Monzur Morshed Cardiologist

Call

Monzur Morshed Cardiologist As an invasive cardiologist in New York City, I blend research with practical experience gained from my background in emergency medicine.

Working in trauma centers and now in cardiology, I focus on evidence-based through the latest innovations.

10/14/2026

বন্যার পানিতে পা ডুবালেই বিপদ? কিডনি পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে!

বন্যারপানি #স্বাস্থ্যসচেতনতা #পায়েরসংক্রমণ

10/13/2026

স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল বেশি হলে শরীরে কী ঘটে জানেন?

অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে দীর্ঘদিন কর্টিসল ও অন্যান্য স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে থাকলে ঘুমের সমস্যা, পেটের মেদ বৃদ্ধি, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার পরিবর্তন, উদ্বেগ এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

আপনার শরীর কি অতিরিক্ত স্ট্রেসের সংকেত দিচ্ছে? বিস্তারিত জানতে ভিডিওটি দেখুন।

#স্বাস্থ্যসচেতনতা #মানসিকচাপ #হৃদরোগ

10/12/2026

ক্যাস্টর অয়েল (Castor Oil): সত্যিই কি চুল গজায়, বলিরেখা দূর করে, নাকি সবই প্রচলিত ধারণা?

ক্যাস্টর অয়েল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি শোনা যায়। কিন্তু বিজ্ঞান কী বলছে?

প্রাকৃতিক হলেই নিরাপদ নয়। ব্যবহারের আগে সত্যটা জানুন।

#ক্যাস্টরঅয়েল #সত্যওমিথ্যা #স্বাস্থ্যসচেতনতা #চুলেরযত্ন #ত্বকেরযত্ন

10/11/2026

বাংলাদেশের কোন মাছ হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য সবচেয়ে উপকারী? ইলিশ, রুই, কাতলা, পাঙাশ নাকি ছোট মাছ? কোন মাছ খাবেন, কতটুকু খাবেন, আর কীভাবে রান্না করলে হার্ট ভালো থাকবে? জেনে নিন।
“হার্ট ভালো রাখতে দামি মাছ নয়, সঠিক মাছ বেছে নেওয়াই জরুরি! বাংলাদেশের কোন মাছে রয়েছে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের উপকারী ওমেগা-৩?”
হ্যাশট্যাগ:
#হৃদরোগ #হার্টেরযত্ন #বাংলাদেশেরমাছ #ইলিশমাছ #ওমেগা৩ #হৃদরোগপ্রতিরোধ #স্বাস্থ্যসচেতনতা

10/10/2026

নীরবতা দুর্বলতা নয়, কখনো কখনো জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি

জীবনের একটা পর্যায়ে এসে আমরা বুঝতে শিখি, সব কথার উত্তর দিতে হয় না, সব অপমানের প্রতিবাদ তৎক্ষণাৎ করতে হয় না, আর সবাইকে নিজের ভালো দিকগুলো প্রমাণ করারও প্রয়োজন নেই।

কখনো কখনো নীরব থেকে নিজের কাজ করে যাওয়াটাই সবচেয়ে সুন্দর উত্তর।

জীবনে এমন মানুষ পাবেন, যারা আপনার ভালো কাজের মধ্যেও ভুল খুঁজবে। আপনি যতই আন্তরিক হোন, কেউ না কেউ আপনাকে ভুল বুঝবে। আপনি যতই অন্যের উপকার করুন, কেউ হয়তো আপনার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলবে।

তাতে কি আপনার ভালো কাজ থেমে যাবে?

কখনোই না।

মানুষের কথায় নিজের পথ পরিবর্তন করবেন না। আপনার সততা, পরিশ্রম আর সুন্দর উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে যান।

মনে রাখবেন, আপনি পৃথিবীতে সবাইকে সন্তুষ্ট করতে আসেননি। সবাই আপনাকে পছন্দ করবে না, সবাই আপনার সফলতায় খুশি হবে না। এমনকি যাদের জন্য অনেক কিছু করেছেন, তাদের কেউ কেউ একদিন আপনার অবদান ভুলেও যেতে পারে।

এতে কষ্ট পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই কষ্ট যেন আপনাকে একজন তিক্ত মানুষে পরিণত না করে।

বরং সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিখুন।

নীরবতার একটি অসাধারণ শক্তি আছে। এটি আমাদের নিজের ভুলগুলো নিয়ে ভাবতে শেখায়, আবেগের মুহূর্তে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখে এবং অন্যের কথার চেয়ে নিজের কাজের প্রতি বেশি মনোযোগী হতে সাহায্য করে।

কেউ আপনাকে ছোট করার চেষ্টা করলে নিজেকে ছোট ভাববেন না। কেউ আপনার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে হতাশ হবেন না। আবার কেউ আপনার সাফল্যকে অস্বীকার করলেও তার সঙ্গে তর্কে সময় নষ্ট করবেন না।

আপনার উত্তর হোক আপনার কাজ, আপনার চরিত্র এবং আপনার আচরণ।

জীবনে অনেক সময় এমন পরিস্থিতি আসবে, যখন মনে হবে আর পারছেন না। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পরও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছেন না। কাছের মানুষের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না।

সেই মুহূর্তে হাল ছেড়ে দেবেন না।

একটু নীরবে বসুন। নিজের জীবনের দিকে তাকান। কত বাধা পেরিয়ে আজ এখানে এসেছেন, কত কঠিন সময় অতিক্রম করেছেন, কতবার ভেবেছেন আর পারবেন না—অথচ ঠিকই আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন।

আপনার ভেতরে যে শক্তি আছে, অনেক সময় আপনি নিজেও তা উপলব্ধি করতে পারেন না।

আজ যে কষ্ট আপনাকে নীরব করে দিয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাই একদিন আপনাকে আরও ধৈর্যশীল, বিচক্ষণ এবং শক্তিশালী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।

তবে একটি কথা মনে রাখবেন, নীরবতা মানে অন্যায় মেনে নেওয়া নয়। নিজের অধিকার রক্ষা করতে, সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে এবং প্রয়োজনের সময় সাহায্য চাইতে অবশ্যই কথা বলবেন।

কিন্তু অহেতুক বিতর্ক, হিংসা, অপমান আর নেতিবাচক কথাবার্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে শিখুন।

কারণ জীবনের সময় খুব সীমিত। এই অল্প সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত অন্যের কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যয় করার কোনো অর্থ নেই।

নিজের পরিবারকে সময় দিন। মানুষের উপকার করুন। নতুন কিছু শিখুন। নিজের ভুল সংশোধন করুন। কারও সাফল্যে আনন্দিত হতে শিখুন। আর প্রতিদিন চেষ্টা করুন গতকালের চেয়ে একটু ভালো মানুষ হতে।

আরেকটি কথা—

যারা আজ আপনাকে অবহেলা করছে, তাদের অনুশোচনার অপেক্ষায় নিজের জীবন থামিয়ে রাখবেন না। আপনার জীবন তাদের স্বীকৃতির চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান।

আমরা কেউ জানি না আগামীকাল আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে। তাই আজকের দিনটিকে অর্থপূর্ণ করে তুলুন।

মানুষ আপনার সম্পর্কে কী বলল, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি আসলে কেমন মানুষ এবং আপনার কাজ অন্যের জীবনে কতটুকু উপকার করছে।

আমি বিশ্বাস করি, জীবনের প্রকৃত সাফল্য শুধু অর্থ, খ্যাতি কিংবা মানুষের প্রশংসায় নয়। নিজের বিবেকের কাছে সৎ থাকতে পারা, অন্যের ক্ষতি না করে এগিয়ে যাওয়া এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও মানবিকতা ধরে রাখতে পারার মধ্যেও সাফল্য রয়েছে।

নীরব থাকুন, কিন্তু স্বপ্ন দেখা বন্ধ করবেন না।

বিনয়ী থাকুন, কিন্তু নিজের যোগ্যতাকে ছোট করবেন না।

ধৈর্য ধরুন, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না।

মানুষের উপকার করুন, কিন্তু প্রতিদানের প্রত্যাশায় নিজের শান্তি নষ্ট করবেন না।

আর যখন মনে হবে কেউ আপনার চেষ্টা বুঝছে না, তখন মনে রাখবেন—মানুষের স্বীকৃতি না পেলেও আপনার আন্তরিক পরিশ্রমের মূল্য কমে যায় না।

আল্লাহ আপনার অন্তরের নিয়ত জানেন, আপনার চেষ্টা দেখেন।

তাই নীরবে ভালো কাজ করে যান, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করুন।

একদিন পেছনে ফিরে তাকিয়ে হয়তো বুঝবেন, যে কথাগুলোর উত্তর না দিয়ে আপনি নিজের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন, সেটাই ছিল আপনার জীবনের অন্যতম সঠিক সিদ্ধান্ত।

আপনার নীরবতা যেন পরাজয়ের গল্প না হয়, হয়ে উঠুক আপনার আত্মমর্যাদা, ধৈর্য আর এগিয়ে যাওয়ার সাহসের পরিচয়।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই প্রজ্ঞা দান করুন। আমিন।

Dr. Monzur Morshed, Cardiologist.

10/08/2026

এই গানটি আমার প্রিয় বাবার স্মৃতির উদ্দেশে এবং সেই সব বাবার প্রতি উৎসর্গ করছি, যাঁরা আজ আর আমাদের মাঝে নেই।

গানটির কথা আমার নিজের লেখা, সুর ও সংগীত পরিকল্পনাও আমার নিজের। পুরো সংগীত পরিচালনাও আমি নিজেই করেছি। যিনি গানটি গেয়েছেন, তিনি পেশাদার শিল্পী নন। তাই পরিবেশনায় কোনো ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

বাবাকে নিয়ে মনের কিছু কথা গানের মাধ্যমে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি। জানি না কতটুকু পেরেছি।

আসুন, আমরা সবাই মিলে আমার বাবাসহ পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া সব বাবার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাঁদের সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন, কবরের আজাব থেকে রক্ষা করেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। আমিন।

গানটি শুনে আপনাদের অনুভূতি ও মতামত মন্তব্যে জানাবেন। আমি আপনাদের প্রতিটি মন্তব্য পড়তে চাই। আপনাদের কথাগুলো শুনতে আমার খুব ভালো লাগবে।

সবাই আমার বাবার জন্য একটু দোয়া করবেন।

10/08/2026

Vitamin B12-এর সঙ্গে কিছু ওষুধ—হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কি সত্যিই বাড়তে পারে? জেনে নিন আসল তথ্য।

#ভিটামিনB12 #হার্টঅ্যাটাক #স্ট্রোক #স্বাস্থ্যসচেতনতা

10/07/2026

বাবাকে নিয়ে আমি একটি গান লিখেছি। কিন্তু গানটি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করার সাহস এখনও ঠিক করে উঠতে পারছি না।

গানটি তৈরি হওয়ার পর প্রথমে মাকে পাঠিয়েছিলাম। মা শুনে এত কেঁদেছিলেন যে অনেকক্ষণ আমার সঙ্গে কথাই বলতে পারেননি। আমিও যখন গানটির কথা ভাবি, চোখে পানি চলে আসে।

কয়েকবার ভেবেছি পোস্ট করব। আবার থেমে গেছি। কেন এত দ্বিধা, কেন এত ভয়—আমি নিজেও ঠিক জানি না। হয়তো কিছু স্মৃতি এতটাই নিজের, এত গভীরে থাকে যে সেগুলো সবার সামনে তুলে ধরতেও কষ্ট হয়।

গতকাল বাবাকে নিয়ে আমার লেখা একটি কবিতা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলাম। কবিতাটি পড়ে আপনারা অনেকেই এত সুন্দর কথা লিখেছেন যে মনে হলো, বাবাকে নিয়ে আরও কিছু কথা আপনাদের বলি।

কবিতাটিও আসলে ফেসবুকের জন্য লেখা হয়নি। কয়েক মাস আগে নিউইয়র্কের একটি লেখক সংগঠন তাদের প্রকাশিতব্য ম্যাগাজিনের জন্য আমাকে কিছু লিখতে বলেছিল। তখন বাবাকে নিয়ে এটি লিখেছিলাম। পরে আর দেওয়া হয়নি। হঠাৎ কয়েকদিন আগে লেখাটি খুঁজে পেলাম। পড়তে গিয়ে বাবার কথা খুব মনে পড়ল, তাই আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলাম।

আমার বাবা………………

আমার বাবা শুধু একটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন না। এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে তিনি খুব জড়িত ছিলেন। কারও কোনো সমস্যা হলে সাহায্য করার চেষ্টা করতেন। স্কুল, সমাজ আর মানুষের কাজেই তাঁর অনেকটা সময় চলে যেত।

তাই ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে বসে দীর্ঘ সময় গল্প করার সুযোগ আমাদের খুব বেশি হয়নি।

কিন্তু ছোটবেলা থেকেই আমার মধ্যে একটা বিষয় ছিল—আমি এমন কিছু করতে চাইতাম, যাতে বাবা আমাকে নিয়ে গর্ব করতে পারেন।

একবার গণিত পরীক্ষায় ৯৫ পেয়েছিলাম। কিন্তু কেন ৫ নম্বর কাটা হলো, তার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এমনকি শিক্ষকও বলেছিলেন, বিশেষ কোনো কারণ ছাড়াই ৫ নম্বর কাটা হয়েছে। আমি খুব রেগে গিয়েছিলাম। পরীক্ষার খাতাটি শিক্ষকের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমার এই রাগের কথা বাবাকে জানিয়েছিলেন। সেদিন রাতে বাবা বাড়ি ফিরে আমাকে ঘটনাটি বলেছিলেন।

আজ এত বছর পর ঘটনাটি খুব ছোট মনে হতে পারে। কিন্তু আমার এখনও পরিষ্কার মনে আছে।

আবার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়কার সেই কেন্দ্রীয় পরীক্ষার কথাও মনে আছে। গণিতে ১০০ পেয়েছিলাম এবং পুরো উপজেলায় প্রথম হয়েছিলাম। পরে আমাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছিল।

সেই বয়সে পুরস্কার বা প্রথম হওয়ার আনন্দ ছিল, কিন্তু তার চেয়েও বড় একটা আনন্দ ছিল—বাবা নিশ্চয়ই আমাকে নিয়ে খুশি হয়েছেন।

অথচ বাবা কোনোদিন আমাকে বলেননি, তোমাকে ডাক্তার হতে হবে, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে কিংবা জীবনে অমুক কিছু অর্জন করতেই হবে।

তিনি কখনো তাঁর স্বপ্ন আমার ওপর চাপিয়ে দেননি।

বাবার একটি কথায় আর কোনোদিন সিগারেট ছুঁইনি……..

কিশোর বয়সের আরেকটি ঘটনা আজও মনে পড়ে।

একদিন ধানক্ষেতের মাঝখানে গিয়ে জীবনে প্রথমবার একটি সিগারেট খেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, এখানে আমাকে কে দেখবে!

কিন্তু ছোট জায়গায় খবর বোধহয় ধানক্ষেত পেরিয়েও বাড়িতে পৌঁছে যায়।

সেদিন রাতে বাবা বাড়ি ফিরে আমাকে বকেননি। রাগও করেননি। খুব শান্তভাবে শুধু বলেছিলেন,

“শুনলাম তুমি সিগারেট খেয়েছ। ধূমপান ভালো নয়।”

ব্যস। এতটুকুই।

তারপর জীবনে আর কখনো সিগারেট খাইনি।

এখন ভাবি, আমাকে বোঝানোর জন্য মানুষটিকে কখনো অনেক কথা বলতে হয়নি। তাঁর শান্তভাবে বলা কয়েকটি কথাই যথেষ্ট ছিল।

ডাক্তার হওয়ার আগে অন্য একটি স্বপ্নও ছিল………..

ছোটবেলায় আমি বেশ ফ্যাশনপ্রিয় ছিলাম। অভিনয়ের প্রতিও আমার আগ্রহ ছিল।

হাইস্কুলের শেষ বছরে স্কুলের নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছিলাম। অবাক করার মতো বিষয়, প্রথম পুরস্কারও পেয়েছিলাম। এখন এত বছর পর ভাবলেও আমার নিজেরই বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।

বাবা আমার সেই দিকটিও দেখেছিলেন।

তিনি আমাকে নিরুৎসাহিত করেননি। বরং আমার আগ্রহকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আমাকে এম. এন. আক্তারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, যিনি সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং চট্টগ্রামের শিল্পী শেফালী ঘোষের অনেক গানের সঙ্গে কাজ করেছিলেন।

সম্ভবত ১৯৮৮ সালের দিকে বাবা আমাকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন।

সেই সময় ‘নীতিবান’-এর প্রযোজক মাহফুজুর রহমানের সঙ্গেও আমার দেখা হয়েছিল চলচ্চিত্রে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে।

জীবন হয়তো অন্যরকমও হতে পারত।

কিন্তু আমার মায়ের চিন্তা ছিল অন্যরকম। তিনি মনে করতেন, ওই জগতে যাওয়া আমার জন্য ভালো হবে না।

আমি বাবাকে খুব ভালোবাসতাম। তাঁকে খুশি করতে চাইতাম। আবার মাকেও খুব ভালোবাসতাম। তাঁর মনে কষ্ট দিয়ে কিছু করতে পারিনি।

শেষ পর্যন্ত সেই পথে আর যাওয়া হয়নি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমি আমেরিকায় চলে আসি।

আজ ভাবলে ভালো লাগে—বাবা কখনো আমাকে নিজের পছন্দের কোনো ছাঁচে ঢোকানোর চেষ্টা করেননি। আমার মধ্যে যে আগ্রহ দেখেছিলেন, সেটাকে বিকশিত করার সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন।

পরে বাবাকে যেন নতুন করে পেয়েছিলাম…………..

অনেক বছর পর যখন বাবাকে আমেরিকায় আমার কাছে নিয়ে আসতে পেরেছিলাম, তখন যেন ছোটবেলায় না-পাওয়া কিছু সময় ফিরে পেয়েছিলাম।

আমরা একসঙ্গে রান্না করতাম। বাইরে যেতাম।

বয়স বাড়ার পর আমি বাবাকে শেভ করতে সাহায্য করতাম। আমার স্ত্রী তাঁর চুল কেটে দিত। আমার স্ত্রীর হাতের রান্না বাবা খুব পছন্দ করতেন।

কোনো বড় ঘটনা নয় এগুলো।

কিন্তু আজ মনে হয়, জীবনের বড় বড় অর্জনের চেয়ে সেই সাধারণ দিনগুলোর মূল্যই অনেক বেশি।

আর একবার যদি সেই দিনগুলো ফিরে পেতাম!

মানুষটি খুব সাধারণ ছিলেন………….

বাবা B.Ed.-এ প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। তারপরও বেশি অর্থ উপার্জনের জন্য সরকারি স্কুলে যাওয়ার কথা ভাবেননি। নিজের স্কুল, নিজের ছাত্র আর নিজের এলাকার মধ্যেই জীবন কাটিয়েছেন।

অবসরের সময় কোনো বিদায়ী উপহারও নিতে চাননি।

জীবনে কোনো পেনশনও পাননি।

আমার কাছেও কোনোদিন একটি পয়সা চাননি।

আমি যখন তাঁর জন্য কিছু কিনে দিতাম, অনেক সময় পরে দেখতাম, সেটিও তিনি অন্য কাউকে দিয়ে দিয়েছেন।

তখন আমার খুব খারাপ লাগত।

মনে হতো—এত যত্ন করে বাবার জন্য কিনলাম, আর বাবা অন্য কাউকে দিয়ে দিলেন!

আজ সেই কথা মনে পড়লে আর খারাপ লাগে না।

আজ শুধু মনে হয়—

আর যদি একবার বাবার জন্য কিছু কিনে দিতে পারতাম!

তিনি চাইলে আবার অন্য কাউকে দিয়ে দিতেন।

আমি আর কিছু বলতাম না।

যখন দেওয়ার সামর্থ্য হলো, তখন বাবা নেই………

আমার জীবনের একটি আক্ষেপ আমাকে আজও খুব কষ্ট দেয়।

যখন আমি একটু সচ্ছল হলাম, তখন আমার বাবা আর এই পৃথিবীতে নেই।

বাবা আমার কাছে কোনোদিন কিছু চাননি। সম্ভবত সেই কারণেই তাঁকে কিছু দেওয়ার ইচ্ছাটা আমার আরও বেশি ছিল।

কিন্তু সময়টা যেন মিলল না।

আজ আমার অনেক কিছু দেওয়ার সামর্থ্য হয়েছে—

শুধু দেওয়ার জন্য বাবা নেই।

আজ মানুষ আমাকে টেলিভিশনে দেখে। আমার লেখা বই প্রকাশিত হয়। আমার লেখা পড়ে মানুষ প্রশংসা করে। জীবনে এমন অনেক কিছু ঘটেছে, যেগুলো ছোটবেলায় হয়তো কল্পনাও করিনি।

কিন্তু যাঁকে গর্বিত করার জন্য ছোটবেলা থেকে এত পরিশ্রম করেছি, সেই মানুষটি এসব কিছুই দেখে যেতে পারলেন না।

এই জায়গাটায় এসে আমার সব অর্জন খুব ছোট মনে হয়।

মাঝে মাঝে শুধু মনে হয়—

বাবা, আপনি যদি আর কয়েকটা বছর থাকতেন!

তাই হয়তো গানটি পোস্ট করতে ভয় লাগে…………….

হয়তো এখন বুঝতে পারছি, বাবাকে নিয়ে লেখা গানটি পোস্ট করতে আমার এত দ্বিধা কেন।

এটা শুধু একটি গান নয়।

এর মধ্যে আছে ধানক্ষেতের মাঝখানে লুকিয়ে সিগারেট খাওয়া সেই কিশোরটি, বাবার শান্ত একটি বাক্য, গণিতে ৯৫ পেয়ে রাগ করা ছেলেটি, আবার ১০০ পেয়ে বাবাকে খুশি করতে চাওয়া সেই একই ছেলে।

এর মধ্যে আছে অভিনয় করতে চাওয়া এক কিশোর, যার আগ্রহকে বাবা থামিয়ে দেননি।

এর মধ্যে আছে অনেক বছর পর আমেরিকায় বাবার সঙ্গে রান্না করা, বাইরে যাওয়া, তাঁকে শেভ করতে সাহায্য করা, আমার স্ত্রীর তাঁর চুল কেটে দেওয়া এবং তাঁর আনন্দ করে আমার স্ত্রীর রান্না খাওয়া।

আর এর মধ্যে আছে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আক্ষেপগুলোর একটি—

যখন বাবার জন্য অনেক কিছু করার সামর্থ্য হলো, তখন বাবা আর নেই।

গানটি তৈরি করে মাকে পাঠিয়েছিলাম। মা শুনে অনেকক্ষণ কথা বলতে পারেননি।

হয়তো মা গানটির মধ্যে তাঁর জীবনসঙ্গীকে খুঁজে পেয়েছিলেন।

আর আমি খুঁজে পাই আমার বাবাকে।

যাঁকে জীবনে অনেক কথা বলা হয়নি।

যাঁর জন্য আরও অনেক কিছু করার ইচ্ছা ছিল।

যাঁকে দেখানোর মতো আজ অনেক কিছু আছে—

শুধু মানুষটিই নেই।

বাবা, আপনি যেখানেই থাকুন, আপনাকে খুব মনে পড়ে।

ছোটবেলায় যেমন চেষ্টা করতাম আপনাকে গর্বিত করতে, আজও হয়তো নিজের অজান্তে সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।

I miss you, Dad.

আপনারা আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। আর পৃথিবীর যেসব বাবা আজ আমাদের মাঝে নেই, তাঁদের সবার জন্যও দোয়া করবেন।

আল্লাহ যেন তাঁদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করেন, তাঁদের প্রতি রহম করেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।

আমিন।

হতভাগ্য এক সন্তান , আপনার মনজুর….

10/07/2026

কোলাজেন খেলে হার্ট অ্যাটাক কমে—সত্যি, নাকি নতুন এক স্বাস্থ্য-মিথ?

#হার্টঅ্যাটাক #হৃদরোগ #কোলাজেন #স্বাস্থ্যসচেতনতা

সময়ের কাছে আমরা সবাই”Dr. Monzur Morshedএকদিন আমি ছিলাম ছোট,বাবা ছিলেন পাহাড়ের মতো শক্ত।বাবার কাঁধে বসে দেখতাম আকাশ,মনে...
10/07/2026

সময়ের কাছে আমরা সবাই”
Dr. Monzur Morshed

একদিন আমি ছিলাম ছোট,
বাবা ছিলেন পাহাড়ের মতো শক্ত।
বাবার কাঁধে বসে দেখতাম আকাশ,
মনে হতো—তিনি হবেন না কখনো ক্লান্ত, নিরাশ।
তার হাঁটার শব্দ ছিল ঘরের সাহস,
তার হাসিতেই দূরে যেত জীবনের হতাশ।

আজও মনে পড়ে সেই কাঁপা হাত ধীরে,
শেভ করিয়ে দিতাম দাঁড়িয়ে পাশে নীরবে।
যে মানুষটি একদিন ধরেছিলেন আমার হাত,
শেষ বয়সে হাঁটতেন খুব সাবধানে দিন আর রাত।

আজ বাবা নেই—তবু গভীর রাতে কখনো,
মনে হয় তার ডাক এখনও ভাসে নীরব ক্ষণে যেনো।
তার খালি চেয়ারটা আজও চুপচাপ তাকিয়ে রয়,
বাবাকে হারানোর ব্যথা কি কোনোদিন সত্যিই ক্ষয় হয়?

মায়ের হাত ছিল আশ্রয়ের ছায়া,
ভয় পেলেই বুকে টেনে দিতেন মায়া।
মায়ের চোখে আগের মতো আলো নেই আর,
সিঁড়ি ভাঙতে গেলেই হাঁপিয়ে ওঠেন বারবার।
যে মা রাত জেগে রাখতেন আমার জ্বরের খোঁজ,
আজ তিনিই ভুলে যান কখন সকাল, কখন রোজ।

আর আয়নায় তাকিয়ে হঠাৎ একদিন,
দেখি আমিও বদলে যাচ্ছি প্রতিদিন।
চোখের নিচে ক্লান্তি নামে অচেনা ছায়ায়,
সময়ের ঘড়িটাকে থামাতে কেউ কি আর পায়?

জীবন বড় নির্মম, তবু এটাই সত্য,
আজ যারা তরুণ, কাল তারাও হবে বৃদ্ধ।
তাই বৃদ্ধ মানুষকে বোঝা ভেবো না কখনো,
তারা আমাদের শেকড়, আমাদের জীবনের ধন।

বৃদ্ধ মানুষ শিশুর মতো আবার হয়ে যায়,
ভালোবাসার একটু স্পর্শ নীরবে শুধু চায়।
তাদের ধৈর্য, দোয়া, ত্যাগ—অমূল্য আশীর্বাদ,
তাদের ছাড়া ফাঁকা লাগে জীবনের প্রতিটি স্বাদ।

একদিন আমরাও হয়তো বসব নিঃশব্দ ঘরে,
অপেক্ষা করব কেউ এসে ডাকবে ভালোবেসে কাছে ধরে।
সেদিন যেন আমাদের সন্তান শেখে এই বাণী—
“বৃদ্ধ মানুষ বোঝা নয়,
তারা আল্লাহর দান, জীবনের শেষের পূর্ণিমা চাঁদখানি।”

Dr. Monzur Morshed ( Cardiologist)

Address

Manhattan
New York, NY
10462

Telephone

+13474905889

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Monzur Morshed Cardiologist posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Sponsored

Share