16/07/2026
🚩 পুরীর বহু দূরে বাংলার এক জনপদে কীভাবে শুরু হয়েছিল শতাব্দীপ্রাচীন এক রথযাত্রা?
আজকের ব্যস্ত শ্রীরামপুরের মাহেশ। রথযাত্রার সময় এখানে মানুষের ঢল নামে, মেলা বসে, আর অসংখ্য হাত একসঙ্গে টেনে নিয়ে যায় বিশাল রথ। কিন্তু এই উৎসবের শিকড় খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হয় কয়েকশো বছর আগের বাংলায়।
প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, এই রথযাত্রার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী নামে এক সাধকের নাম।
কথিত আছে, জগন্নাথদেবের পরম ভক্ত ধ্রুবানন্দ একসময় সুদূর পুরীতে গিয়েছিলেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল নিজের হাতে রান্না করে প্রভু জগন্নাথকে ভোগ নিবেদন করবেন। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূর্ণ হয়নি। মন খারাপ করে তিনি ফিরে আসেন।
তারপর এক রাতে ঘটে এক আশ্চর্য ঘটনা।
লোককথা বলে, স্বপ্নে জগন্নাথদেব তাঁকে নির্দেশ দেন—পুরীতে নয়, বাংলায় ফিরে যেতে। ভাগীরথীর তীরে মাহেশে অপেক্ষা করতে। সেখানে তিনি প্রভুর দেখা পাবেন।
ধ্রুবানন্দ ফিরে এলেন বাংলায়।
এরপর একদিন ভাগীরথীর জলে ভেসে এল একটি নিমকাঠ। সেই কাঠ দিয়েই তৈরি হল জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ—এমনটাই প্রচলিত কাহিনি। মাহেশে প্রতিষ্ঠিত হল জগন্নাথদেবের মন্দির এবং শুরু হল রথযাত্রার এক দীর্ঘ ঐতিহ্য।
হুগলি জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মাহেশের রথযাত্রার সূচনা ধরা হয় ১৩৯৬ সাল থেকে। সেই হিসাবে ছয় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বাংলার বুকে বেঁচে রয়েছে এই রথযাত্রা। এটি বাংলার প্রাচীনতম রথযাত্রা হিসেবে পরিচিত।
তবে মাহেশের রথের ইতিহাস এখানেই শেষ নয়।
সময়ের সঙ্গে বদলেছে রথও। কাঠের রথের পরিবর্তে একসময় তৈরি হয় বিশাল লোহার রথ। বর্তমান ঐতিহাসিক রথটি উনিশ শতকের শেষভাগে তৈরি। হুগলি জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৮৫ সালে Martin Burn Company এই রথ নির্মাণ করে। চারতলা এই রথের উচ্চতা প্রায় ৫০ ফুট এবং এতে রয়েছে ১২টি লোহার চাকা।
ভাবতে অবাক লাগে—কত রাজত্বের উত্থান-পতন হয়েছে, বদলেছে বাংলার মানচিত্র, এসেছে নতুন শহর, নতুন রাস্তা, নতুন প্রজন্ম। অথচ বছরের একটি বিশেষ দিনে মাহেশের পথে আজও নামে মানুষের ঢল।
আজও সেই বিশাল রথের দড়িতে একসঙ্গে হাত রাখেন হাজার হাজার মানুষ। কেউ আসেন বিশ্বাস নিয়ে, কেউ ঐতিহ্যের টানে, কেউ আবার শুধুই সেই বহু পুরোনো মেলার আনন্দটুকু অনুভব করতে।
গত বছর মা-বাবার সঙ্গে আমিও গিয়েছিলাম শ্রীরামপুরের মাহেশের সেই রথের মেলায়। তখন তোলা এই ছবিটা আজ রথযাত্রার দিনে আবার খুঁজে পেলাম। ❤️
সবাইকে পবিত্র রথযাত্রার শুভেচ্ছা। 🙏🌼
জয় জগন্নাথ। ❤️