17/07/2025
#আবার_আসবে_ফিরে_সেদিন?
প্রায় ১১০ বছর আগে, সোনামুখী হাই স্কুলের হেডমাস্টার মহাশয় শ্রী দেবেন্দ্র নিয়োগী তাঁর প্রিয় ছাত্র গিরিজা কে বললেন, টেস্টে অংকে তুমি ফেল করেছ তাই তোমাকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিতে পারব না (অংক ছাড়া সমস্ত বিষয়েই টপ মার্কস ছিল গিরজার).সে বলল, স্যার তিন মাস সময় আছে আমি বুঝে নেব, দয়া করে পরীক্ষায় বসতে দেন। যথাসময়ে মেট্রিক পরীক্ষার রেজাল্ট আউট হলো, দেখা গেল অংকে লেটার। ঐ তিন মাস, মাঝেমধ্যে হেডমাস্টার সন্ধ্যায় গিরিজার পাড়ায় গিয়ে খবর নিতেন তাঁর ছাত্রের.. এই গিরিজাই পরে হন, ঈশান স্কলার রায়চাঁদ স্কলার,সদ্য স্থাপিত বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের VC হতে প্রস্তাব দিয়েছিলেন পদ্মজা নাইডু... হুঁ, ইনিই গিরিজাশংকর ঘর প্রিন্সিপাল রামানন্দ কলেজ। আমার বাবার শিক্ষক এমনকি আমারও শ্রী কমলাকান্ত পাল, শতবর্ষ পূর্বে তিনি IA (উচ্চমাধ্যমিক আর্টস) পরীক্ষায় অবিভক্ত বাংলায় হয়েছিলেন ৩য়..
ইংরেজি বাংলা সংস্কৃতে তাঁর ছিল অসম্ভব পান্ডিত্য... আমি তখন ৭ম শ্রেণী, কমলবাবু হেডমাস্টার, ক্লাসে এসে ট্রান্সলেশন দিলেন, মায়েরা সিনেমা যাইতেছেন,অধিকাংশ ছাত্র বলল, Mothers are going to cinema. উনি বললেন, বাঁদর, মা তো একটাই, লেখ Mother & others are .... Dey Sarkar, Reynend Martin, Oxford grammar এর page নাম্বার বলে দিতেন। আমার বাবার দুই ক্লাসমেট ছিল তারক ও বৃন্দাবন... ক্লাসে ১ম ২য় হতো বাবা ৩য়, তারকবাবু ইন্জিনিয়ার আর বৃন্দাবন বাবু double MA (CU) literature এ গুরুদেব,ওনারaimছিল শিক্ষকতা, ইচ্ছে করলে IAS হতে পারতেন..... ক্লাসে শেষ রোল নম্বরের ছেলে টি কেও সমান গুরুত্ব দিতেন। অমিত বাবুর Bishop's candle stick ( ড্রামা) পড়াতে পড়াতে অভিনয় করে দেখাতেন। আবার কেমেস্ট্রির স্নাতক ভানুবাবু .........অংক পদার্থ বিজ্ঞানেও ছিলেন ............ 'ঈশ্বর', মনোরঞ্জনবাবু শের শাহ পড়াতে পড়াতে, কনৌজের যুদ্ধে শের শাহের জয়লাভ...বলতে গিয়ে পা খিঁচে ছাতি ফুলিয়ে ডান হাত উর্ধ্বে বিস্তার করার দৃশ্য আজ ও ভোলার নয়। সোনামুখী কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন অনন্ত বাবু,ভীষন রাশভারী, এমন কি সেই সময় বর্ধমান ইউনিভার্সিটির ভিসি রমারন্জন মুখার্জি ও ওনাকে সমীহ করতেন,
আমি তখন ১২ ক্লাসে, অংকের স্যার absent, আমরা বারান্দায় বসে, অনন্ত বাবু ডাস্টার চক হাতে আসতেই আমরা ঢুকে পড়ি ক্লাসে, স্যার ইতিহাসে MA, অংকের arithmetic progression & geometric progression
বোঝাতে লাগলেন। রামানন্দ কলেজের botany পড়াতেন মনি স্যানাল বাবু... কি পান্ডিত্য! আবার রাখহরিবাবুর দুই হাতে ...........দুটি পেন্সিল দিয়ে "সব্যসাচী" র মতো আরশোলার পৌষ্টিকতন্ত্র বোর্ডে..... আঁকতেন, যা বইয়ের ছবি কে হার মানাতো... স্কুল কলেজ সকাল থেকে বিকাল ... গমগম করতো ছাত্র শিক্ষকে, স্যারেদের বাড়িতেও আমরা আব্দার করতাম একটু বুঝিয়ে দিতে। স্কুলে তো ছিল চরম শাসন, মিড ডে মিল তো শুরু ১৯৯৫ থেকে, আমাদের সময় এসব ছিল না, তথাপি স্কুলে ............ছাত্র উপস্থিতি ছিল ১০০% .... উনিশশো ৯২ - ৯৩ বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে ইন্টার্ন/ হাউস্টাফের সময় মেডিসিনের বরাটস্যার এস কে বাসু এস এন সেনগুপ্ত স্যার সকাল ৯ টা থেকে ওয়ার্ডে ভীষন সিরিয়াস থাকতেন, তখন CT MRI ছিল না, X ray plate আর সদ্য আসা USG ছিল সম্বল, বাসু স্যার ছিলেন অকৃতদার, প্রাইভেট প্রাক্টিস করতেন না, স্যালারির টাকা দিয়ে শুধু বই কিনতেন, স্যার থাকতেন ভৈরব স্থানের কাছে ভাড়া বাড়িতে, রুমের মধ্যে টুল টেবিলের উপর স্তূপীকৃত বইয়ের লম্বা লম্বা সুউচ্চ টাওয়ারের মধ্যে মুখ গুঁজে বই নিয়ে থাকতেন বসে। ছাত্র শিক্ষক ছিল পিতা পুত্র সম্পর্ক..ছাত্রবেলায় সন্ধ্যারাতে পাড়ায় পাড়ায় পড়ার গুন গুন ..........আওয়াজ আসতো কানে ... আজ শুধু কোলাহলহীন নিরবতা নিস্তব্ধতা... আমরা যারা ষাটের কাছাকাছি... পার্থক্যটা বেশ নজরে পড়ে,তবে আসা হয় আবার আসবে ফিরে... বাবা বলবে, ছাত্রায়ানাং অধ্যায়নং তপঃ