20/07/2026
২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ...
আমার কাছে আজও মনে হয়, আর্জেন্টিনা সেবার তাদের অন্যতম সেরা দল নিয়েই বিশ্বকাপে নেমেছিল। স্কোয়াডের গভীরতা, অভিজ্ঞতা, প্রতিভা—সবকিছু মিলিয়ে মনে হয়েছিল, যদি এবার না পারে, তাহলে হয়তো আর কখনোই পারবে না।
লিওনেল মেসির বয়স তখন ২৭। একজন ফুটবলারের জন্য এটাই সেরা সময়। কিন্তু সবাই জানে, একটি বিশ্বকাপ শেষ মানেই পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য আরও চার বছরের অপেক্ষা। আর চার বছর পর একজন খেলোয়াড়ের বয়স ৩০ পেরিয়ে যায়। সেই বয়সে একই পারফরম্যান্স ধরে রেখে আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা—এটা কোনো সাধারণ ব্যাপার নয়।
ফাইনালের সেই রাত...
জার্মানির বিপক্ষে ১–০ গোলে হার। অতিরিক্ত সময়ে মারিও গ্যোৎজের সেই গোল। ম্যাচ শেষে যখন মেসি বিশ্বকাপ ট্রফির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল—পৃথিবীর সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নটা যেন হাত বাড়িয়েও ছুঁতে পারল না। সেই দৃশ্যটা আজও অসংখ্য ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে কষ্টের স্মৃতি হয়ে আছে।
অনেকেই ভেবেছিল, এটাই হয়তো মেসির শেষ সুযোগ ছিল।
কিন্তু কিংবদন্তির গল্প কখনো এত সহজে শেষ হয় না।
এরপর এল দীর্ঘ অপেক্ষা, সমালোচনা, ব্যর্থতা, অসংখ্য হতাশা। অনেকেই বলেছিল, "মেসি হয়তো কখনো বিশ্বকাপ জিততে পারবে না।"
কিন্তু সত্যিকারের মহানরা হার মানতে শেখেন না।
আট বছর পর, কাতার ২০২২...
সেই মেসিই পুরো বিশ্বকে আবার নিজের জাদু দেখাল। একের পর এক অসাধারণ পারফরম্যান্স, অবিশ্বাস্য নেতৃত্ব আর অদম্য মানসিক শক্তিতে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করলেন। যে ট্রফির সামনে দাঁড়িয়ে একদিন চোখে ছিল অপূর্ণতার বেদনা, শেষ পর্যন্ত সেই ট্রফিই তিনি দুই হাতে তুলে ধরলেন। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সুন্দর পরিণতি এটাই।
আর তারপর...
৩৯ বছর বয়সেও দলকে আবার একটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে নিয়ে যাওয়া—এটাও যেন প্রমাণ করে দেয়, একজন খেলোয়াড়ের প্রভাব শুধু গোল বা অ্যাসিস্টে মাপা যায় না; মাপা যায় তার নেতৃত্বে, তার উপস্থিতিতে, তার বিশ্বাস জাগানোর ক্ষমতায়।
তাই আমার কাছে, ফুটবলের সর্বকালের সেরা কে—এই প্রশ্নের উত্তর অনেক আগেই লেখা হয়ে গেছে।
২০১৪ সালের সেই অশ্রু না থাকলে, হয়তো ২০২২ সালের হাসিটাও এত সুন্দর হতো না।
কিছু গল্পের শেষ ট্রফি দিয়ে নয়, ইতিহাস দিয়ে লেখা হয়।
আর লিওনেল মেসির গল্প—সেটা শুধু একজন ফুটবলারের গল্প নয়, এটা ধৈর্য, অধ্যবসায়, প্রত্যাবর্তন আর অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার গল্প।