06/09/2026
বাংলাদেশে ডায়াবেটিস চিকিৎসার পথিকৃৎ জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম
জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম (১৯১১–১৯৮৯) ছিলেন বাংলাদেশের চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য এবং সমাজসেবার ইতিহাসের একজন অন্যতম দিশারী ও প্রবাদপ্রতীম ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা, সচেতনতা ও পুনর্বাসনে তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে 'বাংলাদেশের ডায়াবেটিস চিকিৎসার পথিকৃৎ' বলা হয়।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও জীবনাবলি : জন্ম ১ জানুয়ারি, ১৯১১ (মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)।
মৃত্যু : ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৯ (ঢাকা, বাংলাদেশ)।
শিক্ষা : ১৯৩৮ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস, ১৯৪৮ সালে যুক্তরাজ্য থেকে এমআরসিপি (MRCP) এবং ১৯৪৯ সালে এফসিসিপি (FCCP) ডিগ্রি অর্জন করেন।
মূল দর্শন: কোনো ডায়াবেটিক রোগী যেন না খেয়ে, চিকিৎসা না পেয়ে বা বেকার অবস্থায় মারা না যান।
প্রধান অবদান ও কীর্তিবাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি প্রতিষ্ঠা: ১৯৫৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সেগুনবাগিচায় কতিপয় সমাজসেবীর সহযোগিতায় এটি প্রতিষ্ঠা করেন (প্রথমে 'পাকিস্তান ডায়াবেটিক সমিতি')।
বারডেম (BIRDEM) হাসপাতাল স্থাপন : ডায়াবেটিস এবং হরমোনজনিত রোগের আধুনিক চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য ১৯৮০ সালে শাহবাগে বিআইআরডিইএম (বারডেম) গড়ে তোলেন, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ডায়াবেটিস চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়।
শিক্ষাবিদ ও গবেষক : চিকিৎসকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য বারডেম একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। সমাজসেবা ও পুনর্বাসন: ফলিত পুষ্টি গবেষণা কেন্দ্র (BIRTAN), পুনর্বাসন ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। জাতীয় ভূমিকা: সত্তরের দশকে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা (মন্ত্রীর পদমর্যাদায়) হিসেবে কাজ করেছেন এবং দেশের জনসংখ্যা নীতি নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। স্বীকৃতি ও সম্মাননা জাতীয় অধ্যাপক: চিকিৎসা খাতে অসাধারণ অবদানের জন্য ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের ১ম চিকিৎসক হিসেবে 'জাতীয় অধ্যাপক' পদে ভূষিত করে।
স্বাধীনতা পুরস্কার: ১৯৭৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'স্বাধীনতা পদক' অর্জন করেন। ডায়াবেটিস সেবা দিবস: প্রতি বছর ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীকে স্মরণে রেখে বাংলাদেশে ‘ডায়াবেটিস সেবা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।