25/08/2026
গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা অনেকেই সচেতন, কিন্তু কিছু জটিলতা এমন হঠাৎ করে আসে যা প্রাণঘাতী হতে পারে। তেমনই একটি মারাত্মক শারীরিক অবস্থা হলো একলাম্পসিয়া। সহজ কথায়, গর্ভাবস্থায় বা সন্তান প্রসবের পরপরই উচ্চ রক্তচাপের কারণে প্রসূতি মায়ের খিঁচুনি বা স্ট্রোকের মতো হওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একলাম্পসিয়া বলা হয়। এটি মূলত প্রি-একলাম্পসিয়া নামক সমস্যার এক চূড়ান্ত ও বিপজ্জনক রূপ। সময়ে সঠিক চিকিৎসা না পেলে এটি মা এবং গর্ভস্থ সন্তান উভয়ের জন্যই চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কিছু বিষয়ের কারণে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় যেমন:
✔️ প্রথমবার মা হতে যাওয়া নারীদের প্রি-একলাম্পসিয়া ও একলাম্পসিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
✔️ গর্ভাবস্থার আগে বা শুরু থেকেই প্রেশার বেশি থাকলে।
✔️ ২০ বছরের কম বা ৩৫ বছরের বেশি বয়সে গর্ভধারণ করলে।
✔️ পরিবারে মা বা বোনের গর্ভকালীন খিঁচুনির ইতিহাস থাকলে।
✔️ স্থূলতা, কিডনি রোগ বা ডায়াবেটিস থাকলে।
খিঁচুনি শুরু হলে মা সাময়িকভাবে জ্ঞান হারাতে পারেন। এর ফলে মায়েদের স্ট্রোক, কিডনি ও লিভার অকার্যকর হওয়া কিংবা ফুসফুসে পানি জমার মতো জটিলতা হতে পারে। অন্যদিকে, গর্ভস্থ শিশুর প্লাসেন্টা আলগা হয়ে মায়ের জরায়ু থেকে রক্তপাত হতে পারে, শিশুর অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হতে পারে এবং গর্ভেই শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
রোগীর খিঁচুনি শুরু হলে ঘরে রেখে সময় নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। খিঁচুনির সময় মা যেন কোনো শক্ত বস্তুর সাথে আঘাত না পান সেদিকে খেয়াল রাখুন। তাঁকে বাম পাশে কাত করে শুইয়ে দিন যাতে মুখে জমে থাকা লালা বা বমি শ্বাসনালীতে না ঢোকে। খিঁচুনির সময় মুখ খোলার জন্য বা দাঁত ছাড়ানোর জন্য জোরাজুরি করবেন না এবং মুখে জোর করে পানি বা অন্য কিছু দেবেন না।
একলাম্পসিয়া থেকে বাঁচতে সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। গর্ভধারণের খবর জানার পর থেকেই নিয়মিত এন্টিনেটাল চেকআপ (ANC) করানো অত্যন্ত জরুরি। প্রতিবার চেকআপে প্রেশার মাপা এবং প্রস্রাবে প্রোটিনের পরিমাণ পরীক্ষা করা আবশ্যক। প্রেশার একটু বেশি মনে হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে এবং কোনোভাবেই নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।
ডা. ইসরাত শারমিন
সহকারী অধ্যাপক ( গাইনী এন্ড অবস)
শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।
চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার,
বাংলাবাজার, বরিশাল।