Dr Israt Sharmin

Dr Israt Sharmin স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন
কনসালটেন্ট ( গাইনী এন্ড অবস)

গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা অনেকেই সচেতন, কিন্তু কিছু জটিলতা এমন হঠাৎ করে আসে যা প্রাণঘাতী হতে পারে। তেম...
25/08/2026

গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা অনেকেই সচেতন, কিন্তু কিছু জটিলতা এমন হঠাৎ করে আসে যা প্রাণঘাতী হতে পারে। তেমনই একটি মারাত্মক শারীরিক অবস্থা হলো একলাম্পসিয়া। সহজ কথায়, গর্ভাবস্থায় বা সন্তান প্রসবের পরপরই উচ্চ রক্তচাপের কারণে প্রসূতি মায়ের খিঁচুনি বা স্ট্রোকের মতো হওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একলাম্পসিয়া বলা হয়। এটি মূলত প্রি-একলাম্পসিয়া নামক সমস্যার এক চূড়ান্ত ও বিপজ্জনক রূপ। সময়ে সঠিক চিকিৎসা না পেলে এটি মা এবং গর্ভস্থ সন্তান উভয়ের জন্যই চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

কিছু বিষয়ের কারণে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় যেমন:
✔️ প্রথমবার মা হতে যাওয়া নারীদের প্রি-একলাম্পসিয়া ও একলাম্পসিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

✔️ গর্ভাবস্থার আগে বা শুরু থেকেই প্রেশার বেশি থাকলে।

✔️ ২০ বছরের কম বা ৩৫ বছরের বেশি বয়সে গর্ভধারণ করলে।

✔️ পরিবারে মা বা বোনের গর্ভকালীন খিঁচুনির ইতিহাস থাকলে।

✔️ স্থূলতা, কিডনি রোগ বা ডায়াবেটিস থাকলে।

খিঁচুনি শুরু হলে মা সাময়িকভাবে জ্ঞান হারাতে পারেন। এর ফলে মায়েদের স্ট্রোক, কিডনি ও লিভার অকার্যকর হওয়া কিংবা ফুসফুসে পানি জমার মতো জটিলতা হতে পারে। অন্যদিকে, গর্ভস্থ শিশুর প্লাসেন্টা আলগা হয়ে মায়ের জরায়ু থেকে রক্তপাত হতে পারে, শিশুর অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হতে পারে এবং গর্ভেই শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

রোগীর খিঁচুনি শুরু হলে ঘরে রেখে সময় নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। খিঁচুনির সময় মা যেন কোনো শক্ত বস্তুর সাথে আঘাত না পান সেদিকে খেয়াল রাখুন। তাঁকে বাম পাশে কাত করে শুইয়ে দিন যাতে মুখে জমে থাকা লালা বা বমি শ্বাসনালীতে না ঢোকে। খিঁচুনির সময় মুখ খোলার জন্য বা দাঁত ছাড়ানোর জন্য জোরাজুরি করবেন না এবং মুখে জোর করে পানি বা অন্য কিছু দেবেন না।

একলাম্পসিয়া থেকে বাঁচতে সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। গর্ভধারণের খবর জানার পর থেকেই নিয়মিত এন্টিনেটাল চেকআপ (ANC) করানো অত্যন্ত জরুরি। প্রতিবার চেকআপে প্রেশার মাপা এবং প্রস্রাবে প্রোটিনের পরিমাণ পরীক্ষা করা আবশ্যক। প্রেশার একটু বেশি মনে হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে এবং কোনোভাবেই নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।

ডা. ইসরাত শারমিন
সহকারী অধ্যাপক ( গাইনী এন্ড অবস)
শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার,
বাংলাবাজার, বরিশাল।

24/08/2026

যে ভুলগুলো পিরিয়ডের সময় ব্যথা বাড়িয়ে দেয়

23/08/2026

বাচ্চা নেওয়ার আগে শুধু ফোলিক অ্যাসিড শুরু করাই যথেষ্ট নয়।গর্ভধারণের কয়েক মাস আগেই থাইরয়েড, রক্তশূন্যতা, ডায়াবেটিস টেস্ট করা উচিৎ

১৪ দিনের একটা ছোট্ট নিষ্পাপ শিশু তার জন্মদাত্রী মায়ের হাতেই প্রাণ হারিয়েছে খবরটা পড়ার পর থেকে মনটা ভীষণ ভারী হয়ে আছে। সা...
22/08/2026

১৪ দিনের একটা ছোট্ট নিষ্পাপ শিশু তার জন্মদাত্রী মায়ের হাতেই প্রাণ হারিয়েছে খবরটা পড়ার পর থেকে মনটা ভীষণ ভারী হয়ে আছে। সাধারণ মানুষের চোখে হয়তো এই মা একজন খুনি বা পাথরের মতো নিষ্ঠুর কেউ, কিন্তু একজন চিকিৎসক হিসেবে এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে আমি সম্পূর্ণ অন্য এক কঠিন বাস্তবতা দেখতে পাই। টানা দুই সপ্তাহ একদম না ঘুমাতে পারা, শরীরে তীব্র শারীরিক ও হরমোনাল ঝড় বয়ে যাওয়া এবং চারপাশের কোনো সাপোর্ট না পাওয়া একজন নতুন মাকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, তা অনেকেই অনুমান করতে পারেন না। এটি কেবল সাধারণ রাগ বা বিরক্তি নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পেছনে কাজ করে মারাত্মক পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন কিংবা এর চেয়েও বিপজ্জনক রূপ পোস্টপার্টাম সাইকোসিস।

সন্তান জন্ম দেওয়ার ঠিক পরপরই একজন নারীর শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা এক ধাক্কায় অনেক নিচে নেমে যায়। থাইরয়েড হরমোনেও আসে তীব্র পরিবর্তন। এর সাথে যখন যোগ হয় নতুন বাচ্চার দায়িত্ব, শারীরিক ব্যথা, দুধ না পাওয়ার চিন্তা আর একটানা রাত জাগা তখন ব্রেনের নিউরোট্রান্সমিটারগুলো ঠিকমতো কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে একজন মা তার আবেগ ও চিন্তাশক্তির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।

সন্তান হওয়ার পরের মানসিক অবস্থাকে মূলত ৩টি ধাপে দেখা হয়:

▪️ বেবি ব্লুজ
প্রসবের পর ৮০% মা-ই এটি অনুভব করেন। হালকা মন খারাপ, কথায় কথায় কান্না আসা বা খিটখিটে মেজাজ থাকা। এটি সাধারণত ১০-১৪ দিনের মধ্যে একা একাই ঠিক হয়ে যায়।

▪️ পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন
এটি সাধারণ মন খারাপের চেয়ে অনেক বেশি গভীর। মা বাচ্চার প্রতি কোনো টান অনুভব করেন না, নিজেকে অপরাধী মনে করেন, সারাক্ষণ কান্নাকাটি করেন এবং বাচ্চার সাথে বা নিজের সাথে বিচ্ছিন্নতা বোধ করেন।

▪️ পোস্টপার্টাম সাইকোসিস
এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়। এতে মা বাস্তব জগৎ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। তিনি কাল্পনিক আওয়াজ শুনতে পান, মাথায় অবাস্তব চিন্তা বা হ্যালুসিনেশন কাজ করে। তীব্র ঘুমহীনতা যখন ব্রেনের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, তখন এই অবস্থায় পড়া মা নিজের অজান্তেই বাচ্চার বা নিজের বড় কোনো ক্ষতি করে ফেলতে পারেন।

একজন নতুন মা তৈরি হতে একটা পুরো পরিবারের সমর্থন লাগে। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর একজন মাকে শুধু বাচ্চার দেখভাল করার যন্ত্র ভাবলে চলবে না। মায়ের রাতে অন্তত ৪-৬ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম খুব প্রয়োজন। বাচ্চার দায়িত্ব রাতে স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যরা ভাগ করে নিন। বাচ্চা সামলাতে পারছ না কেন?, তুমি কেমন মা? এই মানসিক অত্যাচারগুলো বন্ধ করতে হবে। আচরণে সামান্য অস্বাভাবিকতা বা তীব্র মানসিক অস্থিরতা দেখলেই দেরি না করে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। ওষুধ এবং কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে এটি পুরোপুরি ভালো করা সম্ভব।

ডা. ইসরাত শারমিন
সহকারী অধ্যাপক ( গাইনী এন্ড অবস)
শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার,
বাংলাবাজার, বরিশাল।

20/08/2026

বাচ্চা নিলে কি PMOS ভালো হয়ে যায়?

আমাদের সমাজে পিরিয়ড নিয়ে এমন কিছু ভুল ধারণা বা প্রচলিত কথা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে, যেগুলোকে আমরা সত্যি বলে ধরে নিই। আমার চ...
19/08/2026

আমাদের সমাজে পিরিয়ড নিয়ে এমন কিছু ভুল ধারণা বা প্রচলিত কথা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে, যেগুলোকে আমরা সত্যি বলে ধরে নিই। আমার চেম্বারে প্রায়ই অনেক তরুণী এবং তাদের মায়েরা আসেন একটি বিশেষ ধারণা নিয়ে। মায়েরা প্রায়ই বলেন, ম্যাডাম, মেয়ের পিরিয়ড তো অনিয়মিত। বিয়ের বয়স তো হচ্ছে, বিয়েটা দিয়ে দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে না? আবার অনেক সদ্য বিবাহিত নারী এসে বলেন, বিয়ের পর সবাই বলেছিল পিরিয়ড ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু আমার তো এখনো অনিয়মিত।

এই যে একটা প্রচলিত কথা বিয়ের পর পিরিয়ড নিয়মিত হয়ে যায় এটা কি আসলে সত্যি, নাকি নিছকই একটি মিথ? বিয়ের সাথে পিরিয়ড নিয়মিত বা অনিয়মিত হওয়ার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। বিয়ে একটি সামাজিক ও পারিবারিক বিষয়, আর পিরিয়ড নির্ভর করে নারীদেহের জটিল হরমোন সিস্টেমের ওপর। তাই বিয়ে হলেই যে অলৌকিকভাবে হরমোনের সমস্যা দূর হয়ে যাবে এমন ভাবার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে আমার পরিচিত অমুক আপার বিয়ের পর পিরিয়ড ঠিক হলো কীভাবে? এর পেছনে কিছু পরোক্ষ কারণ কাজ করে, যা অনেকেই না বুঝে বিয়ের কৃতিত্ব বলে মনে করেন। বিয়ের পর অনেক নারীই গর্ভধারণ এড়াতে ডক্টরের পরামর্শে বা নিজেরা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়া শুরু করেন। এই পিলগুলোর মধ্যে কৃত্রিম হরমোন থাকে, যা পিরিয়ডকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ে আসে। এটি কিন্তু পিরিয়ডকে প্রাকৃতিক উপায়ে নিয়মিত করছে না, বরং পিল খাওয়ার কারণে পিরিয়ড নিয়মিত হচ্ছে। পিল বন্ধ করে দিলে সমস্যা আবার আগের মতোই ফিরে আসে। বিয়ের পর অনেকের খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের সময় এবং দৈনন্দিন রুটিনে বেশ পরিবর্তন আসে। শারীরিক সম্পর্কের কারণে কিছু হরমোনাল পরিবর্তনও ঘটে। এছাড়া দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ যদি বিয়ের পর কমে যায়, তবে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য কিছুটা ফিরে আসতে পারে। বিয়ের পর নারী যখন গর্ভধারণ করেন এবং পরবর্তীতে সন্তানকে দুধ খাওয়ান, তখন তার শরীরে হরমোনের বড় ধরনের একটা পরিবর্তন ঘটে। অনেক সময় সন্তান হওয়ার পর ওভারির কার্যক্ষমতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, যার ফলে পিরিয়ড আগের চেয়ে নিয়মিত হতে পারে। বিয়ের পর অনেক নারীরই কিছুটা ওজন বাড়ে। যদি কারো আগে অতিরিক্ত কম ওজনের কারণে পিরিয়ড অনিয়মিত থেকে থাকে, তবে বিয়ের পর ওজন একটু বাড়লে পিরিয়ড স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। আবার বিপরীতভাবে, ওজন বেশি বেড়ে গেলে কিন্তু সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

পিরিয়ড অনিয়মিত থাকা মানেই আপনার শরীর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভেতরে হরমোনের কোনো না কোনো সমস্যা রয়েছে। পিরিয়ড অনিয়মিত থাকলে বিয়ের পর ঠিক হয়ে যাবে ভেবে চিকিৎসা দেরি করবেন না। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে পরবর্তীতে গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দিতে পারে। পুষ্টিকর খাবার খান, রাতে পর্যাপ্ত ঘুমান এবং প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন।

ডা. ইসরাত শারমিন
সহকারী অধ্যাপক ( গাইনী এন্ড অবস)
শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার,
বাংলাবাজার, বরিশাল।

সমাজ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সময় নতুন মায়েদের ওপর গর্ভাবস্থার আগের ফিগারে দ্রুত ফিরে যাওয়ার একধরণের চাপ তৈরি করা হয়। কিন...
18/08/2026

সমাজ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সময় নতুন মায়েদের ওপর গর্ভাবস্থার আগের ফিগারে দ্রুত ফিরে যাওয়ার একধরণের চাপ তৈরি করা হয়। কিন্তু একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি আপনাকে বলতে চাই সন্তান জন্মের পর আপনার শরীরের এই পরিবর্তনগুলো কিন্তু কোনো দুর্বলতা বা ত্রুটি নয়। টানা নয় মাস ধরে একটি নতুন জীবনকে ধারণ করা, তাকে পুষ্টি দেওয়া এবং জন্ম দেওয়ার জন্য আপনার শরীরকে প্রতিনিয়ত এক জটিল ও চমৎকার রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।গর্ভধারণের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় শরীরের হরমোন, হাড়, মাংসপেশি এবং চামড়ায় যেসব বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে, তা রাতারাতি আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া অসম্ভব এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তা উচিত ও নয়।

গর্ভাবস্থায় বাচ্চা বাড়ার সাথে সাথে জরায়ু স্বাভাবিক আকারের চেয়ে অনেক গুণ বড় হয়ে যায়। সন্তান জন্মের সাথে সাথেই কিন্তু জরায়ু আগের ছোট আকারে ফিরে আসে না। এটি গুটিয়ে আগের জায়গায় যেতে অন্তত ৬-৮ সপ্তাহ সময় নেয়। তাছাড়া, গর্ভের বাচ্চার জায়গা করে দিতে গিয়ে পেটের মাঝখানের সোজা মাংসপেশি দুটি টানটান হয়ে দুই দিকে সরে যায়। এই পেশিগুলো সহজে আগের মতো জোড়া লাগে না, যার কারণে ডেলিভারির বেশ কিছুদিন পরও পেট ফোলা বা ঢিলে দেখায়।

প্রেগন্যান্সির সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোন সর্বোচ্চ মাত্রায় থাকে। কিন্তু বাচ্চা হওয়ার পরপরই এই হরমোনগুলোর মাত্রা ধপ করে নিচে নেমে যায়। অন্যদিকে, বুকের দুধ তৈরির জন্য শরীরে প্রোল্যাকটিন হরমোনের নিঃসরন বাড়ে।
হরমোনের এই হঠাৎ ওলটপালটে শরীরের মেটাবলিজম স্লো হয়ে যায়। শরীর সাময়িকভাবে পানি আটকে রাখে এবং মেদ জমায়।

গর্ভাবস্থায় শরীর রিল্যাক্সিন নামের একটি বিশেষ হরমোন তৈরি করে। এর কাজ হলো নরমাল ডেলিভারি সহজ করতে পেলভিক এলাকার হাড়, লিগামেন্ট ও জোড়াগুলোকে নরম ও ঢিলে করে দেওয়া। এই হরমোনের প্রভাবেই মূলত নিতম্বের হাড় বা হিপ চওড়া হয়ে যায়। বাচ্চা জন্মের পরও শরীরে রিল্যাক্সিন হরমোনের প্রভাব কয়েক মাস পর্যন্ত থেকে যায়, ফলে শারীরিক গঠনে একটি স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন মনে হতে পারে।

আমাদের শরীর প্রাকৃতিকভাবেই সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করে। বুকের দুধ তৈরি ও সরবরাহ বজায় রাখার জন্য শরীরের বাড়তি শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই প্রকৃতিগতভাবেই মায়ের শরীর উরু, কোমর ও তলপেটে কিছু অতিরিক্ত চর্বি জমিয়ে রাখে। এই জমা মেদ কিন্তু আপনার সন্তানের পুষ্টিরই জ্বালানি।

পেট খুব দ্রুত ফুলে ওঠার কারণে চামড়ার ভেতরের কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তুগুলো অতিরিক্ত টানের ফলে ছিঁড়ে বা ফেটে যায়। এর থেকেই তৈরি হয় স্ট্রেচ মার্কস। চামড়ার ইলাস্টিসিটি বা টানটান ভাব কমে যাওয়ার কারণে ডেলিভারির পর পেটের চামড়া লুজ বা ঝুলে পড়ে। এই চামড়া আবার আগের মতো হতে দীর্ঘ সময়, পুষ্টিকর খাবার এবং নিয়মিত যত্ন প্রয়োজন।

নতুন বাচ্চার যত্ন নিতে গিয়ে প্রায় সব মায়েরই রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং শারীরিক ক্লান্তির কারণে শরীরে কর্টিসল হরমোন নিঃসরণ বেড়ে যায়। আর এই হরমোনের সবচেয়ে বড় কুফল হলো এটি তলপেটে মেদ জমাতে সাহায্য করে এবং ওজন কমাতে বাধা দেয়।

যে শরীরটি ১০ মাস ধরে রক্ত মাংস দিয়ে একটা নতুন জীবন তৈরি করেছে, সেই শরীরকে সুস্থ হতে একটু সময় দিন। সন্তান জন্মের পরপরই কঠোর ডায়েট বা ভারী ব্যায়াম করে শরীরকে জোর খাটাতে যাবেন না। পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খান ও প্রচুর পানি পান করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পেলভিক ফ্লোরের হালকা ব্যায়াম ও হাঁটা শুরু করতে পারেন। রাতে বাচ্চা ঘুমালে সুযোগ বুঝে নিজে কিছুটা বিশ্রাম নিন।

ডা. ইসরাত শারমিন
সহকারী অধ্যাপক ( গাইনী এন্ড অবস)
শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার,
বাংলাবাজার, বরিশাল।

17/08/2026

সি সেকশনের পর পরবর্তী প্রেগ্ন্যাসিতে গ্যাপ রাখা কেন জরুরি

মিউলেরিয়ান অ্যাজেনেসিস (Müllerian Agenesis), যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে Mayer-Rokitansky-Küster-Hauser (MRKH) Syndrome নামে পরিচ...
16/08/2026

মিউলেরিয়ান অ্যাজেনেসিস (Müllerian Agenesis), যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে Mayer-Rokitansky-Küster-Hauser (MRKH) Syndrome নামে পরিচিত, নারী প্রজননতন্ত্রের একটি বিরল গঠনগত অবস্থা। বিশ্বজুড়ে প্রায় প্রতি ৪,০০০-৫,০০০ জন কন্যাসন্তানের মধ্যে ১ জনের ক্ষেত্রে এই বিশেষ অবস্থাটি দেখা যায়। মানবদেহের বিকাশের সময় মাতৃগর্ভে যখন একটি শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠিত হতে থাকে, তখন মিউলেরিয়ান ডাক্ট নামক বিশেষ একটি নালী থেকে নারীর প্রজনন অঙ্গ তৈরি হয়। এই নালীর বিকাশ কোনো কারণে বাধাগ্রস্ত হলে শিশুটি জরায়ু এবং যোনিপথের উপরিভাগ (Upper 2/3rd of Va**na) ছাড়াই জন্মগ্রহণ করে।

শারীরিক গঠনে এত বড় একটি ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও মিউলেরিয়ান অ্যাজেনেসিসে আক্রান্ত নারীদের ডিম্বাশয় সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং কর্মক্ষম থাকে। ডিম্বাশয় স্বাভাবিক থাকায় শরীর ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন সঠিকভাবে তৈরি করতে পারে। ফলে বয়সন্ধিকালে অন্যান্য মেয়েদের মতোই তাদের স্তনের বিকাশ ঘটে, বগলে ও যৌনাঙ্গে লোম গজায় এবং বাহ্যিক শারীরিক বৃদ্ধি একদম স্বাভাবিক থাকে। তবে জরায়ু ও যোনিপথ গঠিত না হওয়ার কারণে তাদের জীবনে কখনো পিরিয়ড শুরু হয় না।

গর্ভধারণের ৪-১২ সপ্তাহের মধ্যে এই অঙ্গগুলোর গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি সম্পূর্ণ আকস্মিক একটি গঠনগত ত্রুটি। কোনো নির্দিষ্ট একটি কারণে এটি হয় না। অনেক সময় ধারণা করা হয় গর্ভাবস্থায় মায়ের কোনো খাদ্যাভ্যাস বা ভুলের কারণে এটি হতে পারে, যা সম্পূর্ণ ভুল। এটি কোনো বংশগত সমস্যা বা মায়ের কোনো ভুলের ফল নয়। সাধারণত শৈশবে এই সমস্যা বোঝা যায় না। বয়সন্ধিতে এসে এটি শনাক্ত হয়। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

✔️ ১৬-১৭ বছর বয়স পার হয়ে গেলেও মাসিক বা পিরিয়ড শুরু না হওয়া।

✔️ স্বাভাবিক স্তন গঠন ও অন্যান্য দ্বিতীয় পর্যায়ের যৌন বৈশিষ্ট্য ঠিক থাকা।

✔️ যোনিপথ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ ছোট হওয়া।

✔️ বিয়ের পর বা শারীরিক মিলনের চেষ্টা করার সময় তীব্র ব্যথা বা অক্ষমতা।

✔️ বিরল কিছু ক্ষেত্রে যদি জরায়ুর একটি ক্ষুদ্র অসম্পূর্ণ অংশ থেকে থাকে এবং তাতে প্রতি মাসে পিরিয়ডের রক্ত জমা হয়, তবে তলপেটে তীব্র ব্যথা হতে পারে।

যেহেতু জরায়ু থাকে না, তাই আক্রান্ত নারী নিজের গর্ভে সন্তান ধারণ করতে পারেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো সার্জারি ছাড়াই বিশেষ ডাইলেটর ব্যবহারের মাধ্যমে যোনিপথকে স্বাভাবিক দৈর্ঘ্যে প্রসারিত করা যায়। ডাইলেশন সফল না হলে ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কৃত্রিম যোনিপথ তৈরি করা সম্ভব।

ডা. ইসরাত শারমিন
সহকারী অধ্যাপক ( গাইনী এন্ড অবস)
শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার,
বাংলাবাজার, বরিশাল।

বয়ঃসন্ধিকাল যেকোনো মেয়ের জীবনেই একটা সুন্দর আর ইতিবাচক পরিবর্তনের সময়। কিন্তু কখনো কখনো দেখা যায়, নির্দিষ্ট বয়স পার...
15/08/2026

বয়ঃসন্ধিকাল যেকোনো মেয়ের জীবনেই একটা সুন্দর আর ইতিবাচক পরিবর্তনের সময়। কিন্তু কখনো কখনো দেখা যায়, নির্দিষ্ট বয়স পার হয়ে যাওয়ার পরও যে স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তনগুলো আসার কথা, সেগুলো আসছে না। বিশেষ করে ১৫-১৬ বছর বয়স হয়ে যাওয়ার পরও যখন প্রথম পিরিয়ড বা মাসিক শুরু হয় না, তখন পরিবারে দুশ্চিন্তা নেমে আসা খুব স্বাভাবিক।
সাধারণত পিরিয়ড না হলে অনেকেই ভাবেন খাদ্যাভ্যাস বা সাধারণ কোনো হরমোনের ঘাটতির কথা। তবে এর পেছনে কখনো কখনো কিছু জটিল জন্মগত কারণও থাকতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এমন একটি বিরল অথচ গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক অবস্থার নাম কমপ্লিট গোনাডাল ডিসজেনেসিস বা Complete Gonadal Dysgenesis।

মায়ের গর্ভে যখন একটি শিশু বড় হতে থাকে, তখন তার প্রজনন অঙ্গ অর্থাৎ ওভারি তৈরি হওয়ার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট জেনেটিক নির্দেশনা থাকে। কিন্তু জন্মগত কোনো ক্রোমোজোম বা জিনগত জটিলতার কারণে যদি ওভারি সঠিকভাবে তৈরি হতে না পারে, তখন সেখানে কার্যকর ডিম্বাশয়ের বদলে কেবল কিছু মাংসপিণ্ড বা সুতোর মতো টিস্যু তৈরি হয়। এগুলোকে বলা হয় Streak Gonads।
যেহেতু ওভারি সঠিকভাবে গঠিত হয় না, তাই সেখান থেকে নারী হরমোন যেমন এস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন উৎপন্ন হতে পারে না। আর এই হরমোনের অভাবে মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালের শারীরিক পরিবর্তনগুলো বাধাগ্রস্ত হয়।

এটি মূলত দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত
1️⃣ 46,XX Complete Gonadal Dysgenesis: এখানে ব্যক্তির শরীরে নারী ক্রোমোজোম (XX) থাকে, জরায়ু এবং ডিম্বনালীও স্বাভাবিকভাবেই গঠিত হয়, কিন্তু শুধু ডিম্বাশয় কাজ করে না।

2️⃣ 46,XY Complete Gonadal Dysgenesis: এটি বেশ আশ্চর্যজনক একটি অবস্থা। এখানে ব্যক্তির ক্রোমোজোম পুরুষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন (XY), কিন্তু গর্ভস্থ অবস্থায় কোনো পুরুষালী অঙ্গ বা হরমোন তৈরি হয় না। ফলে শিশুটি বাহ্যিকভাবে পুরোপুরি কন্যাসন্তান হিসেবেই জন্মগ্রহণ করে এবং বড় হতে থাকে। তাদের জরায়ু ও ডিম্বনালীও থাকে, কিন্তু ডিম্বাশয় বা শুক্রাশয়ের জায়গায় থাকে সেই নিষ্ক্রিয় টিস্যু।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শৈশবে এই সমস্যাটি একেবারেই ধরা পড়ে না। সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে এসে কিছু লক্ষণদেখে এটি চিহ্নিত করা যায় যেমন:
✔️ ১৬ বছর বয়স পার হয়ে গেলেও কোনো পিরিয়ড শুরু না হওয়া।

✔️ বয়সের সাথে সাথে স্তন সুগঠিত না হওয়া, শরীরে নারীসুলভ গড়ন না আসা বা বগল ও যৌনাঙ্গে পর্যাপ্ত লোম না গজানো।

✔️ অনেক সময় দেখা যায় টার্নার সিন্ড্রোম নামক সমস্যায় মেয়েরা খাটো হয়, কিন্তু এই রোগীদের উচ্চতা সাধারণত একদম স্বাভাবিক বা সাধারণ মেয়েদের মতোই হয়।

✔️ ভবিষ্যতে সন্তান ধারণে সমস্যা হওয়া।

এই সমস্যা শুনে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের কল্যাণে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই রোগীরাও সুন্দর ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। বাহ্যিক হরমোন ওষুধের মাধ্যমে শরীরে এস্ট্রোজেনের জোগান দেওয়া হয়। এর ফলে স্তন সুগঠিত হয়, স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশ ঘটে এবং নিয়মিত পিরিয়ড চালু করা সম্ভব হয়। এছাড়া এটি হাড় শক্ত রাখতেও সাহায্য করে। যেসব রোগীর ক্রোমোজোম XY, তাদের ক্ষেত্রে সেই নিষ্ক্রিয় গোনাড বা টিস্যুগুলো অস্ত্রোপচার করে শরীর থেকে ফেলে দিতে হয়। কারণ, এগুলো শরীরের ভেতরে রেখে দিলে ভবিষ্যতে সেখানে টিউমার বা ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে পারে এদের কি কখনো মা হওয়ার সুযোগ আছে? উত্তর হলো, হ্যাঁ।যেহেতু তাদের জরায়ু বা গর্ভাশয় পুরোপুরি স্বাভাবিক থাকে, তাই হরমোন থেরাপির মাধ্যমে জরায়ু পরিপক্ক করে ডোনর এগ এবং IVF প্রযুক্তির সাহায্যে তারা সফলভাবে গর্ভধারণ করতে পারেন। বয়ঃসন্ধিকালে আপনার মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন স্বাভাবিক মনে না হলে বা ১৬ বছর পার হওয়ার পরও পিরিয়ড না হলে লজ্জা বা ভয়ে দেরি করবেন না।

ডা. ইসরাত শারমিন
সহকারী অধ্যাপক ( গাইনী এন্ড অবস)
শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার,
বাংলাবাজার, বরিশাল।

Address

Popular Diagnostic Centre, Bangla Bazar
Barishal
8200

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr Israt Sharmin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category