Dr.Saqib Salah Aufi

Dr.Saqib Salah Aufi MBBS, MSc in Diabetes (UK)
Diploma In Diabetes(UK), FRSPH (UK)
Diabetologist
Rajshahi Diabetic Hospital

ডায়াবেটিস কি প্রতিরোধ করা সম্ভব? হ্যাঁ, একটু সচেতন হলেই এই নীরব ঘাতককে দূরে রাখা যায়! 🛡️বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস একটি মহাম...
13/08/2026

ডায়াবেটিস কি প্রতিরোধ করা সম্ভব? হ্যাঁ, একটু সচেতন হলেই এই নীরব ঘাতককে দূরে রাখা যায়! 🛡️
বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস একটি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। তবে আশার কথা হলো, সঠিক জীবনযাপন এবং কিছু সুনির্দিষ্ট অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে দেওয়া সম্ভব বা এর সূচনাকে বহু বছর পিছিয়ে দেওয়া যায়।

আপনার এবং আপনার পরিবারের সুরক্ষায় ডায়াবেটিস প্রতিরোধের কার্যকর কিছু বৈজ্ঞানিক উপায় নিচে দেওয়া হলো:
১. খাদ্যাভাদ থেকে অতিরিক্ত চিনি ও রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট বিদায় করুন:
সাদা চিনি, কোমল পানীয় (Soft drinks), প্যাকেটজাত জুস এবং ময়দা বা রিফাইন্ড আটা দিয়ে তৈরি খাবার রক্তে খুব দ্রুত সুগার বাড়িয়ে দেয়। এর পরিবর্তে খাবারে ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার (যেমন: শাকসবজি, ফলমূল, লাল চালের ভাত বা আটা) বেশি রাখুন।

২. নিয়মিত কায়িক শ্রম ও ব্যায়াম:
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট করে সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন (মোট ১৫০ মিনিট) দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা হালকা ব্যায়াম করুন। এটি শরীরের ইনসুলিন কার্যক্ষমতা (Insulin Sensitivity) বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন:
বিশেষ করে পেটে অতিরিক্ত চর্বি বা স্থূলতা (Obesity) ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে। শরীরের উচ্চতা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা ধীরে ধীরে কমানোর চেষ্টা করুন।

৪. পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকুন:
প্রতিদিন রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করুন। অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা রাত জাগার ফলে শরীরে এমন কিছু হরমোন নিসৃত হয় যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

৫. ধূমপান ও ক্ষতিকর অভ্যাস বর্জন করুন:
ধূমপান সরাসরি রক্তনালী এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন।

৬. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা (Health Screening):
আপনার পরিবারে যদি ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকে কিংবা বয়স ৩৫ বছর পার হয়ে যায়, তবে নিয়মিত বিরতিতে (বছরে অন্তত একবার) ফাস্টিং ব্লাড সুগার বা HbA1c পরীক্ষা করান। রোগ শুরু হওয়ার আগেই সচেতন হলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।

প্রতিকার সবসময়ই প্রতিকারের চেয়ে শ্রেয়। আজই নিজের জীবনযাত্রায় ছোট কিছু পরিবর্তন আনুন এবং নিজেকে ও নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন।

প্রতিটি নতুন সকাল আমাদের নতুন করে শুরু করার সুযোগ দেয়; জীবনের লক্ষ্য ঠিক রেখে শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।
11/08/2026

প্রতিটি নতুন সকাল আমাদের নতুন করে শুরু করার সুযোগ দেয়; জীবনের লক্ষ্য ঠিক রেখে শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।

ডায়াবেটিস কি আসলেই আপনার শরীরে বাসা বেঁধেছে? চেম্বারে প্রতিদিন প্রচুর রোগী আসেন যারা বলেন, "স্যার, মাঝে মাঝে শরীর খুব দু...
10/08/2026

ডায়াবেটিস কি আসলেই আপনার শরীরে বাসা বেঁধেছে? চেম্বারে প্রতিদিন প্রচুর রোগী আসেন যারা বলেন, "স্যার, মাঝে মাঝে শরীর খুব দুর্বল লাগে, একটু মিষ্টি খেলে মাথা ঝিমঝিম করে, কিন্তু ডায়াবেটিস তো নেই!" অথচ পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর ক্ষতি শুরু হয়ে গেছে।
ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই নিঃশব্দে শরীরে বাসা বাঁধে। তাই লক্ষণ প্রকাশের অপেক্ষায় না থেকে সঠিক সময়ে পরীক্ষা করাটাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।

কখন এবং কাদের ডায়াবেটিস পরীক্ষা নিশ্চিত করা উচিত?

আন্তর্জাতিক গাইডলাইন (ADA/WHO) অনুযায়ী, নিচে দেওয়া পরিস্থিতিতে আপনার দেরি না করে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা উচিত:

১. বয়স যদি ৩৫ বা তার বেশি হয়: কোনো লক্ষণ থাকুক বা না থাকুক, ৩৫ বছর পার হলে অন্তত বছরে একবার ফাস্টিং ব্লাড সুগার (FBS) এবং HbA1c পরীক্ষা করা উচিত।

২. যদি ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়: আপনার যদি ওজন বেশি থাকে (BMI ≥ ২৫) এবং সেই সাথে শারীরিক পরিশ্রম কম হয়, তবে বয়স যাই হোক না কেন, ডায়াবেটিস পরীক্ষা করানো জরুরি।

৩. পরিবার ও বংশগত ইতিহাস: আপনার বাবা, মা বা ভাই-বোনের ডায়াবেটিস থাকলে আপনি উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন। এমন ক্ষেত্রে ৩৫ বছরের আগেই স্ক্রিনিং শুরু করা উচিত।

৪. শরীরের কিছু সতর্কবার্তা (সতর্ক হোন): যদি দেখেন—
* ঘনঘন প্রস্রাব হচ্ছে (বিশেষ করে রাতে)।
* অতিরিক্ত তৃষ্ণা পাওয়া এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়া।
* কোনো কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া।
* শরীর অসম্ভব দুর্বল লাগা বা ক্লান্তি অনুভব করা।
* ক্ষত বা ঘা শুকাতে অনেক দেরি হওয়া।

কিভাবে নিশ্চিত করবেন ডায়াবেটিস আছে কি না?
শুধু একটি 'র‍্যান্ডম' (Random) বা ওষুধের দোকানে করা সাধারণ মেশিনের রিডিং-এর ওপর ভিত্তি করে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা শুরু করা চরম ভুল! ডায়াবেটিস নিশ্চিত করতে নিচের পরীক্ষাগুলো বিশ্বস্বীকৃত:

■ ফাস্টিং ব্লাড সুগার (FBS): অন্তত ৮-১০ ঘণ্টা খালি পেটে থাকার পর।

■ HbA1c (গ্লাইকেটেড হিমোগ্লোবিন): এটি গত ৩ মাসের গড় শর্করার মাত্রা নির্দেশ করে, যা ডায়াবেটিস শনাক্তকরণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা।

■ OGTT (ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট): ডায়াবেটিস আছে কি না তা শতভাগ নিশ্চিত করতে এটিই গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড পরীক্ষা।

(রেফারেন্স: American Diabetes Association - ADA Standards of Medical Care in Diabetes)

আমার পরামর্শ:
নিজের শরীরের প্রতি অবহেলা করবেন না। ডায়াবেটিস থাকা মানেই জীবন শেষ— এমন ধারণা একদম ভুল। বরং সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করে নিয়মিত জীবনযাপন ও ওষুধের মাধ্যমে আপনি একদম সুস্থ ও স্বাভাবিক দীর্ঘ জীবন কাটাতে পারেন।

আলহামদুলিল্লাহ! যুক্তরাজ্যের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ  'রয়্যাল সোসাইটি ফর পাবলিক হেলথ (RSPH)'-এর 'ফেলোশিপ' (FRSPH) অর্জন করে...
07/08/2026

আলহামদুলিল্লাহ! যুক্তরাজ্যের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ 'রয়্যাল সোসাইটি ফর পাবলিক হেলথ (RSPH)'-এর 'ফেলোশিপ' (FRSPH) অর্জন করেছি।

ডায়াবেটিস পরীক্ষার আগে আপনার প্রস্তুতি সঠিক আছে তো? 🩺চেম্বারে প্রায়ই একটি সাধারণ ঘটনা দেখা যায়— অনেক রোগী তাদের ডায়াবেটি...
05/08/2026

ডায়াবেটিস পরীক্ষার আগে আপনার প্রস্তুতি সঠিক আছে তো? 🩺
চেম্বারে প্রায়ই একটি সাধারণ ঘটনা দেখা যায়— অনেক রোগী তাদের ডায়াবেটিস পরীক্ষার রিপোর্টে অসঙ্গতি নিয়ে আসেন। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো রক্ত দেওয়ার আগে সঠিক প্রস্তুতি না নেওয়া। সঠিক প্রস্তুতির অভাবে আপনার ডায়াবেটিসের রিপোর্ট ভুল আসতে পারে, যা আপনার চিকিৎসার পুরো গতিপথ পালটে দিতে পারে।

ডায়াবেটিস নিশ্চিতকরণের প্রধান পরীক্ষা 'ওজিটিটি' (OGTT - Oral Glucose Tolerance Test) এবং 'ফাস্টিং ব্লাড সুগার' (FBS) দেওয়ার আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন (ADA)-এর গাইডলাইন অনুযায়ী কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি:

১. ফাস্টিং বা খালি পেটের সঠিক সময়:
'খালি পেট' বলতে রাতের খাবারের পর টানা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার (সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা) উপবাসকে বোঝায়। এই সময়ে শুধু সাধারণ পানি পান করা যাবে। সকালে রক্ত দেওয়ার আগে চিনি ছাড়া চা, কফি, লেবুপানি বা কোনো ধরনের পানীয় খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ।

২. পরীক্ষার আগের ৩ দিনের খাদ্যাভ্যাস:
অনেকেই ডায়াবেটিস পরীক্ষার ভয়ে আগের ২-৩ দিন মিষ্টি, ভাত বা শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়া একদম কমিয়ে দেন বা উপবাস করেন। এটি মস্ত বড় ভুল! পরীক্ষার অন্তত ৩ দিন আগে থেকে আপনার প্রতিদিনের স্বাভাবিক খাবার (পর্যাপ্ত শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটযুক্ত) খেতে হবে। হঠাৎ করে ডায়েট পরিবর্তন করলে শরীরের মেটাবলিজম বিভ্রান্ত হয় এবং রিপোর্ট ভুল আসতে পারে।

৩. গ্লুকোজ খাওয়ার পরের ২ ঘণ্টা (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ):
খালি পেটে রক্ত দেওয়ার পর ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ মেশানো পানি খেতে হয় এবং ঠিক ২ ঘণ্টা পর দ্বিতীয়বার রক্ত দিতে হয়। এই ২ ঘণ্টা সময় খুব সতর্ক থাকতে হবে। এসময় বাইরে হাঁটাচলা করা, মার্কেট করা বা কোনো শারীরিক পরিশ্রম করা যাবে না। হাসপাতালের ভেতরেই বিশ্রামে বসে থাকতে হবে এবং ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। হাঁটাচলা করলে গ্লুকোজ খরচ হয়ে যায়, ফলে ডায়াবেটিস থাকলেও রিপোর্ট নরমাল আসতে পারে।

৪. শারীরিক পরিশ্রম ও মানসিক চাপ:
রক্ত দেওয়ার আগের দিন রাতে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন এবং পরীক্ষার দিন সকালে অতিরিক্ত ভারী ব্যায়াম বা দৌড়ঝাঁপ এড়িয়ে চলুন।

৫. নিয়মিত ওষুধ সেবন:
সকালে যদি প্রেশার, থাইরয়েড বা অন্য কোনো জরুরি ওষুধ খাওয়ার নিয়ম থাকে, তবে তা শুধু সামান্য পানি দিয়ে খেয়ে আসতে পারেন। তবে ডায়াবেটিসের কোনো ওষুধ বা ইনসুলিন রক্ত দেওয়ার আগে নেওয়া যাবে না।

(রেফারেন্স: World Health Organization - WHO এবং American Diabetes Association - ADA গাইডলাইন)
এই ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো মেনে চললে

আপনার ডায়াবেটিস নির্ণয় হবে শতভাগ নির্ভুল। সঠিক রোগ নির্ণয়ই হলো সঠিক চিকিৎসার প্রথম ধাপ।

আপনার কি ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি আছে? ঘরে বসেই মাত্র ১ মিনিটে জেনে নিন! 🩸ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছা...
02/08/2026

আপনার কি ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি আছে? ঘরে বসেই মাত্র ১ মিনিটে জেনে নিন! 🩸
ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে রোগীরা অনেক দেরিতে বিষয়টি বুঝতে পারেন, যখন শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি হওয়া শুরু হয়ে যায়।
তবে আশার কথা হলো, একটি সহজ ও বিজ্ঞানভিত্তিক স্কোরিং সিস্টেমের মাধ্যমে আপনি নিজেই নিজের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আগে থেকে নির্ণয় করতে পারেন। নিচে আন্তর্জাতিক গাইডলাইনের একটি প্রতিষ্ঠিত ঝুঁকি নির্ণায়ক (Risk Test) দেওয়া হলো।

খাতা-কলম নিয়ে বা মনে মনে আপনার পয়েন্টগুলো যোগ করে ফেলুন:
১. আপনার বয়স কত?
¤ ৪০ বছরের কম (০ পয়েন্ট)
¤ ৪০-৪৯ বছর (১ পয়েন্ট)
¤ ৫০-৫৯ বছর (২ পয়েন্ট)
¤ ৬০ বা তার বেশি (৩ পয়েন্ট)

২. আপনার লিঙ্গ কী?
¤ পুরুষ (১ পয়েন্ট)
¤ নারী (০ পয়েন্ট)

৩. (শুধুমাত্র নারীদের জন্য) গর্ভাবস্থায় কি কখনো ডায়াবেটিস (GDM) ধরা পড়েছিল?
¤ হ্যাঁ (১ পয়েন্ট)
¤ না (০ পয়েন্ট)

৪. আপনার পরিবারে (বাবা, মা, ভাই বা বোন) কারও কি ডায়াবেটিস আছে?
¤ হ্যাঁ (১ পয়েন্ট)
¤ না (০ পয়েন্ট)

৫. আপনার কি উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure) আছে বা আপনি কি প্রেশারের ওষুধ খান?
¤ হ্যাঁ (১ পয়েন্ট)
¤ না (০ পয়েন্ট)

৬. আপনি কি প্রতিদিন নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম (যেমন: হাঁটাচলা) করেন?
¤ না (১ পয়েন্ট)
¤ হ্যাঁ (০ পয়েন্ট)

৭. আপনার শারীরিক ওজন কেমন?
¤ স্বাভাবিক ওজন (০ পয়েন্ট)
¤ অতিরিক্ত ওজন বা Overweight (১ পয়েন্ট)
¤ স্থূল বা মেদবহুল বা Obese (২ পয়েন্ট)
¤ অতিরিক্ত মাত্রায় স্থূল (৩ পয়েন্ট)

**ফলাফল মিলিয়ে নিন:**
সবগুলো পয়েন্ট যোগ করে আপনার মোট স্কোর কত হলো?
🔴 স্কোর ৫ বা তার বেশি: আপনার টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশ প্রবল। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং রুটিন চেকআপ হিসেবে আপনার ফাস্টিং ব্লাড সুগার (FBS) ও HbA1c পরীক্ষা করান।
🟢 স্কোর ৫-এর কম: বর্তমানে আপনার ঝুঁকি তুলনামূলক কম। তবে আজীবন সুস্থ থাকতে সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত কায়িক শ্রমের কোনো বিকল্প নেই।

(রেফারেন্স: American Diabetes Association - ADA Type 2 Diabetes Risk Assessment)

আপনার স্কোর কত হলো?
নিজে সচেতন হোন এবং পোস্টটি শেয়ার করে আপনার প্রিয়জনদেরও নিজেদের ঝুঁকি যাচাই করার সুযোগ করে দিন।

01/08/2026

চীনের সহযোগিতায় রাজশাহীতে নির্মিত হবে বিশেষায়িত হাসপাতাল

অল্প বয়সেই স্ট্রোক এবং অকাল মৃত্যু! কেন বাড়ছে এই নীরব ঘাতকের থাবা? 🧠⚠️ইদানীং হাসপাতাল এবং চেম্বারে একটি অত্যন্ত উদ্বেগজন...
29/07/2026

অল্প বয়সেই স্ট্রোক এবং অকাল মৃত্যু! কেন বাড়ছে এই নীরব ঘাতকের থাবা? 🧠⚠️
ইদানীং হাসপাতাল এবং চেম্বারে একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় লক্ষ্য করছি। আগে সাধারণত ধারণা করা হতো স্ট্রোক বয়স্কদের রোগ— ষাটোর্ধ্ব মানুষেরাই এর শিকার হন। কিন্তু বর্তমানে ৩০ থেকে ৪৫ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যেও স্ট্রোকের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে এবং এর ফলে অকাল মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

একজন ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে এই বিষয়টির পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণগুলো সাধারণ মানুষের ভাষায় আজ তুলে ধরতে চাই।

কাদের বেশি হচ্ছে?
যাদের কায়িক শ্রম কম, যারা দিনের বেশিরভাগ সময় ডেস্কে বসে কাজ করেন, অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকেন এবং যারা নিজেদের রক্তচাপ বা সুগার নিয়ে একেবারেই অসচেতন— তাদের মধ্যেই অল্প বয়সে স্ট্রোকের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।

কেন হচ্ছে? (বৈজ্ঞানিক কারণ)
১. নীরব মেটাবলিক সিনড্রোম: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ (প্রেশার) এবং রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল— এই তিনটিকে একসঙ্গে 'মেটাবলিক সিনড্রোম' বলা হয়। অনেকেই জানেন না যে তাদের শরীরে এই ঘাতকগুলো বাসা বেঁধেছে। দীর্ঘদিন এগুলো নীরবে রক্তনালীর ভেতর প্লাক (Plaque) বা চর্বির স্তর তৈরি করে। ফলে রক্তনালী সরু হয়ে যায় বা ব্লক হয়ে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে স্ট্রোক (Ischemic Stroke) হয়।

২. অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব: তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এখন রাত জাগার প্রবণতা মারাত্মক। রাতে ৭-৮ ঘণ্টা না ঘুমালে এবং ক্যারিয়ার বা পারিবারিক কারণে অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকলে শরীরে 'করটিসল' (Cortisol) হরমোন অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। এটি হঠাৎ করে ব্লাড প্রেশার বাড়িয়ে দেয়, যা ব্রেইনের রক্তনালী ছিঁড়ে যাওয়ার (Hemorrhagic Stroke) ঝুঁকি তৈরি করে।

৩. ধূমপান ও জাঙ্ক ফুড: ধূমপান সরাসরি রক্তনালীর ভেতরের দেয়ালকে (Endothelium) ক্ষতিগ্রস্ত করে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, ফাস্ট ফুড বা অতিরিক্ত ট্রান্স-ফ্যাটযুক্ত খাবার রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

৪. স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন: বিশেষ করে পেটে অতিরিক্ত চর্বি জমলে তা শরীরে 'ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স' তৈরি করে, যা পরোক্ষভাবে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়l

আমাদের করণীয় কী?
অল্প বয়সে স্ট্রোক প্রতিরোধ করা অনেকটাই আমাদের নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে:

নিজের শরীরকে জানুন: বয়স ৩০ পার হলেই নিয়মিত ব্লাড প্রেশার, ফাস্টিং ব্লাড সুগার এবং লিপিড প্রোফাইল (কোলেস্টেরল) পরীক্ষা করুন।

নিয়মিত কায়িক শ্রম: প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট ঘাম ঝরিয়ে হাঁটার অভ্যাস করুন। এটি রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা (Elasticity) বজায় রাখে।

পর্যাপ্ত ঘুম: রাত জেগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহারের অভ্যাস ত্যাগ করে প্রতিদিন রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করুন।

ওষুধে অবহেলা নয়: যাদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়েছে, তারা কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রেশার বা সুগারের ওষুধ খাওয়া বন্ধ করবেন না। অনেকেই ভাবেন, "প্রেশার তো এখন নরমাল, ওষুধ কেন খাব?"— এই ভয়ংকর ভুল ধারণাই অনেক সময় স্ট্রোকের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

স্ট্রোক কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়, এটি দীর্ঘদিন ধরে শরীরের প্রতি করা আমাদের অবহেলার চূড়ান্ত পরিণতি। সচেতন হোন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করুন।

হঠাৎ বৃষ্টি আর ভ্যাপসা গরমে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি! নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখবেন কীভাবে? বর্ষার এই সময়টায় রোদ আর বৃষ্টি...
12/07/2026

হঠাৎ বৃষ্টি আর ভ্যাপসা গরমে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি! নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখবেন কীভাবে?

বর্ষার এই সময়টায় রোদ আর বৃষ্টির লুকোচুরিতে আবহাওয়া থাকে বেশ পরিবর্তনশীল। আর এই স্যাঁতসেঁতে ও গুমোট আবহাওয়াই হলো সিজনাল ফ্লু বা সর্দি-কাশির ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে অনুকূল সময়। চেম্বারে এখন প্রতিদিনই অনেক রোগী আসছেন জ্বর, সর্দি ও গলাব্যথা নিয়ে।

বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস বা মেটাবলিক সমস্যা রয়েছে, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কিছুটা কম থাকায় এই সময়ে সংক্রমণের ঝুঁকি একটু বেশিই থাকে।

তবে দৈনন্দিন জীবনে ছোট কিছু সতর্কতা মেনে চললে এই বিরক্তিকর সর্দি-কাশি থেকে সহজেই সুরক্ষিত থাকা সম্ভব:

১. বৃষ্টিতে ভেজা এড়িয়ে চলা: বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই ছাতা সাথে রাখুন। কোনো কারণে বৃষ্টিতে ভিজে গেলে বাসায় ফিরে দ্রুত হালকা গরম পানি ও সাবান দিয়ে গোসল করে ফেলুন এবং মাথা ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। ভেজা কাপড় বেশিক্ষণ পরে থাকবেন না।

২. উষ্ণ পানীয়ের অভ্যাস: গলা খুসখুস বা হালকা কাশি শুরু হলে দিনে কয়েকবার কুসুম গরম পানি পান করুন। চায়ের সাথে আদা, লবঙ্গ, দারুচিনি বা তুলসী পাতা মিশিয়ে খেলে গলার আরাম হয় এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।

৩. ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লেবু, আমলকী, পেয়ারা বা মাল্টার মতো ভিটামিন-সি যুক্ত ফল রাখুন। (ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতি বিশেষ পরামর্শ:ফলের জুস না খেয়ে সবসময় আস্ত ফল চিবিয়ে খাবেন, এতে সুগার হঠাৎ করে বেড়ে যাবে না)।

৪. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা: বাইরে থেকে এসে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু বা রুমাল ব্যবহার করুন, যাতে পরিবারের অন্য সদস্যরা সংক্রমিত না হন।

৫. অযথা অ্যান্টিবায়োটিক নয়: সিজনাল সর্দি-কাশি বা ভাইরাল ফিভারে অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজ করে না। তাই নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ৩-৪ দিনের বেশি জ্বর থাকলে বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
একটু সচেতনতাই পারে আপনাকে এবং আপনার প্রিয়জনকে এই সিজনাল ফ্লু থেকে দূরে রাখতে।

Address

Rajshahi Diabetic Association General Hospital
Rajshahi

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr.Saqib Salah Aufi posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share