21/10/2024
Bell's palsy / Facial Palsy/ Cranial 7 nerve palsy :
আমাদের সপ্তম ক্রেনিয়াল নার্ভটিকে ফেসিয়াল নার্ভ বলে। এটি আংশিক বা সম্পূর্ণ কার্যক্ষমতা হারালে অথবা বিঘ্ন ঘটলে প্যারালাইজড হয়ে যায়,অথবা অকেজো হয়ে যায়ভ।
UMN(Uper Motor Neuron) lesion হলে তখন তাকে ফেসিয়াল প্যারালাইসিস বা পলসি বলা হয়।
আর LMN(Lower Motor Neuron) Lesion হলে তাকে Bell's Palsy বলে।
কাদের বেশি হয়ঃ
এটি যে কোনো বয়সের মহিলা ও পুরুষের হতে পারে, তবে পুরুষের তুলনায় মহিলাদের এই রোগটি বেশি দেখা যায়।
কেন এই রোগ হয় : এই রোগের সু- নির্দিষ্ট কোন কারন নেই, কিন্তু নিচের কারনগুলোর জন্য হতে পারে
* কানের ভাইরাল ইনফেকশন
* মধ্য কর্ণে ইনফেকশন
* ঠাণ্ডাজনিত কারণ - ঠান্ডা খাবার ( আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিংকস ইত্যাদি) খাওয়া, ঠান্ডা পরিবেশে থাকলে অথবা ভ্রমন করলে।
* আঘাতজনিত ( মাথায়, কানে বা মুখ মন্ডলে)
* স্ট্রোকজনিত কারণ
* ফেসিয়াল টিউমার/ মস্তিষ্কে টিউমার
* কানের / মস্তিষ্কের অপারেশন পরবর্তী ফেসিয়াল নার্ভ ইনজুরি ইত্যাদি
লক্ষণঃ
* আক্রান্ত রোগীর মুখ একদিকে অথবা উভয় দিকে বাঁকা হয়ে যায়
* আক্রান্ত পাশের বিপরীত দিক থেকে খাবার / পানি পড়া
* আক্রান্ত পাশের চোখ বন্ধ হয় না ও চোখ দিয়ে পানি পড়া
* কুলি করতে গেলে পানি অন্য পাশে চলে যায় অথবা কুলি করতে না পারা
* জিহ্বার স্বাদে তারতম্য হওয়া
* খাবার গিলতে কষ্ট হয়
* কপাল ভাঁজ করতে পারে না।(UMNL) হলে
* অনেক সময় কথা বলতে কষ্ট হয়
রোগ নির্ণয়ঃ
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ক্লিনিক্যাল/ শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ও রোগীর ইতিহাস জেনে রোগ নির্ণয় করতে পারেন, তবে অনেক সময় কিছু প্যাথলজিক্যাল ও রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে। যেমন-
* কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট উইথ ইএসআর
* এক্স-রে অফ টিএম (টেম্পরো-মেন্ডিবুলার) জয়েন্ট
* নার্ভ কন্ডাকশন ভেলসিটি (এনসিভি) অফ ফেসিয়াল নার্ভ
* মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান / এম, আর, আই ইত্যাদি
চিকিৎসাঃ কারণের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা করতে হয়।কারণ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন ঔষধ বা চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন, তবে সব ক্ষেত্রেই ওষুধের পাশাপাশি মূল চিকিৎসা হল ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা।
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর অবস্থা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ট্রিটমেন্ট প্রোগ্রাম বা প্লান করে থাকেন তার মধ্যে
* Utrasound Therapy at SCM (Sternocledomastoid foramen) পরামর্শ দেন, যাতে করে প্রদাহ নিয়ন্ত্রিত থাকে
* প্রোপ্রাইওসেপ্টিভ নিউরো মাস্কুলার ফ্যাসিলিটেশনন(PNF) EXERCISE পরামর্শ দেন মাংশপেশির স্বাভাবিকতা ধরে রাখার জন্য
* ইনফ্রারেড রেডিয়েশন থেরাপি পরামর্শ দেন ব্যথা কমানোর জন্য ও রক্তচলাচল বৃদ্ধির জন্য।
* ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশন থেরাপি দেন স্নায়ুকে ও মাংশপেশিকে RE-EDUCATED করার জন্য।
* অ্যাক্টিভ ও প্যাসিভ ফ্যাসিয়াল মাসল এক্সারসাইজ মাংশপেশিকে শক্তিশালী করার জন্যভ।
* স্পিচ রি-এডুকেশন থেরাপি কথার জড়তা দূর করার জন্য।
* ব্যালুনিং এক্সারসাইজ
* রিংকলিং এক্সারসাইজ ইত্যাদি বিভিন্ন ব্যায়াম পরামর্শ দিয়ে থাকেন প্রয়োজন অনুযায়ী।
অনেক সময় হাসপাতালে ভর্তি থেকে অথবা নিকটস্থ ফিজিওথেরাপি সেন্টারে গিয়ে দিনে ২-৩ বার ফিজিওথেরাপি নিলে দ্রুত সুস্থ হওয়া যায়।
রোগীর সতর্কতাঃ
চিকিৎসা চলাকালীন রোগীর কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। যেমন-
* ঠাণ্ডা আবহাওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে
* আইসক্রিম ও ফ্রিজের ঠাণ্ডা খাবার খাওয়া যাবে না
* বাইরে বা রোদে গেলে চোখে সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে যেন আক্রান্ত চোখে ধুলাবালি/ পোকা ঢুকতে না পারে।
* রাতে ঘুমানোর সময় আক্রান্ত চোখের ওপর রুমাল বা নরম কাপড় দিয়ে রাখতে হবে যাতে কোনো কিছু চোখের মধ্যে না পড়ে।
*ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করতে হবে ও চিকিৎসা বন্ধ করতে হবে।
উন্নতি : এই রোগ থেকে উন্নতি বা ভালো হতে ৪-৬ সপ্তাহ থেকে ১ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে ( কারনের উপর নির্ভরশীল)।