15/07/2026
মানসিক ও শারীরিক বিকাশে আয়রনের ভূমিকা:
ইদানিং বাংলাদেশে অধিকাংশ শিশুদের মধ্যে আয়রনের অভাব জনিত অ্যানিমিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে।
তাই শিশুদের জন্য আয়রন সংক্রান্ত অত্যন্ত জরুরী কিছু টিপস :
শিশুর মস্তিষ্কের সঠিক গঠন, বুদ্ধিমত্তা ও শারীরিক বিকাশের জন্য আয়রন একটি অপরিহার্য খনিজ উপাদান। শৈশবে আয়রনের অভাব হলে শিশুর মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধিতে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।
তাই আসুন আয়রনের প্রধান উপকারিতা গুলো জেনে নেই:
বুদ্ধিমত্তা ও আইকিউ (IQ) বৃদ্ধি:
মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে শিশুর শেখার ক্ষমতা ও আইকিউ উন্নত করে।
।স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ:
পড়ালেখায় মনোযোগ ও একাগ্রতা বাড়ায় এবং স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ করে।
মেজাজ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ: মস্তিষ্কের হ্যাপি হরমোন (ডোপামিন ও সেরোটোনিন) তৈরিতে সাহায্য করে। ফলে শিশুর মেজাজ খিটখিটে হওয়া কমায়।
মস্তিষ্কের গঠন: স্নায়ুতন্তুর আবরণ (Myelin) তৈরিতে সাহায্য করে, যা দ্রুত চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ায়।
তাছাড়া আয়রন শিশুদের ক্ষুধা মন্দা দূর করে।
আয়রন সমৃদ্ধ খাবার : দুধ,মাংস,কলিজা,কচুশাক, কাঁচা কলা, পাকা কলা,পেয়ারা,আপেল,ড্রাগন ফল ইত্যাদি।
উল্লেখ্য শিশুর শরীরে আয়রন যেন ঠিকঠাক হজম ও শোষিত হতে পারে, সেজন্য আয়রনযুক্ত খাবারের সাথে প্রচুর ভিটামিন-সি (লেবু বা কমলা) খাওয়ান।
এতদসত্ত্বেও আয়রনের অভাবে খুব বেশি (অ্যানিমিয়া) রক্তশূন্যতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শক্রমে ঔষধ হিসেবে আয়রন সিরাপ, ফলিক এসিড এবং ভিটামিন সি যথাযথ মাত্রায় গ্রহণ করা যেতে পারে।
সকল শিশুর সুস্বাস্থ্য, প্রাণবন্ত এবং আলোকিত জীবন প্রত্যাশা করছি।
সবাইকে ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
অধ্যাপক ডাক্তার মোঃ নুরুল ইসলাম
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। শিশু বিভাগ।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
চেম্বার : বসুন্ধরা ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স। সদর হাসপাতাল মোড়।দিনাজপুর
মোবাইল নাম্বার :০১৮৩৭৩২০৯৮২, ০১৭৫০২৩৬৪১৯,০১৯১৩৩২৩৪৭২