22/05/2026
আমাদের দেশে ডেঙ্গু সিজন শুরু হচ্ছে। এর মধ্যে আমাদের হাসপাতালে দুই জন ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় এই রোগীগুলো ঢাকায় থাকে, গার্মেন্টস বা ফ্যাক্টরীতে কাজ করে। জ্বর নিয়ে কয়েকদিন ঘোরাফেরা করে। এরপর বাড়িতে চলে আসে। যখন অবস্থা খুব খারাপ হয় তখন হাসপাতালে আসে। হাসপাতালে যখন আসে ততক্ষনে রোগীর অবস্থা ভয়াভয় খারাপ থাকে, দেখা যায় প্রেসার নেই, রক্ত কম, শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, প্লাটিলেট কাউন্ট খুব কম ইত্যাদি। এমন অবস্থায় রোগীকে আইসিইউতে নেয়ার প্রয়োজন হয়, কিন্তু সে সামর্থ্য এই রোগীদের থাকে না। রোগী অতিদ্রুত রক্ত বা প্ল্যাটিলেট দিতে হয়, কিন্তু সেটারো প্রস্তুতি নিতে নিতেই রোগী পরকালের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।
ডেঙ্গু সিজনের জন্য কয়েকটি পরামর্শ
১) বাসায় বা আশেপাশে কোনভাবেই যেন পানি জমে না থাকে। শোয়ার সময় অবশ্যই মশারী ব্যবহার করতে হবে।
২) জ্বর আসলেই ডেঙ্গু টেস্ট করুন।
৩) ডেঙ্গু টেস্ট নেগেটিভ আসলেই ভাববেন না, ডেঙ্গু নেই। ডেঙ্গু হবার পরেও টেস্ট নেগেটিভ হতে পারে। তাই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন এবং জ্বর শুরু হবার ৭ দিন পর্যন্ত চিকিৎসকের ফলোয়াপে থাকবেন।
৪) ডেঙ্গু রোগীর জ্বর শুরু হবার ৩ দিন পর জ্বর কমে যায়, এক বা দুই দিন গ্যাপ দিয়ে আবারও জ্বর আসে। জ্বর শুরু হবার ৫ম দিন থেকে ক্রিটিক্যাল ফেজ শুরু হয়। এই সময় অধিক সতর্ক থাকতে হবে।
৫) যাদের পূর্বে ডেঙ্গু হয়েছে, তাদের যদি ডেঙ্গু হয় তবে তা খুব খারাপ (হেমোরেজিক ডেঙ্গু) হয়। তাই যাদের পূর্বে ডেঙ্গু হয়েছে, তাদের অধিক সতর্ক থাকতে হবে।
৬) ডেঙ্গু ধরা পড়লেই প্রস্তুতি নিতে হবে- টাকা-পয়সার প্রস্তুতি, রক্তের গ্রুপ চেক করে রক্ত জোগাড় করে রাখতে হবে।
৭) জ্বর হবার পর ৭ দিন পর রোগী যদি সুস্থ থাকে, তাহলে আর দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
ডাঃ রতীন্দ্র নাথ মন্ডল
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
রংপুর স্পেশালাইজড হাসপাতাল।