07/08/2026
একটি হাসিখুশি, প্রাণবন্ত শিশুই প্রতিটি মা-বাবার কাম্য। কিন্তু সেই আদরের সন্তানটিই যখন সামান্য কারণেই প্রচণ্ড রেগে যায়, চিত্কার-চেঁচামেচি করে কিংবা হাতের কাছে যা পায় তা-ই ছুঁড়ে ফেলে ভেঙে ফেলে, তখন মা-বাবার মনের অবস্থা কেমন হয়? এটি কেবল একটি পারিবারিক সমস্যা নয়, বরং সন্তানের মানসিক বিকাশ এবং মা-বাবার মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে গভীরভাবে জড়িত।
যখন একটি শিশু অনিয়ন্ত্রিত রাগ দেখায়, তখন মা-বাবার মনে প্রথমে আসে এক তীব্র অসহায়ত্ব। লোকলজ্জা, সমাজ কী ভাববে—এই ভয়ে অনেকেই কুঁকড়ে যান। অনেকেই ভাবেন, "আমি কি ভালো অভিভাবক হতে পারলাম না? আমার লালন-পালনেই কি কোনো কমতি ছিল?" এই অপরাধবোধ ও হতাশা থেকে অনেক সময় মা-বাবারাও সন্তানের ওপর রাগ ঝেড়ে ফেলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। যা শিশুর এই আচরণ অধিকাংশ সময়ই কোনো গভীর মানসিক চাপ, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে না পারা বা মনোযোগ আকর্ষণের একটি ভুল উপায় মাত্র। তাই নিজেকে দোষী না ভেবে শান্ত হওয়াটাই প্রথম পদক্ষেপ।
একটি সুন্দর ও শান্ত ভবিষ্যৎ
আজকে যে শিশুটি রাগের মাথায় খেলনা ভাঙছে, সঠিক গাইডেন্স না পেলে ভবিষ্যতে সে একজন আবেগগতভাবে দুর্বল ও উগ্র ব্যক্তিত্বের মানুষে পরিণত হতে পারে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি ভবিষ্যৎ তৈরি করা, যেখানে সন্তান তার যেকোনো ক্ষোভ, দুঃখ বা হতাশা ভাঙচুর না করে কথার মাধ্যমে সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে শিখবে। একটি সুস্থ, শান্ত এবং সহনশীল পারিবারিক পরিবেশই পারে সন্তানকে একজন দায়িত্বশীল ও আবেগীয়ভাবে বুদ্ধিমান (Emotionally Intelligent) মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে।
সন্তানের রাগ ও ভাঙচুর নিয়ন্ত্রণে আপনার করণীয়ঃ
আপনার সন্তানের এই অনাকাঙ্ক্ষিত অভ্যাস দূর করতে আজ থেকেই নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন:
১। সন্তান যখন চরম উত্তেজিত, আপনি তখন একদম শান্ত থাকুন। আপনিও রেগে গেলে শিশুটি ধরে নেবে যে রাগ প্রকাশ করাই যেকোনো সমস্যার সমাধান।
২। ভাঙচুর করার মুহূর্তে তাকে বকাঝকা বা মারধর করবেন না। এতে তার ক্ষোভ আরও বাড়ে। তাকে জড়িয়ে ধরুন অথবা কিছুটা সময় দিন শান্ত হওয়ার জন্য।
৩। সন্তান শান্ত হলে তাকে বলুন, "তোমার রাগ হতেই পারে, সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু রাগ করে জিনিসপত্র ভাঙা একদম ঠিক নয়।" তাকে বোঝান যে রাগ প্রকাশের আরও ভালো উপায় আছে।
৪। শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। ঘরে যেন সবসময় ঝগড়া-বিবাদ বা চিত্কারের পরিবেশ না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
৫। অতিরিক্ত মোবাইল/টিভি দেখা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব শিশুদের খিটখিটে স্বভাবের অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতিদিনের রুটিনে পর্যাপ্ত খেলার সময় রাখুন।
৬। যদি দেখেন এই আচরণ দিন দিন বাড়ছে এবং সে নিজের বা অন্যের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তবে দেরি না করে যোগাযোগ করুনঃ ০১৩০৭-৮৩৩৭৮৮ (মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মামুন আল মুজাহিদ)
সন্তানের এই আচরণ একদিনে পরিবর্তন হবে না। এর জন্য প্রয়োজন আপনার সীমাহীন ধৈর্য, ভালোবাসা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা। আজই আপনার সন্তানকে বকা না দিয়ে তার মনের কথা বোঝার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন (যোগাযোগ করুনঃ ০১৩০৭-৮৩৩৭৮৮) এবং আপনার সন্তানের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করুন।
আপনার সন্তানের রাগের পেছনে মূল কারণটি কী বলে আপনার মনে হয়? সে কি নির্দিষ্ট কোনো সময়ে বা পরিস্থিতিতে বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়ে?
প্রয়োজনে যোগাযোগ করুনঃ ০১৩০৭-৮৩৩৭৮৮
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ --
ডাঃ মোঃ মামুন আল মুজাহিদ
এমবিবিএস, এমডি (সাইকিয়াট্রি),
বিএমইউ, ঢাকা)
সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (মনোরোগ)
টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বগুড়া।
চেম্বার-
১। ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড কনসালটেশন বগুড়া,
কানছগাড়ী, শেরপুর রোড়, বগুড়া
২। হেলথ এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার,
সিরাজগঞ্জ, মুজিব সড়ক, সিরাজগঞ্জ।
৩। তাকওয়া ল্যাব এন্ড কনসালটেশন সেন্টার,
হাসপাতাল মোড়, সদর রোড, জয়পুরহাট