01/04/2026
☑️সন্দেহজনক হামের রোগীকে ভিটামিন এ — কেন, কখন, কতটুকু?
💊হাম সন্দেহ হলে অনেকেই জিজ্ঞেস করেন — "ডাক্তার, ভিটামিন এ কি দিতেই হবে? এত বেশি ডোজ কেন?"
উত্তরটা বুঝতে হলে আগে একটু জানতে হবে হাম শরীরে কী করে।
✔️হাম আর ভিটামিন এ — সম্পর্কটা কী?
হামের ভাইরাস শরীরে ঢুকলে শুধু জ্বর-র্যাশ হয় না। এটা শরীরের ভিটামিন এ-র মজুদ দ্রুত শেষ করে দেয়। আর ভিটামিন এ কমে গেলে —
চোখের কর্নিয়া নষ্ট হতে পারে → স্থায়ী অন্ধত্ব
ফুসফুসের সংক্রমণ বাড়ে → নিউমোনিয়া
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে পড়ে → মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে
📚WHO এবং বাংলাদেশ সরকারের গাইডলাইন বলছে — হাম সন্দেহ হলেই, ল্যাব রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা না করে, সঙ্গে সঙ্গে ভিটামিন এ দিয়ে দিতে হবে।
👍ডোজটা কীভাবে মনে রাখবেন?
নিয়মটা আসলে খুব সহজ — দুইদিন দিতে হয়, একই ডোজে। প্রথম দিন রোগ সন্দেহ হওয়ার দিনই, দ্বিতীয় দিন পরেরদিন।
🫂ডোজ নির্ভর করে শুধু বয়সের উপর —
৬ মাসের নিচে → ৫০,০০০ ইউনিট (দুইদিনই)
৬ থেকে ১১ মাস → ১,০০,০০০ ইউনিট অর্থাৎ ১ লাখ ইউনিট (দুইদিনই)
১২ মাস বা তার বেশি → ২,০০,০০০ ইউনিট অর্থাৎ ২ লাখ ইউনিট (দুইদিনই)
সহজ করে বললে — বয়স যত বাড়বে, ডোজ তত বাড়বে। আর দুইদিনেই একই ডোজ।
🥺"এত বেশি ডোজ কি ক্ষতিকর না?"
এটা অনেক অভিভাবক জিজ্ঞেস করেন। উত্তর হলো — না। ভিটামিন এ fat-soluble হওয়ায় দীর্ঘদিন বেশি ডোজে খেলে সমস্যা হতে পারে, কিন্তু মাত্র দুইদিনের এই শর্ট-কোর্স সম্পূর্ণ নিরাপদ।
🫵 গবেষণায় দেখা গেছে, এই ডোজিং হামে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
একটাই কথা মনে রাখুন —
হাম দেখলে বা সন্দেহ হলে দেরি করবেন না। শিশুটাকে দ্রুত কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সময়মতো ভিটামিন এ পেলে অনেক বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
✅তথ্যটি উপকারী মনে হলে শেয়ার করুন — হয়তো একটা শেয়ারই একটা শিশুর দৃষ্টিশক্তি বাঁচাতে পারে।
মাদারগঞ্জ ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র