Dr. Mohammad Ali Rumee

Dr. Mohammad Ali Rumee Kidney & Medicine Specialist

চিন্তা করে দেখুন তো, ইদানীং কি খুব ছোটখাটো বিষয় ভুলে যাচ্ছেন? চাবিটা কোথায় রাখলেন মনে পড়ছে না, কিংবা পরিচিত কারো নাম হুট...
09/08/2026

চিন্তা করে দেখুন তো, ইদানীং কি খুব ছোটখাটো বিষয় ভুলে যাচ্ছেন? চাবিটা কোথায় রাখলেন মনে পড়ছে না, কিংবা পরিচিত কারো নাম হুট করে মাথায় আসছে না? আমরা অনেকেই এটাকে বয়স বা কাজের মানসিক চাপ ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তবে এই ভুলে যাওয়ার পেছনে কিন্তু লুকিয়ে থাকতে পারে রক্তচাপের অনিয়ন্ত্রণ।

আমাদের ব্রেন সচল রাখার জন্য প্রচুর অক্সিজেন ও রক্তের প্রয়োজন হয়। আর এই রক্ত পৌঁছে দেয় ব্রেনের হাজার হাজার ছোট বড় রক্তনালী। যখন কারো রক্তচাপ দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকে, তখন ব্রেনের ভেতরের এই সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোর ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে। উচ্চ রক্তচাপের কারণে ব্রেনের নালীগুলো শক্ত ও সরু হয়ে যায়। ফলে ব্রেনের গভীরে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেয়ে ব্রেন সেল বা স্নায়ুকোষগুলো আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মারা যেতে শুরু করে। অনেক সময় ব্রেনের একদম ছোট ছোট রক্তনালী ফেটে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়। এগুলো এতই ছোট যে তাৎক্ষণিকভাবে প্যারালাইসিসের মতো কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। কিন্তু দিনের পর দিন এই ছোট স্ট্রোক গুলো হতে থাকলে ব্রেনের স্মৃতি ধরে রাখার অংশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের ব্রেনের এক অংশের সাথে অন্য অংশ যোগাযোগ করে এক ধরণের তন্তুর মাধ্যমে, যাকে বলে হোয়াইট ম্যাটার। উচ্চ রক্তচাপ এই হোয়াইট ম্যাটারের ক্ষতি করে। সহজ কথায় বললে, ব্রেনের ভেতরের টেলেফোন লাইনগুলো নষ্ট হয়ে যায়, ফলে তথ্য আদান প্রদান ধীর হয়ে পড়ে। এটি হলো ডিমেনশিয়ার এমন একটি রূপ, যা মূলত রক্তনালীর ক্ষতির কারণে হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্য বয়সে যাদের উচ্চ রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকে, শেষ বয়সে গিয়ে তাদের ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমার্স রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যায়।

খুবই আশার কথা হলো উচ্চ রক্তচাপ যেমন স্মৃতিশক্তির ক্ষতি করতে পারে, তেমনি প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখলে ব্রেনের এই ক্ষতি শতভাগ ঠেকানো সম্ভব। প্রেসার বাড়লে সবসময় মাথা ঘুরাবে বা ঘাড় ব্যথা করবে এই ধারণা ভুল। কোনো লক্ষণ ছাড়াও প্রেসার বেশি থাকতে পারে। তাই মাসে অন্তত দুইবার প্রেসার চেক করুন। প্রেসার তো এখন নরমাল, তাই ওষুধ বন্ধ করে দেই এই ভুলটি কখনো করবেন না। ওষুধ খেয়ে প্রেসার নরমাল থাকে বলেই ওষুধ চালু রাখা জরুরি। খাবারে কাঁচা লবণ পুরোপুরি বাদ দিন। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খান। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন। শরীর চর্চা করলে ব্রেনে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা ব্রেন সেলগুলোকে সুস্থ রাখে। ধূমপান ত্যাগ করুন, ধূমপান রক্তনালীকে দ্রুত বুড়িয়ে দেয় এবং ব্রেনের ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়।

ডা. মোঃ আলী রুমি
মেডিসিন, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনি রোগ
বিশেষজ্ঞ।

সহযোগী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান
(নেফ্রোলজি বিভাগ)
শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

কোষ্ঠকাঠিন্য বা কনস্টিপেশন খুব জটিল কোনো রোগ নয়, তবে এই একটা সমস্যা আপনার সারাদিনের মেজাজ, কাজের শক্তি আর জীবনযাত্রার আন...
08/08/2026

কোষ্ঠকাঠিন্য বা কনস্টিপেশন খুব জটিল কোনো রোগ নয়, তবে এই একটা সমস্যা আপনার সারাদিনের মেজাজ, কাজের শক্তি আর জীবনযাত্রার আনন্দ একেবারে নষ্ট করে দিতে পারে। আমাদের পরিপাকতন্ত্রের শেষ অংশে খাবার যখন খুব ধীরে ধীরে এগোয়, তখন কোলন অতিরিক্ত পানি শুষে নেয়। ফলে পায়খানা শক্ত হয়ে যায় এবং তা বের হতে সমস্যা হয়। পেটে অস্বস্তি হলেই অনেকে তাড়াহুড়ো করে ফার্মেসিতে গিয়ে সিরাপ বা ল্যাক্সেটিভ কিনে খাওয়া শুরু করেন। কিন্তু সত্য হলো দিনের পর দিন এসব ওষুধ খেলে অন্ত্রের স্বাভাবিক ক্ষমতা আরও কমে যায়।
অথচ আমাদের রান্নাঘরেই এমন কিছু খাবার আছে, যেগুলো কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে পেটের হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক করে তোলে। আসুন জেনে নেওয়া যাক, বিজ্ঞান অনুযায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কোন খাবারগুলো সবচেয়ে কার্যকর।

1️⃣ ইসবগুলের ভুষি
কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসায় ইসবগুলকে ধরা হয় গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড। এতে প্রচুর পরিমাণে Soluble Fiber থাকে। রাতের খাবারের পর বা সকালে এক গ্লাস পানিতে এক-দুই চামচ ইসবগুলের ভুষি মিশিয়ে সাথে সাথে খেয়ে ফেলতে হবে। পানিতে ভিজিয়ে রেখে দিলে এর কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যায়।

2️⃣ পাকা পেঁপে ও আপেল
ফলমূলের মধ্যে পাকা পেঁপে কোষ্ঠকাঠিন্য রোগীদের জন্য জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। পাপা পেঁপেতে রয়েছে পাপাইন নামক একধরনের এনজাইম, যা হজম ক্ষমতা বাড়ায় এবং পেটের ভেতরের পরিবেশ সুস্থ রাখে। আপেলে রয়েছে পেকটিন নামের বিশেষ ডায়াটরি ফাইবার থাকে। পেকটিন অন্ত্রের ভেতরে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায় এবং পায়খানা নরম করে।

3️⃣ আলুবোখারা
এতে রয়েছে সরবিটল নামক এক প্রাকৃতিক সুগার অ্যালকোহল। সরবিটল আমাদের অন্ত্রে পানি টেনে আনে, যার ফলে মল দ্রুত নরম হয়। দিনে ৩-৪টি শুকনো আলুবোখারা খেলে পেটের স্বাভাবিক নিয়ম ফিরে আসে।

4️⃣ চিয়া সিড ও তিসির বীজ

ষুদ্র এই বীজগুলোতে রয়েছে অত্যাধিক পরিমাণ ফাইবার এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। চিয়া সিড নিজের ওজনের চেয়ে প্রায় ১০-১২ গুণ বেশি পানি শুষে নিতে পারে। পানিতে ভেজালে এটি পিচ্ছিল আঠালো হয়ে যায়, যা অন্ত্রের ভেতর খাবারের চলাচলকে মসৃণ করে তোলে।

5️⃣ সবুজ শাকসবজি ও লাল চাল/আটা
পালংশাক, পুঁইশাক, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি এবং ঢ্যাঁড়শে রয়েছে Insoluble Fiber। এই ফাইবারগুলো হজম না হয়ে পায়খানার আয়তন বাড়ায় এবং অন্ত্রের পেশির মটিলিটিকে বাড়ায়। সাদা চাল বা ময়দার বদলে লাল চালের ভাত এবং লাল আটার রুটি খেলেও পর্যাপ্ত আঁশ পাওয়া যায়।

6️⃣ টক দই ও প্রোবায়োটিক খাবার
অনেক সময় অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়ে গেলে হজম প্রক্রিয়ায় গণ্ডগোল দেখা দেয়।
টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক পেটের স্বাস্থ্য পুনর্গঠন করে। নিয়মিত টক দই খেলে হজম ভালো হয় এবং দীর্ঘদিনের শক্ত পায়খানার সমস্যা দূর হয়।

আপনি যত আঁশযুক্ত খাবারই খান না কেন, যদি পর্যাপ্ত পানি না খান তবে সমস্যা কমার বদলে আরও বাড়তে পারে। আঁশ পানি শুষে নিয়ে কাজ করে। তাই ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার সাথে সাথে সারাদিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরও যদি ২-৩ সপ্তাহের বেশি কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে, পায়খানার সাথে তাজা রক্ত পড়ে, কিংবা পেট ফোলার সাথে তীব্র ব্যথা ও হঠাৎ ওজন কমতে থাকে তবে ঘরে বসে না থেকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডা. মোঃ আলী রুমি
মেডিসিন, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনি রোগ
বিশেষজ্ঞ।

সহযোগী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান
(নেফ্রোলজি বিভাগ)
শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

আমরা অনেকেই নিয়মিত সুগার মাপি, মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করি বা ডায়াবেটিস নিয়ে বেশ সচেতন থাকি। কিন্তু ডায়াবেটিস যে একদম অলক্ষ্যে...
06/08/2026

আমরা অনেকেই নিয়মিত সুগার মাপি, মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করি বা ডায়াবেটিস নিয়ে বেশ সচেতন থাকি। কিন্তু ডায়াবেটিস যে একদম অলক্ষ্যে, নীরবে আমাদের কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে দিতে পারে তা হয়তো অনেকেই খেয়াল করি না। বিশ্বজুড়ে বর্তমানে কিডনি বিকল বা ডায়ালাইসিসের সবচেয়ে বড় কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিসের কারণে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এই বিশেষ অবস্থাকে বলা হয় ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি।

আমাদের কিডনির ভেতর রক্ত ছাঁকার জন্য লক্ষ লক্ষ সূক্ষ্ম ছাঁকনি রয়েছে, যাদের আমরা বলি গ্লোমেরুলাস। এই ছাঁকনিগুলোর ভেতরে রয়েছে খুব নরম ও সরু সরু রক্তনালী। রক্তে অতিরিক্ত চিনি থাকলে এই সরু রক্তনালীগুলোর ওপর চাপ বাড়ে এবং দেয়ালগুলো শক্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। ফলে ছাঁকনিগুলো তাদের স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা হারাতে শুরু করে। সুস্থ অবস্থায় কিডনি রক্তের দরকারী উপাদান, যেমন প্রোটিন বা অ্যালবুমিন ছাঁকন প্রক্রিয়া শেষে আবার শরীরে ফেরত পাঠায়। কিন্তু ডায়াবেটিসের চাপে ফিল্টার বা ছিদ্রগুলো বড় হয়ে গেলে রক্তের প্রোটিন লিকেজ হয়ে প্রস্রাবের সাথে বের হতে থাকে। রক্তে হাই সুগার থাকলে কিডনিকে শরীরের স্বাভাবিক বর্জ্য দূর করতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে কাজ করতে হয়। দীর্ঘদিন এভাবে অতিরিক্ত খাটতে খাটতে কিডনির টিস্যুগুলো একসময় ক্লান্ত ও শক্ত হয়ে যায়। একপর্যায়ে যখন একের পর এক ফিল্টার নষ্ট হতে থাকে, তখন কিডনি আর রক্ত পরিষ্কার করতে পারে না। ফলে শরীরে ক্রিয়েটিনিন এবং ইউরিয়ার মতো বিষাক্ত বর্জ্য জমতে শুরু করে।

ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথির সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো শুরুর দিকে কিডনির ৫০-৬০% কাজ কমে গেলেও শরীরে কোনো বাহ্যিক লক্ষণ ধরা পড়ে না। রোগ যখন অনেকটাই গড়িয়ে যায়, তখন কিছু লক্ষণ নজরে আসতে শুরু করে যেমন:
🔹 সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ-মুখ বা হাত-পা ফুলে যাওয়া।

🔹 প্রস্রাবে অস্বাভাবিক ফেনা হওয়া।

🔹 ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ হঠাৎ খুব বেশি বেড়ে যাওয়া বা নিয়ন্ত্রণে না থাকা।

🔹 কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই সারাদিন অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করা।

🔹 খিদে কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব বা মুখের রুচি একদম নষ্ট হয়ে যাওয়া।

যাঁদের ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের প্রত্যেকেরই কিডনি নিয়ে সচেতন হওয়া উচিত। তবে ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায় যদি ডায়াবেটিস ১০-১৫ বছরের বেশি পুরানো হয় এবং সুগার প্রায়ই অনিয়ন্ত্রিত থাকে, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ থাকে, ধূমপান বা তামাক সেবনের অভ্যাস থাকে, রক্তে কোলেস্টেরল বা চর্বির মাত্রা বেশি থাকে, পরিবারে কারো কিডনি রোগের ইতিহাস থাকে।

ডায়াবেটিস হওয়া মানেই যে কিডনি নষ্ট হয়ে যাবে এমনটা কিন্তু নয়। সচেতনতা, সঠিক নিয়মানুবর্তিতা এবং নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনিকে বহু বছর সম্পূর্ণ সুস্থ রাখা সম্ভব।

ডা. মোঃ আলী রুমি
মেডিসিন, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনি রোগ
বিশেষজ্ঞ।

সহযোগী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান
(নেফ্রোলজি বিভাগ)
শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

চেম্বার:
পপুলার ডায়াগনস্টিক লিমিটেড,
দক্ষিণ আলেকান্দা বাংলাবাজার বরিশাল।
বিকাল ৪টা ৩০ হইতে ৬:৩০ পর্যন্ত এবং রাত্র ৯:০০ হইতে ১০:০০ পর্যন্ত।
(শুক্রবার বন্ধ)
মোবাইল:
09666-787819

২. ল্যাবএইড লিঃ ( ডায়াগনস্টিক)
বাড়ি ১০৬, সদর রোড, বরিশাল।
দুপুর ২:৩০ থেকে ৪:৩০ পর্যন্ত
সন্ধ্যা ৭:৩০ থেকে ৯:০০ টা পর্যন্ত।
(শুক্রবার বন্ধ)
01766-661110,
01766-663305

জরুরি প্রয়োজনে:
01314-486260,
01314-537079

আমাদের দেশে যেকোনো একটু ক্লান্তি লাগলে বা মাথা ঘোরালেই এক গ্লাস ওরাল স্যালাইন গুলিয়ে খেয়ে ফেলা খুব সাধারণ এক অভ্যাসে পরি...
05/08/2026

আমাদের দেশে যেকোনো একটু ক্লান্তি লাগলে বা মাথা ঘোরালেই এক গ্লাস ওরাল স্যালাইন গুলিয়ে খেয়ে ফেলা খুব সাধারণ এক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অনেকেই ভাবেন, ওরাল স্যালাইন মানেই শক্তি পাওয়ার কোনো ম্যাজিক ড্রিংক। ওরাল স্যালাইন হলো চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্যতম সেরা এক আবিষ্কার। ডায়রিয়া বা পানিশূন্যতায় বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে এই স্যালাইন। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার, ওরাল স্যালাইন কোনো সাধারণ এনার্জি ড্রিংক নয়। এটি একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাণের ইলেক্ট্রোলাইট রিহাইড্রেশন সলিউশন। এতে নির্দিষ্ট মাপে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড এবং গ্লুকোজের অনুপাত বজায় রাখা হয়।

শরীর থেকে যখন অতিরিক্ত পানি এবং ইলেকট্রোলাইট বের হয়ে যায়, ঠিক তখনই ওরাল স্যালাইনের প্রয়োজন পড়ে। ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হলে প্রতিবার পায়খানার পর শরীরে পানি ও লবণের তীব্র ঘাটতি তৈরি হয়। এ সময় প্রতিটি মলত্যাগের পর বয়স অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণে স্যালাইন খাওয়া জরুরি। ঘন ঘন বমি হলে বমির সাথে পেট থেকে তরল ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বেরিয়ে যায়। অল্প অল্প করে স্যালাইন খেলে এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ হয়। যারা প্রখর রোদে কাজ করেন বা প্রচণ্ড গরমে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয়ে ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়, তাদের জন্য ওরাল স্যালাইন কার্যকর। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর ফ্লুইড লিকেজ হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এ সময় শরীরে তরলের মাত্রা বজায় রাখতে খাবার পানির পাশাপাশি স্যালাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অপ্রয়োজনে স্যালাইন খেলে শরীরে বাড়তি সোডিয়াম ও পটাশিয়াম জমা হতে পারে, যা শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়। সারাদিন কাজ করার পর একটু দুর্বল লাগলেই স্যালাইন খাওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ ক্ষেত্রে সাধারণ পানি, পুষ্টিকর খাবার বা ফলমূলই যথেষ্ট। গরমের দিনে সাধারণ তৃষ্ণা মেটানোর জন্য ঠান্ডা পানি বা ডাবের পানিই সেরা। কথায় কথায় স্যালাইন খাওয়া মোটেও উচিত নয়। অনেকে সামান্য শরীর খারাপ লাগলেই স্যালাইন খান। ওরাল স্যালাইনে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের রক্তচাপ হুট করে বাড়িয়ে দিতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এদের স্যালাইন খাওয়া ঠিক নয়। কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে ইলেকট্রোলাইট বা পটাশিয়া ও সোডিয়ামের ভারসাম্য স্বাভাবিক থাকে না। তাদের ক্ষেত্রে না বুঝে স্যালাইন খেলে পটাশিয়াম বেড়ে গিয়ে হৃদপিন্ড মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। রক্তচাপ কমে গেলেই যে স্যালাইন খেতে হবে এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। পানিশূন্যতার কারণে প্রেসার কমলে স্যালাইন কাজ করে, কিন্তু অন্য কারণে প্রেসার কমলে স্যালাইন খেলে প্রেসার বাড়বে না বরং উল্টো রিয়াকশন হতে পারে।

ডা. মোঃ আলী রুমি
মেডিসিন, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনি রোগ
বিশেষজ্ঞ।

সহযোগী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান
(নেফ্রোলজি বিভাগ)
শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

04/08/2026

প্রতিদিনের এই একটা ভুলই আপনার কিডনির ক্ষতির জন্য দায়ী

ইদানীং প্রায়ই দেখি, অনেক রোগী একটিমাত্র ফাইল না নিয়ে চার-পাঁচটি ফাইল নিয়ে চেম্বারে ঢোকেন। কথা বলে জানা যায়, গত দুই বা তি...
03/08/2026

ইদানীং প্রায়ই দেখি, অনেক রোগী একটিমাত্র ফাইল না নিয়ে চার-পাঁচটি ফাইল নিয়ে চেম্বারে ঢোকেন। কথা বলে জানা যায়, গত দুই বা তিন মাসে তিনি হয়তো চারজন ভিন্ন ভিন্ন ডাক্তার দেখিয়েছেন। এমনটা কেন হয়? অসুস্থ হলে আমরা সবাই দ্রুত সুস্থ হতে চাই যা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু দুই দিন ওষুধ খেয়েই ভালো না হলে অধৈর্য হয়ে পড়া এবং সাথে সাথে আরেকজন চিকিৎসকের কাছে ছুটে যাওয়ার যে প্রবণতা, তা আদতে হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। তাড়াহুড়ো করে ডাক্তারের পর ডাক্তার বদলানোর এই অভ্যাস আপনার স্বাস্থ্য এবং পকেটের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন?

বিভিন্ন ডাক্তার একই রোগের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ডের ওষুধ লিখতে পারেন। অনেক সময় দেখা যায়, দুটি আলাদা ব্র্যান্ডের ওষুধের মূল উপাদান কিন্তু একই। আপনি যদি আগের ডাক্তারের ওষুধ বন্ধ না করে বা না জানিয়ে নতুন ডাক্তারের ওষুধ খাওয়া শুরু করেন, তবে অজান্তেই সেই ওষুধের ওভারডোজ হতে পারে। আবার একাধিক ভিন্ন ওষুধ একসাথে পেটে গিয়ে বিষক্রিয়া বা কিডনি ও লিভারের ক্ষতি করতে পারে। ঘন ঘন ওষুধ বদলানোর কারণে রোগের আসল লক্ষণগুলো ঢেকে যায়। ফলে পরবর্তীতে কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পক্ষেও আসল রোগটি নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

যেকোনো ওষুধের কার্যকর হতে এবং শরীরে এর প্রতিক্রিয়া দেখতে চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট সময় দিতে হয়, একে ট্রায়াল পিরিয়ড বলে। অ্যান্টিবায়োটিক, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসায় এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি নির্দিষ্ট সময় না দিয়েই ডাক্তার বদলে ফেলেন, তবে কোনো চিকিৎসকই বুঝতে পারবেন না আগের ওষুধটি আপনার শরীরে আসলে কাজ করছিল কি না। ফলে সঠিক চিকিৎসা পেতে অযথা বিলম্ব হয়। নতুন কোনো ডাক্তারের কাছে গেলে সঠিক রোগ নির্ণয়ের স্বার্থে তিনি আগের পরীক্ষাগুলো আবার করাতে দিতে পারেন কিংবা নতুন কিছু পরীক্ষা লিখতে পারেন। এতে শরীরে বারবার রক্তের নমুনা দেওয়া, এক্স-রে বা সিটি স্ক্যানের রশ্মি নেওয়ার শারীরিক কষ্ট তো আছেই, সাথে যুক্ত হয় বিপুল পরিমাণ আর্থিক অপচয়।

পাঁচজন ডাক্তার হয়তো একই রোগকে পাঁচভাবে ব্যাখ্যা করবেন বা ভিন্ন ভিন্ন টার্ম ব্যবহার করবেন। এতে রোগী ও তাঁর স্বজনরা প্রচণ্ড সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন কার কথা শুনবেন, কার চিকিৎসা সঠিক? এই বিভ্রান্তি থেকে রোগীর মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা বহুলাংশে বেড়ে যায়, যা শারীরিক সুস্থতার বড় বাধা।

তাহলে কি সেকেন্ড অপিনিয়ন নেওয়া যাবে না। অবশ্যই নেওয়া যাবে। তবে সেকেন্ড অপিনিয়ন নেওয়া আর অধৈর্য হয়ে ডাক্তার শপিং করা এক বিষয় নয়। বড় কোনো জটিল রোগ যেমন: ক্যান্সার, জটিল অপারেশন, হরমোন বা কিডনির গুরুতর সমস্যা ধরা পড়লে বা দীর্ঘ দিন চিকিৎসা সত্ত্বেও অবস্থার উন্নতি না হলে অবশ্যই অন্য একজন বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া উচিত। আগের ডাক্তারের দেওয়া সমস্ত ফাইল, পরীক্ষার রিপোর্ট এবং ওষুধের তালিকা সঙ্গে নিয়ে যান। নতুন চিকিৎসককে পূর্বের সব কথা খোলাখুলি জানান। এতে তিনি বিষয়টি ভালোভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবেন।

ওষুধ খাওয়ার সাথে সাথেই রোগ জাদু দিয়ে ভালো হয়ে যায় না। শরীরকে সেরে ওঠার জন্য অন্তত ৩-৭ দিন সময় দিন। ওষুধে কাজ না হলে বা কোনো সমস্যা হলে সেই একই ডাক্তারের কাছেই ফলো আপ করতে যান। তাঁকে জানান যে আপনার উন্নতি হচ্ছে না। তিনি তখন ডোজ অ্যাডজাস্ট করবেন বা ওষুধ পরিবর্তন করবেন। চিকিৎসকের ওপর আস্থা রাখা এবং চিকিৎসাকে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া সুস্থতার অন্যতম প্রথম শর্ত।

ডা. মোঃ আলী রুমি
মেডিসিন, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনি রোগ
বিশেষজ্ঞ।

সহযোগী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান
(নেফ্রোলজি বিভাগ)
শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

আমাদের ব্যস্ত জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে বর্তমান সময়ে যে স্বাস্থ্যসমস্যাগুলো মারাত্মক আকার ...
02/08/2026

আমাদের ব্যস্ত জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে বর্তমান সময়ে যে স্বাস্থ্যসমস্যাগুলো মারাত্মক আকার ধারণ করছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো রক্তে কোলেস্টেরলের অনিয়ন্ত্রিত মাত্রা। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে ডিসলিপিডেমিয়া বলা হয়।

কিন্তু সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি জমে ধমনি সরু হয়ে যাওয়া পর্যন্ত এটি শরীরে খুব স্পষ্ট কোনো জানান দেয় না। এই কারণেই উচ্চ কোলেস্টেরলকে বলা হয় নীরব ঘাতক। অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই এটি হার্ট এট্যাক কিংবা ব্রেইন স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকির দিকে আমাদের ঠেলে দেয়।

সহজ কথায়, লিপিড প্রোফাইল হলো একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা, যার মাধ্যমে রক্তে উপস্থিত বিভিন্ন ধরনের চর্বির পরিমাণ নিখুঁতভাবে মাপা হয়। এই পরীক্ষায় মূলত চারটি উপাদান দেখা হয়।

ধরনের চর্বির পরিমাণ নিখুঁতভাবে মাপা হয়। এই পরীক্ষায় মূলত চারটি উপাদান দেখা হয়। টোটাল কোলেস্টেরল বা রক্তে থাকা মোট কোলেস্টেরলের পরিমাণ। LDL এটি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল, রক্তনালিতে চর্বির আস্তরণ জমিয়ে রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি করে। HDL এটি উপকারী কোলেস্টেরল, এটি ধমনি থেকে অতিরিক্ত চর্বি সরিয়ে লিভারে নিয়ে যায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। ট্রাইগ্লিসারাইড, খাবারে থাকা অতিরিক্ত ক্যালরি যা চর্বি হিসেবে রক্তে জমা হয়।

যদিও শুরুর দিকে উচ্চ কোলেস্টেরলের স্পষ্ট লক্ষণ পাওয়া কঠিন, তবে শরীরের কিছু সতর্কবার্তা বা সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখলে আর দেরি না করে দ্রুত লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করানো উচিত। যেমন:

▪️ চোখের পাতার ওপর বা কোণে, কনুইয়ে কিংবা হাঁটুতে যদি হলদেটে ভাব বা ছোট ছোট চর্বির দলার মতো গুটি দেখা যায়, তবে এটি রক্তে অত্যধিক কোলেস্টেরল জমার একটি স্পষ্ট সংকেত।

▪️ হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিগুলোতে চর্বি জমলে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। এর ফলে বুকে চাপ ধরা অনুভূতি, হালকা ব্যথা বা শক্ত হয়ে থাকার মতো অস্বস্তি হতে পারে।

▪️ শরীরের দূরবর্তী অঙ্গগুলোতে বিশেষ করে হাত ও পায়ে রক্ত চলাচল কমে গেলে প্রায়ই হাত-পা অবশ লাগা, ঝিমঝিম করা বা ঠান্ডা হয়ে থাকার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

▪️ কোনো শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই বা সামান্য হাঁটাচলাতেই যদি হাঁপিয়ে ওঠেন, বুক ধড়ফড় করে কিংবা তীব্র ক্লান্তি অনুভব করেন, তবে রক্তের লিপিড লেভেল পরীক্ষা করা জরুরি।

▪️ পায়ের রক্তনালিতে চর্বি জমলে হাঁটাহাঁটি করার সময় পায়ে তীব্র ব্যথা বা মাংসপেশিতে টান ধরতে পারে, যা একটু বিশ্রাম নিলে আবার কমে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ বলা হয়।

▪️ আপনার যদি হঠাৎ করে রক্তচাপবাড়তে শুরু করে বা ওষুধ খাওয়ার পরও নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে এর পেছনে রক্তনালিতে চর্বি জমে নালি শক্ত হয়ে যাওয়া একটি বড় কারণ হতে পারে।

আপনার রক্তনালিতে চর্বি জমা হতে বছরের পর বছর সময় লাগে, কিন্তু বিপত্তি ঘটে চোখের পলকে। তাই লক্ষণ প্রকাশের অপেক্ষা না করে বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করুন এবং আপনার হৃদযন্ত্রকে রাখুন সুরক্ষিত।

ডা. মোঃ আলী রুমি
মেডিসিন, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনি রোগ
বিশেষজ্ঞ।

সহযোগী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান
(নেফ্রোলজি বিভাগ)
শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

31/07/2026

ডায়ালাইসিস কি??
ডায়ালাইসিস কেন করা হয়???
ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে রোগীদের কি উপকার হয়????

ডায়ালাইসিস সংক্রান্ত সাধারণ আলোচনা :

ডা. মোঃ আলী রুমি
মেডিসিন, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনি রোগ
বিশেষজ্ঞ।

সহযোগী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান
(নেফ্রোলজি বিভাগ)
শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

চেম্বার:
পপুলার ডায়াগনস্টিক লিমিটেড,
দক্ষিণ আলেকান্দা বাংলাবাজার বরিশাল।
বিকাল ৫ টা ৩০ হইতে ৯:০০ পর্যন্ত এবং রাত্র ১০:০০ হইতে ১১:০০ পর্যন্ত।
(শুক্রবার বন্ধ)
মোবাইল:
09666-787819

২. ল্যাবএইড লিঃ ( ডায়াগনস্টিক)
বাড়ি ১০৬, সদর রোড, বরিশাল।
দুপুর ৩:৩০ থেকে ৫:৩০ পর্যন্ত
সন্ধ্যা ৯:০০ থেকে ১০:০০ টা পর্যন্ত।
(শুক্রবার বন্ধ)
01766-661110,
01766-663305

জরুরি প্রয়োজনে:
01314-486260,
01314-537079


আমাদের দৈনন্দিন রান্নাবান্না ও খাবারের তালিকায় লবণ বা সোডিয়াম একটি অতি পরিচিত উপাদান। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না, এ...
30/07/2026

আমাদের দৈনন্দিন রান্নাবান্না ও খাবারের তালিকায় লবণ বা সোডিয়াম একটি অতি পরিচিত উপাদান। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না, এই অতি পরিচিত উপাদানটিই মাত্রাতিরিক্ত গ্রহণ করলে নীরবে ক্ষতি করে চলেছে আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফিল্টার কিডনির। লবণ খাওয়ার পরিমাণ কমালে কিডনি যে শুধু সজীব ও কার্যক্ষম থাকে তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী বড়ো বড়ো জটিলতা থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।

অতিরিক্ত লবণ বা সোডিয়াম গ্রহণ করলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত সোডিয়ামকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে শরীর বেশি পরিমাণে পানি ধরে রাখে, যার ফলে রক্তের পরিমাণ ও রক্তচাপ দুটোই বৃদ্ধি পায়। উচ্চ রক্তচাপের কারণে কিডনির ভেতরে থাকা সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন এই বাড়তি চাপ বজায় থাকলে রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কিডনির ফিল্টারিং ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

লবণ গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে দিলে কিডনির ওপর থেকে ক্ষতিকর চাপ বহুলাংশে কমে যায়। লবণ কমালে কিডনির যেসব উপকারিতা হয়:

🔸 লবণ কমালে রক্তনালীর ওপর চাপ কমে, ফলে উচ্চ রক্তচাপ সহজে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। আর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকা মানেই কিডনি সুরক্ষার অর্ধেক কাজ হয়ে যাওয়া।

🔸 অতিরিক্ত লবণের কারণে কিডনির ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ে। লবণ কম খেলে এই চাপ দূর হয় এবং কিডনির নেফ্রনগুলো দীর্ঘ সময় সুস্থ ও কার্যক্ষম থাকে।

🔸 কিডনির ছাঁকনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রস্রাবের সাথে প্রোটিন বা অ্যালবুমিন যেতে শুরু করে। খাদ্যাভ্যাসে লবণের পরিমাণ কমালে এই প্রোটিন যাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়, যা কিডনি সুরক্ষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক।

🔸 যারা ইতিমধ্যেই উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি জটিলতায় ভুগছেন, তারা লবণ কম খেলে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের সুফল অনেক দ্রুত ও ভালোভাবে পান।

🔸 অতিরিক্ত লবণের কারণে শরীরে পানি জমে হাত-পা বা মুখ ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। লবণ সীমিত করলে এই ওয়াটার রিটেনশন বা পানি জমার সমস্যা দূর হয়।

কিডনি সুস্থ রাখতে কাঁচা লবণ খাওয়া পুরোপুরি বর্জন করতে হবে। রান্নায় লবণের পরিমাণ কমিয়ে লেবুর রস, তেঁতুল বা ভেষজ মসলার ব্যবহার বাড়াতে পারেন। এছাড়া চিপস, ফাস্টফুড, প্যাকেটজাত খাবার এবং প্রসেসড মিট বা আচার জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে লুকানো লবণ থাকে, যা এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি।

ডা. মোঃ আলী রুমি
মেডিসিন, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনি রোগ
বিশেষজ্ঞ।

সহযোগী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান
(নেফ্রোলজি বিভাগ)
শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

চেম্বার:
পপুলার ডায়াগনস্টিক লিমিটেড,
দক্ষিণ আলেকান্দা বাংলাবাজার বরিশাল।
বিকাল ৪টা ৩০ হইতে ৬:৩০ পর্যন্ত এবং রাত্র ৯:০০ হইতে ১০:০০ পর্যন্ত।
(শুক্রবার বন্ধ)
মোবাইল:
09666-787819

২. ল্যাবএইড লিঃ ( ডায়াগনস্টিক)
বাড়ি ১০৬, সদর রোড, বরিশাল।
দুপুর ২:৩০ থেকে ৪:৩০ পর্যন্ত
সন্ধ্যা ৭:৩০ থেকে ৯:০০ টা পর্যন্ত।
(শুক্রবার বন্ধ)
01766-661110,
01766-663305

জরুরি প্রয়োজনে:
01314-486260,
01314-537079

29/07/2026

কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভাবে কেন বেশি ওষুধ প্রেসক্রিপশন করা হয়????

ডা. মোঃ আলী রুমি
মেডিসিন, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনি রোগ
বিশেষজ্ঞ।

সহযোগী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান
(নেফ্রোলজি বিভাগ)
শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

চেম্বার:
পপুলার ডায়াগনস্টিক লিমিটেড,
দক্ষিণ আলেকান্দা বাংলাবাজার বরিশাল।
বিকাল ৫ টা ৩০ হইতে ৯:০০ পর্যন্ত এবং রাত্র ১০:০০ হইতে ১১:০০ পর্যন্ত।
(শুক্রবার বন্ধ)
মোবাইল:
09666-787819

২. ল্যাবএইড লিঃ ( ডায়াগনস্টিক)
বাড়ি ১০৬, সদর রোড, বরিশাল।
দুপুর ৩:৩০ থেকে ৫:৩০ পর্যন্ত
সন্ধ্যা ৯:০০ থেকে ১০:০০ টা পর্যন্ত।
(শুক্রবার বন্ধ)
01766-661110,
01766-663305

জরুরি প্রয়োজনে:
01314-486260,
01314-537079

Address

Barishal

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Mohammad Ali Rumee posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr. Mohammad Ali Rumee:

Shortcuts

Share

Category