20/05/2026
স্ত্রীকে হজের জন্য উট না দিয়ে এক সাহাবি উটটা দান করে দিলেন আল্লাহর রাস্তায়।
কিন্তু নবিজি ﷺ বললেন কাজটা অন্যভাবেও করা যেত।
সাহাবি আবু তালিকের স্ত্রী নবিজিদের সাথে শরিক হতে চেয়েছিলেন বিদায় হজের কাফেলায়।
স্বামীর কাছে চেয়েছিলেন উট।
কিন্তু আবু তালিক উটটা স্ত্রীকে না দিয়ে সেটা দান করে দেন।
এ-নিয়ে ভীষণ কথা কাটাকাটি হয় তাদের।
কাফেলায় যেতে যেতে আবু তালিক (রা) বিষয়টা জানান নবিজিকে।
নবিজি ﷺ জানালেন, "উটটা স্ত্রীকে দিলেও সেটা আল্লাহর পথেই ব্যয় হতো।"
আরও জানালেন, রামাদানে উমরা করলে হজের সমানই সওয়াব মিলবে।
বিদায় হজে নবিজির কাফেলা চলছে।
এক লোক তালবিয়ায় বলছিলেন, "শুব্রুমার তরফ থেকে লাব্বাইক।"
নবিজি ﷺ বললেন, "শুব্রুমা কে?"
"আমার ভাই (বা আত্মীয়)।"
"আপনি হজ করেছেন?"
"না।"
"আগে নিজের করুন। তারপর শুব্রুমার তরফ থেকে করবেন।"
কাফেলায় এক লোক পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন কুরবানির পশুতে না চড়ে।
নবিজি ﷺ বললেন, "উটের পিঠে চড়ুন।"
লোকটা বললেন, "এটা তো কুরবানি উট!"
তিন বার বলার পরও না ওঠায় পরের বার ধমক দিয়ে বললেন, "উঠুন বলছি।"
আরবের ধুলোমাখা পথে ছুটছে কাফেলা। এখন তারা যাচ্ছে জুমদান পাহাড়ের পাশ দিয়ে।
নবিজি ﷺ বললেন, "মুফাররিদুনেরা বহুত এগিয়ে গেছে।"
সাহাবিরা জানতে চাইলেন, মুফাররিদুন কারা?
নবিজি ﷺ জানালেন, যারা হামেশা আল্লাহর জিকির করেন। আল্লাহর স্মরণ তাদের পাপের বোঝা হালকা করে। কিয়ামাতের দিন তারা একদম হালকা হয়ে উঠবেন।
লম্বা ক্লান্তিকর সফরের ধকল নবিজিকেও ছোঁয়। টনটন করে মাথা ধরেছে তাঁর।
লাহি জামালে এসে মাথায় শিঙা লাগালেন। পায়ের পাতাতেও শিঙা লাগিয়েছেন।
কাফেলায় ছিল এক কিশোর—আনজাশা (রা)। তাঁর গানের গলা বেশ মধুর।
কাফেলার উটগুলোকে দ্রুত চালানোর জন্য বিশেষ গান ধরেছিলেন।
গানের ছন্দে উট চলতে লাগল দ্রুত।
নবিজি ﷺ বললেন, "করো কী আনজাশাহ! উটে যে কাঁচের পাত্র (নারী) আছে। ধীরে-সুস্থে যাও।"
একদিন হঠাৎ একজায়গায় হুট করে থেমে গেল বিবি সাফিয়ার উট।
তাঁর সে কি কান্না।
নবিজি ﷺ তাঁর চোখের জল মুছে দিলেন। স্ত্রীর জন্য সবাইকে বললেন, এখানেই আজকের যাত্রাবিরতি।
বিবি জাইনাবকে নবিজি ﷺ বললেন, "এই তোমার তো কিছু ভালো উট আছে। সাফিয়্যাকে দাও না একটা।"
জাইনাব রা. বললেন, "কেন? আমি কেন ওই ইহুদি মেয়েকে উট দেব?"
নবিজি ﷺ বেজায় রাগ হলেন এই কথায়।
মাদিনায় ফেরার আগে আর কথা বললেন না তাঁর সাথে।
সফরে যে কত ধরনের ঘটনা ঘটে। লম্বা পথ চলতে চলতে আবু বাক্রের উট হারিয়ে গেছে। সেই উটে ছিল তাদের সব খাবার।
এদিকে তারা তো সেই উটের জন্য অপেক্ষা করছেন। দস্তরখানা বিছিয়ে বসে আছেন।
কিন্তু কিছুক্ষণ বাদে খাদেম জানাল, উটটা হারিয়ে গেছে।
ভীষণ রেগে আবু বাক্র রা) বকাঝকা শুরু করলেন।
নবিজি ﷺ মুচকি হেসে বললেন, "দেখো কাণ্ড! ইহরাম পরে করছে কী লোকটা।"
তাদের জন্য খাবার নিয়ে এলেন আসলাম গোত্রের মানুষজন। সাহাবি সাদও খাবার নিয়ে এসেছেন উট হারানোর খবর শুনে।
ততক্ষণে অবশ্য হারানো উট নিয়ে ফিরে এসেছেন আরেক সাহাবি সাফওয়ান রা.।
সাব বিন জাসসামা রা. নবিজিকে তোফা দিতে চাইলেন বুনো গাধার মাংস। কিন্তু নবিজি ﷺ নিলেন না। বললেন, "রাগ করে ফিরিয়ে দিইনি। ইহরাম অবস্থায় আছি। নইলে নিতাম।"
কাফেলা এসেছে সারিফে। নবিজি ﷺ নির্দেশ দিলেন কুরবানির পশু আনেনি, তারা শুধু উমরার নিয়ত করবে।
কিন্তু এ কী—বিবি আয়িশা রা. কাঁদছেন কেন?
নবিজি শুধালেন, "কী হয়েছে? মাসিক শুরু হয়েছে?"
"জি। না এলেই ভালো হতো।"
"বোকা মেয়ে। উমরা করতে পারছ না বলে মন খারাপের কী আছে। এটা তো আল্লাহরই ফয়সালা। হজের বাকি কাজগুলো করো। পবিত্র হবার আগে শুধু তাওয়াফটা কোরো না। আল্লাহ দেখবে এর বদলে ভালো কিছু দেবেন।"