09/08/2026
চিন্তা করে দেখুন তো, ইদানীং কি খুব ছোটখাটো বিষয় ভুলে যাচ্ছেন? চাবিটা কোথায় রাখলেন মনে পড়ছে না, কিংবা পরিচিত কারো নাম হুট করে মাথায় আসছে না? আমরা অনেকেই এটাকে বয়স বা কাজের মানসিক চাপ ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তবে এই ভুলে যাওয়ার পেছনে কিন্তু লুকিয়ে থাকতে পারে রক্তচাপের অনিয়ন্ত্রণ।
আমাদের ব্রেন সচল রাখার জন্য প্রচুর অক্সিজেন ও রক্তের প্রয়োজন হয়। আর এই রক্ত পৌঁছে দেয় ব্রেনের হাজার হাজার ছোট বড় রক্তনালী। যখন কারো রক্তচাপ দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকে, তখন ব্রেনের ভেতরের এই সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোর ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে। উচ্চ রক্তচাপের কারণে ব্রেনের নালীগুলো শক্ত ও সরু হয়ে যায়। ফলে ব্রেনের গভীরে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেয়ে ব্রেন সেল বা স্নায়ুকোষগুলো আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মারা যেতে শুরু করে। অনেক সময় ব্রেনের একদম ছোট ছোট রক্তনালী ফেটে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়। এগুলো এতই ছোট যে তাৎক্ষণিকভাবে প্যারালাইসিসের মতো কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। কিন্তু দিনের পর দিন এই ছোট স্ট্রোক গুলো হতে থাকলে ব্রেনের স্মৃতি ধরে রাখার অংশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের ব্রেনের এক অংশের সাথে অন্য অংশ যোগাযোগ করে এক ধরণের তন্তুর মাধ্যমে, যাকে বলে হোয়াইট ম্যাটার। উচ্চ রক্তচাপ এই হোয়াইট ম্যাটারের ক্ষতি করে। সহজ কথায় বললে, ব্রেনের ভেতরের টেলেফোন লাইনগুলো নষ্ট হয়ে যায়, ফলে তথ্য আদান প্রদান ধীর হয়ে পড়ে। এটি হলো ডিমেনশিয়ার এমন একটি রূপ, যা মূলত রক্তনালীর ক্ষতির কারণে হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্য বয়সে যাদের উচ্চ রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকে, শেষ বয়সে গিয়ে তাদের ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমার্স রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যায়।
খুবই আশার কথা হলো উচ্চ রক্তচাপ যেমন স্মৃতিশক্তির ক্ষতি করতে পারে, তেমনি প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখলে ব্রেনের এই ক্ষতি শতভাগ ঠেকানো সম্ভব। প্রেসার বাড়লে সবসময় মাথা ঘুরাবে বা ঘাড় ব্যথা করবে এই ধারণা ভুল। কোনো লক্ষণ ছাড়াও প্রেসার বেশি থাকতে পারে। তাই মাসে অন্তত দুইবার প্রেসার চেক করুন। প্রেসার তো এখন নরমাল, তাই ওষুধ বন্ধ করে দেই এই ভুলটি কখনো করবেন না। ওষুধ খেয়ে প্রেসার নরমাল থাকে বলেই ওষুধ চালু রাখা জরুরি। খাবারে কাঁচা লবণ পুরোপুরি বাদ দিন। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খান। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন। শরীর চর্চা করলে ব্রেনে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা ব্রেন সেলগুলোকে সুস্থ রাখে। ধূমপান ত্যাগ করুন, ধূমপান রক্তনালীকে দ্রুত বুড়িয়ে দেয় এবং ব্রেনের ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়।
ডা. মোঃ আলী রুমি
মেডিসিন, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনি রোগ
বিশেষজ্ঞ।
সহযোগী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান
(নেফ্রোলজি বিভাগ)
শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।