08/05/2026
✔World Asthma Day বা বিশ্ব অ্যাজমা দিবস প্রতি বছর মে মাসের প্রথম মঙ্গলবার পালিত হয়।
২০২৬ সালে এটি পালিত হয়েছে ৫ মে ২০২৬ তারিখে।
✔Asthma হলো শ্বাসনালির একটি দীর্ঘমেয়াদি (chronic) রোগ, যেখানে ফুসফুসের বায়ুনালি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে যায়। কোনো ট্রিগারের সংস্পর্শে এলে শ্বাসনালিতে প্রদাহ, ফোলা ও সংকোচন হয় এবং ভেতরে শ্লেষ্মা (mucus) বেড়ে যায়। ফলে বাতাস চলাচল কমে গিয়ে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
✔অ্যাজমা কেন হয়?
অ্যাজমার একক কোনো কারণ নেই। সাধারণত জিনগত প্রবণতা ও পরিবেশগত কারণ একসাথে কাজ করে।
✔সাধারণ কারণ ও ট্রিগার:
১.ধুলাবালি, মাইট, পরাগরেণু
২.ধোঁয়া ও বায়ুদূষণ
৩.ঠান্ডা আবহাওয়া
৪.সর্দি-কাশি বা ভাইরাল ইনফেকশন
৫.পোষা প্রাণীর লোম
৬.ফুলের গন্ধ, পারফিউম, স্প্রে
৭.ধূমপান বা পরোক্ষ ধূমপান
৮.অতিরিক্ত ব্যায়াম
৯.মানসিক চাপ
১০.কিছু ওষুধ (যেমন aspirin-sensitive asthma)
✔অ্যাজমা কখন বেশি বাড়ে?
১.রাতে ও ভোরে
২.শীতকালে
৩.ধুলাবালি পরিষ্কারের সময়
৪.ঠান্ডা পানি বা ঠান্ডা বাতাসে
৫.সর্দি লাগার পর
৬.ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশে
✔প্রধান লক্ষণ:
১.শ্বাসকষ্ট
২.বুকে চাপ লাগা
৩.কাশি (বিশেষ করে রাতে)
৪.শ্বাস নেওয়ার সময় বাঁশির মতো শব্দ (wheezing)
✔অ্যাজমা অ্যাটাক কী?
হঠাৎ শ্বাসনালি খুব বেশি সংকুচিত হলে তীব্র শ্বাসকষ্ট হয়, একে asthma attack বলে। এটি জরুরি অবস্থা হতে পারে।
✔বিপজ্জনক লক্ষণ:
১.কথা বলতে কষ্ট হওয়া
২.ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়া
৩.ইনহেলারেও আরাম না পাওয়া
৪.খুব দ্রুত শ্বাস নেওয়া
এসব হলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
✔রোগ নির্ণয়:
ডাক্তার সাধারণত—
১.রোগের ইতিহাস শোনেন
২.বুক পরীক্ষা করেন
৩.Spirometry পরীক্ষা করতে পারেন
✔চিকিৎসা:
অ্যাজমা পুরোপুরি সারানো না গেলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
১. রিলিভার ইনহেলার
হঠাৎ শ্বাসকষ্ট কমায়।
২. কন্ট্রোলার ইনহেলার
নিয়মিত ব্যবহার করলে প্রদাহ কমায় ও অ্যাটাক প্রতিরোধ করে।
৩. জীবনযাপন পরিবর্তন
-ধূমপান এড়ানো
-ঘর পরিষ্কার রাখা
-ধুলাবালি কমানো
-ঠান্ডা থেকে সাবধান থাকা
-নিয়মিত ফলো-আপ করা
✔শিশুদের অ্যাজমা
শিশুদের ক্ষেত্রে বারবার কাশি, খেলাধুলায় হাঁপিয়ে যাওয়া বা রাতে কাশি অ্যাজমার লক্ষণ হতে পারে।
✔অ্যাজমা কি সংক্রামক?
না, এটি ছোঁয়াচে রোগ নয়।
✔অ্যাজমা ও অ্যালার্জির সম্পর্ক
অনেকের অ্যাজমা অ্যালার্জির সাথে সম্পর্কিত। যাদের eczema বা allergic rhinitis আছে, তাদের অ্যাজমার ঝুঁকি বেশি হতে পারে।