05/07/2026
🌸 গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসকে অবহেলা করবেন না—সুস্থ মা, সুস্থ শিশুর প্রথম শর্ত। 🌸
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। কিন্তু অনেকেই মনে করেন, কোনো উপসর্গ নেই, তাই চিন্তারও কিছু নেই। এটাই সবচেয়ে বড় ভুল। নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিস মা ও গর্ভস্থ শিশুর জন্য মারাত্মক জটিলতার কারণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস প্রধানত দুই ধরনের:
1) পূর্ব থেকেই থাকা ডায়াবেটিস (Chronic/Pre-existing Diabetes): অর্থাৎ গর্ভধারণের আগেই টাইপ–১ বা টাইপ–২ ডায়াবেটিস ছিল।
2) গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes - GDM): গর্ভাবস্থায় প্রথমবার রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া, যা সাধারণত ২৪–২৮ সপ্তাহের মধ্যে ধরা পড়ে।
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শিশুর কী কী সমস্যা হতে পারে?
1. শিশুর ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে যেতে পারে, ফলে স্বাভাবিক প্রসব কঠিন হতে পারে।
2. IUGR (ইন্ট্রা ইউটেরাইন গ্রোথ রেস্ট্রিকশন) অর্থাৎ বাচ্চার স্বাভাবিক এর তুলনায় ওজন কমে যেতে পারে।
3. সময়ের আগেই প্রসব হতে পারে।
4. গর্ভের শিশুর মৃত্যু (Stillbirth)-এর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
5. জন্মের পর শিশুর রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে।
6. নবজাতকের শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
7.গর্ভাবস্থার শুরুতে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে শিশুর জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ে।
মায়ের ক্ষেত্রে হতে পারে:
উচ্চ রক্তচাপ ও প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া, অতিরিক্ত অ্যামনিওটিক ফ্লুইড (Polyhydramnios), সিজারিয়ান প্রসবের সম্ভাবনা বৃদ্ধি, বারবার সংক্রমণ, ডায়াবেটিসজনিত গুরুতর জটিলতা
ছবিতে এই মা এর টাইপ 2 ডায়াবেটিস থাকার কারণে আগের দুটি বাচ্চা মৃত প্রসব হয়েছিল। এই প্রেগন্যান্সি তে সে আমার কাছে এসেছিল অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস নিয়ে এবং কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল যে এটাই তার লাস্ট চান্স কারণ আগের দুটি বাচ্চা সিজারিয়ান এর মাধ্যমেই মৃত প্রসব হয়েছিল।
এই প্রেগন্যান্সি তে তাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ চালানো হয় এবং ফিজিশিয়ান এর পরামর্শে তার সুগার নিয়ন্ত্রণ করা হল।
তবে সমস্যা শুরু হয় আট মাসের পর থেকে। USG করে দেখা যায় বাচ্চা আর বাড়ছিলনা এবং কিছুদিন পর থেকে বাচ্চা পেটের মধ্যে নড়াচড়া বন্ধ করে দেয়। তাকে ভর্তি করে কিছু প্রয়োজনীয় ইনজেকশন করি এবং সিদ্ধান্ত নিই ডেলিভারি করে দেওয়ার।
আজ এই মা এর কোলে এই সুস্থ বাচ্চা আর তার মিষ্টি হাসিটা দেখে আমার আনন্দ এই মা এর আনন্দের তুলনায় কিছু কম নয়।
✅ নিয়মিত গর্ভকালীন চেক-আপ করুন।
✅ সময়মতো GDM স্ক্রিনিং করান।
✅ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম মেনে চলুন।
✅ নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন।
✅ প্রয়োজনে ইনসুলিন বা অন্যান্য ওষুধ গ্রহণ করুন।
✅ শিশুর বৃদ্ধি ও সুস্থতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন।
ডা. লতিফা রহমান