সেবা সেন্টার

সেবা সেন্টার স্বাস্থ্য সেবা সহ সকল ধরনের সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

বাচ্চাদের হ্যান্ড ফুট মাউথ ডিজিজ আবারো বাড়ছে। এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ। ছোয়াছে হওয়ায় এক বাচ্চা থেকে অন্য বাচ্চার মাঝে ছড়...
01/09/2026

বাচ্চাদের হ্যান্ড ফুট মাউথ ডিজিজ আবারো বাড়ছে। এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ। ছোয়াছে হওয়ায় এক বাচ্চা থেকে অন্য বাচ্চার মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে।

বাচ্চার জ্বরের সঙ্গে কাশি থাকলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ খেয়াল করুন।বাচ্চা স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত শ্বাস নিচ্ছে কি না (F...
29/08/2026

বাচ্চার জ্বরের সঙ্গে কাশি থাকলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ খেয়াল করুন।
বাচ্চা স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত শ্বাস নিচ্ছে কি না (Fast Breathing) লক্ষ্য করুন। শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের নিচের অংশ ভেতরের দিকে দেবে যাচ্ছে কি না (Chest Indrawing) সেটিও খেয়াল করুন।
এছাড়া বাচ্চা যদি বুকের দুধ ঠিকমতো টেনে খেতে না পারে, বারবার বমি করে, খুব দুর্বল বা অস্বাভাবিকভাবে নিস্তেজ হয়ে যায়,তাহলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না।
এ ধরনের কোনো বিপদসংকেত (Danger Sign) দেখা দিলে ঘরে বসে অপেক্ষা না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।
মনে রাখবেন, প্রতিটি অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয় না। আবার কিছু জরুরি পরিস্থিতিতে ঘরে বসে থাকা বা দেরি করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই সচেতনতার পরিচয়।
আপনার একটু সচেতনতাই শিশুর জীবন রক্ষা করতে পারে।

🩺 মাইক্রোবায়োলজিস্ট | স্বাস্থ্য পরামর্শদাতা | ডিপ্লোমা চিকিৎসক
মোঃ পলাশ মিয়া
ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ)
বিএম&ডিসি রেজি. নং: D-26387
চিকিৎসা সেবা:
মেডিসিন • চর্মরোগ • মা ও শিশু স্বাস্থ্য

🩺 ACNE নাকি MALASSEZIA FOLLICULITIS?দেখতে একই রকম হলেও চিকিৎসা কিন্তু এক নয়!মুখে ছোট ছোট দানা, লালচে ভাব বা চুলকানি হলে ...
29/08/2026

🩺 ACNE নাকি MALASSEZIA FOLLICULITIS?
দেখতে একই রকম হলেও চিকিৎসা কিন্তু এক নয়!

মুখে ছোট ছোট দানা, লালচে ভাব বা চুলকানি হলে অনেকেই সেটাকে সাধারণ Acne (ব্রণ) মনে করে বিভিন্ন ক্রিম বা ওষুধ ব্যবহার শুরু করেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এটি হতে পারে Malassezia Folliculitis, যাকে অনেকে “Fungal Acne” নামেও চেনেন।

🔎 কিছু সাধারণ পার্থক্য:

🔹 Acne
• Blackhead/Whitehead থাকতে পারে
• বিভিন্ন আকৃতির ব্রণ হতে পারে
• পুঁজযুক্ত ব্রণ ও প্রদাহ দেখা যেতে পারে

🔹 Malassezia Folliculitis
• ছোট ছোট প্রায় একই ধরনের দানা
• চুলকানি তুলনামূলক বেশি হতে পারে
• কপাল, বুক ও পিঠে দেখা যেতে পারে
• অতিরিক্ত ঘাম ও গরমে সমস্যা বাড়তে পারে

⚠️ ভুল রোগ নির্ণয় হলে ভুল চিকিৎসায় সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

👉 তাই ত্বকে ব্রণের মতো দানা দেখা দিলে নিজে থেকে দীর্ঘদিন ওষুধ/ক্রিম ব্যবহার না করে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পরামর্শ নিন।

আপনার ত্বকের সমস্যা—সঠিক কারণ জানা হোক, তারপর চিকিৎসা। 🌿

🩺 মাইক্রোবায়োলজিস্ট | স্বাস্থ্য পরামর্শদাতা ও ডিপ্লোমা চিকিৎসক
মোঃ পলাশ মিয়া
ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ)
বিএম&ডিসি রেজি. নং: D-26387
চিকিৎসা সেবা:
মেডিসিন • চর্মরোগ • মা ও শিশু স্বাস্থ্য

হার্পিস জোস্টার ভাইরাসকে(HZV)  শুধু “চর্মরোগ” মনে করে অবহেলা করবেন না। এটি ত্বকের পাশাপাশি স্নায়ুকেও আক্রান্ত করতে পারে।...
28/08/2026

হার্পিস জোস্টার ভাইরাসকে(HZV) শুধু “চর্মরোগ” মনে করে অবহেলা করবেন না। এটি ত্বকের পাশাপাশি স্নায়ুকেও আক্রান্ত করতে পারে।
কখনও ফুসকুড়ি শুকিয়ে যাওয়ার পরও দীর্ঘদিন স্নায়ুর ব্যথা থেকে যেতে পারে। একে Postherpetic neuralgia(P.H.N) বলা হয়।

🩺 মাইক্রোবায়োলজিস্ট | স্বাস্থ্য পরামর্শদাতা ও ডিপ্লোমা চিকিৎসক
মোঃ পলাশ মিয়া
ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ)
বিএম&ডিসি রেজি. নং: D-26387
চিকিৎসা সেবা:
মেডিসিন • চর্মরোগ • মা ও শিশু স্বাস্থ্য

শিশুদের ঘাড়ের লিম্ফ নোডে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়ে পুঁজ জমলে তাকে Suppurative Cervical Lymphadenitis বলা হয়। এতে সাধারণত ...
28/08/2026

শিশুদের ঘাড়ের লিম্ফ নোডে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়ে পুঁজ জমলে তাকে Suppurative Cervical Lymphadenitis বলা হয়। এতে সাধারণত ঘাড়ের এক পাশে দ্রুত বড় হওয়া ফোলা, লালচে ভাব, স্পর্শে ব্যথা এবং জ্বর থাকতে পারে। এর প্রধান জীবাণুগুলোর মধ্যে রয়েছে Staphylococcus aureus এবং Streptococcus pyogenes।

অনেক সময় ফোলাটি ধীরে ধীরে নরম হয়ে পুঁজ জমার দিকে যেতে পারে। এমন অবস্থায় নিজেরা গুটি চেপে পুঁজ বের করার চেষ্টা করা একেবারেই উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। পরিস্থিতি অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক এবং পুঁজ বেশি জমে গেলে ছোট সার্জিক্যাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুঁজ বের করার প্রয়োজন হতে পারে।

শিশুর ঘাড়ে এমন ফোলা দেখা দিলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভালোভাবে সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।

🩺 মাইক্রোবায়োলজিস্ট, স্বাস্থ্য পরামর্শদাতা ও ডিপ্লোমা চিকিৎসক
মোঃ পলাশ মিয়া
ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ)
বিএম&ডিসি রেজি. নং: D-26387
চিকিৎসা সেবা:
মেডিসিন • চর্মরোগ • মা ও শিশু স্বাস্থ্য

কানের পাশে বা সামনে জন্মগতভাবে ছোট ছিদ্র থাকা অবস্থাকে প্রি-ওরিকুলার সাইনাস (Preauricular Sinus) বলা হয়।কারণ ও লক্ষণজন্ম...
27/08/2026

কানের পাশে বা সামনে জন্মগতভাবে ছোট ছিদ্র থাকা অবস্থাকে প্রি-ওরিকুলার সাইনাস (Preauricular Sinus) বলা হয়।

কারণ ও লক্ষণ
জন্মগত ত্রুটি: মায়ের গর্ভে ভ্রূণ গঠনের সময় কানের ঠিকমতো বিকাশ না হলে এটি দেখা দেয়।
ক্ষতিকর নয়: সাধারণত এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং কোনো বড় সমস্যা তৈরি করে না।

সংক্রমণ: ছিদ্রটির ভেতর থেকে মাঝে মাঝে সাদা বা দুর্গন্ধযুক্ত তরল বের হতে পারে। লালচে ভাব, ফুলে যাওয়া বা ব্যথা হলে বুঝবেন সেখানে সংক্রমণ বা ইনফেকশন হয়েছে।

করণীয় ও চিকিৎসা

বিনা চিকিৎসায় ভালো থাকা: কোনো সমস্যা না থাকলে এটি নিয়ে চিন্তার কিছু নেই এবং চিকিৎসারও প্রয়োজন হয় না।

হাত দেবেন না: ছিদ্রটিতে বারবার হাত দেওয়া বা খোঁচাখুঁচি করা থেকে বিরত থাকুন।

ইনফেকশন হলে: ব্যথা, পুঁজ বা ফুলোভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে। বারবার সংক্রমণ হলে চিকিৎসকরা অনেক সময় অপারেশন করে এটি পুরোপুরি অপসারণ করার পরামর্শ দেন।

মাইক্রোবায়োলজিস্ট, স্বাস্থ্য পরামর্শদাতা ও
ডিপ্লোমা চিকিৎসক
মোঃ পলাশ মিয়া
ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি
BM&DC:Reg. D-26387

প্রশান্তি 💗
26/08/2026

প্রশান্তি 💗

Osteoarthritis (অস্টিওআর্থ্রাইটিস) হলো একটি সাধারণ জয়েন্টের ক্ষয়জনিত রোগ, যেখানে হাড়ের প্রান্তে থাকা কার্টিলেজ ধীরে ধীরে...
24/08/2026

Osteoarthritis (অস্টিওআর্থ্রাইটিস) হলো একটি সাধারণ জয়েন্টের ক্ষয়জনিত রোগ, যেখানে হাড়ের প্রান্তে থাকা কার্টিলেজ ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে যায়। ফলে জয়েন্টে ব্যথা, শক্ত হয়ে যাওয়া ও নড়াচড়ায় সমস্যা হতে পারে।

🦴 প্রধান লক্ষণ

জয়েন্টে ব্যথা—বিশেষ করে হাঁটা বা কাজ করার সময়

জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া

নড়াচড়ার পরিসর কমে যাওয়া

জয়েন্টে ফোলা বা চাপ দিলে ব্যথা

নড়াচড়ার সময় কড়কড়/ঘষাঘষির শব্দ

হাঁটু, কোমর, হাতের আঙুল বা মেরুদণ্ডে বেশি দেখা যায়

⚠️ কার ঝুঁকি বেশি?

বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া অতিরিক্ত ওজন, পুরোনো জয়েন্টের আঘাত, জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং কিছু বংশগত কারণও ভূমিকা রাখতে পারে।

💊 চিকিৎসা

সম্পূর্ণভাবে কার্টিলেজ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। তবে ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত উপযুক্ত ব্যায়াম/ফিজিওথেরাপি, ব্যথা নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা এবং প্রয়োজন হলে ইনজেকশন বা সার্জারি দিয়ে উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সহজভাবে: Osteoarthritis = জয়েন্টের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়, যার ফলে ব্যথা ও শক্তভাব তৈরি হয়।

মাইক্রোবায়োলজিস্ট, স্বাস্থ্য পরামর্শদাতা ও ডিপ্লোমা চিকিৎসক
মোঃ পলাশ মিয়া
ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি.

বাচ্চাটার বয়স মাত্র নয় মাস। জ্বর সর্দি কাশি এবং ডায়রিয়া এ সমস্যাগুলো একসাথে হয়েছিল। বাচ্চাটাকে নেওয়া হয়েছিল গ্রাম...
24/08/2026

বাচ্চাটার বয়স মাত্র নয় মাস। জ্বর সর্দি কাশি এবং ডায়রিয়া এ সমস্যাগুলো একসাথে হয়েছিল।
বাচ্চাটাকে নেওয়া হয়েছিল গ্রামের একজন কবিরাজ টাইপের মানুষের কাছে। ওখানে বাচ্চাকে কি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে শুনবেন?

ওখানে বাচ্চাটাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে র*ড গ*রম করে আমি আবার বলছি লো*হার র*ড গ*রম করে বাচ্চাটাকে ছ্যা*কা দেওয়া হয়েছে পেট, পিঠ এবং কপালের উপরে।

আমি আর আপনি প্রাপ্ত বয়স্ক। একটা গরম র*ডের ছ্যা*কা আমি আর আপনি নিতে পারবো?
সেই জায়গায় এই ন*য় মাসের বাচ্চাকে কি অস*হনীয় যন্ত্র*ণা দেওয়া হয়েছে একবার চিন্তা করুন?
আমার মনে হয় এখানে প্রায় 200 উপরে রডের ছ্যাকা।

#দায়বদ্ধতা #শিশুস্বাস্থ্য #সচেতনতা #বাচ্চা #পরামর্শ #শিশু #হারানো #শিশুকে

বয়স মাত্র ২৩। একটা পাবলিক ভার্সিটির শিক্ষার্থী। ক্লাস, এসাইনমেন্ট, টিউশনি, আড্ডা; বয়সের আর দশটা মেয়ের মতোই ব্যস্ত জীব...
24/08/2026

বয়স মাত্র ২৩। একটা পাবলিক ভার্সিটির শিক্ষার্থী। ক্লাস, এসাইনমেন্ট, টিউশনি, আড্ডা; বয়সের আর দশটা মেয়ের মতোই ব্যস্ত জীবন।

সমস্যার শুরুটা অনেক আগে, প্রায় তিন-চার বছর আগে। মাসিকের সময় তলপেটে এমন তীব্র ব্যথা হতো যে বিছানা থেকে উঠতে পারতো না। তখন এক বান্ধবীর পরামর্শে ফার্মেসি থেকে কিনে আনলো একটা ট্যাবলেট "কিটোরোলাক"। খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই যেন জাদুর মতো কাজ করে। ব্যথা একদম উধাও হয়ে যায়।

সেই থেকে এটাই হয়ে গেলো তার ব্যথার সময়ের সঙ্গী। মাসিকের ব্যথা, মাথাব্যথা, রাত জেগে পড়ার পর ঘাড় কোমরের ব্যথা, যেকোনো ব্যথাতেই এই একটা ট্যাবলেট। ফার্মেসি থেকেই সহজে পাওয়া যেতো। মাসে তিন-চারবার, কখনো তার চেয়েও বেশি।

শুরুর দিকে কিছুই টের পায়নি। মাঝেমধ্যে পেটে একটু জ্বালাপোড়া হতো, ভাবতো গ্যাসের সমস্যা, একটা গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ বা অ্যান্টাসিড খেয়ে নিতো। এভাবেই কেটে গেলো তিন-চারটা বছর।

কিন্তু একদিন হুট করেই সব ওলটপালট হয়ে গেলো।

টানা দুই দিন বমি হচ্ছিল, কিছুতেই থামছিলো না। সাথে বুকে-পেটে অসহ্য জ্বালাপোড়া, শরীর একদম নেতিয়ে পড়েছিলো। দেরি না করে তার রুমমেট তাকে নিয়ে গেলো হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে।

ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন খুঁটিনাটি প্রশ্ন। কবে থেকে সমস্যা, আগে থেকে কোনো ওষুধ খান কিনা। নাদিয়া প্রথমে একটু এড়িয়ে গেলো "মাঝেমধ্যে ব্যথার ওষুধ খাই, তেমন কিছু না।" ঠিক কতদিন ধরে, কতবার, কোন ওষুধ, এসব নিয়ে খোলাসা করে বলেনি প্রথমে। কারণ ওর মাথায়ই আসেনি যে এই "সাধারণ" ট্যাবলেটটার সাথে আজকের এই অবস্থার কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে।

কিন্তু ডাক্তার যখন নাছোড়বান্দার মতো প্রশ্ন করে গেলেন "ঠিক কোন ওষুধ? দিনে কয়বার? এভাবে কতদিন ধরে চলছে?" তখন আস্তে আস্তে পুরো ছবিটা ক্লিয়ার হলো।
বিগত তিন-চার বছর ধরে প্রায় নিয়মিতই কিটোরোলাক খেয়ে যাচ্ছেন নাদিয়া, কোনো ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই।

রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়লো। সিরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা স্বাভাবিকের অনেক গুণ বেশি। কিডনি ইতিমধ্যেই অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত। সাথে শ্বাসকষ্টও দেখা দিয়েছিলো দীর্ঘদিনের রক্তক্ষরণজনিত রক্তশূন্যতা আর কিডনি বিকল হয়ে শরীরে অ্যাসিড জমে যাওয়ার কারণে।

আসলে কী ঘটেছিলো নাদিয়ার শরীরে?

কিটোরোলাকের মতো ব্যথার ওষুধ (NSAID গ্রুপের) শরীরে প্রোস্টাগ্লান্ডিন নামের একটা কেমিক্যাল কমিয়ে দেয়, যেটা আসলে কিডনিতে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল বজায় রাখতে আর পাকস্থলীর ভেতরের লেয়ারকে অ্যাসিড থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

একবার খেলে তেমন সমস্যা হয় না। কিন্তু ঘন ঘন খেলে কিডনির রক্তপ্রবাহ কমতে কমতে কিডনি বিকল হতে শুরু করে, আর পাকস্থলীর দেয়ালে ঘা তৈরি হয়ে সেই ঘা থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয় — যেটা থেকেই আসলে এই বমি আর জ্বালাপোড়া।

কিটোরোলাক মূলত অপারেশন পরবর্তী তীব্র ব্যথার জন্য অল্প কয়েকদিনের (সর্বোচ্চ ৫ দিন) ব্যবহারের ওষুধ হিসেবে ডাক্তাররা ব্যবহার করেন। নিয়মিত মাসিকের ব্যথা বা মাথাব্যথার জন্য বছরের পর বছর ব্যবহার করার ওষুধ এটা না।

মেয়েটাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা শুরু হলো। কয়েক সপ্তাহের চিকিৎসার পর কিডনির অবস্থা কিছুটা উন্নতি হলো, কিন্তু ডাক্তার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন যতটুকু ক্ষতি হয়ে গেছে, তার পুরোটা হয়তো আর কখনো আগের মতো হবে না। বাকি জীবন নিয়মিত কিডনির পরীক্ষা করিয়ে যেতে হবে তাকে।

এই গল্প থেকে আমাদের কিছু জিনিস শেখার আছে

ব্যথা হলেই সহ্য না করে ওষুধ খেয়ে ফেলাটা স্বাভাবিক মনে হয়, কিন্তু বারবার একই ব্যথানাশক খাওয়া মানে শুধু ব্যথাটাই কমালেন, আসলে এই ব্যথার পেছনের কারণ কি, শরীরে কি সমস্যা হচ্ছে সেই সমস্যাটাকে আড়াল করে রাখা, সমাধান করা না।

কিটোরোলাকের মতো শক্তিশালী ব্যথার ওষুধ স্বল্প সময়ের জন্য নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দেওয়া হয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বারবার নিজে থেকে খাওয়া উচিত না।

মাসিকের সময় নিয়মিত তীব্র ব্যথা হওয়াটাকে "স্বাভাবিক" ধরে নিয়ে চেপে না গিয়ে, এর পেছনের আসল কারণ জানতে গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডাক্তারের কাছে নিজের ওষুধ খাওয়ার সত্যি কথা লুকানো নিজের জন্যই বিপজ্জনক। এতে সঠিক রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়ে যায়, ঠিক যেমনটা মেয়েটার ক্ষেত্রে প্রায় হয়েই যাচ্ছিলো।

পেটে দীর্ঘদিনের জ্বালাপোড়া, কালচে পায়খানা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা প্রস্রাব কমে যাওয়া এসব লক্ষণ ভুলেও উপেক্ষা না করে দ্রুত ডাক্তার দেখানো উচিত।

আপনার পরিচিত কারো মধ্যে যদি "ব্যথা হলেই ব্যথার ঔষুধ খাই" এই অভ্যাসটা থাকে, তাকে সাবধান করুন। যে হারে আমাদের দেশে কিডনী রোগী বাড়ছে তাতে ঘরে ঘরে এসব নিয়ে সচেতনতা ছাড়া আর উপায় নেই। আপনার একটা ছোট নলেজ হয়ত কারো কিডনি বাঁচিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে নিজের এলাকার পরিচিত ফার্মেসি দোকানদারদের সচেতন করুন যেন কারো কাছে প্রেস্ক্রিপশন ছাড়া এবং দীর্ঘমেয়াদে এসব ঔষধ বিক্রি না করেন।

সবাই সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।

মাইক্রোবায়োলজিস্ট, স্বাস্থ্য পরামর্শদাতা ও ডিপ্লোমা চিকিৎসক
মোঃ পলাশ মিয়া
ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি.

Address

Uttarati

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সেবা সেন্টার posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share