15/01/2026
#শীতকালে_বাচ্চাদের
ঠান্ডা-কাশির সাথে অন্য যে রোগের প্রাদুর্ভাব সবথেকে বেশি দেখা যায় সেটা হলো ডায়রিয়া।
শীতকালে অধিকাংশ ডায়রিয়াই শুরু হয় পেট ব্যথা ও বমি দিয়ে। গুরুত্ব না দিলে এই ডায়রিয়া'গুলো ক্ষেত্র বিশেষে এতোটাই সিরিয়াস হয় যে, বাচ্চাদের হাসপাতালে ভর্তি করানোও লাগে। তাই, শীতকালে বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের দিকে একটু বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। তাই, বাচ্চাদের বমি হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।
প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে যা করা যেতে পারে!
✅৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের জন্য বুকের দুধ চলমান থাকবে। যেসব বাচ্চা বুকের দুধ পায় না ও ফর্মুলা দুধ খায় তাদের জন্য রেগুলার ফর্মুলা দুধ বন্ধ থাকবে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বল্প মেয়াদে ডায়রিয়ার জন্য এভেইলেবল স্পেশাল ফর্মুলা দুধ খেতে পারবে। এন্টিবায়োটিক বা ওষুধ খুব একটা প্রয়োজন হয় না।
✅৬ মাসের বেশি বয়সী বাচ্চাদের জন্য বুকের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবার খাবে। এক্ষেত্রে সহজপাচ্য বা নরম খাবার দিতে বলি আমরা। বুকের দুধ ব্যতীত সকল ধরনের দুধ ও দুধ জাতীয় খাবার বন্ধ থাকবে। প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর বাচ্চার ওজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ডোজে ওরস্যালাইন খাবে। এছাড়া ঘন ঘন তরল জাতীয় খাবার খাবে যাতে বাচ্চার শরীরে কোনোভাবে পানিশূন্যতা না হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অল্প কিছু এন্টি-ডায়রিয়াল ওষুধ খেতে পারবে তবে এসব ডায়রিয়ার জন্য #এন্টিবায়োটিক খাওয়ার কোনো প্রয়োজন খুব একটা নেই।
🔔বাচ্চাকে কখন হাসপাতালে নিতে হবে..
১. পায়খানার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে যদি প্রস্রাবের পরিমাণ খুবই কমে যায়।
২. বাচ্চার মুখের লালা যদি কমে যায়।
৩. বাচ্চা যদি খাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
৪. বাচ্চা দুর্বল বা নেতিয়ে যায়।
এই লক্ষণ'গুলো প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে বাচ্চাকে হাসপাতালে নিতে হবে।
💊মনে রাখবেন, ডায়রিয়া রোগ ম্যানেজমেন্টের প্রথম লক্ষ্য শরীরে লবণ-পানির শূন্যতা রোধ করা। তাই, ওরস্যালাইন'ই ডায়রিয়ার একমাত্র মহৌষধ।
ডা. তন্ময় কর্মকার
নবজাতক ও শিশুরোগের চিকিৎসক ও জেনারেল ফিজিশিয়ান।