Guruji Dip Acharya : Vashikaran Specialist

  • Home
  • Guruji Dip Acharya : Vashikaran Specialist

Guruji Dip Acharya : Vashikaran Specialist সর্বত্র ব্যর্থ, গুরুজী আছেন শেষ মুহূর?

ॐ || তারাপীঠ মহাশ্মশানের তিন রহস্য || ॐ♦প্রথম রহস্য ---তারাপীঠের মহাশ্মশানের মাহাত্ম্য বুঝতে গেলে তাকাতে হবে তারার তন্ত্...
23/07/2026

ॐ || তারাপীঠ মহাশ্মশানের তিন রহস্য || ॐ

♦প্রথম রহস্য ---

তারাপীঠের মহাশ্মশানের মাহাত্ম্য বুঝতে গেলে তাকাতে হবে তারার তন্ত্রোক্ত রূপবর্ণনায়।
তন্ত্রে তারাকে বলা হয়েছে 'দ্বিতীয় মহাবিদ্যা। '
এই দ্বিতীয় মহাবিদ্যা দেবী তারা শায়িত শিবের বক্ষে দণ্ডায়মানা।
দেবীর বামপদ অগ্রগামী, তাই দেবী ‘বামাকালী’ নামেও পরিচিতা।
দেবীর গাত্রবর্ণ ঘননীল। অগ্নিময় শ্মশানে জ্বলন্ত চিতার মধ্য থেকে বিনির্গতা এই দেবী লোলজিহ্বা, লম্বোদরী, নবযৌবনা এবং মুণ্ডমালিনী।
দেবীর আসনস্বরূপ জ্বলন্ত চিতা জ্ঞানাগ্নির প্রতীক।
চতুর্ভুজা এই দেবীর ডানদিকের উপরের হাতে খড়্গ এবং নিচের হাতে কাটারি। বামদিকের উপরের হাতে পদ্মফুল এবং নিচের হাতে নরকপাল। দেবীর কটিদেশ ব্যাঘ্রচর্মে আবৃত। দেবীর মস্তকে ‘পঞ্চমুদ্রাবিভুষিত’ পিঙ্গলবর্ণের একজটা। ‘পঞ্চমুদ্রা’ অর্থাৎ শ্বেত অস্থি নির্মিত চারটি পটি দিয়ে ত্রিকোণাকারে গাঁথা পাঁচটি নরকরোটি। মু্ণ্ড জ্ঞানের প্রতীক। এখানে পঞ্চমুণ্ড শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস ও গন্ধের প্রতীক। দেবীর জটাশীর্ষে রয়েছেন ‘অক্ষোভ্য’, অর্থাৎ ত্রিগুণাত্মিকা ব্রহ্মশক্তির প্রতীক স্ত্রী-নাগরূপী মহাদেব স্বয়ং। দেবীর সর্বাঙ্গ স্ত্রীসুলভ নাগ অলঙ্কারে ভূষিতা। দেবীর সর্বাঙ্গে সর্পালঙ্কার প্রকটিত বৈরাগ্যের প্রতীক।
জীবকে ভবসাগর থেকে উদ্ধার করেন বলে তাঁকে 'তারিণী' নামেও ডাকা হয়ে থাকে।

দেবী তারার পাদপদ্ম,
এই রূপবর্ণনাই বুঝিয়ে দিচ্ছে, শ্মশান দেবী তারার আবাস।
তারাপীঠের মহাশ্মশানেও জ্যোতিরূপে বাস করেন দেবী। তা ঠিক যেন একটি তারার মিটমিটে আলো!
দেবীর সঙ্গে থাকেন যোগিনীরা।
অনেকেই তারাপীঠের মহাশ্মশানে অন্ধকারের মধ্যে এই মিটমিটে আলো দেখতে পান।
লোকবিশ্বাস বলে, সেই আলো দেখে কাছে যেতে নেই। তাতে দেবী রুষ্টা হন!
দেবীর উপস্থিতিই এই শ্মশানের তিন মহারহস্যের মধ্যে প্রথম।

♦দ্বিতীয় রহস্য ---

মন্দিরনিবাসিনী তারা
তারাপীঠের মহাশ্মশানের দ্বিতীয় রহস্য লুকিয়ে আছে শ্মশান-সংলগ্ন দ্বারকা নদীর জলে।
এই নদী উত্তরবাহিনী। অর্থাৎ এর স্রোত বইছে উত্তর দিকে। হিন্দু ধর্মে উত্তরবাহিনী নদী বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
কেন না, ভারতের প্রায় সব নদীই নেমেছে উত্তর দিকে স্থিত হিমালয় থেকে। অতএব, তাদের ধারা কখনই উত্তর অভিমুখী হবে না। হলে তা বইবে উল্টো খাতে।
একমাত্র কাশীতে গঙ্গা উত্তরবাহিনী। আর বীরভূমে দ্বারকা।
তাই দ্বারকা নদী মহাশক্তির উৎস।
এই নদীজলে স্নান করলেই সিদ্ধিলাভের যোগ্যতা অর্জন করেন মানুষ।

♦তৃতীয় রহস্য ---

পঞ্চমুণ্ডের আসনে ভক্তদের প্রণাম
তৃতীয় রহস্য মহাশ্মশানস্থিত বামাখ্যাপার পঞ্চমুণ্ডের আসন। এই জায়গায় এসে একটু তাকাতে হবে দেবীর রূপবর্ণনায়। তাঁর মাথাতেও আমরা দেখি পঞ্চমুণ্ডের সমাহার।
কিন্তু, এই পঞ্চমুণ্ডের আসন আলাদা। এখানে পাঁচটি মুণ্ড সাপের, ব্যাঙের, খরগোশের, শিয়ালের এবং মানুষের।
এই আসনে বসেই বহু যুগ পূর্বে দেবীকে তুষ্ট করে তারাপীঠকে সিদ্ধপীঠে পরিণত করেছিলেন ঋষি বশিষ্ঠ। সেই আসন আজও বিদ্যমান।
সাধক বামাখ্যাপাও এই আসনে বসে তন্ত্রসাধনায় সিদ্ধি লাভ করেন।
অর্থাৎ, এই আসন আজও জাগ্রত।
খুব শুদ্ধচিত্তের মানুষ না হলে এই আসনে বসা মাত্র সারা শরীরে তীব্র জ্বালা শুরু হয়। সেই জ্বালায় উন্মাদ হয়ে যায় মানুষ।
অশুচি চিত্তে আসনে বসেছিল বসে শাস্তি পায়!

- এই তিন মহারহস্য নিয়ে আজও বীরভূমের বুকে দণ্ডায়মান তারাপীঠের মহাশ্মশান।
যা নিরন্তর বলে চলেছে দেবী তারার মাহাত্ম্য।
বলে চলেছে এই জীবন নশ্বর।।

♦ॐॐ♦ॐॐ♦ॐॐ♦ॐॐ♦ॐॐ♦ॐॐ♦ॐॐ♦

জ্যোতিষ তান্ত্রিক গুরু দেব Dip Acharya
8697885583

চক্রানুষ্ঠান হলো তন্ত্র সাধনার এমন একটি বিশেষ গোপন যৌথ আচার বা সমষ্টিগত আচার, যেখানে সাধক এবং সাধিকারা একটি বৃত্তাকার বা...
20/07/2026

চক্রানুষ্ঠান হলো তন্ত্র সাধনার এমন একটি বিশেষ গোপন যৌথ আচার বা সমষ্টিগত আচার, যেখানে সাধক এবং সাধিকারা একটি বৃত্তাকার বা চক্রাকারে বসে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আধ্যাত্মিক শক্তি জাগ্রত করার সাধনা করেন। এই অনুষ্ঠানে চক্রের কেন্দ্রে প্রধান উপাস্য দেবতা বা শক্তির প্রতীক (যেমন যন্ত্ৰ বা ঘট) স্থাপন করা হয়। চক্রের প্রধান পরিচালককে বলা হয় 'চক্রেশ্বর' এবং তাঁর সঙ্গিনীকে বলা হয় 'চক্রেশ্বরী'।তন্ত্রশাস্ত্রে সাধকদের মানসিক প্রস্তুতি এবং আধ্যাত্মিক স্তরভেদে বিভিন্ন ধরনের চক্রের বিধান রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান দুটি ভাগ নিচে আলোচনা করা হলো।

তত্ত্বচক্র বা দিব্যচক্রএই চক্রটি উচ্চস্তরের সাধকদের জন্য, যেখানে বাহ্যিক উপাদানের চেয়ে মানসিক বা আধ্যাত্মিক ভাবধারাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।

সাত্ত্বিক ভাব: এখানে সাধনা সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক এবং পবিত্র মানসিকতায় করা হয়।

মানসিক পূজা: বাহ্যিক উপাদানের পরিবর্তে অন্তরের ভক্তি এবং ধ্যানই প্রধান মাধ্যম।

উদ্দেশ্য: ইন্দ্রিয় সংযম এবং পরমেশ্বরের সাথে আত্মার মিলন ঘটানো।ভৈরবীচক্র বা স্ত্রী-চক্রএটি তন্ত্রের বীরভাবের সাধকদের মধ্যে বহুল প্রচলিত একটি রহস্যময় এবং জটিল অনুষ্ঠান।সমষ্টিগত উপাসনা: সাধক (ভৈরব) এবং সাধিকারা (ভৈরবী) জোড়ায় জোড়ায় চক্রাকারে বসেন।

পঞ্চমকার ব্যবহার: এই চক্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও শোধনের মাধ্যমে পঞ্চ-মকার (মদ্য, মাংস, মৎস্য, মুদ্রা ও মৈথুন) ব্যবহারের বিধান থাকে।সমতা রক্ষা: চক্রে বসার পর জাতিভেদ, বর্ণভেদ বা সামাজিক উচ্চ-নিচ ভেদাভেদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়। সব নারীই আদিশক্তির রূপ এবং সব পুরুষই শিবের রূপ হিসেবে গণ্য হন।
চক্রানুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।

১. কুন্ডলিনী জাগরণ: শরীরের ভেতরে থাকা সুপ্ত আত্মিক শক্তিকে জাগ্রত করা।

২. অদ্বৈত জ্ঞান লাভ: জগতের সমস্ত কিছুর মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব করা এবং ভালো-মন্দের ভেদাভেদ ভুলে যাওয়া।

৩. ভয় ও মায়া ত্যাগ: সামাজিক লোকলজ্জা, ভয় এবং সামাজিক সংস্কারকে জয় করে চিত্তশুদ্ধি ঘটানো।তন্ত্রশাস্ত্রে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, উপযুক্ত গুরু বা দীক্ষা ছাড়া এবং সঠিক মানসিক প্রস্তুতি না নিয়ে এই ধরনের গুপ্ত সাধনা বা চক্রানুষ্ঠান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও নিষিদ্ধ।

গুরুজী দীপ আচার্য
8697885583

🫵🌺 ওঁ ঐং হ্রীং শ্রীং ঐং শ্রীং আপদুদ্ধারণায় হ্রাং হ্রীং হ্রূং অজামলবধ্য়ায় লোকেশ্বরায় স্বর্ণাকর্ষণভৈরবায় মম দারিদ্র্য...
19/07/2026

🫵🌺 ওঁ ঐং হ্রীং শ্রীং ঐং শ্রীং আপদুদ্ধারণায় হ্রাং হ্রীং হ্রূং অজামলবধ্য়ায় লোকেশ্বরায় স্বর্ণাকর্ষণভৈরবায় মম দারিদ্র্য় বিদ্বেষণায় মহাভৈরবায় নমঃ শ্রীং হ্রীং ওঁ।🌺🫵
এই মন্ত্র 108 বার পাঠ করুন।। শিবলিঙ্গে আখের রস
অর্পণ করুন,ভগবান শিবকে স্বর্ণাকর্ষন ভৈরব নাম উচ্চারণ করে পূজো দিন🫵 আপনার ভাগ্য অবশ্যই পাল্টে যাবে আর্থিক দিক দিয়ে🫵✍️

গুরুজী দীপ আচার্য
8697885583

জগন্নাথদেবের অশেষ কৃপায় আপনার প্রতিটি দিন হোক শুভ ও সফল। শুভ রথযাত্রা।
16/07/2026

জগন্নাথদেবের অশেষ কৃপায় আপনার প্রতিটি দিন হোক শুভ ও সফল। শুভ রথযাত্রা।

 #ন্যাস #তন্ত্র_শাস্ত্রে_ন্যাস (Nyasa) শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো 'স্থাপন' বা 'বিন্যাস করা'।তন্ত্র সাধনায় সাধক তাঁর নিজের শ...
04/07/2026

#ন্যাস
#তন্ত্র_শাস্ত্রে_ন্যাস (Nyasa) শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো 'স্থাপন' বা 'বিন্যাস করা'।তন্ত্র সাধনায় সাধক তাঁর নিজের শরীর, মন ও আত্মায় নির্দিষ্ট মন্ত্র বা আরাধ্য দেবতার দৈব শক্তিকে উপলব্ধি ও স্থাপন করেন। সাধনার পূর্বে দেহকে পবিত্র ও সুরক্ষিত করার জন্য এটি একটি আবশ্যিক তান্ত্রিক প্রক্রিয়া।ন্যাস সাধারণত তিনটি প্রধান উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়:

দেবত্ব আরোপ: শরীরের বিভিন্ন অংশে আঙুলের ডগা ও হাতের তালু স্পর্শ করে মন্ত্র জপের মাধ্যমে নিজের দেহকে দেবতার অধিষ্ঠান রূপে গড়ে তোলা।

ভূতশুদ্ধি ও পবিত্রতা: সাধকের জড় দেহ ও মনকে শুদ্ধ করে দিব্য চেতনায় উন্নীত করা।সুরক্ষা: শরীরের নানা অংশে মন্ত্র ও শক্তির বিন্যাস করে সাধককে সব ধরনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখা।

প্রধান দুটি ন্যাস হলো:
১. করন্যাস: হাতের আঙুল ও তালুতে নির্দিষ্ট মন্ত্র ও দেবতা স্থাপন।
২. অঙ্গন্যাস: হৃদপিণ্ড, মস্তক, মুখ ইত্যাদির মতো শরীরের প্রধান অঙ্গগুলোতে দেবতার শক্তি ও মন্ত্র বিন্যাস করা।

গুরুজী দীপ আচার্য
8697885583

দশমহাবিদ্যা সংখ্যায় দশ হলেও, আদতে তাঁদের মধ্যে পাঁচজনই মৌলিক মহাবিদ্যা। বাকি পাঁচজন সেই মৌলিক পঞ্চবিদ্যার বিস্তার। কালী,...
03/07/2026

দশমহাবিদ্যা সংখ্যায় দশ হলেও, আদতে তাঁদের মধ্যে পাঁচজনই মৌলিক মহাবিদ্যা। বাকি পাঁচজন সেই মৌলিক পঞ্চবিদ্যার বিস্তার।

কালী, তারা, ছিন্নমস্তা, ষোড়শী এবং লক্ষ্মী।

কালীর বিস্তার ধূমাবতী। কালী ও ধূমাবতীর উৎস এক ঐ বেদের নিঃঋতি। কালী চতুর্বর্গদাত্রী, ধূমাবতী সেই কালীর প্রায়োগিক মূর্তি। ধূমাবতীর স্বতন্ত্র কোনো ক্রম হয় না। কালী থেকেই ধূমাবতীর কাছে যেতে হয়। অন্য মহাবিদ্যা দিয়েও যাওয়া যায়। কিন্তু কালী এখানে মুখ্য। ধূমাবতীর মন্ত্রক্রমের সর্বোচ্চ মূর্তি ভদ্রকালী। ধূমাবতী কালীতে সম্পূর্ণতা পান। ধূমাবত্যষ্টকাদি স্তুতিপ্রমাণেও ধূমাবতী মূলত কালীরই প্রকাশভেদ।

তারার বিস্তার মাতঙ্গী। যদিও মাতঙ্গীর স্বতন্ত্র ক্রমোপাসনা আছে, তথাপি মাতঙ্গী স্বরূপত প্রায়োগিক মূর্তি। মাতঙ্গীর কোনো মন্ত্রই মোক্ষপ্রদ নয়, সকলই ভোগপ্রদ। মাতঙ্গী সাধনার মূলত দুই শাখা--
রাজমাতঙ্গীক্রম এবং উচ্ছিষ্টচাণ্ডালিনীক্রম।
এঁদের মধ্যে রাজমাতঙ্গী শ্রীবিদ্যার সঙ্গে একীভূতা হয়েছেন, শ্রীবিদ্যার ক্রমোপাসনার মধ্য দিয়েই এই রাজমাতঙ্গীর সাধনা প্রকাশিত হয়।
উচ্ছিষ্টচাণ্ডালিনীক্রম মূলত উচ্ছিষ্টক্রমমার্গেই প্রকাশিত হয়। উচ্ছিষ্টগণেশ, বটুক কিংবা দেবী তারার মন্ত্রক্রমের অঙ্গরূপেই উচ্ছিষ্টমাতঙ্গীর সাধনা পাওয়া যায়।
রাজমাতঙ্গীর সাধনা শ্রীবিদ্যায় এবং উচ্ছিষ্টমাতঙ্গীর সাধনা নীলসরস্বতীতে সম্পূর্ণতা পায়।

মাতঙ্গীক্রমের আর একটি শাখা বাগবাদিনী। সেটিও নীলসরস্বতীতেই সম্পূর্ণতা পায়। তবে এই বাগবাদিনী নিতান্তই সারস্বত সাধনা বলে সেই অর্থে কৌলমার্গে উদযাপিত নয়। অঙ্গবিদ্যারূপেই এঁর চর্চা হয়।

সরস্বতীর সাধনাও তারা মহাবিদ্যাতেই সমাপ্ত হয়। সারস্বত সাধনার স্বতন্ত্র ক্রম মেলে না। শারদাদি সকল সারস্বতবিদ্যা তারাতেই সম্পূর্ণতা লাভ করেন।

আসলে তারা, মাতঙ্গী এবং সরস্বতী তিনেরই উৎস বেদের বৃহস্পতিপত্নী বৃহতী সরস্বতী। ফলে এঁরা অভিন্ন নয়। বৃহস্পতিপত্নী বৃহতীই তন্ত্রের নীলসরস্বতী। তাই নীলসরস্বতীই মাতঙ্গী, সরস্বতী ও তারার সম্পূর্ণতা।

ত্রিপুরসুন্দরীর বিস্তার হল ভুবনেশ্বরী, বগলামুখী এবং ভৈরবী। ভৈরবী এবং ভুবনেশ্বরীর কোনো স্বতন্ত্রক্রম সেই অর্থে নেই। ভুবনেশ্বরী সাধনা ক্রমশ গৌরী, দুর্গা এবং ত্রিপুরসুন্দরীতে সম্পূর্ণতা পায়। একাক্ষর থেকে ষোড়শাক্ষরের যাত্রা ত্রৈপুরক্রমেই রক্ষিত।

বগলামুখীর ক্ষেত্রেও একই। সাংখ্যায়ন তন্ত্রে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে, শ্রীবিদ্যার ঊর্দ্ধ্বাম্নায় সিদ্ধ করলে তবেই বগলামুখী দীক্ষা গ্রহণ করা উচিত। বর্তমানে বগলামুখীর স্বতন্ত্রক্রম আবিষ্কৃত হলেও, তার শাস্ত্রীয় ভিত্তি মেলে না।
কালী, তারা, ত্রিপুরা, ছিন্নমস্তার অঙ্গরূপেই বগলামুখীর সাধনা হবে। বগলামুখী মহাবিদ্যা সম্পূর্ণ প্রায়োগিক বিদ্যা। এই বিদ্যার সম্পূর্ণতা শ্রীবিদ্যাতেই হয়ে থাকে।

আর ভৈরবীবিদ্যার সঙ্গে শ্রীবিদ্যার সম্পৃক্ততা সকলেই অবহিত। ত্রিকূটা বালা থেকে ত্রিকূটা ত্রিপুরার সবই ত্রিপুরসুন্দরীর নবাসনে সমাহিতা। তাই ভৈরবীর সম্পূর্ণতা যে ত্রিপুরসুন্দরীতে, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ভৈরবীরও স্বতন্ত্রক্রমোপাসনা নেই। শ্রীবিদ্যাসাধনাতেই ভৈরবীসাধনা সম্পূর্ণ হয়।

ছিন্নমস্তার কোনো বিস্তার হয়নি শাক্তক্রমে। ইনি স্বয়ংসম্পূর্ণ একাকী বিরাজ করছেন দশমহাবিদ্যায়। কারো কারো মতে ধূমাবতী বা বগলা এই ছিন্নমস্তার বিস্তার হতে পারে। যেহেতু ধূমাবতীতে ক্ষুধাতত্ত্ব এবং বগলাতে বজ্রতত্ত্ব দেখা যায়। কিন্তু এগুলি তাত্ত্বিক সমন্বয় মাত্র। ক্রমসাধনা তত্ত্ব দিয়ে হয় না।
ছিন্নমস্তার মন্ত্রক্রম স্বতন্ত্র। এঁর স্বতন্ত্র ক্রমোপাসনাও দেখতে পাওয়া যায়। বঙ্গদেশে যদিও কালী, তারা, ত্রিপুরার অঙ্গবিদ্যারূপে ছিন্নমস্তার সাধনা প্রচলিত; কিন্তু এর কারণ ছিন্নমস্তার স্বতন্ত্রক্রমের অভাব নয়, বরঞ্চ ভীতি। স্বতন্ত্র ছিন্নমস্তা উপাসনাকে আজও শাক্তরা ভয় পায়। তাই এই ক্রম শুরু থেকেই দেওয়া হয় না। সাধককে আগে গুরুগণ প্রস্তুত করেন মানসিক ও আধ্যাত্মিকভাবে, তারপর এই ক্রমোপাসনা দেন।

বিভিন্ন মহাবিদ্যার পথ ধরে ছিন্নমস্তায় আসা যায়। যে মহাবিদ্যার ক্রম ছিন্নমস্তায় প্রবেশ করে, সেখানে আর তদুত্তর দেবতার সাধনা নেই। অর্থাৎ ছিন্নমস্তা প্রাপ্তি হলে আলাদা করে মহাষোড়শী, বিদ্যারাজ্ঞী বা নির্বাণাদি মন্ত্রের আবশ্যকতা থাকে না। ছিন্নমস্তাতেই সকল মহাবিদ্যার বিলয় হচ্ছে বলে ধরা হয়। প্রচলিত পরম্পরাগুলিতে যা দেখা যায়, কালীক্রম, তারাক্রম, ত্রিপুরসুন্দরীক্রম এবং দুর্গাক্রমের মাধ্যমে ছিন্নমস্তায় প্রবেশাধিকার মেলে। অপরদিক ছিন্নমস্তার নিজস্বক্রমে অধিকার থাকলে আর সকল মহাবিদ্যা স্বতঃই চর্চিতা হন অঙ্গোপাঙ্গবিদ্যারূপে। ছিন্নমস্তার লয় বা সম্পূর্ণতা ছিন্নমস্তা নিজেই।

পঞ্চম মহাবিদ্যা লক্ষ্মীও অনুরূপভাবে স্বতন্ত্রা। এঁর তিনটি শাখাই বর্তমানে দেখা যায়।
গাণপত্যক্রম--যেখানে লক্ষ্মীসাধনা সিদ্ধিলক্ষ্মীতে লয়প্রাপ্ত হয়।
বৈষ্ণবক্রম--যেখানে লক্ষ্মীসাধনা পরালক্ষ্মীতে লয়প্রাপ্ত হয়।
শাক্তক্রম--এখানে লক্ষ্মীসাধনা সিদ্ধিলক্ষ্মী (কালসংকর্ষিণী)-তে লয়প্রাপ্ত হয়।

লক্ষ্মীর থেকে অজস্র মহাবিদ্যার উদয় হয়। বারাহী, প্রত্যঙ্গিরা, কালসংকর্ষিণী, সিদ্ধলক্ষ্মী, চণ্ডী, এমনকি দুর্গাও।

দুর্গার যদিও বা স্বতন্ত্রক্রম আছে। জয়দুর্গা বা জগদ্ধাত্রী কিংবা নবার্ণ সাধনা দিয়ে দুর্গাক্রম শুরু হতে পারে। তবে সেই দুর্গাক্রমও ষোড়শী শ্রীবিদ্যায় লয়প্রাপ্ত হয়। দুর্গার স্বতন্ত্র কোনো মূর্তি অন্তিমসাধনারূপে দেখা যায় না।

লক্ষ্মীক্রমে এই দুর্গাকে অঙ্গবিদ্যারূপে আমরা পাই। তারপর অন্যান্য বিভিন্ন মহাবিদ্যাকে অতিক্রম করে শেষে লক্ষ্মীকেই ষোড়শীরূপে আমরা পাই। কাশ্মীরক্রমে আবার লক্ষ্মীকে আমরা সিদ্ধলক্ষ্মীরূপে দেখতে পাই।
যদিও সেখানেও অন্তিমে ওই পরাষোড়শী অবস্থান করছেন।

সহজভাষায় লক্ষ্মীক্রমের সাধনা দুর্গা, সিদ্ধলক্ষ্মী হয়ে শ্রীবিদ্যার পথ ধরে অন্তিমে সেই পরালক্ষ্মীতে গিয়ে শেষ হয়।

এইভাবে আমরা দেখি যে, দশমহাবিদ্যার ক্রমোপাসনা মূলত পাঁচভাগে বিভাজিত। এই পাঁচভাগ আসলে শাক্তদের পঞ্চ আম্নায়--

লক্ষ্মী পূর্বাম্নায়, কালী দক্ষিণাম্নায়, তারা পশ্চিমাম্নায়, ছিন্নমস্তা উত্তরাম্নায় এবং শ্রীবিদ্যা ঊর্ধ্বাম্নায়।

এর বাইরে অধরাম্নায়ে যক্ষিণীগণ এবং অনুত্তরাম্নায়ে নির্বাণ সাধনা হয়ে থাকে। সেগুলিতে প্রবেশাধিকার এই উপরে উক্ত আম্নায়ক্রমগুলির সম্পূর্ণতায় লাভ করা যায়।

যদিও এই আম্নায়বিভাজনে অজস্রে মতান্তর ও ভেদ দেখা যায়। সেগুলি মূর্তিভেদে পরিবর্তিত হতে থাকে। যদিও এই পঞ্চবিদ্যার ক্রমাধিপত্যের প্রত্যব্যয় দেখা যায় না।

এর অর্থ এই নয় যে, কারো ইষ্ট দুর্গাদি অঙ্গদেবতা হলে তাদের সাধনা ব্রহ্মত্বদায়ক বা স্বতন্ত্র নয়। বা তারা মরণান্তে দুর্গাকে নয় অন্য কোনো অবাঞ্ছিত মহাবিদ্যাকে দেখবে।

ক্রম আর ভাব এক নয়। ইষ্ট ভাবময়।

কারো ইষ্টদেবতা যদি মনসা হয়, সে অধরাম্নায়ের অধীন। ক্রমানুসারে সে মনসা থেকে সাধনা শুরু করে তারা মহাবিদ্যার সাধনায় প্রবেশ করবে। কারণ মনসার সম্পূর্ণতা তারা মহাবিদ্যাতেই হয়ে থাকে। পশ্চিম আর অধরাম্নায়ের যুগপৎ সাধনা হয়।

একইভাবে, কারো ইষ্টদেবী রেণুকা হলে, সে পশ্চিমাম্নায়ের অধীন। তার সাধনা রেণুকা থেকে শুরু করে ছিন্নমস্তায় গিয়ে শেষ হবে।

এক্ষেত্রে মনসারই সর্বোচ্চমূর্তি তারা, রেণুকারই সর্বোচ্চমূর্তি ছিন্নমস্তা। অংশ ও অংশীভাব। বস্তুত ভেদ নেই।

শাক্তমতের সকল মহাবিদ্যাই--এমনকি উর্বশী তথা মধুমতী যক্ষিণী কিংবা মহাসতী অরুন্ধতী অথবা দ্রৌপদী, সকলেই পরাশক্তিবাচ্যা। সকলেই স্বতন্ত্র উপাসনা ও ভক্তির দাবীদার। এখানে উচ্চনীচ ভেদ নেই।

কিন্তু এই অনন্ত মহাবিদ্যা, সিদ্ধবিদ্যা, উপবিদ্যাগণ মুখ্যত পঞ্চশক্তির প্রকাশ। যাবতীয় শাক্ত মন্ত্রক্রমের সাধনা ওই ওই মহাবিদ্যাতেই সমাপ্ত হয়ে যায়। আলাদা করে সবার ক্রম হয় না। হলেও তা ওই ওই বিদ্যা থেকে শুরু করে সেই মুখ্য পাঁচ মহাবিদ্যায় সম্পূর্ণতা পায়।

এই পাঁচ মহাবিদ্যার সাধনা যখন প্রত্যক্ষ পঞ্চমকারে নীলাধারে বা চীনাধারে হবে, তখন তা কালীকুল।

আর যখন এই পাঁচ মহাবিদ্যার সাধনা পরোক্ষ পঞ্চমকারে মূর্তিতে বা যন্ত্রে হবে, তখন তা শ্রীকুল।

দুই কুলেই এই পাঁচ মহাবিদ্যা আরাধিতা হবেন। এখানে দেবী বা ক্রম বা আম্নায়ভেদে কুলভেদ হয় না।

স্বাভাবিকভাবেই তারাকুল, ছিন্নমস্তাকুল, ধূমাকুল, দুর্গাকুল, সরস্বতীকুল ইত্যাদি অজস্র কুলের ধারণাও কল্পিত বা অতিশয়োক্তিমাত্র। শাস্ত্রীয় নয়।

অত্যাশ্চর্যভাবেই এই পাঁচমহাবিদ্যায় পঞ্চদেবতার প্রকাশ আমরা পাই।

লক্ষ্মীর মৌলিক দার্শনিক ভিত্তি বৈষ্ণবীয়, তাই তিনি বিষ্ণুপ্রধানা।

কালীর মৌলিক দার্শনিক ভিত্তি শৈব, তাই তিনি শিবপ্রধানা।

তারা ও ছিন্নমস্তার মৌলিক দার্শনিক ভিত্তি বৌদ্ধ ও গাণপত্যমিশ্রিত। তাই উভয়েই মহাচীন বা উচ্ছিষ্টপ্রধানা।

শ্রীবিদ্যার মৌলিক দার্শনিক ভিত্তি সম্পূর্ণভাবে শাক্ত। শক্তিসর্বস্বমত।

এইরূপে শৈব, বৈষ্ণব, গাণপত্য, বৌদ্ধ এবং শাক্তমতও এই পঞ্চমহাশক্তিপ্রধান।

সৌরদর্শনের কোনো দেবীই স্বতন্ত্র মন্ত্রক্রমে থাকতে পারেননি। গায়ত্রী সম্পূর্ণ হয়েছেন ভুবনেশ্বরীতে। আর ভুবনেশ্বরী ষোড়শীতে।

আর হয়তো এইকারণেই সৌরসম্প্রদায় লয়প্রাপ্ত হয়েছে। কারণ সৌরগণ শাক্তসিদ্ধান্তের সঙ্গে আপোষ করতে পারেনি। আর সকল সম্প্রদায় কোনো না কোনো ভাবে শাক্তমতকে গ্রহণ করে টিকে গেছে।

মহামায়ার এই প্রকৃতিরূপকে অগ্রাহ্য করে পুরুষরূপের কোনো সাধনাই স্বতন্ত্রভাবে বেঁচে থাকতে পারবে না।

আর তাছাড়া, শক্তিগণ নিশাচরী। তাঁরা চাঁদের আলোয় নিশিযাপন করেন। সূর্যের প্রখর শাসন শক্তিগণ মেনে নিতে পারেন না।

হয়তো এইকারণেই ঊষা বা নিশা কাউকেই সূর্য নিজের পাশে পায় না। সংজ্ঞাকেও পেতে গেলে সূর্যকে পশু হয়ে আসতে হয়।

সৌরমত তাই শাক্তমতের অঙ্গ হয়ে টিকে গেছে। বাকি মতসকল শক্তির আধিপত্য স্বীকার করে শক্তিকে অর্ধাঙ্গিনী করে আজও প্রভুত্ব করছে বিশ্বের কোনো না কোনো প্রান্তে।

আগামী সোমবার ২২ শে জুন ৭ই আষাঢ় রাত নটা বেজে দশ মিনিটে অম্বুবাচী শুরু হচ্ছে, শেষ হবে ২৬শে জুন ১১ই আষাঢ় সময় সকাল ৯ টা ৩...
21/06/2026

আগামী সোমবার ২২ শে জুন ৭ই আষাঢ় রাত নটা বেজে দশ মিনিটে অম্বুবাচী শুরু হচ্ছে, শেষ হবে ২৬শে জুন ১১ই আষাঢ় সময় সকাল ৯ টা ৩৩ মিনিট পর্যন্ত 🌟💫🌟🌠🌌🎉👏💥 #অম্বুবাচী #সময় #পশ্চিমবঙ্গ

 #তান্ত্রিকরাধা তান্ত্রিক রাধা হলেন 'রাধা তন্ত্র' হলো একটি দুর্লভ তান্ত্রিক সাধনার  দেবী, যেখানে রাধাকে সাধারণ প্রেমিকা ...
15/04/2026

#তান্ত্রিকরাধা

তান্ত্রিক রাধা হলেন 'রাধা তন্ত্র' হলো একটি দুর্লভ তান্ত্রিক সাধনার দেবী, যেখানে রাধাকে সাধারণ প্রেমিকা বা পত্নীর পরিবর্তে শক্তির সর্বোচ্চ রূপ ও কৃষ্ণের গুরু হিসেবে গণ্য করা হয়েছে । এই ধারায় রাধা-কৃষ্ণের প্রেম নিছক ভক্তি নয়, বরং তান্ত্রিক সাধনার মাধ্যমে মোক্ষ লাভের এক আধ্যাত্মিক ও জাগতিক প্রক্রিয়া ।

তান্ত্রিক রাধার মূল বৈশিষ্ট্য ও রূপ:
শক্তির রূপ: তান্ত্রিক রাধা হলেন স্বয়ং শক্তি। তিনি কেবল কৃষ্ণ-অনুরাগিণী নন, বরং সৃষ্টির আদি কারণ স্বয়ং মহামায়া একটি অংশ ।

কৃষ্ণের গুরু: দেবদত্ত পট্টনায়েকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাধা কৃষ্ণকে কাউল বা তান্ত্রিক রীতি শিক্ষা দেন এবং কৃষ্ণ তাঁর কাছেই দীক্ষিত হন ।

বৃন্দাবন ও শাক্ত সংযোগ: বৃন্দাবন যেখানে সতীর দেহের অংশ পড়েছিল, সেখানে রাধার আবির্ভাব। রাধা তন্ত্রে রাধা নিজের শাক্ত স্বর্গে ফিরে যান, যেখানে কৃষ্ণ তার কর্তব্য শেষে পরে মিলিত হন ।

ঐশ্বরিক প্রেম ও মিলন: তান্ত্রিক রাধা উপাসনায় শশৃঙ্গার রস (প্রেমের নান্দনিক অনুভূতি) এবং জাগতিক মিলনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ দিব্য আনন্দ ও জাগরণকে বোঝানো হয় ।

রাধাতন্ত্রের উপাদান: এই গ্রন্থের শ্লোকগুলিতে রাধাকে ভক্তি এবং তন্ত্রের এক অপূর্ব সংমিশ্রণে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা প্রচলিত বৈষ্ণব মতবাদের থেকে কিছুটা ভিন্ন ।

এই ধারায় রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকে শাক্ত (শক্তির পূজা) এবং বৈষ্ণব (ভক্তি) মতবাদের একটি সংমিশ্রণ হিসেবে দেখা হয়, যেখানে রাধা হলেন পরমেশ্বরী [

শ্রীরাধা সুন্দরী দেবী তান্ত্রিকৈঃ পরিকীর্ত্যতে।
কুরুকুল্লা চ বারাহী চন্দ্রালী ললিতে উভে॥

~নারদীয় পুরাণ

অর্থাৎ, শ্রীরাধাকে তান্ত্রিকগণ সুন্দরী নামে অভিহিত করে থাকেন এবং চন্দ্রাবলী ও ললিতাকে কুরুকুল্লা ও বারাহী নামে অভিহিত করেন।

নারদীয় পুরাণ মতে এই তান্ত্রিক রাধার ধ্যান এইরূপ—

লোহিতাং ললিতাং বাণচাপপাশসৃণীঃ করৈঃ।
দধানাং কামরাজাঙ্কে যত্নীতাং মুদিতাং ইন স্মরেৎ॥

~নারদীয় পুরাণ

অর্থাৎ, লোহিতবর্ণা সুললিতা দেবীর হস্তে বাণ, চাপ, পাশ ও সৃণী (অঙ্কুশ) বিরাজ করছে। তিনি কামরাজ ( কামেশ্বর শিব ) এর অঙ্কে বিরাজিতা। এই রূপেই শ্রীরাধাকে স্মরণ করতে হয়।

তন্ত্রের দুই মেরু: বামাচার না কি দক্ষিণাচার?তন্ত্র শব্দটা শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে অন্ধকার শ্মশান, নরকপাল আর হাড়হিম ক...
12/04/2026

তন্ত্রের দুই মেরু: বামাচার না কি দক্ষিণাচার?

তন্ত্র শব্দটা শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে অন্ধকার শ্মশান, নরকপাল আর হাড়হিম করা কিছু তুকতাক। সাধারণ মানুষের মনে তন্ত্র নিয়ে যতটা ভয় আছে, তার চেয়েও বেশি আছে ভুল ধারণা। অথচ তন্ত্র হলো মোক্ষ লাভের এক অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত এবং প্রাচীন পদ্ধতি। সাধনার এই বিশাল সমুদ্রে প্রধানত দুটি স্রোত লক্ষ্য করা যায়। একটি হলো 'দক্ষিণাচার' আর অন্যটি রহস্যময় 'বামাচার'।

দক্ষিণাচার: আলোর পথ
অধিকাংশ গৃহস্থ এবং সাধারণ ভক্ত যে পদ্ধতিতে পূজা করেন, তাকেই মূলত দক্ষিণাচার বলা হয়। এটি অত্যন্ত সাত্ত্বিক এবং শাস্ত্রীয় বিধান মেনে চলা একটি পথ। এখানে মন্ত্র জপ, পূজা, ধ্যান এবং আরতির মাধ্যমেই ইষ্টের সাধনা করা হয়। এই পথে আমিষ আহার বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সম্পূর্ণ বর্জিত। দক্ষিণাচারী সাধক নিয়ম এবং নিষ্ঠার কঠোর শৃঙ্খলে নিজেকে বেঁধে পরমাত্মার সন্ধান করেন। একে বলা হয় 'পশু ভাব' থেকে 'দিব্য ভাবে' পৌঁছানোর এক নিরাপদ ও সরল পদ্ধতি।

বামাচার: নিষিদ্ধ রহস্যের হাতছানি
বামাচার হলো তন্ত্রের সেই পথ যা নিয়ে সাধারণের মনে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল এবং বিতর্ক রয়েছে। এই পথে সাধক সমাজের তৈরি করা সমস্ত তথাকথিত 'অশুভ' বা 'নিষিদ্ধ' বিষয়কে ব্যবহার করেই মুক্তির পথ খোঁজেন। বামাচারের মূল ভিত্তি হলো 'পঞ্চমকার' বা পাঁচটি 'ম' কারের ব্যবহার। মদ্য, মাংস, মৎস্য, মুদ্রা এবং মৈথুন। অনেকে মনে করেন এটি কেবল লালসা চরিতার্থ করার মাধ্যম। কিন্তু প্রকৃত তত্ত্ব হলো, ইন্দ্রিয়ের চরম ভোগের মাধ্যমে ইন্দ্রিয়কে জয় করা। এটি অত্যন্ত কঠিন এবং বিপজ্জনক পথ। সঠিক গুরুর নির্দেশ ছাড়া এই পথে পা বাড়ানো মানেই নিজের সর্বনাশ ডেকে আনা। যেখানে সাধারণ মানুষ ভয় পায় বা ঘৃণা করে, বামাচারী সাধক ঠিক সেখান থেকেই নিজের শক্তি সংগ্রহ করেন।

পার্থক্য কোথায়?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, দক্ষিণাচার হলো সিঁড়ি বেয়ে ধীরে ধীরে ছাদে ওঠার মতো। এটি অনেক সময়সাপেক্ষ কিন্তু নিরাপদ। অন্যদিকে বামাচার হলো অনেকটা লিফট এ করে সোজা উপরে ওঠার মতো। গতি অনেক বেশি হলেও সামান্য ভুলেই মৃত্যু অনিবার্য। দক্ষিণ মার্গে সাধক নিজেকে সমাজের সাথে খাপ খাইয়ে চলেন, আর বাম মার্গে সাধক সমাজের সমস্ত বেড়া ভেঙে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে দেন।
উদ্দেশ্য কিন্তু এক। মা আদ্যাশক্তির কাছে পৌঁছানো। একজন যান মন্দিরের পবিত্রতা দিয়ে, অন্যজন যান শ্মশানের নিস্তব্ধতা চিরে। ভারতের এই প্রাচীন জ্ঞানভাণ্ডারকে কুসংস্কার না ভেবে এর গভীর দর্শন বোঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন।
আপনার কাছে কোন পথটি বেশি যুক্তিযুক্ত মনে হয়? নিষ্ঠার দক্ষিণাচার না কি রোমাঞ্চকর বামাচার? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।

সুখ, শান্তি আর সমৃদ্ধির রঙ ছড়াক চারদিকে।
02/03/2026

সুখ, শান্তি আর সমৃদ্ধির রঙ ছড়াক চারদিকে।

Address

Nawab Gunj, Ichapur

743144

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Guruji Dip Acharya : Vashikaran Specialist posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Guruji Dip Acharya : Vashikaran Specialist:

Shortcuts

  • Want your practice to be the top-listed Clinic?

Share