10/07/2026
স্বেচ্ছা রক্তদানের শুরু হোক ১৯তম জন্মদিনে
‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি, বাংলাদেশের নাম’। সেই বাঙালি হয়ে স্বেচ্ছায় একজন মুমূর্ষ রোগীর জন্যে রক্ত দিতে ভয় পেলে চলবে? যদিও আমার নিজের রক্তদানের শুরুটা ভয় দিয়ে, ভয়টা রক্তদানের নয়, বাড়ির মানুষজন জেনে যাওয়ার ভয়।
এই ভয়টাও কেটে গেল রক্তদানের পর। আসলে মনের মাঝেই ভালো-মন্দ সকল আবেগের অবস্থান।
যেদিকে প্রাধান্য দেয়া হয় সেই আবেগই তখন পরিপুষ্ট হয়ে বেড়ে উঠতে থাকে। তাইতো ইতিবাচক আবেগকে যত্ন করে, যত্ন নিয়ে বিকশিত হতে দেয়ার কাজটি সচেতনভাবে করা প্রয়োজন।
একজন নারী হিসেবে সংসার, পরিবার সামলে ভালো কাজে অংশগ্রহণের ইচ্ছেটা ছিল সবসময়ই। তাছাড়া রক্তদানের মতো এমন মহৎ কাজে নারী-পুরুষের ভেদাভেদের প্রশ্নই তো আসে না।
যেখানে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কষ্ট পাচ্ছেন কতশত রোগী! প্রথমবার রক্ত দেয়ার দিনটি ছিল রমজান মাস। বাসায় না জানিয়ে ভ্রাম্যমাণ ব্লাড ক্যাম্পের আয়োজনে রক্তদানে অংশ নিয়েছিলাম। বৃত্ত ভাঙল। এরপর থেকেই নিয়মিত হতে চেষ্টা করলাম। অনুপ্রেরণা ছিল স্বেচ্ছাসেবী সঙ্ঘের। আর রক্তের ল্যাবে গিয়ে রক্তরোগে আক্রান্ত ছোট শিশুদের নিষ্পাপ অপেক্ষমাণ চেহারাগুলো দেখে রক্তদানের নিয়মিত ঝোঁকটা পুরোপুরি গেঁথে গেল মনের গভীরে। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুগুলোর চাহনিগুলো যেন বলছে—তোমাদের এক ব্যাগ রক্ত আমাদের এক মাস পৃথিবীর আলো-বাতাস পেতে সাহায্য করে। অর্থাৎ এক ব্যাগ রক্ত তাদের এক মাসের বাঁচার জীবনীশক্তি, তা-ও আবার এমন রক্ত; যা নির্দিষ্ট সময় পর আর কোনো কাজে লাগে না।
সৃষ্টিকর্তার কি অপূর্ব রীতি! তিনি মানবকূল সৃষ্টি করে তাকেই মানবকূল লালনের দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। সৃষ্টির লালনে যে যত বেশি যত্নশীল হতে পারে সৃষ্টিকর্তাও তার যত্ন বেশি করে নেন। আসলে সৃষ্টির সেবার মাঝেই মানব সৃষ্টির সার্থকতা। সৃষ্টির সেবক হতে হলে তাই দাতা হতে হবে, পছন্দের জিনিস থেকে দিতে হবে। রক্তদান এ রকম একটি পূণ্যময় দান। এই দানে মিলবে একটি প্রাণকে সজীব রাখার আনন্দ, মিলবে নিজেকে সুস্থ রাখার উদ্দীপনা।
আমাদের দেশের স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের সঙ্ঘ কোয়ান্টামের একটি স্লোগান আমার খুবই পছন্দের—‘১৯তম জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখুন প্রথমবার রক্তদানের মাধ্যমে’। এই স্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে বহু তরুণ-তরুণী এগিয়ে আসছেন রক্তদানে। স্মরণীয় করে রাখতে পারছেন নিজ জন্মদিনের।
৩৬ বার রক্তদানের এ পর্যায়ে এসে মনে মনে আফসোস হয়, আহা যদি ১৯ বছর বয়স থেকে এই অনুপ্রেরণা পেতাম তাহলে কত মানুষের জীবন বাঁচাতে অনুঘটক হতে পারতাম। তাই শিক্ষক হিসেবে সামর্থ্যবান শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানাই—১৯তম জন্মদিন হোক স্বেচ্ছা রক্তদানের শুরু। হে তরুণ, রক্ত দিই জীবন বাঁচাই। এর মধ্যদিয়ে ছড়িয়ে পড়ুক মানবতা। রক্তদাতা দিবসের শুভেচ্ছা সকল স্বেচ্ছা রক্তদাতার প্রতি।