18/08/2026
রাত তিনটা। ছয় বছরের রাফিদের প্লেটলেট নেমে গেছে ৪০ হাজারে।
মা কাঁদছেন করিডোরে। বাবা ফোনে খুঁজছেন কোন হাসপাতালে বেড খালি আছে।
অথচ তিনদিন আগেও এটা ছিল "সাধারণ জ্বর"!
এই দৃশ্যটা এখন প্রতি রাতেই কোথাও না কোথাও ঘটছে।
গতকালের হিসাব বলছে — ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৩ জন, নতুন ভর্তি হয়েছেন ৮০৫ জন।
প্রশ্ন হলো, রাফিদের বাসায় কি নোংরা ছিল? না।
ফ্ল্যাটবাড়ি, এসি চলে, প্রতিদিন ঝাড়পোঁছ হয় — তবুও এডিস মশা ঠিকই ঢুকে পড়েছিল বারান্দার ফুলের টবের জমা পানি থেকে।
এখানেই আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটা ভাঙা দরকার।
এডিস মশা বস্তির মশা না, এটা "অভিজাত" এলাকার মশা!
এসির নিচে জমা পানি, ছাদের চিলেকোঠায় ফেলে রাখা টায়ার, ফুলের টব — এসবই ওর প্রিয় ঠিকানা।
আরেকটা কথা বিএমইউর একজন সিনিয়র অধ্যাপক সম্প্রতি বলেছেন, যেটা শুনে ঘুম উড়ে যাওয়ার কথা —
সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, ডিসেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে!
মানে আমরা এখনও চূড়ায় পৌঁছাইনি। যেটা এখন দেখছি, সেটা শুধু ট্রেলার!
সবচেয়ে বিপজ্জনক ভুলটা কী জানেন?
জ্বর কমে গেলেই মানুষ ভাবেন বিপদ কেটে গেছে।
বাস্তবে ডাক্তাররা তখনই সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকেন — কারণ জ্বর নামার পরের ২৪-৪৮ ঘণ্টায়ই প্লেটলেট সবচেয়ে বেশি নামে, রক্তক্ষরণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে ঠিক তখনই।
তাহলে করণীয় কী?
জ্বর তিনদিনের বেশি থাকলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান।
নিজে থেকে এসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন খাবেননা — এতে রক্তক্ষরণ বাড়ে।
পর্যাপ্ত পানি-তরল খান, বিশ্রাম নিন।
আর আজই একবার নিজের বাসার ছাদ-বারান্দা চেক করুন — কোথাও পানি জমে নেই তো?
রাফিদের মতো আরও অনেক শিশু এই মুহূর্তে হাসপাতালের বেডে।
তাদের মা-বাবার রাতটা আপনার-আমার একটু সচেতনতাতেই বদলে যেতে পারত।
আজকের কাজটা আজই করুন। কালকের ভরসায় রাখবেন না।
🩺 ডা. আবুল ফজল সোহাগ
সহকারী অধ্যাপক (স্পাইন সার্জারি)
#ডেঙ্গু_সচেতনতা #এডিস_মশা_নিয়ন্ত্রণ #জ্বর_অবহেলা_নয় #স্বাস্থ্য_অধিদপ্তর