18/07/2026
💔 ঘরের শত্রু নাকি অদৃশ্য কোনো যুদ্ধ? (একটি সুখী সংসারের ডায়েরি)
বাইরে থেকে দেখতে সব ঠিকঠাক। কত ভালোবাসার এক একটি ঘর, কত স্বপ্নের এক একটি সংসার! কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সেই চেনা মানুষটা অচেনা হয়ে যায়। যে হাসিমুখটা দেখার জন্য সারা দিন অপেক্ষা করা হতো, সেই মুখটা দেখলেই যেন বুকে আগুন জ্বলে ওঠে!
আমরা ভাবি এটা স্বাভাবিক রাগ, হয়তো ইগোর লড়াই। কিন্তু এর আড়ালে যে এক অদৃশ্য যুদ্ধ চলছে, তা কি আমরা টের পাই?
সহীহ মুসলিমের সেই গা শিউরে ওঠা হাদিসটি কি আপনার মনে আছে? ইবলিস শয়তান যখন প্রতিদিন তার চ্যালাদের কাছ থেকে কাজের হিসাব নেয়, তখন কেউ বলে—"আমি অমুককে দিয়ে চুরি করিয়েছি", কেউ বলে—"অমুককে দিয়ে মদ খাইয়েছি"। ইবলিস বলে, "এতে তেমন কিছুই হয়নি।" কিন্তু যখন কোনো চ্যালা এসে বুক ফুলিয়ে বলে—"আজ আমি একটা স্বামী-স্ত্রীর গভীর ভালোবাসার মাঝে দেয়াল তুলে দিয়েছি, তাদের বিচ্ছেদ ঘটিয়ে এসেছি!" তখন ইবলিস তাকে জড়িয়ে ধরে বলে—"হ্যাঁ, তুই-ই আসল কাজ করেছিস!"
রুকইয়াহ এবং জিন-জাদুর এই বাস্তব অধ্যায়টি একবার নিজের মনের আয়নায় মিলিয়ে দেখুন:
🕸️ প্রথম অধ্যায়: যখন ঘরের দরজায় কুদৃষ্টি পড়ে
ক্লান্ত এক বিকেল। স্বামী সারা দিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে ঘরে ফিরছে, আর স্ত্রীও সকাল থেকে সংসারের চার দেয়ালের মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে ক্লান্ত। ঠিক এই মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তির দুর্বল মুহূর্তটাতেই শয়তান তার বিষাক্ত তীর ছাড়ে, যাকে রুকইয়াহর ভাষায় বলা হয় 'ওয়াসওয়াসা' (কুমন্ত্রণা)।
স্বামীর কানে ফিসফিসানি: "দেখলে তো? সারা দিন রক্ত জল করে ঘরে ফিরলে, অথচ এক গ্লাস পানি দেওয়ারও খেয়াল নেই তার! তোমার এই ঘরে কোনো দাম নেই, কেউ তোমার কষ্ট বোঝে না।"
স্ত্রীর কানে ফিসফিসানি: "সারা দিন এই চার দেয়ালে তুমি খাঁচার পাখির মতো খাটছ। অথচ সে একবারও তোমার দিকে ভালোবেসে তাকাল না? তোমাকে তো সে স্ত্রী নয়, এ বাড়ির চাকরানি মনে করে!"
এবং জাদুর বিষাক্ত প্রভাবে চোখের পলকে বদলে যায় পুরো পরিবেশ...
স্বামী (তীব্র ও অস্বাভাবিক রাগে): "ঘরে যে কেউ একজন এসেছে, তা কি কেউ দেখছে না? এক গ্লাস পানিও দিতে পারো না?"
স্ত্রী (ভেতরের ক্ষত থেকে চিৎকার করে): "হ্যাঁ! আমি তো এ বাড়ির চাকরানি!"
সামান্য একটা পানির গ্লাস! অথচ জিনের ফুঁ দেওয়া সেই রাগের আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে গেল কতদিনের জমানো ভালোবাসা, মুহূর্তেই ঘরটা হয়ে গেল এক নরককুণ্ড।
👺শয়তানের অট্টহাসি ও 'সিহরুত তাফরিক'
ওদিকে শয়তানের আস্তানায় তখন উৎসব চলছে। চ্যালা শয়তান হাসতে হাসতে বলছে, "সর্দার! আজ একটা সুখী সংসারে আগুন লাগিয়ে দিয়ে এসেছি!"
ইবলিস অট্টহাসি দিয়ে বলছে—"সাবাশ! মানুষকে সবসময় বড় গুনাহে ফেলতে হয় না। স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র সম্পর্কের মাঝে শুধু একটু রাগ, ক্ষোভ আর ভুল বোঝাবুঝি ঢুকিয়ে দিলেই আমাদের মিশন সফল! ভেঙে যাক এক একটা ভালোবাসার ঘর!"
হ্যাঁ, রুকইয়াহর ময়দানে একেই বলে 'সিহরুত তাফরিক' বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর জাদু। এই জাদুর সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো—একে অপরের ভালো কথাকেও খারাপ মনে হওয়া, সামান্য কারণে রক্ত গরম হয়ে যাওয়া এবং চোখের সামনে সঙ্গীকে শত্রুর মতো দেখা।
💧 তৃতীয় অধ্যায়: ভাঙন নাকি আল্লাহর রহমত?
ঝগড়া শেষে যখন দুজনেরই বুকটা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, যখন ঘরের কোণে বসে একজন নীরবে চোখের জল ফেলে আর অন্যজন তীব্র শান্তিশূন্যতায় ভোগে, ঠিক তখন এক অদৃশ্য বিবেক আমাদের হৃদয়ে কড়া নাড়ে—
"একটা কথা বলো? তোমাদের এই রাগে কি আল্লাহ খুশি হয়েছেন?"
স্বামী-স্ত্রীর এই বন্ধন তো কেবল একটি চুক্তি নয়, এটা আল্লাহর দেওয়া এক অনন্য নেয়ামত, এক জান্নাতি সুকুন। শয়তান খুব ভালো করেই জানে, একটা পরিবার ভেঙে দেওয়া মানে একটা সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া। মনে রেখো—পৃথিবীর অধিকাংশ সংসার বড় কোনো দুর্যোগে বা অভাবে ভাঙেনা; ভাঙে শয়তানের ফুঁ দিয়ে বড় করা ছোট ছোট ভুল বোঝাবুঝিতে!
#আবু_মোহাম্মদ #রুকইয়াহ_শরইয়্যাহ #হাসাদ #আধ্যাত্মিক_চিকিৎসা #সতর্কতা #রুকইয়াহ #কবিরাজ #সচেতনতা #ইসলাম #ঈমান #ইসলামি_জ্ঞানের_আলো #সামাজিক_সচেতনতা #জিন