19/09/2026
অসুখ বিসুখ হওয়া মাত্র বাঙ্গালী মনে করে ফল খাইতে হবে! মানে প্রচুর ফল খাইতে হবে। তিনবেলা প্যারাসিটামলের মতো তিন বেলার তিনগুণ নয়বেলা সব খাবার বাদ দিয়ে শুধু ফলই খাইতে হবে!
ডেঙ্গু ওয়ার্ডে গেলে দেখবেন সবার সামনে থালা ভর্তি ফলের রাশি। সকালে খালিপেটে শুরু হয়, সারাদিন লাগাতার ধর্মঘটের মতো চলতে থাকে। ডেঙ্গুতে এমনিতেই অনেক রোগীর বমি পাতলা পায়খানা থাকে। ফলের প্রচুর আঁশ সেই পাতলা পায়খানা আরও বাড়ায়। খালিপেটে ফল খেয়ে এসিডিটি হয়ে বমি বাড়ে।
ডায়বেটিস রোগীর সুগার আসমান ছোঁয়। দিনে পাঁচ সাতটা ডাব ভক্ষণ করে রক্তে পটাসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়। যাদের কিডনি দুর্বল থাকে, তাদের জটিলতাও বাড়ে বেধড়ক ফল খেয়ে। তার ভেতর দেশি ফল খুব একটা পছন্দ নয় কারোর, সবার পছন্দ বেশুমার ফরমালিন দেয়া বিদেশি ফল। তো, এইসব দেখে টেখে আমরা বলে দেই যে ফল কম খেতে হবে, কিন্তু কম ব্যাপারটা কি, এটাই কেউ বুঝবে না। অতঃপর চেতে ভেতে আমরা হাউকাউ লাগাই যে ফলই খাওয়া যাবেনা, খেলেও যে কোন এক পদ।
এটা শুনে রোগীর লোক একেবারে হতভম্ব হয়ে চোখ কপালে তুলে জানতে চায়, তাহলে কি খাবে রোগী! মানে হচ্ছে ফল ছাড়া এই পুরো দুনিয়ায় আর কোন খাবারই তো নাই! সেটাই যদি বাদ হয়ে যায়, তাহলে রোগী কি খেয়ে বাঁচে!! তারপর খুব সন্দেহ কুটিল চোখে তাকাবে এবং আমাদের কথা পাত্তা না দেবার সিদ্ধান্ত নেবে মনে মনে! তাই রাউন্ডে গেলেই ফলের থালা খাটের তলে লুকানোর চেষ্টা চলে। কারোকে হয়তো থালা সহ হাতেনাতে পাকড়াও করলে রোগীর লোক গ্যালগ্যালে হেসে বলে, ফল তো আমি খাইতেসি! আমার লাইগা কাটসি!! যে কোন ভালো জিনিসকেও অতি মাত্রায় অপব্যবহার করে করে সেটার বারোটা বাজানোর ব্যাপারে আমাদের যে প্রতিভা, তা এক কথায় অনবদ্য!!!
ফল জিনিসটা খারাপ নয়, তবে দিগ্বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে সব কিছু বাদ দিয়ে সমানে খেয়ে যাওয়ার মতো তেমন রসগোল্লাও নয়। অসুখ বিসুখ যাই হোক, যত ভালো বা পুষ্টিকর খাবার হোক, পরিমিত খান, ভালো থাকুন।
Shahnoor Sarmin mam