19/06/2026
ডায়াবেটিস হলে কি ফল খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে?
চলুন জেনে নেওয়া যাক।
⸻
প্রথমেই একটা কথা পরিষ্কার করে বলি—
ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ফল নিষিদ্ধ নয়।
বরং সঠিক ফল, সঠিক পরিমাণে খাওয়া একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ।
ফলে থাকে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা আমাদের শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।
তাহলে সমস্যা কোথায়?
সমস্যা ফলে নয়, সমস্যাটা হলো—
কোন ফল খাচ্ছেন, কতটুকু খাচ্ছেন এবং কীভাবে খাচ্ছেন।
⸻
অনেকেই বলেন,
“ফলে তো চিনি আছে, তাহলে এটা কীভাবে ভালো?”
হ্যাঁ, ফলে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। তবে ফলের সঙ্গে থাকে প্রচুর ফাইবারও।
এই ফাইবার রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে দেয় না।
ফলে এক টুকরো ফল আর এক চামচ চিনি—দুটোকে একইভাবে দেখা ঠিক নয়।
⸻
এখন প্রশ্ন হলো—
কোন ফলগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো?
আপনি নিয়মিত খেতে পারেন—
✅ পেয়ারা
✅ আপেল
✅ কমলা
✅ নাশপাতি
✅ পেঁপে
✅ ড্রাগন ফল
এসব ফলে ফাইবার বেশি এবং সাধারণত রক্তে শর্করা ধীরে বাড়ায়।
⸻
এবার আসি সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রশ্নে।
আম, লিচু, কাঁঠাল খাওয়া যাবে?
উত্তর হলো—
হ্যাঁ, যাবে।
কিন্তু পরিমাণ বুঝে খেতে হবে।
এক বসায় আধা কেজি আম বা এক ডজন লিচু খেয়ে ফেললে সমস্যা হবেই।
তাই আম, লিচু, কাঁঠাল, আঙুর, পাকা কলা কিংবা খেজুর খেতে হলে পরিমাণের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
⸻
আর একটা ভুল আমরা প্রায়ই করি।
অনেকে বলেন—
“আমি ফল খাই না, শুধু ফলের জুস খাই।”
আসলে পুরো ফল জুসের চেয়ে অনেক ভালো।
কারণ জুস করলে ফলের ফাইবার কমে যায়।
ফলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
তাই আমার পরামর্শ—
ফল চিবিয়ে খান, জুস করে নয়।
⸻
ফল খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় কখন?
সাধারণত—
✔ সকালের নাস্তার কয়েক ঘণ্টা পরে
✔ বিকেলে হালকা নাস্তায়
✔ দুই বেলার খাবারের মাঝখানে
এই সময়গুলোতে ফল খাওয়া ভালো অভ্যাস হতে পারে।
⸻
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—
অনেকে বলেন,
“আমি তো শুধু ফলই খাই।”
মনে রাখতে হবে—
ভালো জিনিসও অতিরিক্ত খেলে ক্ষতি হতে পারে।
তাই ফল স্বাস্থ্যকর, কিন্তু পরিমিত পরিমাণে।
⸻
আজকের আলোচনার মূল বার্তা এক লাইনে যদি বলতে চাই—
ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ফল শত্রু নয়। সঠিক ফল, সঠিক পরিমাণে এবং সঠিক সময়ে খাওয়াই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।
ফল বাদ দিয়ে নয়, বরং সচেতনভাবে ফল খেয়েই সুস্থ থাকা সম্ভব।
⸻
ডাঃ মোঃ রেজওয়ান-উল-হক
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)
এফসিপিএস (অর্থোপেডিক সার্জারী-শেষ বর্ষ)
ট্রেইন্ড ইন কালার ডপলার আল্ট্রাসাউন্ড (টোকিও, জাপান)
সাবেক চিকিৎসা কর্মকর্তা ও সনোলজিস্ট
ইনমাস, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ
সহকারী সার্জন
গংগাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রংপুর
চেম্বারের ঠিকানা:
গংগাচড়া স্পেশালাইজড ডায়াগনস্টিক সেন্টার
(গংগাচড়া পোস্ট অফিসের বিপরীতে, গংগাচড়া, রংপুর)
রোগী দেখার সময়:
প্রতিদিন বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৯ টা