Raqi Mahmud Shihab

Raqi Mahmud Shihab প্রচলিত শিরকি-কুফরির বিরুদ্ধে সুন্নাহ ও শরীয়াহ সম্মত উপায়ে বদনজর জ্বীন যাদু ওয়াসওয়াসার চিকিৎসা করা হয়

09/09/2026

কারো প্রতি হিংসা, ঈর্ষা বা মাত্রাতিরিক্ত বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকার ফলে ওই ব্যক্তি বা বস্তুর ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তাকেই বদনজর বলে।ইসলামি পরিভাষায় একে 'আল-আইন' (Al-Ayn) বলা হয়। হাদীসে এসছে,আল্লাহর তাকদিরের পর মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে বদনজর। এছাড়া রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— "বদনজর সত্য।"
(সহিহ বুখারি)

তাই আজকের পোস্টের বিষয়বস্তু বদনজরের কিছু লক্ষণসমূহ-

​১. শারীরিক লক্ষণ
শারীরিক কোনো বড় রোগ না থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়া বদনজরের অন্যতম লক্ষণ।
🔸​অতিরিক্ত ক্লান্তি: সারাক্ষণ শরীর ম্যাজম্যাজ করা এবং শরীরে শক্তি না পাওয়া।
🔸​মাথাব্যথা: ঘনঘন মাথাব্যথা হওয়া যা সাধারণ ওষুধে ভালো হতে চায় না।
🔸​অস্থিরতা: কোনো কারণ ছাড়াই বুক ধড়ফড় করা বা শ্বাসকষ্ট অনুভব করা।
🔸​খাবারে অরুচি: পছন্দের খাবারের প্রতিও হঠাৎ তীব্র অনীহা তৈরি হওয়া।
🔸​ত্বকের সমস্যা: হঠাৎ করে চেহারার লাবণ্য হারিয়ে যাওয়া বা ত্বকে কালচে ভাব বা ফোঁড়া হওয়া।

​২. মানসিক ও আচরণগত লক্ষণ
​মানসিকভাবে একজন ব্যক্তি হঠাৎ পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারেন:
🔸​হতাশা ও কান্না: কারণ ছাড়াই বিষণ্ণ লাগা বা হুটহাট কান্না আসা।
🔸​কাজে অনিহা: যে কাজ আগে ভালো লাগত, সেই কাজে মনোযোগ দিতে না পারা বা চরম অলসতা আসা।
🔸​মেজাজ খিটখিটে হওয়া: খুব সামান্য কারণে প্রিয়জনদের সাথে রাগারাগি বা বিবাদ করা।
🔸​বিস্মৃতি: খুব চটপটে মানুষের হঠাৎ সবকিছু ভুলে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হওয়া।

​৩. জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব
​বদনজর শুধু ব্যক্তির ওপর নয়, তার চারপাশের পরিবেশেও প্রভাব ফেলতে পারে:
🔸​ব্যবসায় ধস: ভালো চলতে থাকা ব্যবসায় হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই বড় ধরনের লোকসান হওয়া।
🔸​পারিবারিক অশান্তি: সুখের সংসারে হঠাৎ করে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হওয়া।
🔸​জিনিসপত্র নষ্ট হওয়া: শখের বা দামি জিনিসপত্র বারবার ভেঙে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়া।

সতর্কতা: এই লক্ষণগুলোর ২/১টি মাঝেমধ্যে দেখা দিলেই তা বদনজর হিসেবে নিশ্চিত হওয়া যাবে না। যদি দীর্ঘস্থায়ী লক্ষণ দেখা যায় এবং ডাক্তারি পরীক্ষায় কোনো সুনির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা ধরা না পড়ে কিংবা দীর্ঘ চেষ্টার পরেও সমস্যার হেতু বা সমাধান না পাওয়া যায় তবেই বদনজরের বিষয়টি জোরালো হয়।

31/08/2026

মানুষ যে জ্বিনের কাছে গিয়ে চিকিৎসা চায়!!
জ্বিন কি ডাক্তার যে চিকিৎসা দেবে?? 🙂

বাঙালির মনস্তত্ত্ব এমন—কোনো কিছু একটু অস্বাভাবিক মনে হলেই আগে জিন, হুজুর, কবিরাজ, তান্ত্রিক কিংবা গায়েব বলতে পারে বলে দাবি করে—এমন মানুষের কাছে ছুটে যায়।

এভাবে একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে যাওয়া শুরু হয়। এই সেক্টরে যেন যাওয়ার কোনো শেষ নেই—একটার পর একটা জায়গায় ঘুরতে থাকে। টাকা, সময়, মানসিক শান্তি—সবকিছু শেষ করার পর অবশেষে রুকইয়াহ করাতে আসে।

অথচ শুরু থেকেই যদি সঠিক আকীদা, সঠিক জ্ঞান এবং কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক পদ্ধতির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হতো, তাহলে এত জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর প্রয়োজন হতো না।

অস্বাভাবিক কিছু হলেই আগে “জিন-জাদু” ধরে নেওয়া নয়; বিষয়টা বুঝতে হবে, যাচাই করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

31/08/2026

অলসতা, অস্থিরতা কাজে মন না বসা বদনজর এর লক্ষণ।

27/08/2026

বদ নজর: নিজের বা কাছের মানুষের অজান্তেও হতে পারে!
​আমরা অনেকেই মনে করি, বদ নজর বা হাসাদ কেবল শত্রু বা অপরিচিত মানুষের থেকেই আসে। কিন্তু বাস্তব ও ইসলামী শিক্ষা হলো—অনেক সময় অজান্তেই আমাদের প্রিয়জন, আত্মীয় বা বন্ধুদের প্রশংসার কারণেও বদ নজর লেগে যেতে পারে।
​রাসূলুল্লাহ ﷺ স্পষ্টভাবে বলেছেন:
"العَيْنُ حَقٌّ"
(অর্থ: "বদ নজর সত্য।") — সহিহ মুসলিম: ২১৮৮
​তবে হ্যাঁ, জীবনের সব সমস্যা বা অসুস্থতাকেই বদ নজর মনে করে মানসিক চাপে থাকা কিংবা অহেতুক কাউকে সন্দেহ করাও উচিত নয়। ইসলাম আমাদের সতর্ক হতে বলেছে, কিন্তু অযথা কাউকে দোষারোপ বা সন্দেহ করতে নিষেধ করেছে।
​বদ নজর থেকে নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদ রাখার মূল আমলগুলো:
​• সকাল ও সন্ধ্যার নির্ধারিত মাসনুন জিকিরগুলো নিয়মিত করা।
• প্রতি ওয়াক্ত সালাত শেষে এবং ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করা।
• সূরা আল-ইখলাস, আল-ফালাক ও আন-নাস প্রতিদিন নিয়ম করে পড়া।
• নিজের বা অন্যের কোনো কিছু ভালো লাগলে বা সুন্দর দেখলে সাথে সাথে পড়া: "মা শা আল্লাহ, লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" (مَا شَاءَ اللّٰهُ، لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ)।
• সন্তান ও পরিবারের সুরক্ষার জন্য মাসনুন দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে হিফাজত চাওয়া।
​আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে, আমাদের পরিবার, সন্তান-সন্ততি, রিজিক ও ব্যবসাকে সব ধরনের বদ নজর, হিংসা ও অকল্যাণ থেকে হিফাজত করুন। আমিন।
​পোস্টটি শেয়ার করে অন্যদেরও সচেতন হওয়ার সুযোগ করে দিন।

24/08/2026

ছোটদের মধ্যে ইদানীং প্যারানরমাল সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। ৮-১৫ বছরের ছেলেমেয়েরা আক্রান্ত হচ্ছে। এটা ভাবনার বিষয়।

বর্তমানে মোবাইল ফোনের আসক্তি, ভিডিও ও গেইমের ডোপামিনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ছোট বড় প্রায় সবাই। এর থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য এখনই পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যত প্রজন্ম মানষিক বিকারগস্ত হয়ে যাবে।

অভিভাবকগণ সতর্ক হোন। হাই ডোপামিনে আক্রান্ত হয়ে গেলে এসব রোগী রুকইয়াতে কখনো মুক্ত হবে না, সাইকোলজিক্যাল ট্রিটমেন্টেও সুস্থ হওয়া কঠিন হবে।

দেরি হওয়ার আগে এখনই সতর্ক হোন, প্রয়োজনে আমাদের পরামর্শ নিন।

25/07/2026

গতকাল একটি রুকইয়ার ঘটনা শেয়ার করছি।

রুকইয়ার সময় হঠাৎ রোগীর মধ্যে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া শুরু হলো। সে আমাকে উদ্দেশ্য করে ধমক দিয়ে বলতে লাগল—

«“তুই যা পড়তেছিস, এগুলো সব আমার মুখস্থ। এগুলো পড়ে কোনো লাভ নেই। আমি তোকে ভয় পাই না। তুই আমার কিছুই করতে পারবি না!”»

আমি তখন আজান পড়ছিলাম। আশ্চর্যের বিষয়, সে-ও আমার সঙ্গে উচ্চস্বরে আজান পড়তে শুরু করল!

যে আজান ও কুরআনের তেলাওয়াত দিয়ে আমি তাকে কাবু করার চেষ্টা করছি, সে নিজেই যখন তা পড়ছে—বিষয়টা অনেকের কাছেই হতাশাজনক মনে হতে পারে।

সত্যি বলতে, এমন অভিজ্ঞতা আমার আগে হয়নি। তবে একজন শায়েখের কাছ থেকে প্রায় একই ধরনের একটি ঘটনা শুনেছিলাম। রুকইয়ার সময় রোগীর মধ্যে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার পর জিন নিজেই কুরআন তেলাওয়াত শুরু করেছিল। শায়েখও প্রথমে কিছুটা বিচলিত হয়েছিলেন।

কিন্তু পরে তিনি নিজের নিয়তকে আরও বিশুদ্ধ করলেন এবং বুঝলেন—কুরআনের শক্তি কেবল তেলাওয়াতকারীর কণ্ঠে নয়; বরং কুরআন আল্লাহর কালাম। কে পড়ছে, কী উদ্দেশ্যে পড়ছে—এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তাই তিনি তেলাওয়াত চালিয়ে যেতে থাকলেন।

একপর্যায়ে জিন বিভিন্নভাবে তাঁর মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করতে লাগল। আমিও গতকাল একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হলাম।

কখনো রোগী হাত দিয়ে কার্পেটের ওপর দ্রুত কিছু লেখার মতো করছিল, কখনো ক্রস চিহ্ন দিচ্ছিল, কখনো আঙুল দিয়ে দেয়ালের দিকে ইশারা করছিল। বিভিন্ন কথা, হুমকি ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে আমার মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করছিল।

কিন্তু আমি কোনোটার দিকেই মনোযোগ দিলাম না।

আমি শুধু তেলাওয়াত চালিয়ে গেলাম।

একপর্যায়ে দেখা গেল, আগের সেই আত্মবিশ্বাসী কথাবার্তা আর নেই। শুরু হলো অস্থিরতা, চিৎকার ও বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া।

এখানেই রুকইয়ার সময় রাকির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

কারণ এমন পরিস্থিতিতে যে কেউ ঘাবড়ে যেতে পারে—বিশেষ করে রোগীর পরিবারের সদস্যরা। এমনকি একজন হাফেজ রাকি ভাইয়ের কাছ থেকে শুনেছি, এমন পরিস্থিতিতে তাঁর সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ থাকা সত্ত্বেও সূরা ফাতিহা ছাড়া আর কিছু মনে পড়ছিল না।

তাই রুকইয়ার সময় আমার একটি নীতি হলো—

রোগীর কোনো কথা, হুমকি বা প্রতিক্রিয়াকে অযথা গুরুত্ব না দিয়ে শান্ত থাকা এবং শরিয়তসম্মত তেলাওয়াত চালিয়ে যাওয়া।

কারণ অস্বাভাবিক অবস্থায় বলা প্রতিটি কথা সত্য—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ভয় দেখানো, মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করা কিংবা রুকইয়া বন্ধ করানোর চেষ্টা—এসবও হতে পারে।

অনেক সময় দেখা যায়, যতক্ষণ এসব কথাবার্তায় গুরুত্ব দেওয়া হয়, ততক্ষণ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। কিন্তু যখন রাকি শান্ত থাকে, অপ্রয়োজনীয় কথোপকথনে জড়ায় না এবং তেলাওয়াত চালিয়ে যায়—তখন পরিস্থিতিও পরিবর্তিত হতে থাকে।

এখানে রাকির সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো—

আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল, বিশুদ্ধ নিয়ত, ধৈর্য এবং শরিয়তসম্মত রুকইয়া।

আরেকটি বিষয় নিয়ে অনেক সময় প্রশ্ন আসে—

কুরআন তেলাওয়াতের সময় যদি কোনো অশরীরী সত্তা কষ্ট পায়, তাহলে সে চলে যায় না কেন?

এ বিষয়ে অদৃশ্য জগতের ব্যাপারে চূড়ান্ত দাবি করা ঠিক নয়। তবে রুকইয়ার অভিজ্ঞতায় অনেক সময় দেখা যায়, তেলাওয়াতের সময় রোগীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও পরিস্থিতি সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায় না।

এখানে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই প্রতিটি ঘটনাকে একই ব্যাখ্যায় ফেলা উচিত নয়।

আমাদের কাজ হলো—অদৃশ্য জগতের ব্যাপারে অতিরঞ্জিত দাবি না করে, কুরআন-সুন্নাহর সীমারেখা মেনে, ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সঙ্গে রুকইয়া করা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা—

কোনো রোগীর অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখলেই তার প্রতিটি কথা সত্য ধরে নেওয়া যাবে না।

রাকি যেন রোগীর কথায় ভয় না পায়, অযথা বিতর্কে না জড়ায় এবং নিজের নিয়ত ও তাওয়াক্কুল ঠিক রাখে।

কারণ রুকইয়ার সময় অনেক সময় সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় রোগীর নয়—রাকির নিজের মনোযোগ, ধৈর্য ও ঈমানের।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরআনের হক বুঝে, বিশুদ্ধ নিয়তে এবং শরিয়তের সীমারেখার মধ্যে থেকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

16/10/2024

অনেক তান্ত্রিক-কবিরাজ আছে যারা পেশেন্টকে দেখেই বা পেশেন্টের নাম শুনেই তার অতীত-ভবিষ্যতের সমস্যা বলে দেয়। এমনকি তাদের কিছু কথা সত্যি হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে একেক কবিরাজ একেক ধরনের কৌশল অবলম্বন করে থাকে। তবে এসব কৌশল বুঝতে না পারায় অনেকেই এদের এসব গায়েবী সংবাদ শুনে আশ্চর্যবোধ করেন। তারা মনে করেন এই কবিরাজ যেহেতু পেশেন্টের নাম দেখেই এত কিছু বলে দিতে পেরেছে, তাহলে নিশ্চয় এই কবিরাজ অনেক কিছু জানেন; এবং একে দিয়েই আমার কাজটি করাতে হবে।

তবে বাস্তবতা হলো, এসব কবিরাজরা মূলত গণক-জ্যোতিষীর অন্তর্ভুক্ত। এদের কিছু কথা বাস্তবের সঙ্গে মিলে যাওয়ার রহস্য নিয়ে রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেকে প্রশ্ন করা হলে তিনি তাদের মূল কারসাজি সাহাবীগণের সামনে স্পষ্ট করে দেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত,

"একদল লোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জ্যোতিষীদের ব্যাপারে জানতে চাইল। সে সময় রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, ওরা (বাস্তব) কোনো কিছুর ওপরে (প্রতিষ্ঠিত) নয়। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল! তারা তো প্রায় সময় এমন কিছু বিষয়ে কথা বলে, যা বাস্তব হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ওই (একটি) কথা বাস্তব সত্যের অন্তর্ভুক্ত, যা জিনেরা চুরি করে নিয়ে আসে এবং মুরগির মতো কুট কুট করে তা তার দোসরের শ্রবণশক্তিতে ঢুকিয়ে দেয়। পরবর্তীতে তারা তার সঙ্গে শতাধিক মিথ্যা জুড়ে দেয়।" (মুসলিম, হাদিস : ৫৭১০)

এসব লোকদের কাছে যারা যায় তাদের ব্যাপারে হাদিসে এসেছে–

"যে লোক ‘আররাফ’ (গণকের) এর কাছে গেল এবং তাকে কোনো ব্যাপারে প্রশ্ন করল চল্লিশ রাত্রি তার কোনো নামাজ গ্রহণযোগ্য হবে না। (মুসলিম, হাদিস : ৫৭১৪)

সুতরাং এসব কবিরাজ নামধারি জ্যোতিষীদের কাছে গিয়ে আমরা আমাদের ঈমান আমল নষ্ট করে দিচ্ছি কি না সে দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

বিয়ে বন্ধ করার জন্য জিনের সামনে দুটি পথ খোলা থাকে —▫️যদি সে মেয়েটির শরীরে প্রবেশ করতে পারে, তাহলে সে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে...
16/10/2024

বিয়ে বন্ধ করার জন্য জিনের সামনে দুটি পথ খোলা থাকে —
▫️যদি সে মেয়েটির শরীরে প্রবেশ করতে পারে, তাহলে সে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসা প্রতিটি ছেলের ব্যাপারে তাকে বিরক্ত ও রাগান্বিত করে তোলে এবং জাদুগ্রস্ত মেয়ের মাধ্যমেই বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।
▫️আর যদি সে মেয়েটির শরীরে প্রবেশ করতে না পারে, তাহলে সে দূর থেকে অলীক কল্পনার জাদু বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে। এতে প্রস্তাবকারী ছেলের চোখে প্রস্তাবিত মেয়েটিকে কুৎসিত করে দেখায় এবং মেয়েটির ব্যাপারে তার মনে (নানা ধরনের) কুমন্ত্রণা দিতে থাকে। অনুরূপ মেয়েটির সাথেও একই কাজ করে।
কোনো মেয়ের বিয়ে বন্ধের জন্য জাদু করা হলে দেখা যায়, তাকে কোনো ছেলে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রথম দিকে (উভয়ে এই) বিয়েতে সম্মতি প্রকাশ করলেও কয়েকদিন পরে (কোনো কারণ ছাড়াই) বিয়ে ভেঙে দেয়। এটি মূলত তার মনে (মেয়েটির ব্যাপারে) শয়তানের ওয়াসওয়াসা বা কুমন্ত্রণা দেওয়ার কারণে হয়ে থাকে।
জাদু যদি খুব কঠিনভাবে করা হয়, তাহলে প্রস্তাবকারী ছেলেটি মেয়ের ঘরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে (বুকে) খুব সংকীর্ণতা বা কষ্ট অনুভব করে এবং তার সামনে সবকিছু কালো অন্ধকারের মতো লাগে—যেন সে কারাগারে আছে। এমন ভয়ানক অনুভূতির পর ছেলেটি সেখানে দ্বিতীয়বার আর কখনো ফিরে আসে না।
উল্লেখ্য, বিয়ে বন্ধের জাদু চলাকালীন জিন মাঝেমধ্যে মেয়েটির মাথাব্যথা তৈরি করতে পারে।
বই - জিন, জাদু ও বদনজরের চিকিৎসা

পূজার সময় কেন বেশি সচেতন হবেন?  জাদু মুলত শয়তানের সাহায্য নিয়ে করা হয়ে থাকে আর শয়তানকে খুশি করার মাধ্যম হচ্ছে পূজা অর্চন...
09/10/2024

পূজার সময় কেন বেশি সচেতন হবেন?

জাদু মুলত শয়তানের সাহায্য নিয়ে করা হয়ে থাকে আর শয়তানকে খুশি করার মাধ্যম হচ্ছে পূজা অর্চনা।

বছরের সবচেয়ে বেশি পূজা সম্পন্ন হয় আশ্বিন এর শেষ দিকে ও কার্তিক মাসে তথা পুরো অক্টোবর জুড়ে।

এ সময়ে যেসকল পূজা অনুষ্ঠিত হয় তন্মদ্ধ্যে রয়েছে -

• নবরাত্রি

• দুর্গাপূজা

• বিজয়া দশমী

• কোজাগরী লক্ষী পূজা

• কালীপূজা ও দীপাবলি

তান্ত্রিক-জাদুকরেরা জাদু রিনিউ করতে বিভিন্ন তিথি বেছে নেয়। এসকল পূজার তিথি তাদের জন্য মোক্ষম সুযোগ। চৈত্র মাসের শেষ তিনদিন, বৈশাখের প্রথম দিন, শিবরাত্রি, বিভিন্ন অমাবস্যা, পূর্নিমা, আশ্বিন মাসের পূজাসমূহ তাদের কাঙ্খিত সময়। নতুন জাদু করা, পুরাতন জাদু রিনিউ করা এসকল কাজ জাদুর খাদেম জ্বীনের মাধ্যমে সম্পন্ন করে অথবা কালোজাদুর আসবাব বিভিন্ন কবরে পুতে, শবসাধনা করে জাদু চর্চা করে শয়তানি সাধনার মাধ্যমে। এছাড়াও অনেক সময় জ্বীনেরা নিজে থেকে মানুষের শরীরে জাদুর গিট বেঁধে নিজের আবাস তৈরি করে নেয়। এরাও এসমস্ত তিথিতে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করার চেষ্টা চালায়।

এই কারণে অনেক জ্বীন/জাদুগ্রস্থ রোগী দীর্ঘ পরিশ্রমের সাথে রুকইয়াহ্, আমল করার মাধ্যমে শেফার কাছাকাছি পৌঁছেছে তাদের আরও বেশি সতর্ক হওয়া জরুরি। যারা আল্লাহর অশেষ রহমতে পরিপূর্ণ শেফা লাভ করেছে তাদেরকেও আমল এ কঠোর হতে হবে।

সতর্কতা স্বরুপ আপনাদের করনীয়ঃ

🔵 ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত যথাযথভাবে পালন করা।

🔵 সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন আমল কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যাবেনা।

🔵 আসরের পর বিসমিল্লাহ বলে দরজা জানালা বন্ধ করে দেওয়া।

🔵 সন্ধ্যার সময় বাসা থেকে বের না হওয়া।

🔵 যথাসম্ভব মন্দির, পূজা মন্ডপ এরিয়ে চলা।

🔵 বাসা থেকে বের হওয়ার সময় চার কুল, আয়তুল কুরসি পড়ে শরীর বন্ধ করে, ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া পড়া।

🔵 মন্দির/পূজা এরিয়া অতিক্রম করার সময় চারকুল পড়তে থাকা ও বিসমিল্লাহিলাজি লা ইয়া দুররু মা আসমিহি শাইউন ফিল আরদ্বী ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়াহুয়াস সামিউল আলিম পড়া। (আরবি দেখে শিখে নেবেন)

🔵 বাসায় সূরা বাকারা তেলাওয়াত করা।

🔵 যাদের রুকইয়াহ্/সেলফ রুকইয়াহ্ চলমান তাদের বিভিন্ন ওয়াসওয়াসা আসলেও রুকইয়াহ্ সঠিকভাবে চালিয়ে যাওয়া।

🔵 বেশি বেশি কার্স মোনাজাত করা। (এটি জাদুকরের জাদু তার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং জাদু সহ জাদুকর ধ্বংসের জন্য আল্লাহর কাছে মোনাজাত)

🔵 যারা সদ্য সুস্থতা লাভ করেছে তাদের উচিত কমন রুকইয়াহ্ আয়তগুলো তেলাওয়াত করা।

🔵 পূজার প্রসাদ কোনোভাবেই খাওয়া যাবে না।

এই পুরো অক্টোবর মাস জুড়েই কিন্তু রয়েছে বিভিন্ন পূজো তাই সচেতন থাকবেন, আমলে জিকিরে থাকবেন ইন শা আল্লহ।

নু`মান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃনবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা আসমান-যামীন সৃষ্টির দুই...
13/09/2024

নু`মান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা আসমান-যামীন সৃষ্টির দুই হাজার বছর পূর্বে একটি কিতাব লিখেছেন। সেই কিতাব হতে তিনি দু‘টি আয়াত নাযিল করছেন। সেই দু‘টি আয়াতের মাধ্যমেই সূরা আল-বাক্বারা সমাপ্ত করেছেন। যে ঘরে তিন রাত এ দু‘টি আয়াত তিলাওয়াত করা হয় শাইতান সেই ঘরের নিকট আসতে পারে না।

সহীহঃ রাওযুন নাযীর (৮৮৬), তা’লীকুর রাগীব (২/২১৯), মিশকাত (২১৪৫)।

জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৮৮২

Address

Barishal

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Raqi Mahmud Shihab posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share