Dr. M Faruk Hosain

Dr. M Faruk Hosain Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dr. M Faruk Hosain, Doctor, Baliakandi.

25/04/2026
২০১০৭ জন ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুকে বিনামূল্যে ১ ডোজ হামের টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আজ ২০/০৪/২০২৬ থেকে বাল...
20/04/2026

২০১০৭ জন ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুকে বিনামূল্যে ১ ডোজ হামের টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আজ ২০/০৪/২০২৬ থেকে বালিয়াকান্দি উপজেলায় শুরু হয়েছে হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬. যা আগামী মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত চলবে। আপনার শিশুকে টিকাদানের মাধ্যমে হাম রোগের ভয়াবহতা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করুন।

"হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬"হাম ও রুবেলা মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়-টিকা দেয়া। আগাম...
13/04/2026

"হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬"
হাম ও রুবেলা মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়-টিকা দেয়া।

আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে ২০২৬ পর্যন্ত বালিয়াকান্দি উপজেলার ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে হাম রুবেলার(MR) এক ডোজ টিকা দেয়া হবে।
যে শিশুর 17 ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন রয়েছে, সেই শিশুর অভিভাবকদের https://vaxepi.gov.bd/ এর মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে একটি টিকা কার্ড ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

আপনার শিশু সংশ্লিষ্ট টিকাদান কেন্দ্রে বিনামূল্যে এই টিকা পাবে।

আপনার সোনামনি কে টিকা দিন, সবাইকে টিকা দিতে বলুন।

  /হাম Outbreak ও সচেতনতামূলক কিছু কথা ★Measles (মিজেলস) কী?এটি একটি ভাইরাসজনিত অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা measles virus‑এ...
29/03/2026

/হাম Outbreak ও সচেতনতামূলক কিছু কথা

★Measles (মিজেলস) কী?

এটি একটি ভাইরাসজনিত অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা measles virus‑এর মাধ্যমে ছড়ায়। এটি প্রধানত শিশুদের মধ্যে বেশি হয়, যদিও বয়স্করাও আক্রান্ত হতে পারে।

★ কিভাবে ছড়ায়?

আক্রান্ত ব্যক্তি যখন কাশি বা হাঁচি দেয়, ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে; সুস্থ মানুষ এটি শ্বাসের মাধ্যমে নিলেই সংক্রমিত হতে পারে।

ভাইরাস সংক্রমিত ব্যক্তির শ্বাস‑প্রশ্বাস বা থুতুর ফোঁটা দুই ঘন্টা পর্যন্ত বাতাস/পৃষ্ঠে জীবিত থাকতে পারে।

একই ঘরে থাকলে প্রায় ৯০% অকার্যকরী টিকা‑নেওয়া বা ইমিউনিটি নেই/ কম এমন মানুষ সংক্রমিত হবে।

সংক্রমণ ক্ষমতা খুব বেশি, আক্রান্ত ব্যক্তি একাই প্রায় ১০–১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে যদি ভ্যাকসিন না নেয়।

★ উপসর্গ (Symptoms)

সাধারণত সংক্রমণের ৭–১৪ দিনের মধ্যে শুরু হয়।

১) জ্বর
২) কাশি এবং শ্বাসকষ্ট
৩) নাক দিয়ে পানি বের হওয়া
৪) চোখ লাল হওয়া ও চোখ দিয়ে পানি পড়া (conjunctivitis)
৫) মুখের ভিতরে ছোট ছোট সাদা দাগ (Koplik spots)
— এগুলি র‌্যাশ হওয়ার আগেই দেখা যায়।

র‌্যাশ — প্রথমে মুখ/ঘাড় থেকে শুরু হয়ে শরীরের ওপর থেকে নিচে ছড়িয়ে পড়ে।

** র‌্যাশ হওয়ার ৪ দিন আগে থেকেই এবং র‌্যাশের ৪ দিন পরে পর্যন্ত সংক্রমিত করতে পারে।

★ ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপ

১) টিকা না নেওয়া শিশু
২) শিশুদের মধ্যে ০–৫ বছর
৩) অপুষ্ট শিশু
৪) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন দুর্বল ব্যক্তি
৫) গর্ভবতী নারী
এরা কম‑বেশি জটিলতায় পড়তে পারে।

★ জটিলতা

১) ফুসফুসের সংক্রমণ (Pneumonia)
২) কানের সংক্রমণ
৩) মস্তিষ্কে প্রদাহ (Encephalitis)
৪) দীর্ঘমেয়াদে পুষ্টির অভাব/ইমিউন সিস্টেমে ক্ষতি
৫) খুব বিরল ক্ষেত্রে Subacute Sclerosing Panencephalitis (SSPE) – কয়েক বছর পরে মস্তিষ্কের জটিল রোগ ঘটায়।

★করণীয়

Measles (হাম) হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগীকে বাসায় রেখে সঠিক যত্ন নিলে ভালো হয়ে যায়।তবে সতর্কতা খুব জরুরি, কারণ এটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং জটিলতা হতে পারে।

১)আলাদা /Isolate রাখুন
২)জ্বর নিয়ন্ত্রণ করুন- প্যারাসিটামল দিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী
৩)পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার দিন(পানি, স্যালাইন,সহজপাচ্য খাবার- খিচুড়ি, স্যুপ,ফল হিসেবে কলা, ভাতের সাথে ১ পিস লেবু, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত হলে ডাবের পানি)
৪) Vitamin A ক্যাপসুল Measles চলাকালীন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়াবেন।
*** ৫ বছর পর্যন্ত Measles উপসর্গ না থাকলেও যে সকল শিশু ৬ মাসের মধ্যে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খায় নি তাদের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করুন।
৫)বিপজ্জনক লক্ষণ দেখলে হাসপাতালে নিয়ে যান, যেমন :
শ্বাসকষ্ট
খিঁচুনি
খুব বেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া
খাওয়া বা পানি পান বন্ধ
কান ব্যথা বা কানে পুঁজ
জ্বর ৪–৫ দিনের বেশি থাকলে

★ প্রতিরোধ
টিকা হলো প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

১) Measles, Mumps & Rubella (MMR) ভ্যাকসিন দেওয়া যায়।

২) বাংলাদেশে জাতীয় সম্প্রসারিত ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি অনুযায়ী- MR (Measles, Rubella) vaccine দেওয়া হয়।

সাধারণত
১) প্রথম ডোজ: ৯ মাস বয়সে
২) দ্বিতীয় ডোজ: ১৫ মাস বয়সে

দুই ডোজ ভ্যাকসিন আনুমানিক ৯৭% কার্যকর। কমপক্ষে ৯৫% মানুষ টিকা নিলে রোগের সম্প্রসারণ রোধ করা যায় — একে বলা হয় Herd Immunity।

*****WHO এবং বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, দুই ডোজই নেওয়া বাধ্যতামূলক।

(রেগুলার স্কুল, এক্সট্রা কারিকুলার শিক্ষার জায়গা-- আর্ট, গান, কারাতে ইত্যাদিতে (ভর্তির
সময়) ভ্যাক্সিন কার্ডের কপি দেওয়া বাধ্যতামূলক করার মত ব্যবস্থা সরকার নিতে পারেন)

★ বিশেষ পরিস্থিতি

***Outbreak এর সময় ৬ মাসের শিশুরাও টিকা পেতে পারে (বুস্টার হিসেবে)।

*****CATCH UP vaccination- যারা পূর্বে বিভিন্ন কারণে টিকা নিতে পারেন নি- তারা অতিসত্ত্বর ২ ডোজ টিকা ৪ সপ্তাহ ব্যবধানে নিতে পারেন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।

★ সতর্কতা জনসাধারণের জন্য :

১) রোগীর কাছ থেকে দূরে থাকা
২) হাত ধোয়া, নাক ও মুখ ঢেকে রাখা- মাস্ক ব্যবহার করুন
৩) ভ্যাকসিন না নেওয়া শিশুদেরকে জনগণের সংস্পর্শ থেকে বিরত রাখা

★★★স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে নিজেদের সুরক্ষায় করণীয় :

১) ২ ডোজ MR/MMR টিকা নেওয়া আছে কিনা নিশ্চিত করুন।
২) সবসময় মাস্ক ব্যবহার করুন ও হাত ধুবেন (Hand hygiene maintenance)।
৩) Measles রোগী isolate/ আলাদা রাখা জরুরি।
৪) Exposure হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া
- টিকা নেওয়া থাকলে: ২১ দিন পর্যন্ত উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করুন
- টিকা না থাকলে: ৭২ ঘন্টার মধ্যে MR/MMR vaccine নিন
৫) উপসর্গ হলে isolate/ আলাদা থাকুন।

ডা. আসসাদে তারান্নুম,
এমবিবিএস(ডিএমসি),
বিসিএস (স্বাস্থ্য),
এমসিপিএস (শিশুস্বাস্থ্য),
এফসিপিএস (শিশুস্বাস্থ্য)।

21/03/2026

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বালিয়াকান্দি, এর পক্ষ থেকে
সকলকে জানাই পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক।
ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্তে আমরা কামনা করি—
সবার জীবন ভরে উঠুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।
এই বিশেষ দিনেও আমাদের স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে
আমাদের ডাক্তার, নার্স, স্যাকমো ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা এবং অন্যান্য জরুরী সেবায় নিয়োজিত প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার বিদ্যুৎ বিভাগ ও অন্যান্য
নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
তাদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
সকলের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবন কামনায়—

ডাঃ মোঃ ফারুক হোসেন
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ী

একটু সময় নিয়ে পড়ে দেখতে পারেন।ফেসবুকে টাইফয়েড ভ্যাকসিন সংক্রান্ত একটি লেখা ভাইরাল হয়েছে। লেখাটি যিনি লিখেছেন তিনি চিক...
16/10/2025

একটু সময় নিয়ে পড়ে দেখতে পারেন।

ফেসবুকে টাইফয়েড ভ্যাকসিন সংক্রান্ত একটি লেখা ভাইরাল হয়েছে। লেখাটি যিনি লিখেছেন তিনি চিকিৎসক বা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নন এবং ডিজিজ এপিডেমিওলজি সম্পর্কে তার কোন ধারনা নেই। তার ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে পরে বলছি, প্রথমে তার লেখার দাবিগুলো ডিবাংক করি।

লেখক দাবী করেছেন আইসিডিডিআরবি নাকি গবেষণায় পেয়েছে দেশে টাইফয়েড আক্রান্তের হার ১% এবং সেখান থেকে বলতে চেয়েছেন ১০০ জনে ৯৯ জনেরই প্রাকৃতিকভাবে টাইফয়েড হয়না। প্রথমত, আইসিডিডিআরবি এ ধরনের কোন গবেষণা করেনি। এটা আমার কথা না, জানিয়েছেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের এসিস্টেন্ট সায়েন্টিস্ট ডা: গাজী সালাহউদ্দীন মামুন। বরং তাদের ACORN-HAI গবেষণায় তারা দেখেছেন ২ বছরে (২০২৩-২৪) হাসপাতালে ডায়রিয়া ও অন্যান্য ইনফেকশন নিয়ে ভর্তি হওয়া ৮২৯ জন রোগীর মাঝে ২৪৯ জনের (৩০% এর বেশি) রক্তে টাইফয়েড জীবানু বিদ্যমান।

এ সংক্রান্ত সবচেয়ে বড় গবেষণাটি হয়েছে বাংলাদেশ, নেপাল ও পাকিস্তান এই তিন দেশ মিলিয়ে "এশিয়া প্রজেক্ট"-এ। ২০১৬-২০১৯ সাল পর্যন্ত ঢাকার ২টি হাসপাতালের আউটডোরে যারা ৩ বা তার চেয়ে বেশি দিনের জ্বর নিয়ে এসেছে, ইনডোরে যারা সম্ভাব্য টাইফয়েড জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছেন এবং কোন রকম আঘাত ছাড়া ক্ষুদ্রান্তের ছিদ্র নিয়ে ভর্তি হয়েছেন এবং এমন ১৭,৪৪১ জনের মাঝে ৪৮৭৩ জনের (২৮%) রক্তে নিশ্চিতভাবে টাইফয়েডের জীবানু পাওয়া গেছে।

নেপালে ২২% এবং পাকিস্তানে ২৫% লোকের ক্ষেত্রে টাইফয়েডের জীবাণু পাওয়া গেছে। এই গবেষণায় আরও বলেছে বাংলাদেশে সমগ্র জনগোষ্ঠীতে নতুনভাবে টাইফয়েড (ইনসিডেন্স) রোগে আক্রান্তের হার প্রতি লাখে ৯১৩ জন (~১%)। ভাইরাল লেখাটির লেখক মূলত এই হিসাবটিই দিয়েছেন। এবং এখান থেকেই দাবী করেছেন ৯৯% লোক টাইফয়েড আক্রান্ত হয়না প্রাকৃতিকভাবে। গবেষণাটি আইসিডিডিআরবির নয়।

১% ব্যাপারটি খুবই কম মনে হতে পারে আপাত দৃষ্টিতে। তাই চলুন অন্যান্য রোগের সাথে তুলনা করি। বাংলাদেশে ১৯৯০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বিভিন্ন রোগের হার ভিত্তিক সবচেয়ে বড় গবেষণা যেটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিখ্যাত জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত হয়েছে তার একজন ক্ষুদ্র সহলেখক ছিলাম আমি। আমাদের সেই গবেষণায় দেখা গেছে ২০১৯ সালে বাংলাদেশে সকল ধরনের ক্যান্সার এর হার প্রতি লাখে "মাত্র" ৫৩০ জন (০.৫৫%), সকল ধরনের হৃদরোগের হার প্রতি লাখে "মাত্র" ৪৩৫৫ জন (৪.৫%), স্ট্রোকের হার প্রতি লাখে "মাত্র" ৮৩৪ জন (০.৮৭%)।

এই হিসাব থেকে কি বলা যায় যে প্রাকৃতিকভাবে দেশের ৯৯.৪৫% লোকের ক্যান্সার হবে না, ৯৫.৫% লোকের হৃদরোগ হবে না কিংবা ৯৯.১৩% লোকের স্ট্রোক হবে না? না, এটা বলা যায় না কারন মানুষের বয়স, ঝুকি, লিঙ্গ, অভ্যাস, ইত্যাদি নানা কিছুর ভিত্তিতে ঝুকির মাত্রা পরিবর্তি হয়। সহজ একটি উদাহরন দেই, ল্যানসেটে প্রকাশিত আমাদের গবেষণাটিতে আমরা পেয়েছি বাংলাদেশে ২০১৯ সালে সব ধরনের কারন জনিত মৃত্যুর হার ছিলো প্রতি লাখে ৭১৪ জন (০.৭১%)। তাহলে কি বলা যায় বাংলাদেশে ৯৯.২৯% লোকের কখনো মৃত্যু হবে না?!

অদ্ভূত শোনাচ্ছে না? ঠিক তাই, রাজিব সাহেবের হিসাবও একই রকম বাস্তবতা বিবর্জিত। বাস্তবে বর্তমান সময়ে প্রতি ৪ জনে ১ জন (২৫%) ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার ঝুকিতে আছেন। ২০১৯ সালে সকল মৃত্যুর কারনে মাঝে স্ট্রোক ছিলো ১ নাম্বার, ২য় কারন হৃদরোগ, ৩য় প্রধান কারন শ্বাসতন্ত্রের ক্রনিক রোগ।

ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণাটিতে আমরা দেখেছি বাংলাদেশে প্রতি লাখে ৫ জন টাইফয়েডে মৃত্যুবরণ করে যা মোট জনসং্খ্যার হিসেবে বছরে প্রায় ৮০০০ জন। এদের মাঝে ৬৮% শিশু, অর্থাৎ ৫৪৪০ জন শিশু। টাইফয়েড টিকার কার্যকারিতা ৮৫%, তাহলে এই ৬৮০০ জনের অন্তত ৪৬২৪ জন শিশু টিকার কারনে বেচে যাবে। এছাড়াও আরও হাজার হাজার শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে বাচবে।

টাইফয়েড রোগের কেস ফ্যাটালিটি রেট অর্থাৎ এই রোগে মৃত্যুর সম্ভাবনা ২.৫% অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনে আড়াই জন মারা যেতে পারে। কোভিডের শুরুর দিকে এই হার ছিলো ২-৫% আর তাতেই সারা বিশ্ব বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। ভাগ্য ভালো যে টাইফয়েড হাচি কাশি বা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। মৃত্যু ছাড়াও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকের ক্ষুদ্রান্ত্র ছিদ্র হয়ে যাওয়া, রক্তপাত, লিভার ফেইলউর, সেপসিস এমনকি পার্মানেন্ট ব্রেইন ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে।

নিকটাত্মীয়দের মাঝে আমার বড় মামার টাইফয়েড জনিত কারনে পার্মানেন্ট ব্রেইন ড্যামেজ হয়ে গিয়েছিলো। খুজলে এমন আরও অনেককেই পাবেন। আধুনিক যুগে শক্তিশালী এন্টিবায়োটিক এর কারনে টাইফয়েড এর চিকিৎসা সহজ হয়েছে কিন্তু ঘন ঘন অপিরিমিত মাত্রায় এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারনে জীবাণুরা এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে পড়ছে। দেখা গেছে আগে ছোট খাট এন্টিবায়োটিক খেলে সেরে যেত কিন্তু এখন উচ্চমাত্রা দামী রিসার্ভ এন্টিবায়োটিক দিতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসার খরচ ও বাড়ছে।

লেখক দাবী করেছেন টাইফয়েডের ভ্যাকসিন ইউরোপ আমেরিকায় দেয়া হয়না। ঠিক, কেননা সে দেশে টাইফয়েড এর জীবানু নেই। টাইফয়েড এর জীবাণু দক্ষিন এশিয়ায় বেশি তাই এখানে টিকা দেয়া হয়। এটাই গণ টিকার নিয়ম, যে দেশে যে রোগ বেশি সে দেশে সেই টিকা। একই কারনে ইউরোপ আমেরিকায় যক্ষার টিকা দেয়া হয়না।

আমি ইংল্যান্ডে ৪ বছর থেকেছি, বর্তমানে কানাডায় আছি। এসব যায়গায় গণটিকা দেয়া হয় মিজেলস, মামপ্স, হেপাটাইটিস, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস সহ নানা রোগের বিরুদ্ধে। এছাড়াও প্রতি সিজনে ইনফ্লুয়েঞ্জা এর টিকাও দেয়া হয় বিনামূল্যে, বয়স্কদের দেয়া হয় হার্পিস জুস্টারের টিকা। আমাদের দেশে এগুলোর প্রচলন নেই। অনেকে নিজ পয়সায় কিনে নেন। টাইফয়েড অনেক মানুষ বিশেষ করে শিশুদের আক্রান্ত করে বলেই সরকার পয়সা খরচ করে বিনামূল্যে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করেছে।

লেখক রাজিব সাহেব বলছে এতে ওষুধ কোম্পানির লাভ। টাইফয়েড এই টিকার দাম ২-৩ হাজার টাকা বড়জোর, অন্যদিকে টাইফয়েড আক্রান্ত হলে ৭-১৪ দিনের এন্টিবায়োটিক, জ্বর ও অন্যান্য লক্ষণ নিরাময় মিলিয়ে ওষুধের মোট খরচ এর চেয়ে অনেক বেশি। হাসপাতালে ভর্তি হলে সেটার আলাদা খরচ এবং রোগ জটিল হলে সামগ্রিক খরচ বেড়ে লক্ষাধিক টাকা হয়ে যেতে পারে। সুতরাং ভ্যাকসিন দিয়ে সবাইকে সুরক্ষিত করাটা ওষুধ কোম্পানির জন্য বেশি লাভজনক নাকি এন্টিবায়োটিক ও অন্যান্য ওষুধ বিক্রি করা বেশি লাভ জনক?

টাইফয়েডের যে ভ্যাকসিনটি বাংলাদেশে দেয়া হচ্ছে সেটি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত। এটি কোন পরীক্ষালব্ধ ভ্যাকসিন নয়। এর কার্যকারিতা প্রমানিত। এটি নেপাল ও পাকিস্তানেও দেয়া হয়েছে, ভারতের অনেকগুলো রাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, মায়ানমার, ইরাক, ঘানা, লাইবেরিয়া, জিম্বাবুয়ে সহ বহু দেশে এই ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। কানাডায় টাইফয়েড জীবাণু নেই তবে কানাডিয়ানরা এই সব দেশের কোনটিতে যেতে চাইলে ভ্রমণ সতর্কতা হিসেবে টাইফয়েড ভ্যাকসিন নিতে বলে।

এবার আসি লেখক রাজিব আহামেদ এর কথায়। এই ব্যক্তি চিকিৎসক বা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নন। তিনি একজন সেলস ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট অর্থাৎ ব্যবসায়িক পণ্য বিপনন সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ। সেলস নিয়ে তিনি কর্পোরেট ট্রেনিং দেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিএ ও জার্নালিজম ডিপ্লোমা। তিনি নিজেকে স্বাস্থ্য গবেষক বলে পরিচয় দেন কিন্তু তার কোন প্রকাশিত গবেষণা পত্র নেই। তবে তিনি বাংলায় স্বাস্থ্য বিষয়ক ও মার্কেটিং বিষয়ক নানা বই লিখেছেন। তিনি স্বাস্থ্য বিষয়ক বই লেখা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্পোরেট কর্মশালার আয়োজন করেন যার ফি ২০০০ টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত! অর্থাৎ তার একটি সেশনের মূল্য টিকার দামের চেয়ে বেশি।

অবধারিতভাবেই তিনি তার স্বাস্থ্য বিষয়ক নানা প্রপাগান্ডা বিশ্বাসযোগ্য করতে ধর্মের আশ্রয় নেন। অথচ টাইফয়েড টিকা গ্রহণের ব্যাপারে উৎসাহিত করে বক্তব্য দিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ও ইসলামি পন্ডিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বনামধন্য জনাব আ ফ ম খালিদ হোসেন (লিংক কমেন্টে)। ধর্মীয় রেফারেন্সের ক্ষেত্রে খালিদ হোসেনে ভরসা রাখবেন নাকি মার্কেটিং গুরু রাজীব আহামেদে?

এবার আমার পরিচয় দেই। আমি একজন চিকিৎসক, এমবিবিএস এর পর জনস্বাস্থ্য বিষয়ক MPH (রোগতত্ত্ব) সম্পন্ন করে, মলিকুলার মেডিসিন বিষয়ে যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে MSc শেষ করে বর্তমানে ক্যান্সার বিষয়ে পিএইচডি ক্যান্ডিডেট একই বিশ্ববিদ্যালয়ের। এখন আমি আমার এই শিক্ষাগত পরিচয়ের বিপরীতে রাজিব আহমেদের এমবিএর পরিচয় দিয়ে যদি বলি আমার কথা বিশ্বাস করেন সেটা হবে "আপিল টু অথরিটি" ফ্যালাসি।

তবে আমি যেহেতু বাংলাদেশে থাকি না, বাংলাদেশে রোগীদের চিকিৎসায় যুক্ত নই, কোন ওষুধ কোম্পানির সাথে জড়িত নই, স্বাস্থ্য বিষয়ক কোন বই লিখি না বা ২৫ হাজার টাকার ওয়ার্কশপ করাই না তাই এই লেখার পেছনে আমার কোন কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট বা স্বার্থ জড়িত নেই। রাজিব আহমেদ এর ক্ষেত্রে আছে। তবুও আমার কথা বিশ্বাস করার প্রয়োজন নেই। আপনি চাইলে নিজেই খুজে দেখতে পারেন, আমি কমেন্টবক্সে আমার দেয়া তথ্যের রেফারেন্স যোগ করেছি। গবেষণা প্রবন্ধ পড়ার অভ্যাস না থাকলে আপনি চ্যাট জিপিটিকেও জিজ্ঞেস করতে পারেন।

মোদ্দাকথা হচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক দেখে কোন ইনফ্লুয়েন্সার এর কথায় বিভ্রান্ত হবেন না বিশেষ করে স্বাস্থ্য তথ্যের ব্যাপারে। তথ্য দেখলে তা যাচাই করুন নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যেমন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, সিডিসি, এফডিএ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সেবা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বৈজ্ঞানিক জার্নাল। শিক্ষিত হোন, সচেতন হোন যেন কেউ আপনাকে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে।

ডা. মো: মারুফুর রহমান
চিকিৎসক ও গবেষক
দ্যা ইউনিভার্সিটি অফ শেফিল্ড, যুক্তরাজ্

অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা ও উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে বালিয়াকান্দিতে শুরু হয়েছে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫. এই টিক...
12/10/2025

অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা ও উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে বালিয়াকান্দিতে শুরু হয়েছে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫. এই টিকা অত্যন্ত নিরাপদ যা আপনার বাচ্চাকে টাইফয়েড জ্বরের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করবে l আপনারা কোন গুজবে কান না দিয়ে আপনার শিশুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করে টিকা দিতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করবেন ইনশাআল্লাহ।

টাইফয়েড একটি প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ, যা দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু এই রো...
17/09/2025

টাইফয়েড একটি প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ, যা দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়, যার বেশিরভাগই ১৫ বছরের কম বয়সী।

কিন্তু ১ ডোজ টিকা নিয়ে টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধ করা সম্ভব। বাংলাদেশ সরকার আগামী ১২ অক্টোবর ২০২৫ থেকে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছে।

আপনার শিশুর টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধন নাম্বার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন 👉 https://vaxepi.gov.bd/

রেজিস্ট্রেশন করুন vaxepi.gov.bd
06/08/2025

রেজিস্ট্রেশন করুন vaxepi.gov.bd

ডায়েট ড্রিংক এবং স্যাকারিন ডায়াবেটিস এর ঝুকি বাড়ায়আপনি কি চিনি এড়াতে ডায়েট ড্রিংক (ডায়েট কোলা, ডায়েট সোডা ইত্যাদি), জিরো...
15/06/2025

ডায়েট ড্রিংক এবং স্যাকারিন ডায়াবেটিস এর ঝুকি বাড়ায়

আপনি কি চিনি এড়াতে ডায়েট ড্রিংক (ডায়েট কোলা, ডায়েট সোডা ইত্যাদি), জিরো ক্যালরি সুগার অল্টারনেটিভ (জিরো ক্যাল, সুক্রালোজ ইত্যাদি) কিংবা স্যাকারিন ব্যবহার করেন?

৩০ বছরের গবেষণায় জানা গেছে দীর্ঘমেয়াদে এসব "বিকল্প চিনি" তে থাকা Aspartame, Sucralose ও স্যাকারিন ডায়াবেটিস হবার ঝুকি বাড়ায় দ্বিগুণ পরিমান।

সুতরাং চিনি বাদ দিয়ে চিনির বিকল্প ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকর নয় বরং আরও বেশি ঝুকিপূর্ণ হতে পারে।

ডা. মো: মারুফুর রহমান
চিকিৎসক ও গবেষক
দ্যা ইউনিভার্সিটি অফ শেফিল্ড, যুক্তরাজ্য

Address

Baliakandi
7730

Telephone

+8801713539679

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. M Faruk Hosain posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr. M Faruk Hosain:

Shortcuts

Share

Category