষম্য?
উত্তর নেই। কারণ, নেই বলেই আইনগত দেউলিয়াত্বের পরিচয় দেয় এই বৈষম্য।

তথ্যসূত্র:
📜 বিএমডিসি আইন ১৯৮০ ধারা ১৪ (২) ও ২০ (৫)

📜 বিএমডিসি আইন ২০১০
📜 বাংলাদেশ গ্যাজেট ২০১৮
🏛️ রিট পিটিশন নম্বর ৫৭২৪/১৯৯৯-এর রায় (২০০০)
🏛️ রিট পিটিশন নম্বর ২৭৩০/২০১৩-এর রায় (২০২৫)

Address

Kushtia

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Not Doctors Assistant But Seeking Our True Identity posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share