Dr. Md. Ferdous Rayhan

Dr. Md. Ferdous Rayhan MBBS(DHAKA),BCS(HEALTH)
D-ORTHO(NITOR),MS-ORTHO(NITOR)
ORTHOPEDIC TRAUMA & SPINE SURGEON

হঠাৎ ঝুঁকে ভারী কিছু তুলতে গেলেন, আর অমনি পিঠে প্রচণ্ড একটা টান। ব্যথায় সোজা হওয়া দূরে থাক, এক চুল নড়াচড়া করার উপায়ও থাক...
24/08/2026

হঠাৎ ঝুঁকে ভারী কিছু তুলতে গেলেন, আর অমনি পিঠে প্রচণ্ড একটা টান। ব্যথায় সোজা হওয়া দূরে থাক, এক চুল নড়াচড়া করার উপায়ও থাকে না। মনে হয় যেন পিঠের পেশি একদম লক হয়ে গেছে। এটাকে বলা হয় Acute Muscle Spasm।

আসলে আমাদের পিঠের মেরুদণ্ডকে রক্ষা করার জন্য চারপাশের পেশিগুলো সবসময় প্রতিরক্ষার কাজ করে। যখনই মেরুদণ্ডে কোনো অস্বাভাবিক চাপ পড়ে, লিগামেন্টে টান লাগে বা হঠাৎ ভুল পজিশনে মুভমেন্ট হয়, তখন শরীর নিজের সুরক্ষার জন্যই পিঠের পেশিগুলোকে শক্ত করে ফেলে যাতে মেরুদণ্ডের আর কোনো ক্ষতি না হয়। এটা শরীরের এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় ডিফেন্স মেকানিজম।

হঠাৎ পিঠে টান লাগলে তাৎক্ষণিক করণীয়:
✔️ ব্যথা শুরুর প্রথম ২৪-৪৮ ঘণ্টা ভারী কাজ বা নড়াচড়া বন্ধ রাখুন। যে পজিশনে আরাম পান যেমন একপাশে কাত হয়ে হাঁটুদুটো পেটের দিকে একটু ভাঁজ করে কিংবা চিত হয়ে হাঁটু নিচে বালিশ দিয়ে শুবেন। তবে টানা কয়েকদিন বিছানায় শুয়ে থাকবেন না, এতে পেশি আরও শক্ত হয়ে যেতে পারে।

✔️ ব্যথার জায়গায় জোড়াজোড়ি করে ম্যাসাজ বা ডলাডলি করবেন না। এতে টান লাগা পেশি আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

✔️ প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যথার জায়গায় ১০-১৫ মিনিটের জন্য আইস প্যাক বা তোয়ালেতে পেঁচানো বরফ দিয়ে সেঁক দিন। দিনে ৪-৫ বার এটি করলে পেশির ফোলাভাব ও তীব্র ব্যথা দ্রুত কমবে।

✔️ কোমর বা পিঠ বাঁকা করে নিচু হয়ে কিছু তুলতে যাবেন না।

✔️ দুদিন পার হওয়ার পর যদি ব্যথার তীব্রতা কমে কিন্তু পেশি টান ধরে থাকে, তখন হালকা গরম পানির সেঁক বা হট ওয়াটার ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে।

✔️ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের পেইনকিলার খাবেন না।

✔️ ব্যথা কিছুটা সহনীয় হলে ঘরের ভেতর আস্তে আস্তে হাঁটার চেষ্টা করুন। দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে বা শুয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন।

ডা. মোঃ ফেরদৌস রায়হান
সহকারী অধ্যাপক,( অর্থোপেডিক সার্জারী)।
শের- ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট তৈরি করতে গেলে আমরা যে খাবারটাকে সবার আগে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাই, সেটা হলো আলু। আমাদের দেশে এক...
23/08/2026

ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট তৈরি করতে গেলে আমরা যে খাবারটাকে সবার আগে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাই, সেটা হলো আলু। আমাদের দেশে একটা খুব পরিচিত কথা প্রচলিত আছে আলু খেলেই নাকি শরীর ফুলে যাবে আর পেটে চর্বি জমবে। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখলে, এই ধারণাটি একেবারেই ভুল। আসল সত্য হলো, আলু নিজে কখনো আপনাকে মোটা করে না। মোটা করে আলুটা আপনি কীভাবে রান্না করছেন আর কতটা খাচ্ছেন সেই অভ্যাসটা।

আলুতে শতকরা প্রায় ৮০% ই থাকে পানি, আর বাকি অংশে থাকে কমপ্লেক্স কার্বস, প্রচুর পটাশিয়াম, ভিটামিন সি ও ফাইবার। ১০০ গ্রাম সিদ্ধ আলুতে মাত্র ৮০-৯০ ক্যালরি থাকে, যা আমাদের প্রতিদিনের এক কাপ ভাতের চেয়েও অনেক কম। তাহলে আলুর এই বদনাম কেনো?

একটা সিদ্ধ বা বেক করা আলুর ক্যালরি খুবই কম। কিন্তু আমরা যখন সেটাকে ডুবো তেলে ভেজে ফ্রেন্স ফ্রাই, আলুর চপ বা প্যাকেটজাত চিপস বানিয়ে খাই, তখন আসল সমস্যা শুরু হয়। তেল, মাখন বা ঘি শুষে নিয়ে সাধারণ একটা আলু তখন উচ্চ ক্যালরিতে পরিণত হয়। আমরা সাধারণত ভাতের সাথেই আলুর তরকারি বা আলু ভর্তা খাই। কার্বোহাইড্রেটের সাথে আরও কার্বোহাইড্রেট যোগ করি। এই অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণই ওজন বাড়ায়, এখানে আলু একা অপরাধী নয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, সিদ্ধ আলুর পেট ভরিয়ে রাখার ক্ষমতা অন্যান্য শর্করা জাতীয় খাবারের চেয়ে অনেক বেশি। সিদ্ধ আলু খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে, ফলে বারবার অন্য ভাজাপোড়া খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা কমে যায়। আলু সিদ্ধ করার পর একটু ঠাণ্ডা করে খেলে তাতে রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ তৈরি হয়। এটি পরিপাকতন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার খাবার হিসেবে কাজ করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়তে দেয় না, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে বেশ উপকারী।

ডুবো তেলে না ভেজে আলু সিদ্ধ করে, বেক করে বা তরকারিতে কম তেলে রান্না করে খান। প্লেটে ভাত বা রুটির পরিমাণ বেশি থাকলে আলুর পরিমাণ কমিয়ে দিন। আলুর খোসাসহ খাওয়ার চেষ্টা করুন, কারণ খোসায় প্রচুর ফাইবার থাকে যা হজমে সাহায্য করে।

কোনো নির্দিষ্ট একটা খাবার একা কখনো কাউকে মোটা বা চিকন বানাতে পারে না। সারাদিনে আপনি মোট কত ক্যালরি খাচ্ছেন আর কতটুকু ব্যায়াম করছেন সেটাই দিনশেষে আসল হিসাব। তাই খাবার তালিকা থেকে আলুকে একদম বাদ দেওয়ার কোনো দরকার নেই। সঠিক উপায়ে আর পরিমিত পরিমাণে খেলে আলু খেয়েও চমৎকার ফিট থাকা সম্ভব।

ডাঃ মোঃ ফেরদৌস রায়হান

22/08/2026

যে কারণে শরীরে মাসেল ইমব্যালেন্স হতে পারে

21/08/2026

প্রতিদিন খোলা বাতাসে ৮০০০ কদম হাঁটুন। মনে রাখবেন সুস্থ থাকার সবচেয়ে সহজ উপায় পর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহন এবং ব্যায়াম।

সারাদিনের কাজের চাপ, ক্লান্তি মেটানো কিংবা মাথাটা একটু হালকা করার জন্য আমরা অনেকেই বারবার চা বা কফির কাপে চুমুক দিই। কিন...
20/08/2026

সারাদিনের কাজের চাপ, ক্লান্তি মেটানো কিংবা মাথাটা একটু হালকা করার জন্য আমরা অনেকেই বারবার চা বা কফির কাপে চুমুক দিই। কিন্তু খেয়াল করে দেখেছেন কি, যে ক্যাফেইন সাময়িকভাবে আপনার রিফ্রেশমেন্ট দিচ্ছে, অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে সেই ক্যাফেইন নিজেই আপনার ঘন ঘন মাথাব্যথার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে?

ক্যাফেইন এমন একটি উপাদান, যা নির্দিষ্ট মাত্রায় গ্রহণ করলে কিছু মাথাব্যথার ওষুধ হিসেবে কাজ করে। কিন্তু এটিই যখন অতিরিক্ত পরিমাণে বা অনিয়মিতভাবে খাওয়া হয়, তখন তা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালন ও স্নায়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সহজ বাংলায় বললে, ক্যাফেইন যেমন মাথাব্যথা কমাতে পারে, অতিরিক্ত খেলে এটি মাথাব্যথা দ্বিগুণ বাড়িয়েও দিতে পারে।

ক্যাফেইন মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলোকে কিছুটা সংকুচিত করে রাখে। আপনি যখন প্রতিদিন প্রচুর চা, কফি খাওয়া শুরু করেন, তখন ব্রেইন এই ক্যাফেইনের ওপর অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এরপর কোনো দিন ক্যাফেইনের পরিমাণ একটু কমে গেলেই রক্তনালীগুলো হঠাৎ প্রসারিত হয়ে যায়। আর এই হঠাৎ প্রসারণের ফলেই মাথায় তীব্র যন্ত্রণা বা ক্যাফেইন উইথড্রয়াল হেডেক শুরু হয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরে ডাইইউরেটিক হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ এটি ঘন ঘন প্রস্রাবের সৃষ্টি করে। এর ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়। ডিহাইড্রেশন বা পানির ঘাটতি কিন্তু মাথাব্যথা ওঠার অন্যতম প্রধান কারণ। চা বা কফিতে থাকা ক্যাফেইন আমাদের মস্তিষ্কে উদ্দীপনা জাগায়। দুপুর বা সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত ক্যাফেইন খেলে রাতে গভীর ঘুম হতে চায় না। আর পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মাইগ্রেন বা সাধারণ টেনশন হেডেকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ২০০-৩০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহণ করা নিরাপদ বলে ধরা হয়। সহজ কথায়, দিনে ২-৩ কাপ চা বা কফি খাওয়া পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু আপনি যদি দিনে ৫-৬ কাপ বা তার বেশি চা-কফি খাওয়ার অভ্যাসে আটকে যান, তবে আপনার ঘন ঘন মাথাব্যথা হওয়াটাই স্বাভাবিক। আপনি যদি দিনে প্রচুর চা-কফি খেয়ে থাকেন, তবে আজই একবারে খাওয়া বন্ধ করবেন না। হঠাৎ বন্ধ করলে মাথাব্যথা আরও তীব্র হবে। প্রতিদিন ১ কাপ করে কমানোর চেষ্টা করুন।

ডাঃ মোঃ ফেরদৌস রায়হান

19/08/2026

আপনার হাঁটার ধরন কি হঠাৎ বদলে গেছে?

সকালে ঘুম থেকে উঠে চুল আঁচড়াতে গিয়ে দেখলেন হাতটা মাথার ওপরেই উঠছে না। কিংবা আলমারির ওপরের তাক থেকে কিছু একটা নামাতে গিয়ে...
18/08/2026

সকালে ঘুম থেকে উঠে চুল আঁচড়াতে গিয়ে দেখলেন হাতটা মাথার ওপরেই উঠছে না। কিংবা আলমারির ওপরের তাক থেকে কিছু একটা নামাতে গিয়ে তীব্র ব্যথায় কাঁধ ধরে বসে পড়তে হলো। পিঠের দিকে হাত নেওয়ার মতো প্রতিদিনের অতি সাধারণ কাজগুলোও তখন কঠিন মনে হয়।

আমাদের শরীরের যতগুলো জোড়া বা জয়েন্ট আছে, তার মধ্যে কাঁধের জয়েন্টই সবচেয়ে বেশি নড়াচড়া করতে পারে। হাত ঘোড়ানো, ওপরে তোলা, ডানে-বাঁয়ে নেওয়া সবই কাঁধের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু এই নমনীয়তার কারণেই কাঁধের জয়েন্ট কিছুটা সংবেদনশীল। নানা কারণে এই জোড়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। সাধারণত কাঁধের ভেতরে কিছু পেশি, টেন্ডন, লিগামেন্ট এবং তরলভর্তি ছোট থলি থাকে। এগুলোর যেকোনো একটিতে ইনফ্লামেশন বা আঘাত লাগলে হাত তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। যেসব সমস্যায় এটি বেশি হয়:

✔️ ফ্রোজেন শোল্ডার
✔️ রোটেটর কাফ ইনজুরি
✔️ শোল্ডার ইমপিনজমেন্ট সিন্ড্রোম
✔️ বারসাইটিস
✔️ কাঁধের আর্থ্রাইটিস বা ক্ষয় রোগ

ব্যথাটা দিন দিন বাড়ে এবং রাতের বেলা ঘুমানোর সময় তীব্র হয়। হাত মাথার ওপরে তো দূরের কথা, পিঠের পেছনেও নিতে পারছেন না। হাত ওঠাতে গেলে মনে হচ্ছে হাতে কোনো জোর পাচ্ছেন না।ব্যথার কারণে দৈনন্দিন কাজকর্ম পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত একজন অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডা. মোঃ ফেরদৌস রায়হান
সহকারী অধ্যাপক,( অর্থোপেডিক সার্জারী)।
শের- ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

আপনার হাঁটুর ঠিক কোন অংশটায় ব্যথা অনুভব করছেন, সেটাই কিন্তু রোগ নির্ণয়ের অর্ধেকের বেশি ক্লু দিয়ে দেয়। হাঁটু কোনো একক বা ...
17/08/2026

আপনার হাঁটুর ঠিক কোন অংশটায় ব্যথা অনুভব করছেন, সেটাই কিন্তু রোগ নির্ণয়ের অর্ধেকের বেশি ক্লু দিয়ে দেয়। হাঁটু কোনো একক বা সাধারণ হাড়ের জোড়া নয়। এটি হাড়, কার্টিলেজ, লিগামেন্ট, টেন্ডন এবং একধরনের পিচ্ছিল তরল দিয়ে তৈরি একটি জটিল জয়েন্ট। এই প্রতিটি উপাদানের অবস্থান আলাদা, আর এদের কোনো একটি নির্দিষ্ট অংশে সমস্যা হলেই হাঁটুর ঠিক সেই জায়গাটিতে ব্যথা শুরু হয়।

✅ হাঁটুর সামনের দিকে ব্যথা
সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করার সময়, বসা থেকে ওঠার সময় কিংবা দীর্ঘক্ষণ হাঁটু ভাঁজ করে বসে থাকলে যদি হাঁটুর সামনের অংশে ব্যথা অনুভব করেন, তবে তার কিছু সম্ভাব্য কারণ হলো:
✔️ প্যাটেলোফেমোরাল পেইন সিন্ড্রোম
যারা নতুন ব্যায়াম বা দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছেন কিংবা যাদের হাঁটুর বাটির পজিশন স্বাভাবিকের চেয়ে একটু সরে যায়, তাদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

✔️ প্যাটেলার টেন্ডিনাইটিস
লাফঝাঁপ বেশি করতে হয় এমন খেলাধুলা খেললে হাঁটুর বাটির নিচের রগ বা টেন্ডনে ইনফ্লামেশন সৃষ্টি হয়।

✔️ হাঁটুর ক্ষয়রোগ
কিছুটা বয়স বাড়লে হাঁটুর সামনের নরম হাড় বা কার্টিলেজ ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। ফলে হাঁটুর সামনের অংশে চাপ পড়লেই ব্যথা বা চড়চড় অনুভূতি হয়।

✅ হাঁটুর পেছনের দিকে ব্যথা
হাঁটুর পেছনের দিকটা সাধারণত কিছুটা নরম থাকে। এই অংশে যদি হাত দিলে টান টান ভাব লাগে বা ব্যথা হয়, তবে তার প্রধান কারণ হতে পারে:
▪️ বেকার্স সিস্ট
কোনো কারণে হাঁটুর ভেতরের ফ্লুইড বেশি তৈরি হলে তা পেছনের দিকে গিয়ে জমা হয় এবং একটি থলির মতো ফোলা অংশ তৈরি করে। এর ফলে পেছনের রগে তীব্র টান ও ব্যথা অনুভব হয়।

✔️ হ্যামস্ট্রিং টেন্ডিনাইটিস
আমাদের উরুর পেছনের মাংসপেশির রগ হাঁটুর পেছনে এসে জোড়া লাগে। অতিরিক্ত চাপ বা হঠাৎ টানের কারণে এতে ইনফ্লামেশন হতে পারে।

✔️ মেনিসকাস ইনজুরি
হাঁটুর ভেতরে যে দুটো গদির মতো চাদর থাকে তার পেছনের অংশে চোট লাগলে বা ফেটে গেলেও হাঁটু ভাজ করার সময় পেছনে ব্যথা হয়।

✅ হাঁটুর পাশে বা দু'দিকের ব্যথা
✔️ MCL ইনজুরি
হাঁটুর ভেতরের পাশের লিগামেন্টে মোচড় লাগলে এই ব্যথা হয়।

✔️ কার্টিলেজ ক্ষয়
আমাদের দেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাঁটুর ক্ষয়রোগ
শুরুই হয় হাঁটুর ভেতরের পাশ থেকে।

✔️ আইটি ব্যান্ড সিন্ড্রোম
উরুর বাইরের পাশের শক্ত টিস্যু বা ব্যান্ডটি বারবার ঘষা খেলে হাঁটুর বাইরের দিকে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা হয়। সাধারণ দূরপাল্লার রানার বা সাইক্লিস্টদের এই সমস্যাটি বেশি দেখা যায়।

✔️ LCL ইনজুরি
হাঁটুর বাইরের পাশের লিগামেন্টে চোট পেলে বা স্পোর্টস ইনজুরি হলে এখানে তীব্র ব্যথা হতে পারে।

হাঁটুর ব্যথা হলে নিজের মনমতো ফার্মেসি থেকে পেইনকিলার কিনে খাওয়ার অভ্যাস বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। পেইনকিলার কিন্তু আসল সমস্যা সারায় না, কেবল ব্যথাটা চেপে রাখে। তাই আপনার ব্যথার সঠিক অবস্থানটি খেয়াল করুন এবং সঠিক সময়ে একজন অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করুন।

ডা. মোঃ ফেরদৌস রায়হান
সহকারী অধ্যাপক,( অর্থোপেডিক সার্জারী)।
শের- ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

আমাদের শরীর যখন পিউরিন ভাঙতে শুরু করে, তখন বায়ো প্রোডাক্ট হিসেবে ইউরিক এসিড তৈরি হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় এই ইউরিক এসিড রক্...
16/08/2026

আমাদের শরীর যখন পিউরিন ভাঙতে শুরু করে, তখন বায়ো প্রোডাক্ট হিসেবে ইউরিক এসিড তৈরি হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় এই ইউরিক এসিড রক্তে মিশে যায় এবং কিডনির মাধ্যমে প্রস্রাবের সাথে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। সমস্যা তখন হয়, যখন শরীরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ইউরিক এসিড তৈরি হতে থাকে, অথবা কিডনি এটি সঠিক পরিমাণে শরীর থেকে বের করতে পারে না। তখন রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যায় এবং অতিরিক্ত ইউরিক এসিড কাচের সূক্ষ্ম ক্রিস্টালের মতো হাড়ের জোড়ায় বা গিরায় গিয়ে জমা হতে থাকে। একে বলা হয় গাউট বা গাউটি আর্থ্রাইটিস।

সুসংবাদ হলো, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে এটি খুব সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোন খাবারগুলো আপনার খাদ্যতালিকা থেকে কমাতে বা বাদ দিতে হবে।

☑️ ইউরিক এসিডের প্রধান শত্রু হলো এনিমেল পিউরিন। খাসি, গরু বা মহিষের মাংস খাওয়া কমিয়ে দিন। পশুর কলিজা, মগজ, গিলা কলিজা খাওয়া একবারে বাদ দিয়ে দিন। এগুলোতে পিউরিনের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। লাল মাংস পুরোপুরি বাদ দিতে না পারলেও মাসে এক আধবারের বেশি খাওয়া উচিত নয়। এর বদলে চামড়া ছাড়া মুরগির মাংস পরিমিত পরিমাণে খেতে পারেন।

☑️ মাছ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হলেও কিছু নির্দিষ্ট মাছে পিউরিন বেশি থাকে যেমন রূপচাঁদা, টুনা, সার্ডিন, চিংড়ি, কাঁকড়া, শুঁটকি মাছ, বড় ইলিশ বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত মাছ।

☑️ গবেষণায় দেখা গেছে, হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ এবং অতিরিক্ত চিনি ইউরিক এসিড দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। কোক, পেপসি বা সব ধরনের সফট ড্রিংকস, দোকানে পাওয়া প্যাকেটজাত ফলের জুস, অতিরিক্ত মিষ্টি বা প্রসেসড ডেজার্ট খাওয়া বাদ দিন।

☑️ উদ্ভিজ্জ পিউরিন প্রাণিজ পিউরিনের মতো অতটা ক্ষতিকর নয়, তবে যাদের ইউরিক এসিডের মাত্রা অনেক বেশি, তারা মসুরের ডাল, বুটের ডাল, সয়াবিন, পুঁইশাক, পালং শাক, ফুলকপি, ব্রোকলি ও মাশরুম খাওয়া সাময়িকভাবে কমিয়ে দিবেন। তবে এগুলো একদম বন্ধ করার দরকার নেই। রান্নার ধরণ বদলে এবং পরিমাণ কমিয়ে নিশ্চিন্তে খাওয়া যায়।

☑️ বিয়ার শরীরে ইউরিক এসিড তৈরির মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয় এবং কিডনি থেকে এটি বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়। তাই যেকোনো ধরনের এলকোহল বর্জন করা জরুরি।

ডা. মোঃ ফেরদৌস রায়হান
সহকারী অধ্যাপক,( অর্থোপেডিক সার্জারী)।
শের- ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

15/08/2026

ভুল এক্সারসাইজ শরীরের যেসব ক্ষতি করে

Address

Popular Diagnostic Center
Barishal
8200

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Md. Ferdous Rayhan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr. Md. Ferdous Rayhan:

Shortcuts

Share

Category