29/07/2026
২০২৪ সালে বোস্টনের এক ছেলে ৯১১ নম্বরে কল করে ইমার্জেন্সি পুলিশ ডেকে নিয়েছিল বাসায়। কারণ তার জন্মদিন ছিল ওইদিন। উদযাপন করার কেউ নাই। 'ক্যাস্ট অ্যাওয়ে' সিনেমায় টম হ্যাঙ্কসকে আমরা দেখতে পাই, যিনি একটা নির্জন দ্বীপে দীর্ঘদিন আটকা পড়ে কথা বলার কাউকে না পেয়ে একপর্যায়ে একটা ফুটবলের গায়ে চোখ-মুখ এঁকে কথা বলতে আরম্ভ করেন।
মানুষ যখন একলা হয়ে যায়; তার সময় থমকে যায়। শুধু সাইকোলজিক্যাল নয়, মানুষের শরীরও একইভাবে ইফেক্ট করে। ২০২১ সালে স্পেনের ফ্ল্যামিনি নামের এক নারী একটা এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য মাটি থেকে ২৩০ ফুট গভীর একটা গুহায় দীর্ঘদিন একা থাকেন, বাইরের দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে, একা ও নিঃসঙ্গ। এই এক্সপেরিমেন্টে তার বায়োলজিকাল ও সাইকোলজিক্যাল গড়মিল হয়ে যায়। গুহা থেকে বের হয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে তথ্য তিনি দেন- গুহার ভেতর তার নিজের হিসেবে তিনি অতিবাহিত করেছেন মাত্র ১৬০ দিন। অথচ বাস্তবে সময়টা ছিল ৫০০ দিন। অর্থাৎ, গুহায় একাকী নিঃসঙ্গ তিনি যখন ১ দিন পার করছেন, গুহার বাইরে তখন কেটে যাচ্ছে তিন-তিনটা আস্ত দিন। নিঃসঙ্গ মানুষের ঘড়ির কাটাও ঠিক এভাবে আটকায়।
আমি একটা গল্প জানি। মডার্ণ সময়ের গল্প; যখন রোমিও ও জুলিয়েট হারিয়েছে, লায়লাও নেই, মজনুও নেই, নেই হীর-রাঞ্জা কিংবা রাধা-কৃষ্ণ! গল্পটা একটা কাপলের। প্রেমের কিছু বৎসর পর তারা চ্যাটজিপিটিকে দু'জনের ছবি দিয়ে দু'জনের ভবিষ্যতে বাচ্চা হলে দেখতে কেমন হবে- জানার জন্য একটা ছবি বানিয়েছিল। নিছক মজার ছলে। রিলেটেবল বলেই আমি জানি, বাচ্চাটির দিকে তাকালে নিশ্চয় এক আশ্চর্য অনুভূতির সম্মুখীন হতো ওরাও। এই বাচ্চার কোনো অস্তিত্ব নাই। দুনিয়ায় সে এখনো আসে নাই। আসলেও যে আসবে, সে তো এমন হবে না। অথচ এই বাচ্চা কি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রইল তাদের ব্যক্তিগত একটা গল্পের ভেতর।
এই মেয়েটি বিয়ের কয়েক মাস পর ব্রেইন স্ট্রোক করে মারা যায়। মেয়েটির মৃত্যুর পর ছেলেটি লেখে 'অ্যা লেটার টু মাই ওয়াইফ'। ওখানে এই বাচ্চাটিকে নিয়ে দুয়েকটা লাইন ছিল তার। পড়ে চোখে পানি চলে এসেছিল। মেয়েটি নেই, ওই কখনো না জন্মানো বাচ্চাটিই আপাতত তার সবচেয়ে নিকটতম স্মৃতি।
বছর দুয়েক আগের কোনো এক এপ্রিল মাসে এক ভদ্রলোক তার ছোট্ট কন্যা সন্তানের ছবি চ্যাটজিপিটিকে দিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন- তার কন্যার বয়স যখন বিশ হবে, তখন দেখতে কেমন লাগবে কন্যাকে। চ্যাটজিপিটি ওই কন্যার প্রাপ্তবয়স্ক একটা ভার্সন বানিয়ে দিয়েছিল তাকে। ওটি দেখে ভদ্রলোক লিখেছিলেন- যখন আমি মৃত্যুর কথা ভাবি, সবচেয়ে বেশী দুঃখটা পাই যে, আমি দেখতে পাব না আমার কন্যা কত বড় হয়েছে, কেমন হয়েছে দেখতে।
গত বৎসর এই ভদ্রলোক হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান। তার ওই লেখার শেষ লাইন ছিল, আই জাস্ট ওয়ান্ট টু লিভ এ লিটল লঙ্গার, জাস্ট টু সি হার গ্রো।
অনুপম রয় তার একটা গানে দুঃখকে ডেকেছিল কাছিম। এরচেয়ে ভালো উপমা হয় না আর। আমাদের দুঃখগুলো কাছিমের মতো, গুটিগুটি পায়ে আর, এগুতে পারে না। আমাদের ছাড়িয়ে আর এগুতে পারে না।
COLLECTED. @