Salman Rashid Shanto

Contact the practice

Salman Rashid Shanto Psychologist | Life Skill Trainer | Personal Development Coach

📢 𝐁𝐚𝐬𝐢𝐜 𝐂𝐨𝐮𝐧𝐬𝐞𝐥𝐢𝐧𝐠 𝐓𝐫𝐚𝐢𝐧𝐢𝐧𝐠 | 𝐑𝐞𝐠𝐢𝐬𝐭𝐫𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧 𝐎𝐩𝐞𝐧𝐌𝐢𝐧𝐝 𝐌𝐞𝐧𝐝𝐞𝐫𝐬 × 𝐀𝐬𝐬𝐡𝐚𝐬𝐡 𝐇𝐞𝐚𝐥𝐭𝐡 Mind Menders, in collaboration with Asshash...
24/08/2026

📢 𝐁𝐚𝐬𝐢𝐜 𝐂𝐨𝐮𝐧𝐬𝐞𝐥𝐢𝐧𝐠 𝐓𝐫𝐚𝐢𝐧𝐢𝐧𝐠 | 𝐑𝐞𝐠𝐢𝐬𝐭𝐫𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧 𝐎𝐩𝐞𝐧
𝐌𝐢𝐧𝐝 𝐌𝐞𝐧𝐝𝐞𝐫𝐬 × 𝐀𝐬𝐬𝐡𝐚𝐬𝐡 𝐇𝐞𝐚𝐥𝐭𝐡

Mind Menders, in collaboration with Asshash Health, is pleased to announce a Basic Counseling Training designed for psychology students and individuals from diverse professional backgrounds who are interested in gaining hands-on practical experience and developing foundational counseling skills.

This training will support psychology students in their professional journey by bridging academic knowledge with real-life application. It is also highly beneficial for non-psychology professionals who wish to apply counseling skills in their personal lives, improving self-awareness, communication, and emotional understanding.

The sessions will be conducted by experienced Clinical Psychologists, Assistant Clinical Psychologists, and Professional Psychologists, ensuring a structured and practice-oriented learning experience.

🔹 Mode: Online
🔹 Training Fee: BDT 2000 only
🔹 Time: 8:30-11:00 PM onwards
🔹 Seats: Limited
🔹 𝐂𝐞𝐫𝐭𝐢𝐟𝐢𝐜𝐚𝐭𝐞: 𝐀𝐧 𝐨𝐟𝐟𝐢𝐜𝐢𝐚𝐥 𝐜𝐞𝐫𝐭𝐢𝐟𝐢𝐜𝐚𝐭𝐞 𝐰𝐢𝐥𝐥 𝐛𝐞 𝐩𝐫𝐨𝐯𝐢𝐝𝐞𝐝 𝐮𝐩𝐨𝐧 𝐬𝐮𝐜𝐜𝐞𝐬𝐬𝐟𝐮𝐥 𝐜𝐨𝐦𝐩𝐥𝐞𝐭𝐢𝐨𝐧

📅 Training date will be announced after completion of the required number of registrations.

💳 𝐏𝐚𝐲𝐦𝐞𝐧𝐭 𝐌𝐞𝐭𝐡𝐨𝐝:
Bkash/Rocket/Nagad (Personal): 𝟎𝟏𝟕𝟗𝟔𝟗𝟕𝟏𝟖𝟒𝟖

⚠️ Please complete your payment before filling out the registration form and ensure all information is provided accurately. Incomplete or incorrect submissions may result in cancellation of registration.

🔗 𝐑𝐞𝐠𝐢𝐬𝐭𝐫𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧 𝐋𝐢𝐧𝐤: https://forms.gle/kzsJmf1i5TmFVi1R8

For further updates and queries, stay connected with Mind Menders & Asshash Health 🌿

📌 𝐁𝐚𝐬𝐢𝐜 𝐂𝐨𝐮𝐧𝐬𝐞𝐥𝐢𝐧𝐠 𝐒𝐤𝐢𝐥𝐥𝐬 𝐓𝐫𝐚𝐢𝐧𝐢𝐧𝐠 – 𝐑𝐞𝐠𝐢𝐬𝐭𝐞𝐫 𝐍𝐨𝐰!

𝐂𝐨𝐧𝐠𝐫𝐚𝐭𝐮𝐥𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧𝐬 𝐓𝐞𝐚𝐦 𝐓𝐢𝐠𝐞𝐫𝐬!
16/08/2026

𝐂𝐨𝐧𝐠𝐫𝐚𝐭𝐮𝐥𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧𝐬 𝐓𝐞𝐚𝐦 𝐓𝐢𝐠𝐞𝐫𝐬!

15/08/2026

সাইকোলজিস্ট দিন দিন একটা রিস্কি প্রফেশন হয়ে যাচ্ছে। হুট করে একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখবেন কেউ একজন বলছে-

"সাইকোলজিস্টদেরকে Underestimate করবেন না.... তাদেরকে টাকা দিয়ে কিনতে পারবেন না.....সাইকোলজিস্টরা ভয়ংকর হয়না, বরং ভয়ংকররা সাইকোলজিস্টকে ভয় পায়...."

সময় থাকতে যে যার জায়গা থেকে পালান...😐

অনলাইনে ও সরাসরি নিয়মিত ক্লায়েন্ট দেখছি।আমাদের কাছে যারা আসেন, তাদের সবাই যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন—তা নয়। ...
14/08/2026

অনলাইনে ও সরাসরি নিয়মিত ক্লায়েন্ট দেখছি।

আমাদের কাছে যারা আসেন, তাদের সবাই যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন—তা নয়। অনেকেই মানসিকভাবে সুস্থ, কিন্তু জীবনের কোনো একটি ক্ষেত্রে আরও ভালো করতে চান।

কেউ নিজের productivity বাড়াতে চান, কেউ ক্যারিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন, কেউ নিজের লক্ষ্য ও জীবনকে আরও গুছিয়ে নিতে চান। আবার কেউ নিজের চিন্তাভাবনা, অভ্যাস, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিগত দক্ষতা নিয়ে গভীরভাবে কাজ করতে চান।

আপনি চাইলে Career Counseling, Self-Coaching, Personal Development কিংবা Productivity & Goal Management নিয়েও ইন-ডেপথ সেশন নিতে পারেন।

কারণ মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার অর্থ শুধু সমস্যা কমানো নয়; নিজের সম্ভাবনাকে আরও ভালোভাবে কাজে লাগানোও এর অংশ।

প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন।

-এস এম সালমান রশিদ শান্ত
সাইকোলজিস্ট | স্কিল ট্রেইনার | পারসোনাল গ্রোথ কোচ

12/08/2026

বাংলাদেশের মানুষের ট্রাস্ট ইস্যু কি যে পরিমাণ বাড়ছে তার একটা উদাহরণ দেই।

"ক্লায়েন্ট ক্যাশ অন ডেলিভারিতে কাউন্সেলিং সেশন নিতে চায়।"

- ইনবক্স থেকে।

12/08/2026

এই দেশে এখন চারদিকে শুধু এক্সপার্ট আর এক্সপার্ট। প্রতি দু'জন মানুষের একজন হয় সাইকোলজিস্ট, কোচ, ট্রেইনার, ইনফ্লুয়েন্সার, গ্রোথ হ্যাকার, মাইন্ড মাস্টার, স্পেশালিস্ট, ডাক্তার, হেলথ এক্সপার্ট কিংবা কনটেন্ট ক্রিয়েটর।

ভয়ের বিষয় এক্সপার্টের সংখ্যা নয়—ভয়ের বিষয় হলো, কার এক্সপার্টিজ শেষ পর্যন্ত আপনাকে মেরে ফেলবে, সেটা আগে থেকে বোঝা যায় না।

Healing starts with you...Growth isn't about becoming someone else—it's about becoming more of who you truly are.Choose ...
11/08/2026

Healing starts with you...

Growth isn't about becoming someone else—it's about becoming more of who you truly are.

Choose yourself with compassion. Learn with curiosity. Love without fear. Heal one step at a time, even when progress feels slow.

Every small act of self-care, every lesson learned, and every moment of courage brings you closer to the life you deserve.

Grow with passion. Lead with love. Trust the journey.

মা বলেন - "আমি তো শুধু ওর ভালো চাই..."প্রায় সব হেলিকপ্টার প্যারেন্টের গল্পই এই বাক্য দিয়ে শুরু হয়।ছেলেটা ক্লাস সেভেনে...
06/07/2026

মা বলেন - "আমি তো শুধু ওর ভালো চাই..."

প্রায় সব হেলিকপ্টার প্যারেন্টের গল্পই এই বাক্য দিয়ে শুরু হয়।

ছেলেটা ক্লাস সেভেনে পড়ে। স্কুলে কোনো সমস্যা হলে সে নিজে কথা বলার আগেই মা স্কুলে চলে যান। বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া হলে মা-ই সমাধান করে দেন। পরীক্ষায় একটু কম নম্বর পেলে টিউটর বদলে যায়। কী পড়বে, কখন পড়বে, কার সঙ্গে মিশবে, কী শখ হবে, ভবিষ্যতে কোন পেশায় যাবে—সব সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া।

বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, কী দারুণ যত্ন!

কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই শিশুটি নিজের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে শিখছে কবে?

জীবনের ছোট ছোট সমস্যাগুলো নিজে মোকাবিলা করতে শিখছে কবে?

ব্যর্থতার পর আবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তিটা তৈরি হচ্ছে কীভাবে?

আমরা অনেক সময় ভাবি, সন্তানকে কষ্ট থেকে বাঁচিয়ে রাখাই ভালো প্যারেন্টিং। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জীবনের প্রতিটি কষ্ট সরিয়ে দিলে আমরা সন্তানের জন্য একটি সহজ শৈশব তৈরি করতে পারি, কিন্তু একটি শক্তিশালী ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারি না।

এটাকেই মনোবিজ্ঞানে বলা হয় 𝐇𝐞𝐥𝐢𝐜𝐨𝐩𝐭𝐞𝐫 𝐏𝐚𝐫𝐞𝐧𝐭𝐢𝐧𝐠—যেখানে বাবা-মা সন্তানের জীবনের চারপাশে এমনভাবে ঘুরতে থাকেন যে, সন্তানের নিজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগই কমে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক এবং অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক প্যারেন্টিং অনেক সন্তানের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষমতা, উদ্বেগ, ব্যর্থতার অতিরিক্ত ভয় এবং অন্যের উপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে পারে। কারণ তারা ছোটবেলা থেকেই শিখে ফেলে—"আমার সমস্যা আমি সমাধান করব না, কেউ এসে করে দেবে।"

এর মানে এই নয় যে সন্তানের পাশে থাকবেন না।

বরং এমনভাবে পাশে থাকুন, যাতে সে জানে—"আমি চেষ্টা করব, প্রয়োজন হলে বাবা-মা আছেন।"

আর এমনভাবে পাশে থাকবেন না, যাতে সে বিশ্বাস করতে শুরু করে—"বাবা-মা না থাকলে আমি কিছুই করতে পারব না।"

ভালো প্যারেন্টিং মানে সন্তানের জন্য প্রতিটি দরজা খুলে দেওয়া নয়।

ভালো প্যারেন্টিং মানে তাকে এমনভাবে বড় করা, যেন একদিন সে নিজেই নিজের দরজা খুলতে পারে।

কারণ একদিন আপনি পাশে থাকবেন না।

সেদিন আপনার সন্তানের সবচেয়ে বড় শক্তি হবে না আপনার উপস্থিতি; বরং আপনার শেখানো আত্মবিশ্বাস, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং নিজের উপর বিশ্বাস।

-এস এম সালমান রশিদ শান্ত
সাইকোলজিস্ট | সফট স্কিলস ট্রেইনার | পারসোনাল গ্রোথ কোচ

থেরাপি রুম আমাকে একটা জিনিস বারবার শিখিয়েছে—মানুষের সবচেয়ে গভীর ক্ষতগুলো অনেক সময় চোখে দেখা যায় না।প্রতিদিনই নতুন নত...
04/07/2026

থেরাপি রুম আমাকে একটা জিনিস বারবার শিখিয়েছে—মানুষের সবচেয়ে গভীর ক্ষতগুলো অনেক সময় চোখে দেখা যায় না।

প্রতিদিনই নতুন নতুন মানুষের গল্প শুনি।

কেউ এসে বলে, "আমি কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না।"

কেউ বলে, "সম্পর্কে জড়াতে ভয় লাগে।"

কেউ বলে, "সবসময় মনে হয় আমি যথেষ্ট ভালো না।"

আবার কেউ বলে, "আমি জানি না কেন আমি এত একা অনুভব করি।"

শুরুতে মনে হয়, হয়তো সমস্যাগুলো বর্তমান জীবনের। কিন্তু গল্পটা যত সামনে এগোয়, ততই দেখা যায়—অনেক উত্তর লুকিয়ে আছে বহু বছর আগের একটা বাড়িতে, একটা পরিবারে, একটা শৈশবে।

সেখানে হয়তো ছিল বাবা-মায়ের প্রতিদিনের ঝগড়া। হয়তো ছিল নীরবতা, যেখানে কেউ কারও কথা শুনত না। হয়তো ছিল এমন একজন শিশু, যে খুব ভয় পেয়েছিল, কিন্তু তাকে জড়িয়ে ধরে বলার মতো কেউ ছিল না—"আমি আছি।"

কেউ বড় হয়েছে সবসময় তুলনার মধ্যে। কেউ বড় হয়েছে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে নিজের ইচ্ছাগুলো চাপা দিয়ে। কেউ শৈশবের নির্যাতন বা অপমানের কথা কাউকে বলতে পারেনি। কেউ ট্রমার পরে সবচেয়ে বেশি যাদের পাশে পাওয়ার কথা ছিল, তাদের কাছ থেকেই পেয়েছে অবিশ্বাস বা দোষারোপ।

বছর কেটে যায়।

শিশুটি বড় হয়।

মানুষ ভাবে, সময় সব ঠিক করে দেয়।

কিন্তু অনেক সময়, সময় শুধু মানুষটাকে বড় করে, ক্ষতগুলোকে সারিয়ে তোলে না।

তারপর একদিন সেই মানুষটি থেরাপি রুমে বসে বলে—

"আমি কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না।"

"আমি বারবার সম্পর্ক ভেঙে ফেলি।"

"আমি কাউকে কাছে টানতে চাই, আবার ভয়ও পাই।"

তখন বোঝা যায়, সমস্যাটা শুধু বর্তমান সম্পর্কের নয়। অনেক সময় এটি অসম্পূর্ণ শৈশবের, অপূর্ণ নিরাপত্তার, আর ভালোবাসা পাওয়ার সেই পুরোনো চাওয়ার গল্প।

তাই আমি সবসময় বলি—প্যারেন্টিং শুধু সন্তানের পড়াশোনা, খাবার বা ভালো স্কুল নিশ্চিত করার নাম নয়। একজন শিশু যেন এমন একটি ঘরে বড় হয়, যেখানে সে নিরাপদ বোধ করে, নিজের কথা বলতে পারে, ভুল করলে অপমানিত না হয়ে শেখার সুযোগ পায়, কান্না করলে তাকে দুর্বল বলা হয় না—সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ আজ আপনি যে পরিবেশ তৈরি করছেন, সেটাই হয়তো আগামী ২০ বছর পরে কারও আত্মবিশ্বাস, সম্পর্ক, কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যের ভিত্তি হয়ে দাঁড়াবে।

একটি নিরাপদ পরিবার শুধু একটি সুন্দর শৈশবই তৈরি করে না, একটি সুস্থ প্রজন্মও তৈরি করে।

-এস এম সালমান রশিদ শান্ত

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে কার দায়টা বেশি?সম্পর্ক, ভালোবাসা আর সংসারের সমীকরণটা আদতে অত্যন্ত জটিল। দুটি মানুষ যখন একটি...
03/07/2026

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে কার দায়টা বেশি?

সম্পর্ক, ভালোবাসা আর সংসারের সমীকরণটা আদতে অত্যন্ত জটিল। দুটি মানুষ যখন একটি বন্ধনে জড়ায়, তখন সেখানে মিশে থাকে আশা, স্বপ্ন আর অনেকগুলো না বলা প্রত্যাশা। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা হরহামেশাই দেখছি, সম্পর্কের স্থায়িত্ব যেন অনেকটা ফিকে হয়ে আসছে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কে চিড় ধরা, একপাক্ষিকভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া, কিংবা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি—সব মিলিয়ে সম্পর্কের বুনন আজ বেশ নাজুক।

কিন্তু আমরা কি কখনও ভেবে দেখি, কেন এমনটা হচ্ছে? তৃতীয় পক্ষ হিসেবে আমরা যখন অন্যের সম্পর্কের ভাঙন দেখি, তখন খুব সহজেই বিচারকের আসনে বসে পড়ি। আমাদের নিজস্ব আদর্শ বা ভালো-লাগার চশমা দিয়ে আমরা এক পক্ষকে অপরাধী আর অন্য পক্ষকে ভিকটিম বানিয়ে দিই। অথচ সম্পর্কের গভীরে জমে থাকা বিষাদ, বোঝাপড়ার অভাব, কিংবা কোন জায়গাটাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে, তা আমাদের অজানাই থেকে যায়।

আজ আমাদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সম্পর্কের সেই অন্ধকার দিকটি, যেখানে অনেক পুরুষ নীরবে হারিয়ে যান। পুরুষদের দায়ভার বা দোষ নিয়ে কথা বলাটা আমাদের সমাজে খুব সহজ। কিন্তু সেই অভিযোগের পেছনে থাকা পুরুষটির মানসিক অবস্থা, তার নীরবতার কারণ, কিংবা দায়িত্বের চাপে পিষ্ট হয়ে যাওয়ার গল্পগুলো কি আমরা শুনতে চাই?

আমাদের সমাজে পুরুষের সংজ্ঞা যেন বেঁধে দেওয়া হয়েছে 'প্রদানকারী' (Provider) হিসেবে। সংসার ভালো না চললে অভিযোগের আঙুলটা সবার আগে স্বামীর দিকেই ওঠে। কিন্তু এই অভিযোগগুলোর নেপথ্যে থাকা বৈপরীত্যগুলো কি আমরা খেয়াল করি?

পুরুষ যখন তার ক্যারিয়ারে সফল হতে পারেন না বা পর্যাপ্ত উপার্জন করতে পারেন না, তখন তাকে অযোগ্য বলতে সমাজ বা পরিবারের দ্বিতীয়বার ভাবতে হয় না। দিনের পর দিন অপমান, তুচ্ছতাচ্ছিল্য তাকে ভেতর থেকে নিঃস্ব করে দেয়। সম্পর্কের সেই পরম আশ্রয়স্থলই তখন তার জন্য হয়ে ওঠে রণক্ষেত্র।

ঠিক বিপরীত চিত্রটিও সমান সত্য। যখন পুরুষটি পরিবারের প্রতিটি চাহিদা পূরণ করতে দিনরাত পরিশ্রম করেন, ক্যারিয়ারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তখনই অভিযোগ ওঠে—"তুমি তো সময় দাও না।" পরিবারের স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে গিয়ে তিনি যে নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দিচ্ছেন, সেই মানসিক ক্লান্তিটুকু দেখার অবকাশ কি সত্যিই আমরা পাই?

পুরুষের আত্মত্যাগের সবচেয়ে করুণ রূপ দেখা যায় প্রবাসীদের জীবনে। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের দেশের মাটি, পরিবার, প্রিয়জনদের ছেড়ে বছরের পর বছর সুদূর কোনো দেশে একা সংগ্রাম করে যান একজন প্রবাসী। তার কাছে নিজের বলে আসলে কী থাকে?

দিনের শেষে তিনি একাকী, ক্লান্ত। দেশে ফেলে আসা সন্তান বড় হচ্ছে, স্ত্রী একাকীত্বে ভুগছেন, বাবা-মা বৃদ্ধ হচ্ছেন—এই দূরত্বটুকু কেবল ভৌগোলিক নয়, আবেগীয়ও বটে। প্রবাসীদের ক্ষেত্রে সম্পর্কের স্থায়িত্ব টিকিয়ে রাখা এক অগ্নিপরীক্ষার মতো। অনেক সময় দেখা যায়, পরিবারের সবার চাহিদা মেটাতে গিয়ে তিনি নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছেন। তার নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের খোঁজ রাখার মতো কেউ থাকে না। দিনশেষে যখন তিনি ফিরে আসেন, তখন হয়তো দেখেন—তার জীবনের দীর্ঘ সময়ের দূরত্ব আর কখনোই দূর হওয়ার নয়, কিংবা সে জায়গাটি অন্য কেউ দখল করে নিয়েছে।

একটি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনে কখনোই শুধু একজনের দায় থাকে না। সম্পর্কের রসায়নটি দুইজনেরই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় টিকে থাকে। পুরুষ মানেই যে শুধু যন্ত্রের মতো দায়িত্ব পালন করে যাবে, তার কোনো অনুভূতি থাকবে না—এই ধারণাটি ভাঙার সময় এসেছে।

পুরুষের নীরবতা মানেই তার সম্মতি বা সুখ নয়। তার অবসাদ, তার কাজের চাপ, তার বিসর্জনগুলোকেও আমাদের স্বীকার করতে হবে। যখন আমরা কাউকে 'দায়িত্বজ্ঞানহীন' বলি, তখন আমাদের মনে রাখা উচিত, কোনো পুরুষই শখ করে নিজের ঘরটা ভাঙতে চায় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে, তিনি তার সক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছে যাওয়ার পরই নিরুপায় হয়ে হাল ছেড়ে দেন।

সম্পর্ক কোনো প্রতিযোগিতার জায়গা নয়, এটি আশ্রয়ের জায়গা। একজন পুরুষের প্রতি যখন অবহেলার দেয়াল তোলা হয়, যখন তার অবদানের চেয়ে ব্যর্থতাকে বড় করে দেখা হয়, তখন সে ধীরে ধীরে নিজের খোলসের ভেতর ঢুকে পড়ে। সম্পর্কের ভাঙন রোধ করতে হলে একে অপরকে জাজ করা বন্ধ করতে হবে।

পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া, তার সীমাবদ্ধতাগুলোকে সহমর্মিতার সাথে দেখা এবং 'মানুষ' হিসেবে তার আবেগগুলোকে মূল্যায়ন করাটাই হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের চাবিকাঠি। আমাদের মনে রাখতে হবে—পুরুষও মানুষ, তারও ক্লান্ত হওয়ার অধিকার আছে, তারও ভালোবাসার অভাববোধ থাকে। সম্পর্কের ভাঙনে শুধু একজনকে দোষারোপ না করে, আসুন আমরা একে অপরের প্রতি আরেকটু সহনশীল হই।

-এস এম সালমান রশিদ শান্ত
সাইকোলজিস্ট | সফট স্কিল ট্রেইনার | পারসোনাল গ্রোথ কোচ

Address

C-36/3, Swaranika Abasik Elaka
Savar
1340

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Salman Rashid Shanto posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Salman Rashid Shanto:

Shortcuts

Share

Category