26/07/2026
চেম্বারের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বিষণ্ণ চোখে নিজের চেহারার দিকে তাকিয়ে ছিলেন বিশ-বাইশ বছরের এক তরুণী। আমার দিকে ফিরে বেশ হতাশার সুরে বললেন, "ডাক্তার সাহেব, চোখের নিচের এই কালো দাগের কারণে আয়নায় নিজের মুখটাই আর দেখতে ইচ্ছে করে না! সবাই বলে রাত জেগে ফোন চালানো আর ঘুমের অভাব নাকি এর কারণ।
অথচ আমি প্রতিদিন অন্তত আট-নয় ঘণ্টা নিশ্চিন্তে ঘুমাই, তাও চোখের নিচের এই ডার্ক সার্কেল কেন দিন দিন গাঢ় হচ্ছে? প্যাক, বরফ আর নানা ক্রিম মেখেও তো কোনো কাজ হচ্ছে না!"
আমি তরুণীর চোখ দুটো ভালো করে পরীক্ষা করলাম। চোখের ভেতরের পাতাটা বেশ ফ্যাকাশে আর চোখের চারপাশের ত্বক কিছুটা শুষ্ক ও লালচে দেখাচ্ছিল। ওনার ব্লাড রিপোর্ট আর অ্যালার্জি টেস্টের প্রেসক্রিপশন লিখতে লিখতে শান্ত গলায় বুঝিয়ে বললাম, "ডার্ক সার্কেল মানেই কেবল রাত জাগা নয়। আপনার শরীরের ভেতরের পুষ্টির অভাব আর অ্যালার্জির সমস্যাটাই বাইরে এভাবে দেখা দিচ্ছে।"
একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা ডার্মাটোলজিস্ট হিসেবে প্রতিদিন এমন বহু রোগীর মুখোমুখি হতে হয়, যারা ভাবেন চোখের নিচের কালো দাগ কেবল প্রসাধনী ব্যবহার বা ঘুম বাড়ালেই গায়েব হয়ে যাবে। কিন্তু চর্মরোগ বিজ্ঞানের আসল সত্যটি হলো—ডার্ক সার্কেল শুধু ঘুমের অভাবে নয়, রক্তশূন্যতা বা অ্যালার্জি থেকেও হতে পারে।
আমাদের চোখের চারপাশের চামড়া শরীরের অন্যান্য স্থানের তুলনায় অত্যন্ত পাতলা ও সংবেদনশীল। রক্তে যখন হিমোগ্লোবিন বা আয়রনের ঘাটতি (রক্তশূন্যতা) দেখা দেয়, তখন টিস্যুতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না এবং রক্তনালীগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা বাইরে থেকে কালো ছোপ ছোপ দাগ হিসেবে ফুটে ওঠে। আবার সাইনাস, ডাস্ট অ্যালার্জি বা একজিমা থাকলে অনবরত চোখ চুলকানোর অভ্যাস কিংবা অ্যালার্জির কারণে রক্তের প্রবাহ বেড়ে গিয়ে চোখের নিচে স্থায়ী কালচে দাগ তৈরি হতে পারে।
তাই বাইরের নানা প্রসাধনী মেখে ওপর ওপর দাগ ঢাকার চেষ্টা না করে এর সঠিক কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে সঠিক রক্ত পরীক্ষা করিয়ে রক্তের কমতি পূরণ, অ্যালার্জির সঠিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ নাইট ক্রিম বা মেডিকেল ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে চোখের এই ডার্ক সার্কেল পুরোপুরি দূর করা সম্ভব।
আপনার যদি নিয়মিত ঘুমের পরও চোখের নিচে জেদি কালো দাগ থাকে, তবে তাকে সাধারণ বিষয় ভেবে অবহেলা করবেন না। প্যাক বা অন্ধভাবে প্রসাধনী না মেখে একজন অভিজ্ঞ ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
মনে রাখবেন, ত্বকের বাহ্যিক সমস্যা অনেক সময় শরীরের ভেতরের জটিলতার সংকেত দেয়। সঠিক কারণ জেনে চিকিৎসা নিন এবং ত্বকের আসল উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনুন।