16/09/2026
ফ্রোজেন শোল্ডার (কাঁধের ব্যথা) – কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার
ফ্রোজেন শোল্ডার, যা অ্যাডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস নামেও পরিচিত, কাঁধের একটি সাধারণ সমস্যা যা কাঁধের জয়েন্টের নমনীয়তা কমিয়ে দেয় এবং তীব্র ব্যথা সৃষ্টি করে। ডাঃ কে.এম. জাহিদুল ইসলাম, একজন অভিজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জন, আজ ফ্রোজেন শোল্ডারের কারণ, লক্ষণ এবং এর প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছেন।
ফ্রোজেন শোল্ডার কী?
কাঁধের জয়েন্টের চারপাশে একটি ক্যাপসুল থাকে, যা জয়েন্টকে সুরক্ষিত রাখে। ফ্রোজেন শোল্ডারে এই ক্যাপসুলটি পুরু, শক্ত এবং সংকুচিত হয়ে যায়, যার ফলে কাঁধের নড়াচড়া সীমিত হয়ে পড়ে এবং ব্যথা হয়। এটি সাধারণত তিনটি ধাপে অগ্রসর হয়:
১. ফ্রিজিং স্টেজ (Freezing Stage): এই ধাপে কাঁধে ব্যথা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে নড়াচড়া সীমিত হতে থাকে। ব্যথা রাতে বাড়ে।
২. ফ্রোজেন স্টেজ (Frozen Stage): এই ধাপে ব্যথা কিছুটা কমে আসে, কিন্তু কাঁধের নড়াচড়া মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে যায়। দৈনন্দিন কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
৩. থয়িং স্টেজ (Thawing Stage): এই ধাপে ধীরে ধীরে কাঁধের নমনীয়তা ফিরে আসে এবং ব্যথা কমতে থাকে। এই প্রক্রিয়াটি কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত চলতে পারে।
ফ্রোজেন শোল্ডারের কারণ:
ফ্রোজেন শোল্ডারের সঠিক কারণ সবসময় জানা যায় না, তবে কিছু ঝুঁকির কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে:
• বয়স ও লিঙ্গ: সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।
• ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিস রোগীদের ফ্রোজেন শোল্ডার হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।
• অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থা: থাইরয়েড সমস্যা, পারকিনসন রোগ, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের রোগীদের মধ্যে এটি দেখা যেতে পারে।
• কাঁধের আঘাত বা সার্জারি: কাঁধে আঘাত লাগলে বা সার্জারির পর দীর্ঘক্ষণ কাঁধ স্থির রাখলে ফ্রোজেন শোল্ডার হতে পারে।
• স্থিরতা: কাঁধের জয়েন্ট দীর্ঘক্ষণ নড়াচড়া না করলে (যেমন, হাত ভাঙার পর প্লাস্টার করা) এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ফ্রোজেন শোল্ডারের লক্ষণ:
• কাঁধে তীব্র ব্যথা, যা ধীরে ধীরে বাড়ে।
• কাঁধের নড়াচড়া সীমিত হয়ে যাওয়া, বিশেষ করে হাত উপরে তোলা বা পেছনে নেওয়ার সময়।
• রাতে ঘুমানোর সময় ব্যথা বেড়ে যাওয়া।
• দৈনন্দিন কাজ যেমন পোশাক পরা, চুল আঁচড়ানো বা গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়া।
প্রতিকার ও চিকিৎসা:
ফ্রোজেন শোল্ডারের চিকিৎসা সাধারণত ধাপে ধাপে করা হয় এবং এর লক্ষ্য হলো ব্যথা কমানো ও কাঁধের নমনীয়তা ফিরিয়ে আনা:
১. ব্যথা উপশম: নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস (NSAIDs) বা ব্যথানাশক ঔষধ সেবন।
২. ফিজিওথেরাপি: কাঁধের নমনীয়তা ও শক্তি ফিরিয়ে আনার জন্য নির্দিষ্ট ব্যায়াম। এটি চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
৩. স্টেরয়েড ইনজেকশন: জয়েন্টের মধ্যে স্টেরয়েড ইনজেকশন ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
৪. হাইড্রোডাইলেটেশন: জয়েন্টের ক্যাপসুল প্রসারিত করার জন্য তরল ইনজেকশন দেওয়া হয়।
৫. সার্জারি: যদি অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যর্থ হয়, তবে আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে ক্যাপসুলটি শিথিল করা যেতে পারে।
কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?
যদি আপনার কাঁধে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা থাকে এবং নড়াচড়া সীমিত হয়ে যায়, তবে দ্রুত একজন অর্থোপেডিক সার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা শুরু করলে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।
ডাঃ কে. এম. জাহিদুল ইসলাম
অর্থোপেডিক, হাড়-জোড়া ভাঙ্গা, বাত-ব্যথা, মেরুদন্ডের রোগ, পঙ্গু, প্যারালাইসিস রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন
সহকারী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক সার্জারী বিভাগ)
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বরিশাল।
👨⚕️ আধুনিক চিকিৎসা ও সঠিক পরামর্শে
আপনার সুস্থতাই আমাদের অঙ্গীকার।
📍 চেম্বারসমূহ:
✔ ইসলামি ব্যাংক হাসপাতাল, বরিশাল- 01810000121
✔ রয়েল সিটি হাসপাতাল, বরিশাল-01708436520
✔ মুলদী ফেয়ার ক্লিনিক, মুলাদি-01731357590
✔ সোহাগ জেনারেল হাসপাতাল, রাজাপুর-01821361392
⏰ নির্ধারিত সময়ে এসে সিরিয়াল অনুযায়ী চিকিৎসা নিন।