17/05/2026
আমরা সবসময় ডাক্তারের দোষ দেই অথচ সিস্টেমের বিরুদ্ধে বলি না।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে আমরা যারা পেট প্রাকটিস করি তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় কনফার্মেটরি ডায়াগনসিসের ক্ষেত্রে। কারন আমাদের কাছে যথেষ্ট ডায়াগনসিস ফ্যাসেলিটিজ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নাই। মোটামুটি একটা ডায়াগনস্টিক সেটাপের জন্যও কমপক্ষে ১৫-২০ লাখ টাকা দরকার। এত টাকা আমাকে কে দিবে বলেন? যদি লোন করেও এগুলোর ব্যবস্থা করি, ১-২ জন টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিয়ে বরিশালের মত জায়গায় ক্লিনিক চালাতে পারবো বলে মনে করেন?
যেখানে ৪ বছর প্রাকটিস করে ৩০০ টাকা ভিজিট নেই, সেখানেও বলে ভাইয়া একটু কম রাখেন। এমনো অনেকে আছেন ডাক্তার দেখিয়ে বলে এখানে ভিজিট লাগে তা তো জানতাম না, অনেকে আবার ভিজিটের কথা শুনে প্রেসক্রিপশন রেখেই চলে যায়। ফ্লু টেস্ট ৫০০ টাকা শুনে বলে, ভাইয়া টেস্ট করার দরকার নাই আপনি ট্রিটমেন্ট শুরু করেন।
মানুষের চিকিৎসাব্যবস্থা কতটা আধুনিক হয়েছে তবুও রোগ নির্ণয়ের জন্য বরিশাল থেকে ঢাকায় যেতে হচ্ছে, দেশ থেকে বিদেশে যেতে হচ্ছে। অথচ আমাদের কাছে পেট নিয়ে এসে বলে ওর কি রোগ হয়েছে একটু নির্দিষ্ট করে বলেন!
ডাক্তারও একজন মানুষ, তার ভুল হওয়া স্বাভাবিক।তবে একজন ডাক্তার জেনেশুনে ভুল চিকিৎসা দেন না। ভুল হয় মূলত রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে। আমার জানামতে দেশের অধিকাংশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে সরকার আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন দিয়েছেন। কিন্তু পেট প্যারেন্টসরা সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার সাহস করেন না। আমি নিজেও পেট প্যারেন্ট। আপনাদের ইমোশন ও ভালোবাসাকে আমি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাই। তবে অনুরোধ থাকবে ডাক্তারকে গালি না দিয়ে, ডাক্তারের বিরুদ্ধে না বলে বরং সিস্টেমের বিরুদ্ধে বলেন। দেশের প্রতিটি জেলা শহরে একটি করে আধুনিক পেট হসপিটাল স্থাপনের দাবি তুলুন, পেট স্পেশালিস্ট নিয়োগের দাবি তুলুন।