11/07/2026
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ সারাজীবন একটা কাজই করেন।
অসুস্থ হন, ডাক্তারের কাছে যান, ওষুধ খান, একটু ভালো হন, আবার অসুস্থ হন।
এই চক্রটা ঘুরতেই থাকে। কারণ মূল সমস্যাটা কেউ খোঁজে না।
আমি প্র্যাকটিসে যা দেখি — বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্লান্তি, মাথাব্যথা, মুড সুইং, ঘুমের সমস্যা, বারবার অসুস্থ হওয়া — এগুলোর পেছনে রোগ না, নিউট্রিয়েন্ট ডেফিসিয়েন্সি।
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি যে ৫টা মিস হয়:
১) ভিটামিন ডি-থ্রি
এটা শুনে অবাক লাগে — রোদের দেশে থেকেও ভিটামিন ডি ডেফিসিয়েন্সি?? কিন্তু বাস্তবতা হলো আমরা রোদে থাকি না। অফিস, বাসা, গাড়ি — সারাদিন ছাদের নিচে। মেয়েরা পর্দা করেন, পুরুষরা ফুলহাতা পরেন।
ভিটামিন ডি কম থাকলে হাড় দুর্বল হয়, ইমিউনিটি কমে, ডিপ্রেশান বাড়ে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ে।
কোথায় পাবেন — সকালের রোদে ২০-৩০ মিনিট থাকুন। না পারলে ভিটামিন ডি-থ্রি সাপ্লিমেন্ট নিন, সাথে ভিটামিন কে-টু রাখুন। তবে যেকোনো সাপ্লিমেন্ট ই আসলে প্রফেশনাল এর পরামর্শে নেওয়া উচিত।
২) ভিটামিন বি-১২
বাংলাদেশে যারা মাছ-মাংস কম খান বা একদমই খান না, তাদের বি-টুয়েলভ ডেফিসিয়েন্সি প্রায় নিশ্চিত। এমনকি যারা মাংস খান তাদেরও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দীর্ঘদিন খেলে বি-টুয়েলভ অ্যাবজর্পশান কমে যায়।
বি-টুয়েলভ কম থাকলে নার্ভ ড্যামেজ হয়, স্মৃতিশক্তি কমে, হাতে-পায়ে ঝিনঝিন করে, সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে।
কোথায় পাবেন — কলিজা, ডিম, সামুদ্রিক মাছ। চেষ্টা করবেন সাপ্লিমেন্ট নিলে মিথাইলকোবালামিন ফর্মে নিতে — সায়ানোকোবালামিন না।
৩) ম্যাগনেসিয়াম
আমাদের মাটিতে ম্যাগনেসিয়াম কমে গেছে, তাই সবজিতেও কমে গেছে। রিফাইন্ড কার্ব বেশি খেলে ম্যাগনেসিয়াম আরও কমে। স্ট্রেসে থাকলে শরীর ম্যাগনেসিয়াম দ্রুত ব্যবহার করে ফেলে।
ম্যাগনেসিয়াম কম থাকলে ঘুম হয় না, মাংসপেশিতে ক্র্যাম্প হয়, এংজাইটি বাড়ে, ব্লাড প্রেশার বাড়ে।
কোথায় পাবেন — কুমড়ার বিচি, কাজুবাদাম, পালংশাক, ডার্ক চকোলেট। সাপ্লিমেন্ট নিলে ম্যাগনেসিয়াম গ্লাইসিনেট সবচেয়ে ভালো অ্যাবজর্ব হয়।
৪) আয়রন — পারটিকুলারলি ফেরিটিন
হিমোগ্লোবিন নরমাল আসলেই আয়রন ঠিক আছে — এই ধারণাটা ভুল। ফেরিটিন মানে শরীরের আয়রন স্টোরেজ — এটা আলাদা করে দেখতে হবে। বাংলাদেশের মেয়েদের মধ্যে ফেরিটিন ডেফিসিয়েন্সি মহামারীর পর্যায়ে — কিন্তু টেস্ট করা হয় না।
ফেরিটিন কম থাকলে চুল পড়ে, সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে, মনোযোগ থাকে না, শীত বেশি লাগে।
কোথায় পাবেন — কলিজা, লাল মাংস, কচুশাক। সাথে ভিটামিন সি খেলে আয়রন অ্যাবজর্পশান বাড়ে। চা-কফির সাথে আয়রন রিচ খাবার খাবেন না — অ্যাবজর্পশান কমে যায়।
৫) জিংক
রিফাইন্ড কার্ব বেশি খেলে জিংক অ্যাবজর্পশান কমে। আমাদের খাদ্যতালিকায় জিংক রিচ খাবার এমনিতেই কম।
জিংক কম থাকলে ইমিউনিটি দুর্বল হয়, ঘা শুকাতে দেরি হয়, স্বাদ-গন্ধ কমে যায়, চুল পাতলা হয়, ছেলেদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন কমে।
কোথায় পাবেন — কুমড়ার বিচি, গরুর মাংস, চিংড়ি, কাজুবাদাম।
এই পাঁচটার যেকোনো একটা কম থাকলে শরীর ভালো থাকবে না — যতই ওষুধ খান।
তাই আগে ঘাটতি খুঁজুন। তারপর ঠিক করুন।
📞 আপনার হেলথ কন্ডিশন অনুযায়ী পার্সোনালাইজড ডায়েট প্ল্যান পেতে অনলাইন বা অফলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য পেজে ইনবক্স করুন।
Tanzima Mukti
Clinical Nutritionist
KGN Medicare Limited