05/08/2026
প্রথম ছবিটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল, ঢাকা-এর একটি করিডোরের।
শুরুতেই একটি বিষয় বলে রাখি—বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার দিক থেকে নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল নিঃসন্দেহে অন্যতম সেরা।যারা এখানে একবার এসেছেন তারা অকপটে এটা স্বীকার করে নিবেন।
প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী,স্বজন ও দর্শনার্থীর আনাগোনা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় হাসপাতালটি তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়।এই হাসপাতালের একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি জানি,এই পরিবেশ ধরে রাখতে প্রতিদিন কত পরিশ্রম করতে হয়।
আজকে হাসপাতালে ঢুকার পথে ছবিটিতে দেয়ালের পাশে শুকিয়ে থাকা পানের পিক চোখে পড়ে।অথচ পুরো হাসপাতাল টা ই ক্লিন।তারপরও এখানে পানের পিক ফেলতে যে ফেলেছে তার বিবেকে একটুও বাধেনি।এটি শুধু একটি দাগ নয়; এটি আমাদের নাগরিক দায়িত্ববোধের একটি প্রতিচ্ছবি।
এইবার আসি দ্বিতীয় ছবিটিতে।এটি থাইল্যান্ডের একটি সাধারণ পাবলিক রাস্তা।এটি কোনো ভিআইপি এলাকা নয়, কোনো বিশেষ পর্যটন স্পটও নয়। তারপরও রাস্তার কোথাও টিস্যু, প্লাস্টিক,খাবারের উচ্ছিষ্ট বা পানের পিক চোখে পড়ে না। কারণ তারা শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর নির্ভর করে না; সাধারণ মানুষও নিজের দায়িত্ব পালন করে।
আমরা প্রায়ই উন্নত দেশের রাস্তা, হাসপাতাল কিংবা শহরের প্রশংসা করি। কিন্তু খুব কম মানুষই প্রশ্ন করি—কেন তারা পরিষ্কার থাকে?
উত্তরটি খুবই সহজ। কারণ তারা বিশ্বাস করে, "পাবলিক জায়গাও আমার নিজের।" তাই সেখানে ময়লা ফেলা মানে নিজের পরিবেশ নোংরা করা।অন্যদিকে, আমাদের দেশে একটি দুঃখজনক প্রবণতা রয়েছে। নিজের ঘর ঝকঝকে রাখলেও ঘরের বাইরে এসে অনেকেই নির্দ্বিধায় টিস্যু, প্লাস্টিক, পানির বোতল কিংবা পানের পিক যেখানে-সেখানে ফেলে দেন। মনে হয়, বাইরে পরিষ্কার রাখা যেন অন্য কারও দায়িত্ব।
সব দোষ শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নয়, সব দোষ শুধু সরকারেরও নয়।একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কয়েক মিনিট আগে যে জায়গা পরিষ্কার করলেন,একজন অসচেতন মানুষ কয়েক সেকেন্ডেই সেটি আবার নোংরা করে দিতে পারেন।
বিশেষ করে একটি হাসপাতালের কথা ভাবুন। এখানে আসেন অসুস্থ মানুষ, বয়স্ক মানুষ,শিশুরা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা রোগীরা।হাসপাতালের প্রতিটি দেয়াল,করিডোর এবং মেঝে যতটা সম্ভব পরিষ্কার রাখা শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়—এটি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং রোগীর নিরাপত্তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।সেখানে পানের পিক ফেলা বা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আমরা এখনো নাগরিক দায়িত্বকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে নিতে শিখিনি।অথচ এই পরিবর্তনের জন্য কোটি কোটি টাকার প্রকল্পের প্রয়োজন নেই।প্রয়োজন শুধু কিছু ছোট ছোট অভ্যাসের পরিবর্তন—ডাস্টবিন ব্যবহার করা, যেখানে-সেখানে থুতু বা পানের পিক না ফেলা, টিস্যু বা প্লাস্টিক নিজের সঙ্গে রাখা,এবং সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই এসব শিক্ষা দেওয়া।
পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে,আসুন আমরা অন্তত একটি অঙ্গীকার করি—আমি যেখানে দাঁড়াব, সেই জায়গাটি নোংরা করে আসব না।যদি এই একটি অভ্যাস গড়ে তুলি দেশের চেহারা পালটে যাবে।
ডা.মোঃ সাইফুল ইসলাম।
রেজিস্ট্রার ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স এন্ড হাসপাতাল।
ট্যুর ডাইরি ১
সচেতনতার জন্য পোস্ট টি শেয়ার করতে পারেন।ধন্যবাদ