24/04/2026
Entropionঃ
এন্ট্রোপিয়ন হলো চোখের পাতার (সাধারণত নিচের পাতা) ভেতরের দিকে উল্টে যাওয়া, যার ফলে চোখের পাপড়ি কর্নিয়ার সাথে ঘষা খায়। এতে জ্বালা, ব্যথা, চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং দৃষ্টিশক্তি হারানোর সম্ভাবনা থাকে। পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে এটি প্রধানত বয়স্কদের প্রভাবিত করে এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার মাধ্যমে এটি নির্ণয় করেন। যদিও এর সাময়িক চিকিৎসা রয়েছে, তবে অস্ত্রোপচারই এর নিশ্চিত প্রতিকার।
★এন্ট্রোপিয়নের লক্ষণ
১.চোখের পাতা এবং পাপড়ি ভিতরের দিকে ঢুকে যাওয়া
২.চোখে ময়লা কিছু পড়ার অনুভূতি (foreign body sensation )
৩. চোখে তীব্র অস্বস্তি, ব্যথা বা জ্বালা
৪. চোখে পানি পড়া
৫. চোখ লাল হওয়া
৬. আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা (ফটোফোবিয়া)
৭. ঝাপসা দৃষ্টি (কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হলে)
★এন্ট্রোপিয়নের কারণসমূহ
বার্ধক্যজনিত (অবক্ষয়মূলক): চোখের পাতার পেশির স্থিতিস্থাপকতা হ্রাস এবং দুর্বল হয়ে পড়া (সবচেয়ে সাধারণ)।
ক্ষতচিহ্ন (সিক্যাট্রিসিয়াল): পূর্ববর্তী আঘাত, রাসায়নিক ক্ষতি বা কনজাংটিভার প্রদাহ।
তীব্র স্প্যাস্টিক: চোখের পাতার চারপাশের পেশীর খিঁচুনির কারণে এটি ঘটে।
জন্মগত: বিরল, জন্ম থেকেই বিদ্যমান।
★এন্ট্রোপিয়নের রোগ নির্ণয়
একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ (অপথালমোলজিস্ট) চক্ষু পরীক্ষার মাধ্যমে এন্ট্রোপিয়ন নির্ণয় করেন।
★এন্ট্রোপিয়নের চিকিৎসা
১.সার্জারি: এটি সবচেয়ে সাধারণ এবং সফল দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা, যার মাধ্যমে প্রায়শই চোখের পাতার পেশী টানটান করা হয় বা পাতাটির অবস্থান পরিবর্তন করা হয়।
২.কৃত্রিম অশ্রু/লুব্রিক্যান্ট: শুষ্কতা দূর করতে এবং সাময়িকভাবে কর্নিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে।
৩.বোটুলিনাম টক্সিন ইনজেকশন: চোখের পাতা উল্টে যাওয়ার কারণ পেশীর খিঁচুনি বন্ধ করতে।
৪.এপিলেশন: চোখের সাথে ঘষা লাগা চোখের পাপড়ি অপসারণ করা।
অস্ত্রোপচারের সাফল্যের হার সাধারণত অনেক বেশি (কারণভেদে প্রায়শই ৫০% থেকে ৮০% বা তারও বেশি)। চিকিৎসা না করালে গুরুতর এন্ট্রোপিয়নের ফলে কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে।