26/08/2026
👉আমি একজন ডাক্তার ছিলাম। কিন্তু আমার ভুল হয়েছিল।
ডাক্তাররা বলেন যে ৫০ বছর বয়সের পর হাড়ের জোড়ের তরুণাস্থি (কার্টিলেজ) আর নতুন করে তৈরি হয় না।
তাহলে কীভাবে ২৭,০০০ মানুষের কার্টিলেজ আবার পুনর্গঠিত হলো?
তারা আলাদা কী করেছিলেন?
👉আমার নাম রহিমা বেগম। বয়স ৬৮ বছর। আমি চট্টগ্রামের একজন অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার।
৩৪ বছর ধরে স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করেছি। হাজার হাজার রোগী দেখেছি, হাজার হাজার প্রেসক্রিপশন লিখেছি।
আর ঠিক এই কারণেই এখন যা লিখতে যাচ্ছি, তা লেখা আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন।
👉৩৪ বছর ধরে আমি আমার রোগীদের ফার্মেসিতে পাঠাতাম।
তাদের প্রদাহনাশক (অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি) ওষুধ, ব্যথানাশক এবং বিভিন্ন মলম লিখে দিতাম।
মেডিকেল কলেজে আমাদের যা শেখানো হয়েছিল, রোগীদের আমি সেটাই বলতাম:
"কার্টিলেজ ক্ষয় হলে তা আর ফিরে আসে না। আমরা শুধু ক্ষয়ের গতিটা ধীর করতে পারি। ৫০ বছর বয়সের পর এটি খুবই স্বাভাবিক।"
আমি এতে বিশ্বাস করতাম।
নিজের চোখের সামনে আসা হাজার হাজার রোগীকে এ কথাই বলেছি।
তারপর একদিন আমি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়লাম।
সবকিছু শুরু হয়েছিল তিন বছর আগে।
প্রথমে ডান হাঁটুতে।
সকালে ঘুম থেকে উঠলে মনে হতো যেন সারা রাত ধরে আমার হাঁটুর ভেতরে সিমেন্ট ঢেলে জমিয়ে রাখা হয়েছে।
খাটের পাশে বসে অপেক্ষা করতাম।
১০ মিনিট... ১৫ মিনিট...
কেবল তারপরই আমি হাঁটুটা স্বাভাবিকভাবে ভাঁজ করতে পারতাম।
নিজেকে বলতাম, "এটাই হয়তো ভাগ্যের লিখন। বয়সের দোষ, অত ভাবার কিছু নেই।"
ছয় মাস পর আমার বাম হাঁটুতেও ব্যথা শুরু হলো।
এক বছর পর কোমর ও পাছার জোড়ে ব্যথা ছড়ালো।
দেড় বছর পর অবস্থা এমন দাঁড়ালো যে, সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় প্রতি তলায় না থেমে আমি এগোতেই পারতাম না।
সিঁড়ির রেলিং শক্ত করে ধরে রাখতাম। পাশ দিয়ে মানুষ হেঁটে যাওয়ার সময় আমি মাথা নিচু করে রাখতাম।
স্বীকার করতে লজ্জা লাগছে, কিন্তু আমি তখন কারও মুখের দিকে তাকানোর সাহস পেতাম না।
অথচ এই আমি সারা জীবন হেঁটে হেঁটে কর্মস্থলে গিয়েছি।
লিফট ব্যবহার করাকে অলসতা মনে করতাম।
পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা বিয়েবাড়িতে রাত জেগে আনন্দ করেছি।
💥এমআরআই (MRI) করালাম।
রেডিওলজিস্ট ছিলেন আমারই সাবেক সহকর্মী। বহু বছর আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসাথে কাজ করেছি।
রিপোর্ট হাতে দেওয়ার সময় তিনি আমার চোখের দিকে তাকাতে পারছিলেন না।
💥দুই হাঁটুতেই থার্ড-ডিগ্রি অস্টিওআর্থ্রাইটিস (হাড়ের সংযোগস্থলের ক্ষয়)।
কোমরের জোড় ক্ষয়ে গেছে।
মেরুদণ্ডে ক্ষয়ের প্রাথমিক লক্ষণ।
আমার অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ বন্ধু ডক্টর শফিক আমাকে সামনে বসালেন।
"রহিমা," তিনি বললেন।
"তুমি তো নিজেই জানো অবস্থা কতটা মারাত্মক।
ব্যথানাশক ওষুধ খেতে পারো, কিন্তু তোমার পাকস্থলী তো দীর্ঘদিন তা সহ্য করতে পারবে না।
ফিজিওথেরাপির চেষ্টা করতে পারো, তবে তা কেবল মূল সমস্যাকে কিছুদিন পিছিয়ে দেবে মাত্র।
অবস্থা আরও খারাপ হলে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি করতে হবে।"
"অনিবার্য।"
তিনি এই শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।
যেন আমার জন্য চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হয়ে গেছে।
চেম্বারের বাইরে এসে গাড়িতে বসলাম। ইঞ্জিন স্টার্ট না দিয়ে চুপচাপ বসে রইলাম।
বহু বছরের মধ্যে সেদিন আমি এতটা কেঁদেছিলাম।
কারণ জীবনে প্রথমবারের মতো আমি বুঝতে পেরেছিলাম, আমার রোগীরা আসলে কেমন অনুভব করতেন।
👉৩৪ বছর ধরে আমি মানুষকে একই কথা বলে এসেছি:
"এখন আর কিছুই করার নেই।"
আজ আমি নিজেই সেই নির্মম বাক্যের অন্য পাশে এসে দাঁড়িয়েছি।
বাড়ি ফিরলাম।
আমার স্বামী রফিক আমার মুখের দিকে তাকিয়েই সব বুঝে গেলেন, কিছুই জিজ্ঞেস করতে হলো না।
আমাদের ৪২ বছরের বৈবাহিক জীবন।
আমার কিছু বলার প্রয়োজনই ছিল না।
"শফিক কী বলল?" তিনি শুধু জিজ্ঞেস করলেন।
"যা আমি আগে থেকেই জানতাম," আমি বললাম।
"আর কিছুই করার নেই।"
রফিক কিছুই বললেন না।
শুধু আমার পাশে বসে শক্ত করে হাতটা চেপে ধরলেন।
কিন্তু তার চোখে আমি এমন কিছু দেখলাম যা বহু বছর দেখিনি:
ভয়।
💥সেদিন রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি।
তার নিঃশ্বাসের শব্দ শুনছিলাম আর ভাবছিলাম:
"নিজের পায়ে ভর দিয়ে বাথরুমেও যেতে পারব না—এমন দিন আসতে আর কতদিন বাকি?"
পরের কয়েক সপ্তাহে জানা-শোনার মধ্যে যা যা সম্ভব সবই চেষ্টা করলাম।
গ্লুকোসামিন।
কনড্রয়েটিন।
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ইনজেকশন।
চার মাসের মধ্যে প্রায় ১,৫০,০০০ টাকা খরচ করে ফেললাম।
যে টাকাটা আমরা নাতি-নাতনিদের জন্য জমিয়ে রেখেছিলাম।
কিন্তু কিছুই বদলালো না।
বরং অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হতে লাগল।
🥲এক রাতে আনুমানিক ২টার দিকে ব্যথার চোটে আবার ঘুম ভেঙে গেল।
হাঁটুতে রিনরিন করে তীব্র ব্যথা হচ্ছিল—যে ব্যথা মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়।
আমি রান্নাঘরে গেলাম।
ল্যাপটপটা চালু করলাম।
ঠিক কী খুঁজছিলাম আমি নিজেও জানতাম না। হয়তো শুধুই মনটা অন্যদিকে ঘোরাতে চেয়েছিলাম।
💥হঠাৎ একটি নিবন্ধে আমার চোখ আটকে গেল।
💥শিরোনামটি ছিল:💥
"মানুষ যখন বছরের পর বছর ওষুধ গিলে ধীরে ধীরে পঙ্গুত্বের দিকে এগিয়ে যায়, তখন কীভাবে একটি মাত্র পদ্ধতি পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ধারণাই বদলে দিল—সেই গল্প।"
প্রথমেই মনে হলো, এসব নিশ্চয়ই কোনো ভুয়া কথা।
চিকিৎসাজীবনে এমন বহু চটকদার প্রচারণা দেখেছি।
কিন্তু তাও পড়া চালিয়ে গেলাম।
হয়তো রাত দুটো বেজেছিল বলে আর হারানোর কিছু ছিল না, অথবা হতাশ হতে হতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।
লেখাটায় সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ছিল।
কোনো খালি স্লোগান বা ভূয়া প্রতিশ্রুতি ছিল না।
সেখানে সংখ্যা ছিল।
সারণী (Table) ছিল।
গ্রাফ (Graph) ছিল।
একজন ডাক্তারের পক্ষে যা বোঝা খুবই সহজ।
👉৯৩.৪% রোগী পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার ক্ষমতা ফিরে পেয়েছেন।
💥৯৮.৯% রোগীর ক্ষয়জনিত পরিবর্তন কমে গেছে বা পুরোপুরি দূর হয়েছে।
💥৯৯.৪% রোগীর তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ টিস্যু নতুন করে পুনর্গঠিত হয়েছে।
👉আমার ৩৪ বছরের ক্যারিয়ারে আমি এমন পরিসংখ্যান কখনো দেখিনি।
সকাল পর্যন্ত পড়াশোনা করলাম।
গবেষণাপত্র।
রিপোর্ট।
কার্যপদ্ধতি।
💥সেখানে ব্যাখ্যা করা ছিল, কীভাবে এই বিশেষ প্রাকৃতিক উপাদানটি কোষগুলোকে তাদের ভুলে যাওয়া সেই পুরোনো ক্ষমতা মনে করিয়ে দেয়:
কোষের বিভাজন।
পুনর্গঠন।
আর ক্ষয়ে যাওয়া অংশকে নতুন করে তৈরি করা।
সকালে লাল লাল চোখ নিয়ে রফিককে জিজ্ঞেস করলাম:
"তোমার কাছে যদি শেষ একটি সুযোগ থাকে, তুমি কি চেষ্টা করে দেখতে?
এমনকি যদি তুমি নাও জানতে যে এটি কাজ করবে কি না?"
রফিক আমার হাত দুটি চেপে ধরে বললেন:
"রহিমা, তোমাকে আমি ৪২ বছর ধরে চিনি।
তোমাকে কখনো এতটা দৃঢ়সংকল্প দেখিনি।
চেষ্টা করে দেখো।
সবচেয়ে খারাপ যা হতে পারে তা হলো—কাজ করবে না।
কিন্তু চেষ্টা না করলে সারা জীবন আফসোস থেকে যাবে।"
সেদিনই আমি অর্ডার করলাম।
তিন দিন পর পার্সেলটি ঘরে এলো।
কাঁপা কাঁপা হাতে বাক্সটি খুললাম। ব্যবহারের নির্দেশিকা পরপর তিনবার পড়লাম।
👉"প্রতিদিন ব্যবহার করুন। এর কার্যকর উপাদান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুতে পৌঁছায়।"
"ঠিক আছে," মনে মনে নিজেকে বললাম।
"দেখা যাক কী হয়।"
প্রথম সপ্তাহ?
সত্যি বলতে কি, প্রায় কিছুই হয়নি।
হয়তো ফুলা ভাবটা সামান্য একটু কমেছিল।
হয়তোবা...
তবে সম্ভবত আমি নিজে থেকেই তেমনটা বিশ্বাস করতে চাইছিলাম।
কিন্তু দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুর দিকে এক সকালে অলৌকিক ঘটনা ঘটল।
চোখ খুললাম এবং অভ্যাসমতো নিজেকে প্রস্তুত করলাম।
সেই প্রতিদিনের নিয়ম—খাটের পাশে ১৫ মিনিট বসে থাকার জন্য।
কিন্তু সেদিন যেন কিছু একটা আলাদা ছিল।
আমি সোজা দাঁড়িয়ে পড়লাম।
কোনো দ্বিধা ছাড়া।
কোনো ব্যথা অনুভব না করে।
আমি যেখানে ছিলাম সেখানেই এক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।
💥হাঁটু ভাঁজ করলাম।
কোনো ব্যথা নেই!
আবার ভাঁজ করলাম।
এখনো ব্যথা নেই!
"রফিক!" চিৎকার করে ডাকলাম।
"একটু এদিকে আসবে?"
তিনি একপ্রকার দৌড়ে এলেন।
"কী হয়েছে?"
"দেখো," আমি বললাম।
আর এক বছর পর প্রথমবারের মতো আমি হাঁটু গেড়ে নিচে বসলাম।
তার মুখের সেই এক্সপ্রেশন আমি সারা জীবনেও ভুলব না।
👉তিন সপ্তাহ পর আমি মেয়ে আলিয়ার বাসায় গেলাম।
সে ঢাকার ধানমন্ডির একটি পুরোনো চারতলা ভবনের চারতলায় থাকে।
ভবনের লিফট বেশিরভাগ সময়ই নষ্ট থাকে।
বিগত দুই মাস আমি ওর বাসায় যেতে পারিনি, কারণ সিঁড়ি দিয়ে ওঠার ক্ষমতা আমার ছিল না।
সেদিন আমি সিঁড়ি দিয়ে উঠলাম।
প্রথম তলা...
দ্বিতীয় তলা...
তৃতীয় তলা...
কোনো ব্যথা হলো না!
সিঁড়ির মাঝপথে দাঁড়িয়ে আমি কাঁদতে শুরু করলাম।
ক্লান্তির জন্য নয়,
আমি এইমাত্র কী করতে পেরেছি—তা উপলব্ধি করে।
দরজা খুলল আলিয়া।
👉"আম্মু? তুমি কাঁদছ? কী হয়েছে?"
"আমি সিঁড়ি বেয়ে উঠে এসেছি," আমি বললাম।
"একদম নিজের পায়ে।"
ছয় সপ্তাহ পর আমি আবার এমআরআই করালাম।
সেই একই রেডিওলজিস্ট রিপোর্টের ছবিগুলোর দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে রইলেন, মুখে কোনো কথা ছিল না।
তারপর আমার দিকে ফিরলেন।
"রহিমা আপা... আপনি কী করেছেন?"
💥নতুন রিপোর্টে থার্ড-ডিগ্রি অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কোনো চিহ্নই ছিল না!
সেখানে ফার্স্ট বা সেকেন্ড ডিগ্রির সামান্য ছাপ ছিল মাত্র।
হাড়ের ভেতরের খালি জায়গা বেড়ে গেছে।
কার্টিলেজ আবার ফিরে এসেছে!
আমার বন্ধু ডক্টর শফিককে ফোন করলাম।
"এসো এবং আমার পুরোনো আর নতুন রিপোর্টগুলো পাশাপাশি রেখে তুলনা করে দেখো," বললাম।
তিনি অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন।
👉"এটা অসম্ভব," শেষে বললেন।
"চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটা অসম্ভব।"
"আমি জানি," বললাম।
"৩৪ বছর ধরে আমিও রোগীদের এই একই কথা বুঝিয়ে এসেছি।"
আজ আমার বয়স ৬৮ বছর।
আমি প্রতিদিন ৫ কিলোমিটার হাঁটি।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে একটি বেঞ্চ আছে, যেখানে বসে আমি সাগর দেখি।
আগে আমি শুধু ছোটাছুটি করতাম।
এখন একটু থামি, আর নিজের প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য ওপরওয়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করি।
আবার সামাজিক সাংস্কৃতিক ক্লাসে যাওয়া শুরু করেছি—সপ্তাহে দু'দিন।
গত সপ্তাহে ছোট ভাইয়ের মেয়ের বিয়েতে গভীর রাত পর্যন্ত আনন্দ করে নাচ গান করেছি।
রফিক আমার দিকে তাকিয়ে শুধু একটি কথাই বললেন:
"আমি আমার পুরোনো রহিমাকে ফিরে পেয়েছি।
কয়েক বছর ধরে মনে হচ্ছিল আমি তোমাকে ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছি।
এখন তুমি আবার আগের মতোই হয়ে গেছ।"
আমি আজ এগুলো লিখছি, কারণ এই গল্পটি শুধু আমার একার গল্প নয়।
আমার প্রতিবেশী ফাতেমা বেগমের বয়স ৭৪ বছর।
দুই বছর ধরে তিনি হাত প্রায় ব্যবহারই করতে পারতেন না।
হাতে সেলাই বা কুরুশকাটের কাজ করা তো দূরের কথা।
দুই মাস পর তিনি আমাকে নিজ হাতে সেলাই করা একটি টেবিল ক্লথ এনে দিলেন।
💥"এটা আমি নিজে বানিয়েছি," তিনি বললেন।
"আমার আঙুলগুলো আবার কাজ করছে।"
আমার অপর প্রতিবেশী হাসান সাহেবের বয়স ৭১ বছর।
তিনি ওয়াকার (Walker) ব্যবহার করতেন।
তিন মাস পর তাকে কাঁচাবাজারে একা হেঁটে কেনাকাটা করতে দেখলাম।
কোনো লাঠি ছিল না।
কোনো ওয়াকার ছিল না।
👉"জীবনে প্রথমবারের মতো আমি একা বাজারে আসতে পেরেছি," তিনি হাসিমুখে বললেন।
💥৩৪ বছর ধরে আমি ডাক্তারি করেছি।
ভেবেছিলাম জোড়ের ব্যথা ও হাড় ক্ষয় রোগ সম্পর্কে আমি সব জানি।
👉কিন্তু আমার ভুল হয়েছিল।
আমি বলছি না চিকিৎসা বিজ্ঞান ভুল করে,
আমি বলছি চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে।
💥গতকাল যা অসম্ভব ছিল, আজ তা সম্ভব হচ্ছে।
এই বিশেষ মেথডটিতে ৩৬টি দুর্লভ ভেষজ এক্সট্র্যাক্ট বা নির্যাস রয়েছে।
নির্দিষ্ট অনুপাতে তৈরি এই সক্রিয় উপাদানগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুতে গিয়ে কাজ করে।
এটি পাকস্থলীতে কোনো ক্ষতি করে না।
লিভারকে ক্লান্ত করে না।
এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
এটি কোনো যাদু নয়।
এটি কোনো অলৌকিক ঘটনাও নয়।
এটি বিজ্ঞানের নতুন অগ্রগতি।
আর এর ফলাফলই প্রমাণ দেয়।
বাংলাদেশে ২৭,০০০ মানুষ।
রক্তমাংসের আসল মানুষ, আসল ফলাফল।
যে মানুষগুলো বছরের পর বছর রাতে ব্যথায় কেঁদেছেন,
যাঁরা হাঁটার ভয়ে ঘর থেকে বের হতেন না,
যাঁরা নিজেদের জীবন আবার ফিরে পেয়েছেন।
আপনার বয়সও যদি ৫০ বছরের বেশি হয়ে থাকে এবং আপনি যদি জোড়ের ব্যথায় ভুগে থাকেন...
তবে আমি আপনার কষ্ট খুব ভালো করেই বুঝি।
কারণ আমিও একসময় ঠিক ওই পরিস্থিতিতেই ছিলাম।
সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে রাত পার করার কষ্ট আমি জানি।
সিঁড়িতে সবার পেছনে পড়ে থাকার লজ্জা আমি বুঝি।
পরিবারের ওপর বোঝা হয়ে যাওয়ার ভয়টাও আমার চেনা।
আমিও ভাবতাম জীবন হয়তো এভাবেই কেটে যাবে।
কিন্তু সত্যিটা তা নয়!
আমি বলছি না যে আপনি ডাক্তারদের পরামর্শ শুনবেন না।
আমি নিজেও একজন ডাক্তার।
তবে "আর কিছুই করার নেই"—এই একটি বাক্যকে জীবনের শেষ কথা হিসেবে মেনে নেবেন না।
অনুসন্ধান করুন।
জানতে চান।
চেষ্টা করে দেখুন।
💥💥কারণ কখনো কখনো উত্তর ঠিক সেই মুহূর্তে আসে যখন আমরা আশা ছেড়ে দিই।
রাত দুটোয়...
রান্নাঘরে বসে...
ঠিক যখন মনে হয় সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
আমার স্বামী মাঝে মাঝে আমাকে জিজ্ঞেস করেন:
"এসবের কথা আগে জানতে পারোনি বলে কি তোমার খারাপ লাগে?"
না,
আমার নিজের জন্য খারাপ লাগে না।
আমার শুধু সেই রোগীদের জন্য খারাপ লাগে, যারা বছরের পর বছর ধরে আশার আলো পাওয়ার জন্য আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতেন।
আর আমি তাদের শুধু এটুকুই বলতাম—"আর কিছুই করার নেই।"
অতীতকে আমি বদলাতে পারব না।
তবে এখনো যদি এমন কেউ থাকেন যাকে আমি সাহায্য করতে পারি, তার জন্য আমি মুখ খুলবই।
এই গল্পের মধ্যে যদি আপনি নিজেকে খুঁজে পান...
যদি এই তীব্র ব্যথার অনুভূতি আপনার চেনা হয়...
আর আপনি যদি ভেবে থাকেন যে বাকি জীবন এভাবেই কাটাতে হবে...
তবে দয়া করে নিজেকে আরও একটি সুযোগ দিন।
নিচের নিবন্ধটি পড়ুন।
সেখানে সবকিছু বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা আছে।
"অনিবার্য পরিণতি"-র জন্য অপেক্ষা করার নাম জীবন হতে পারে না।
আমি ৬৮ বছর বয়সে এসে এই সত্যটি শিখেছি।
প্রায় বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছিল!
কিন্তু আপনার এতোটা অপেক্ষা করার প্রয়োজন নাই ।
Collected :